Thursday, February 27, 2020

আওয়ার ইসলামঃ ইসলাম প্রতিদিন বিভাগ - ১ম খণ্ড (৩য় অংশ)




যে ৬ কারণে প্রতিদিন কুরআন পড়বেন
OURISLAM24.COM

news-image
ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : আল্লাহ মেহেরবান। তিনি আমাদের উপর কুরআন নাজিল করেছেন। কুরআনের মাধ্যমেই অন্ধ মানুষগুলো খুঁজে পেয়েছিল আলোর পথ। জাহেলিয়াত পলিণত হয়েছিল নূরানিয়াতে।
আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘অবশ্যই তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আলো ও সুস্পষ্ট গ্রন্থ এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথ দেখান, যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করেন। আর তাদেরকে সরল পথের দিকে হিদায়াত দেনসূরা মায়িদাহ ১৫,১৬
এই কুরআন শিক্ষা থেকে দিন দিন আমরা দূরে সরে যাচ্ছি। একজন মুসলিম হিসাবে কুরআন শিক্ষার গুরুত্বও অনুধাবন করতে পারছি না। আমাদের প্রতিদিন কুরআন পড়তে হবে।
কুরআন পড়লে যা হবে – 
১. কুরআন মানবজাতির জন্য হেদায়াত : আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবন কীভাবে পরিচালিত হবে, তার প্রতিটি বিষয় কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন : আমি তোমার নিকট কিতাবটি নাজিল করেছি। এটি এমন যে তা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা, আর এটা হেদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপসূরা আননাহল : ৮৯
২. কুরআন তিলাওয়াত ঈমান বৃদ্ধি করে : কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দার ঈমান বৃব্ধি পায়। এ বিষয়ে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন : মুমিন তো তারা, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে উঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাদের উপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের রবের উপরই ভরসা করেসূরা আনফাল : ২
৩. কুরআন মানুষের অন্তরকে প্রশান্তি দেয় : মানব জীবনে অর্থ বা অন্যান্য কারণে জাগতিক তৃপ্তি আসলেও প্রকৃত তৃপ্তি ও শান্তি কুরআন শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব। আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘যারা ঈমান আনে, বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে। জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়সূরা আর-রাদ : ২৮
৪. কুরআন তিলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে : কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াতকারীর পক্ষে সুপারিশ করবে। এটা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা কুরআন তিলাওয়াত কর, কারণ, কুরআন কেয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবেমুসলিম : ১৯১০
৫. কুরআন হচ্ছে সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস। কুরআন যে নির্দেশনা দিয়েছে তা নির্ভুলভাবে প্রমাণিত। আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘ইয়া-সীন। বিজ্ঞানময় কুরআনের শপথসূরা ইয়াছিন : ১-২
৬. জান্নাতে যাওয়ার জন্য কুরআন : প্রত্যেক মুমিনের সর্বোচ্চ কামনা হলো জান্নাতে যাওয়া। তাই জান্নাতে যাওয়ার জন্য কুরআন পড়তে হবে। হাদিসে এসেছে, ‘সিয়াম ও কুরআন কিয়ামাতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে হে আমার রব, আমি দিনের বেলায় তাকে (এ সিয়াম পালনকারীকে) পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি।
তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। অনুরূপভাবে কুরআন বলবে, হে আমার রব, আমাকে অধ্যয়নরত থাকায় রাতের ঘুম থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবূল করা হবেমুসনাদে আহমাদ: ৬৬২৬

ধর্ষণরোধে ইসলাম
OURISLAM24.COM

দিদার শফিক : আমাদের দেশে আজকাল ধর্ষণের ঘটনা খুব বেড়ে গেছে। ‍খবরের পাতা মেলে ধরলেই চোখ আটকে যায় ধর্ষণের সংবাদে। পাড়া গাঁ থেকে মন্ত্রনালয় পর্যন্ত ধর্ষণের ছড়াছড়ি। বিষয়টা একটু ভাবনারই। কথিত নারী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো নারীকে প্রায় বিবস্ত্র করে দিয়ে এ ধরনের ঘটনায় কেন মায়া কান্না কাঁদে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আসলে নারীবাদীরাই নারীর শত্রু। একটু তলিয়ে দেখুন এ কথার সত্যতা প্রমাণিত হবে। আমরা মনে করি- ধর্ম মানলে , নবি মুহাম্মদ সা. এর অসংখ্য হাদিস থেকে মাত্র একটি হাদিসের উপর আমল করলেও ধর্ষণ নামক মহামারি থেকে জাতি নিস্তার পেতে পারে। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদারি নিবো।পবিত্র কোর আনের সূরা নূরের 30 31 নাম্বার আয়াতও পড়ে দেখুন আমলে আনুন। দেখবেন ধর্ষণ নামক মহামারি দেশ থেকে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘ মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে । তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে আর তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে।নূর : ৩০-৩১ আমরা তো কোরআন পড়ছি না। পড়লেও তার দাবি ও আবেদন রক্ষা করছি না। নাকের ডগায় সুটকি বেঁধে দিয়ে বিড়ালকে বলছি , সাবধান! ও দিকে তাকাস না। এ ধরণের আইন বা হুকুম এর প্রতি বিড়াল স্বভাবসূলভভাবেই বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে। কিন্তু আমরা এ সত্যতা স্বীকার করি না।
সমাজে যৌনত অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হলো যুবসমাজ প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। মোবাইলে, কম্পিউটারে রসগল্প কিংবা রসালো চিত্র বা নারীপুরুষের মিলনদৃশ্য দেখে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার পর্নো সাইটগুলো ব্যান করার উদ্যোগ নিতে পারে। এলাকাভিত্তিক কম্পিউটারের দোকানে যারা গান লোডের ব্যবসা করে মাঝেমধ্যে পুলিশ বা সরকারি কোন লোক সেসব দোকানে তল্লাশি চালাতে পারে । কম্পিউটারে থ্রি এক্স এর ভিডিও ক্লিপ পেলে দোকানের সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করতে পারে। কিংবা দোকান সিলগালা করতে পারে।
যেসব নারীর দীর্ঘদিন স্বামী বিদেশে পড়ে থাকে, তারা শয়তানের ফাঁদে পড়ে সুযোগে যৌনতা চর্চা করতেই পারে। তাই প্রবাসী স্বামীদের অল্প সময়ের ব্যবধানে স্ত্রীর কাছে ছুটে আসা দরকার। মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা হল গুলো কতটা নিরাপদ, তারা স্বেচ্ছায় বা চাপে পড়ে নৈতিকতার সীমা লঙ্ঘন করছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। নারীদের পোশাক শিল্পে আঁটসাঁট পোশাককে না বলা জরুরি হয়ে পড়েছে। ছাত্রছাত্রীদের প্রেমপ্রেম খেলা আর এ নিয়ে আরজেরা লাভগুরু সেজে যে লাভ টিপস দেন এটা কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে সেটাও ভেবে দেখার সময় এসেছে। এভাবে বলতে থাকলে অনেক কিছু বলা যাবে। আর বলছি না। একটি হাদিস দিয়ে শেষ করছি- নবি সা. বলেন, নির্জনে একজন অনাত্মীয় সম্পর্কের নারী ও পুরুষ একত্র হলে তাদের তৃতীয় জন হয় শয়তান। তাই নবি নির্জনে নারীপুরুষকে একত্র হতে বারণ করেছেন। একটু ভেবে দেখি- যারা ডেটিং এ যায়, কিংবা কোনও অভিজাত আবাসিক হোটেলে। এ হাদিস মেনে চললে সেটা আর হতো না। নারী তখনই সমাজে সম্মানিত হবে, নিজের সম্মান কোথায় যখন তা ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করবে। অনৈতিক কাজকে প্রগতি বলা থেকে বিরত থাকবে। পবিত্র ও সুন্দর জীবন যাপনে সচেষ্ট হবে।












মাহে রমজানকে স্বার্থক করার উপায়
OURISLAM24.COM

news-image

শায়খ আহমাদুল্লাহ : পবিত্র মাহে রমজানের অর্ধমাসেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। চলছে বরকতের দশদিন। বিশেষ আমলের মাধ্যমে রমজানকে কবুল করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এখনো।নিম্নে মাহে রমজানকে স্বার্থক ও সফল করার কিছু বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হলো,
০১. রমজানের প্রতিটি আমলের সময় সংশ্লিষ্ট আমলের কুরআন-সুন্নাহ বর্ণিত পুরস্কারের কথা স্মরণ করে তা প্রাপ্তির আকাঙ্খা লালন করা। এতে আমলটি পালন অত্যন্ত সহজ ও আনন্দময় হবে, তেমনি আপনি উপযুক্ত হবেন সংশ্লিষ্ট সওয়াব বা পুরস্কারের। কেননা, আমলের সওয়াব নির্ভর করে তার নিয়তের ওপর।
০২. সাহরী ও ইফতারে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত থাকা। একটা কথা প্রচলিত আছে- রমজানের খাবারের কোন হিসাব হবে না। এই ভুল ধারণার কারণে অনেকেই এ মাসে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করে থাকেন। এটা ঠিক নয়। অতিরিক্ত খাদ্যায়োজন যেমন আপনার মহামূল্যবান সময় নষ্ট করবে তেমনি অতি ভোজনের ফলে আমল ও ইবাদতের উদ্যম কমে যাবে।
০৩. ইশার সালাতের পর দেরি না করে ঘুমোতে যাওয়া উচিত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা: বলেন- আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শার পর খোশগল্প-আড্ডার বিষয়ে কঠোরভাবে সাবধান করেছেন। (ইবনে মাজা) সাহরীর সময়টি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসময় আল্লাহ তাআলা বান্দার দুআ কবুল করেন। রাতে দেরিতে ঘুমানোর ফলে শেষ রাতে আর কোন নফল নামাজ কিংবা দুআর স্ফুর্ততা ও উদ্যম থাকে না। এমনকি ফজর পরবর্তী মুহুর্ত দুআ ও যিকিরের সবচে আদর্শ সময়, রাতে দেরিতে শোয়ার কারণে ঘুমকাতর শরীরে আর সেটাও সম্ভব হয় না। এ সময়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের স্থানে বসেই বিভিন্ন দুআয় মশগুল থাকতেন। কুরআনের একাধিক স্থানে এ সময়টিতে আল্লাহকে স্মরণের ব্যপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাসে এর গুরুত্ব আরো বহুগুন বেড়ে যায়-তা বলাই বাহুল্য। অথচ বেশিরভাগ লোক এসময় ঘুমে লুটিয়ে পড়েন। এ দুরাবস্থা থেকে রক্ষার উপায় হলো রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়া।
০৪. এই ফজীলতের মাসে টেলিভিশন, নিউজ পেপার, সামাজিক যোগাযোগের পেজসমূহ ইত্যাদিতে যথাসম্ভব কম সময় ব্যয় করা চাই। পূর্বসূরী মনীষীগণ এ মাসে দ্বীনি ইলম ও হাদীসের দারসও বন্ধ করে দিতেন ব্যক্তিগত ইবাদতের জন্য। আথচ আমাদের উল্লেখযোগ্য অংশ কেটে যায় উপরিউক্ত আনর্থক বা রমজানের ইবাদতে বিঘ্নতা ঘটে এমন সব কাজে।
০৫. রমজান হলো ইবাদতের মাস। এ মাসে যথাসম্ভব নির্জনভাবে ইবাদতে কাটানো উচিত। অথচ আমরা রমজান মাসে যে পরিমাণ সময় মার্কেটিং ও কেনাকাটায় ব্যয় করি, অন্য কোন মাসে এতোটা করা হয় না। রমজানের আহবান যদি কেউ উপলব্ধি করে থাকে, তবে মার্কেটিং ও কেনাকাটায় যথা সম্ভব কম সময় ব্যয় করা উচিত। কারণ, শপিংয়ে বেশি সময় ব্যয় করার ফলে একদিকে আপনার মনে ইবাদতের প্রতি মনোযোগ নষ্ট হবে, অপর দিকে ক্লান্ত শরীর ইবাদতের উপযুক্ত থাকবে না।
০৬. এমনিতে আমরা সারা বছর নানা কারণে শিশুদের নৈতিক ও দীনি শিক্ষা দানের বিষয়ে খুব বেশি সময় দিতে পারি না। রমজানে তাদেরকে দীনি শিক্ষা ও পরিচর্যা করার ব্যপারে যত্নশীল হওয়া উচিত। কারণ বেশিরভাগ শিশুদের এ মাসে পড়াশুনার চাপ কম থাকে।
০৭.  রোযা কেবল উপবাস থাকার নাম নয়। বরং একজন ঈমানদার তার গোটা শরীরের রোযা রাখবে। অনেকেই রোযা রেখে হাতে হারাম উপার্জন, মুখে মিথ্যা, অনর্থকতা ও পরচর্চা, গানবাজনা শ্রবণ এবং নিষিদ্ধ ক্ষেত্রে চোখের ব্যবহার বন্ধ রাখেন না। তাদের রোযা কেবলই উপবাস থাকা ছাড়া আর কিছু নয়। সিয়াম সাধনা সার্থক করার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো এ বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা।
০৮. হাদীসে বর্ণিহ হয়েছে, ৩ব্যক্তির প্রার্থনা ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তাদের মধ্যে একজন হলেন রোযাদার ব্যক্তি। ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত রোযাদারের দুআ কবুল হয়। দিনভর নানা ব্যস্ততায় আমরা দুআয় নিমগ্ন হতে পারি না, এটাই অপ্রিয় বাস্তবতা। তাই অন্তত: ইফতারপূর্ব মুহুর্তে দুআয় মগ্ন থাকা উচিত। কারণ, এটি নানা কারণে দুআর জন্য আদর্শ সময়। সন্ধার সময় দুআ কবুল হয়, ইফতারপূর্ মুহুর্তে দুআর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিদিন এই সময় জাহান্নাম থেকে বহু লোককে মুক্তির পরোয়ানা ঘোষণা করা হয়। অথচ তখন ইফতারের আয়োজনে আমরা এতোটাই ব্যতিব্যস্ত থাকি, আযান পর্যন্ত আর নিরবে কিছু সময় আল্লাহর নিকট দুআ ও আযকারে মাশগুল থাকার ফুরসৎ হয় না। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এদিকটির প্রকি খেয়াল রাখা উচিত।
০৯. রমজান নেক আমলের বিশেষ মাস, এ মাসের শুরুতে আল্লাহর আহবায়ক সৎকর্মশীল বান্দাদেরকে আমল ও ইবাদতে আরো অগ্রসর হওয়ার আহবান করে থাকেন। সুতরাং রুটিন আমলের পাশাপাশি রমজানের বিশেষ আমলগুলোর প্রতি যত্ন নেওয়া উচিত। আথচ চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই মাসে বরং আমাদের কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ রুটিন আমলই বাদ যায়। যেমন- আযানের জবাব দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত। মুআযযিন আযানের সময় যে সব বাক্য উচ্চারণ করেন, তার অনুকরণে সেগুলো বলা সুন্নাত। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-মুআযযিন যা বলে, তোমরাও তা বলোশুধু হাইয়্যা আলাস সালাহ ও হাইয়্যা আলাল ফালাহ বলার পর লা- হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহবলতে হবে। রমজানে আযানের সাথে সাথে আমরা ইফতারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আযানের জবাব দেওয়ার কথা ভুলে যাইযা কাম্য নয়। এ বিষয়ে বিশেষ যত্নশীল হওয়া দরকার।
১০. তারাবীর নামাজে তাড়াহুড়ো করা। আল্লাহর নিকট আমলের পরিমাণের চেয়ে গুনগত মান অনেক বেশি মুখ্য। নামাজের ব্যপারে একাধিক হাদীসে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ এসেছে। অথচ আমাদের সমাজের সাধারণ চিত্র হলো রমজানে তারাবীর নামাজে ক্বিরাত পাঠ, রুকু ও সাজদা-সব ক্ষেত্রেই তাড়াহুড়ো করা হয়। এতে আমলটির মান অনেক কমে যায়। অনেক সময় আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্যতাই হারায়।
১১. অনেকে ক্লান্তি কিংবা অলসতার কারণে তারাবীর নামাজের দুই রাকআত পরবর্তী বিরতীর পর ইমামের সঙ্গে দাড়িয়ে নামাযে যোগ না দিয়ে বসে বসে ইমামের রুকুতে যাওয়ার অপেক্ষা করে থাকেন। ইমাম যখন রুকুতে যান, তখন জামাতে যোগ দেন। এটা ভুল প্রবণতা। রমজান হলো ইবাদতের সিজন। পেশাদার ব্যক্তি মাত্রই ক্লান্তি ও অলসতা উপেক্ষা করে সিজনের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করে। তবেই সে সফলতা অর্জন করতে পারে। সালাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কিয়াম ও ক্বিরাত। এ ব্যপারে উদাসীন থাকা বুদ্ধিমানের পরিচয় নয়।
১২. অনেকেই কোন বেরোজদার কিংবা নেক আমলে পিছিয়ে থাকা লোকদের দেখে নিজের আমল ও ইবাদতে আত্মপ্রসাদ ও গর্ববোধ করে থাকেন। যা কোন কোন সময় নিজের আমলকে নষ্ট করে দেয়। সুতরাং এমন ক্ষেত্রে নিজের আমলে আহংকারী না হয়ে আল্লাহর দেওয়া তাউফীকের কথা স্মরণ করে বরং শোকরগুযার থাকার চেষ্টা করতে হবে। অন্যথা সবই বৃথা হয়ে যাবে।
১৩.  রমজানের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্ত হলো শেষের দশ দিন। বোখারীর বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দশ দিনে ইবাদতের জন্য যতোটা সাধনা করতেন জীবনের অন্য কোন সময় ততটা করতেন না। এই দশকে তিনি নিজে কোমর বেঁধে আমল শুরু করতেন এবং পরিবারের লোকদেরও ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। অথচ আমরা প্রথম দুই দশকের তুলনায় শেষের দশকে বেশি গাফেল হয়ে পড়ি। ঈদের কেনাকাটা এবং অন্যান্য ব্যস্ততায় এই মূল্যবান দশকে আমরা ইবাদতের ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলি। রমজান সাধনা সার্থক করতে হলে এই দশককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করতে হবে।
১৪. আয়শা রা: বলেন- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমৃত্যু প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। (বোখারী) ইতিকাফ আমাদের সমাজের সবচে অবহেলিত আমলের একটি। শবে কদর প্রাপ্তি ও শেষ দশকের ইবাদতে পরিপূর্ণভাবে নিমগ্ন থাকার আশায় যেখানে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনের প্রতিটি বছর ইতিকাফ করতেন, সেখানে আমরা বেশিরভাগ লোক জীবনে এই আমলটি একবারও করতে পারিনি! রমজানের অন্যতম সেরা বৈশিষ্ট্য হলো এই মাসে শবে কদর রয়েছে, আর শবে কদরেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে। কোন ব্যক্তি যদি ইতিকাফ করেন, তবে তিনি শবে কদরে রাত জেগে ইবাদত করতে না পারলেও শবে কদর লাভের মর্যাদা অর্জন করবেন।
১৫. রমজানের শেষে যাকাতুল ফিতর বা ফিৎরা নামক বিশেষ সাদাকাহ বা দানের নির্দেশ করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর এই সাদাকার দুটি উদ্দেশ্য তিনি বর্ণনা করছেন- একটি হলো (ঈদ উপলক্ষে) দরিদ্রদের অন্যদান, আর অপরটি হলো ফিৎরা রোযাদের কথা ও কাজে অনর্থকতা ও ভুল-ত্রুটির কাফফারার ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ রোযাকে বিশুদ্ধ করে। (সুনানে আবু দাঊদ) ফিৎরা আদায়ে আমাদের দুটি ত্রুটি বেশ লক্ষনীয়। প্রথমটি হলো, সময় মতো সাদকাতুল ফিতর না দেওয়া। সাদকাতুল ফিতর আদায়ের মূল সময় হলো ঈদের চাঁদ দেখার পর হতে ঈদের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত। এর পর আদায় করলে সেটা নিছক সাধারণ দানে পরিণত হবে। সাদকাতুল ফিতর আদায় হবে না। অথচ অনেকেই এটা ঈদের পর আদায় করে থাকেন। যা জঘণ্য ভুল। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু সাদকাতুল ফিতরের অন্যতম উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন, গরীবদের খাদ্যদান-সেহেতু নগদ অর্থ না দিয়ে খাদ্য দেওয়াই শ্রেয়। তিনি নিজেও আজীবন খাদ্যদান করেছেন।
এমন আরো বেশ কিছু বিষয় আছে, সিয়ামকে সার্থক করতে হলে যেগুলোর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের সিয়াম ও রামাজানের সাধনা যদি যথাযথভাবে হয়, তবেই সাধিত হবে সিয়ামের মূল লক্ষ্য-তাকওয়া অর্জন। আর তবেই আশা করতে পারবো জান্নাতের বিশেষ গেইট রাইয়ানদিয়ে জান্নাতে প্রবেশের, অন্যথা নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সিয়াম ও রমাজান সাধনাকে কবুল ও সার্থক করুন। আমীন।
লেখক : সৌদি আরব, দাম্মাম থেকে
রোজায় মিসওয়াক ও পেস্ট ব্যবহার
OURISLAM24.COM

news-image

মুহাম্মদ মাহবুবুল হক : রোজা অবস্থায় মিসওয়াক করলে রোজার কোন সমস্যা হয় না।তবে টুথপেস্ট, টুথপাউটার, কয়লার মাজন দিয়ে দাঁত পরিস্কার করা অনুত্তম ও মাকরুহে তানজিহী।
রমজানে দিনের বেলা এগুলো দিয়ে দাঁত না মাজাই ভাল।এ গুলো দ্বারা দাঁত পরিস্কার করলে খুব সর্তকতার সাথে করতে হবে । যদি তা গলার ভেতরে চলে যায় ,তাহলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে । সূত্র:ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ:৪০৪/৬,রদ্দুল মুহতার:১৫৩/২,আহছানুল ফাতাওয়া :৪২৯/৪






আর্থিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় যাকাত
OURISLAM24.COM

এহসান বিন মুজাহির : ইসলামের যাকাত বিধান ধনী গরীবে মাঝে বৈষম্য দূরীকরণে ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ বণ্টনব্যবস্থা। যাকাত আদায়ে ধনী গরীবের মাঝে ভালবাসা তৈরি হয়। আর্থিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। সমাজ থেকে দারিদ্রতা দূর হয়।
কুরআনুল কারীমে আল্লাহ বলেন, ‘যারা জাকাত দেয় না তারা হলো সেসব লোক, যারা আখিরাতের প্রতিও অবিশ্বাসী’ (সূরা হামীম আসসাজদা: ৭) সূরা বাকারার ১১০ নাম্বার আয়াতে আল্লাহপাক আরও এরশাদ করেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত দাওমিশকাত শরিফে উল্লেখ রয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন-ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি। এই সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সা: আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, হজ সম্পন্ন করা এবং রমজানের রোজা রাখাঈমান আনা ও নামাজ আদায়ের পর জাকাত প্রদান করা ঈমানের দাবি। ইসলামী শরীয়তে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য বা যে কোন একটির সমমূল্যের সম্পদ এক বছর কারো নিকট আবর্তিত হলে শতকরা ২.৫০% সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরআনে বর্ণিত আট প্রকার খাতে ব্যয় করাকেই জাকাত বলা হয়।
জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত ছয়টি: ১. মুসলমান হওয়া। ২. জাকাত প্রদানকারী ব্যক্তি সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন হওয়া। ৩. ঋণমুক্ত হওয়া। ৪. নেসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সমপরিমাণ) সম্পদের মালিক হওয়া। ৫. নেসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ একবছর অতিক্রান্ত হওয়া। ৬. জাকাত প্রদানকারী ব্যক্তি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া।
জাকাতের ক্ষেত্র ও নিসাব: জাকাতের ক্ষেত্র খুবই ব্যাপক। প্রায় সকল প্রকার ধন সম্পদের ওপরই জাকাত ধার্য করা হয়েছে। নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, কৃষিজ উৎপাদন, ব্যবসায়ের পণ্য, গৃহপালিত পশুসহ প্রায় সব কিছুই জাকাতের আওতায় আসে। জাকাতের হার শরীয়তের বিধান দ্বারা নির্দিষ্ট। একে মানুষের ইচ্ছাধীন করে দেয়া হয়নি। জাকাতক্ষেত্র অনুযায়ী যাকাত প্রদানের পদ্ধতিও ভিন্ন ভিন্ন। (জাকাত কোন ক্ষেত্রে ২.৫ ভাগ। কোনো ক্ষেত্রে ৫ ভাগ, কোন ক্ষেত্রে ১০ ভাগ)। ফকীহগণের সর্বসম্মতিক্রমে স্বর্ণে জাকাতের নিসাব ২০ মিসকাল বা সাড়ে সাত ভরি, তথা ৮৭.৪৫ গ্রাম। এর কম হলে যাকাত দিতে হবে না। কারো নিকট ২০ মিসকাল পরিমাণ স্বর্ণ যদি একবছর অতিক্রম করে তবে তাতে অর্ধ মিসকাল স্বর্ণ জাকাত ওয়াজিব হবে। (নূরুল আনওয়ার, শরহে বিকায়া) ৫২ তোলা রুপা অথবা ৭.৫০ তোলা সোনা অথবা সমপরিমাণ অর্থ। শর্ত হলো নেসাব পরিমাণ সম্পদ একবছর অতিক্রান্ত হওয়া। উপরিউক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ যার আছে তার ওপর জাকাত ফরজ। তবে গরু, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বারক্ষেত্রে জাকাত আদায়পদ্ধতি ভিন্ন। নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, ব্যবসায়িক পণ্যসামগ্রী ছাড়াও মহিলাদের অলঙ্কারের জাকাত আদায় করা ওয়াজিব। নাবালেগের সম্পদের জাকাত অভিভাবক আদায় করবেন। ব্যবসায়িক পণ্যে জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে দোকান বা গুদামে মজুতকৃত সব পণ্যের মূল্যমান হিসাব করে জাকাত আদায় করতে হবে। শিল্প-কারখানায় প্রস্তুতকৃত পণ্যসামগ্রীর ওপরও জাকাত আদায় ওয়াজিব। অবশ্য কারখানার ভূমি, বিল্ডিং, মেশিনারি, গাড়ি ইত্যাদির ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়। আনুমানিক থোক বরাদ্দের মতো আন্দাজে একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে দান করলে জাকাত আদায় হবে না। সম্পদেও হিসাব করে পরিমাণমতো জাকাত আদায় করতে হবে।
জাকাতের হকদার: কাছের আত্মীয়স্বজন যারা আর্থিকভাবে দুর্বল, তারা জাকাতের বেশি হকদার। যারা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত কুরআনের আলোকে তারা হচ্ছে নিঃস্ব, অভাবী, জাকাত সংগ্রহে নিযুক্ত কর্মী, নও মুসলিম, ঋণী, মুক্তিপ্রত্যাশী দাস-দাসী, মুজাহিদ ও মুসাফির।
আল্লাতায়ালা কুরআনে সুস্পষ্ট ভাষায় জাকাতের হকদ্বার সর্ম্পকে বলে দিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘নিশ্চই সদকাহ হচ্ছে, ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাস আযাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্থদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময় (সূরা তাওবা: ৬০)
জাকাতের খাত: জাকাতের খাত আটটি: ১.ফকির। ২. মিসকিন। ৩. যাকাতের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি ৪. মুআল্লাফাতুল কুলুব। ৫.দাসমুক্তি ৬. ফি সাবিলিল্লাহ। ৭. ঋণগ্রস্থ। ৮. মুসাফির।
জাকাতের টাকা একজনকে অথবা খুচরা করে অনেকজনকে দেয়া যাবে। তবে ১০০ জনকে খুচরা টাকা, শাড়ি-লুঙ্গি না দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার মতো করে ব্যবস্থা করে দিতে পারলে (যেমন একটি দুধের গাভী কিনে দিলেন, দোকান করে দিলেন, অন্য কোনো ব্যবসার পুঁজি করে দিলেন) তা দারিদ্য বিমোচনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারে। পিতা-মাতা-দাদা-নানা-স্ত্রী-সন্তানদের জাকাত দেয়া যায় না। মসজিদ ও মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের জন্য জাকাত দেয়া যায় না। তবে গরিব মাদরাসার ছাত্রদের জাকাত দেয়া যাবে। জাকাত রমজান মাসেই দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সুবিধামতো অর্থবছর নির্ধারণ করে নিয়ে প্রতি বছর সেই হিসাব মোতাবেক জাকাত আদায় করা যায়। তবে রমজানে দানের সওয়াব যেহেতু বেশি, তাই বেশির ভাগ মুসলমান রমজানে জাকাত আদায় করে থাকেন। জাকাত প্রদানের আগে প্রত্যেকের নিয়তকে বিশুদ্ধ করে নেয়া জরুরি। নিয়ত শুদ্ধ না থাকলে জাকাত আদায় কবুল হবে না। মহান আল্লাহতাআলা আমাদেরকে জাকাতের গুরুত্ব অনুধাবন করে যথযথভাবে জাকাত আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন। লেখক: সাংবাদিক ও আলেম
শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

















এতেকাফ কেন করবেন কিভাবে করবেন
OURISLAM24.COM
news-image

মাওলানা আতিকুল ইসলাম : এতেকাফ শব্দের অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা, স্থির থাকা, আবদ্ধ থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় রমজানের শেষ দশ দিন বা যেকোনো দিন দুনিয়ার সব কাজ-কর্ম তথা পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মসজিদে বা ঘরের পবিত্র স্থানে এতেকাফের নিয়তে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলা হয়।
এতেকাফ তিন প্রকার। ওয়াজিব, মুস্তাহাব, সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
মানতের এতেকাফ ওয়াজিব। রমজানের শেষ ১০ দিন ব্যতিরেকে যত এতেকাফ করা হবে তা মুস্তাহাব। রমজানের শেষ ১০ দিনে এতেকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কেফায়া।
এতেকাফের চারটি শর্ত : ১. মসজিদে অবস্থান করা, নারীদের জন্য ঘরে ২. নিয়ত করা ৩. বড় নাপাক থেকে পাক হওয়া ৪. রোজা অবস্থায় হওয়া।
২০ রমজান সূর্যাস্তের সময় থেকে মসজিদে ইতেকাফ শুরু করতে হবে। রমজানের চাঁদ দেখার পর মসজিদ থেকে বের হবে। রোজায় মহল্লার জামে মসজিদে ইতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া মানে হলো, সবার পক্ষে একজন আদায় করতে হবে। না হয় পুরো এলাকাবাসীর গুনাহ হবে।
এতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজার শেষ ১০ দিন এতেকাফ করবে, সে ব্যক্তি দুটি হজ ও দুটি ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। হজরত আয়েশা রা. বলেন, রাসুল সা. দুনিয়াতে যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে এতেকাফ করেছেন। জীবিত থাকাকালীন কোনো রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ বাদ দেননি। -বুখারি, মুসলিম
মহানবী সা. বলেন, আমি লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য ও মহিমা অনুসন্ধানে প্রথম দশদিন ও মাঝের দশদিন এতেকাফ করেছি অবশেষে আমার কাছে একজন ফেরেশতা এসে বলেছেন, লাইলাতুল কদর শেষ দশকে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা এতেকাফ করতে চায় তারা যেন শেষ দশকে এতেকাফ করে। এতেকাফকালীন অধিক কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তাসবিহ, জিকির, দোয়া-দরূদ, দান-সদকা ইত্যাদি আমল করা। কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ ও অনর্থক গল্প-গুজবে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। মসজিদে লেনদেন না করার পাশপাশি বিনা প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের না হওয়া উচিত।
মসজিদুল হারামে এতেকাফ করলে তা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট এতেকাফ। তারপর মসজিদে নববীতে এবং তারপর বায়তুল মুকাদ্দাসে। তারপর উৎকৃষ্ট এতেকাফ হয় কোনো জামে মসজিদে করলে যেখানে রীতিমতো জামায়াতে নামাজ হয়। এর পরের মরতবা নিজের গ্রাম বা মহল্লার মসজিদে এতেকাফের।
আওয়ার ইসলাম ২৪ ডটকম / এফএফ






এতেকাফ : আল্লাহর নৈকট্য লাভের সিঁড়ি
OURISLAM24.COM

news-image

মাহবুব আহমাদ : এতেকাফ আল্লাহ প্রেমের বহিঃপ্রকাশ। খোদার প্রেমে মগ্ন থাকার কার্যকরী গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত।আল্লাহর কাছে যাওয়ার অপার সুযোগ।এতেকাফে নিজেকে আল্লাহর সমীপে সপে দেয়া হয়।জাগতিক চিন্তাধারা ও পৃথিবীর সকল প্রয়োজনীয়তাকে সাময়িক মুলতবি রেখে পরকাল পানে ছুটে চলার শিক্ষা দেয় এতেকাফ।ইবাদতের মানোয়ন্ন, আল্লাহর সাথে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন ও নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ থেকে খোশনদি অর্জন করা যায়।
এতেকাফ আরবী শব্দ ও ইসলামী শরীয়াহর একটি পরিভাষা।এতেকাফের আক্ষরিক অর্থ আবদ্ধ থাকা, অবস্থান করা। শরীয়তের পরিভাষায় দুনিয়ার সকল কার্যক্রম থেকে অবসর গ্রহন করে ইবাদতের মানসে নিয়্যতের সাথে মসজিদে অবস্থান করে মহান রাব্বুল আলামীনের ইবাদতে মশগুল থাকাকে এতেকাফ বলা হয়।ইসলামে তিন প্রকারের এতেকাফ পাওয়া যায়।ওয়াজিব, সুন্নতে মুআক্কাদা, মুস্তাহাব ।
ওয়াজিব এতেকাফ : কোন কাজ অর্জিত হওয়ার শর্তে বা শর্তহীনভাবে এতেকাফ করার মান্নত করাকে ওয়াজিব এতেকাফ বলা হয়।ওয়াজিব এতেকাফের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক।
মুস্তাহাব এতেকাফ : ওয়াজিব এতেকাফ ও রমজানের শেষ দশকের এতেকাফ ছাড়া অন্য যে কোন সময় এতেকাফ করা কে মুস্তাহাব এতেকাফ বলা হয়।
সুন্নাতে মুয়াক্কাদা : রমজানের শেষ দশকের এতেকাফ হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কেফায়া।
এতেকাফের মহাত্ম ও ফজিলত অপরিসীম।হাদীসে নববীতে এসেছে, কোন মানুষ রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করলে তাঁকে দুটি হজ্জ ও দুটি ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব প্রদান করা হয় (বায়হাকী)। হযরত আয়েশা রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশ দিন মৃত্যু অবধি এতেকাফ করেছেন। নবীজী স.-এর ইন্তেকালের পর তাঁর পূণ্যবতী পত্নীগণ এতেকাফ করেছেন (বুখারী -মুসলিম)। নবী করিম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রমজানে সর্বদা এতেকাফ করতেন। হযরত আনাসরা.বলেন, রাসূল স. প্রতি রমজানের তৃতীয় দশকে এতেকাফ করতেন। এক বত্‍সর এতেকাফ করতে পারেননি, তাই পরবর্তী রমজানে দুই দশক এতেকাফ করেন (তিরমিজি)।
আহাদীস থেকে প্রতীয়মান হলো রমজানের শেষ দশকের এতেকাফের তাত্‍পর্য  অত্যধিক বৈশিষ্ট রয়েছে। বিশ রমজান সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত থেকে পশ্চিমাকাশে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত একনিষ্ট হৃদয়ে প্রভূর ধ্যানে মসজিদে এতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কেফায়া। সুন্নতে মুয়াক্কাদা পরিত্যাগ করলে গোনাহ হয়ে।গ্রাম বা মহল্লার মসজিদে কিছু সংখ্যক লোক এতেকাফ আদায় করলে পুরো এলাকাবাসী দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে। মহল্লার মসজিদে কোন মানুষ এতেকাফে না বসলে মহল্লাবাসী সবাই গোনাহগার হবে।পুরুষরা এতেকাফ করবেন মসজিদে আর মহিলারা এতেকাফ করবেন বাড়ির নির্দিষ্ট কোন রুমে বা কামরার নির্দিষ্ট কোণে।এতেকাফের জরুরী কতিপয় মাসায়েল : মহিলাদের জন্য মসজিদে এতেকাফ করা মকরুহে তাহরিমী।
এতেকাফের শর্তাবলী : এক.পুরুষদের জন্য জামাত অনুষ্ঠিত হয় এমন মসজিদে এতেকাফ করতে হবে। দুই. এতেকাফের নিয়্যত অবশ্যি হতে হবে।আরবীতে নিয়্যত করা জরুরী নয়।মনের দৃঢ় সংকল্পের নামই নিয়্যত।তিন.নারীদের পিরিয়ড-ঋতুস্রাব ও প্রসবকালীন নেফাস থেকে পুতঃপবিত্র হতে হবে।পুরুষের ফরজ গোসল ও এতেকাফের জন্য প্রতিবন্ধক।অবশ্য সাথে সাথে পবিত্র হয়ে পুনরায় এতেকাফে বসতে পারবে (আলমগীরী,বাহরুর রায়েক)।কারও সাথে আর্থিক চুক্তি তথা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এতেকাফের উদ্দেশ্যে মসজিদে আবদ্ধ থাকা ও এতেকাফে প্রবেশ করানো উভয়টাই নাজায়েয (জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া )। এতেকাফ রত অবস্থায় বিনা প্রয়োজনে বের হওয়া যাবেনা। একান্ত যৌক্তিক ও শরয়ী প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুযোগ রয়েছে।মানুষের অভ্যাসগত স্বাভাবিক প্রয়োজন প্রস্রাব, পায়খানা, ফরজ গোসল, বাড়ি থেকে মসজিদে খাবার নিয়ে আসার লোক না থাকলে খাবার নিয়ে আসা। শরয়ী প্রয়োজনে ও বের হওয়া যায় যেমন, জুমুআর নামাজ পড়তে জামে মসজিদে গমন করা (দুররে মুখতার)।তীব্র প্রয়োজনে মসজিদের বাহিরে গমন করলে জুরুরত ফুরিয়ে গেলে বিলম্ব না করে দ্রুত মসজিদে ফিরে আসতে হবে।এতেকাফে নিষিদ্ধ কর্ম:স্ত্রী সহবাস করলে এতেকাফ নষ্ট হয়ে যায়।সঙ্গমের প্রাক প্রাথমিক কাজ চুম্বন ও আলিঙ্গনের ফলে বীর্যপাত হলে এতেকাফ ভেঙ্গে যায়।কোন শরীআহ অনুমোদিত কাজ ছাড়া অযথা মসজিদ থেকে বের হলে এতেকাফ আর থাকবে না।পূণ্যের কাজ ভেবে এতেকাফে নীরবতা অবলম্বন করা মাহরুহে তাহরিমী।অপ্রয়োজনে বা ঢুনকো অজুহাতে পার্থিব কাজে জড়িয়ে পড়া মাকরুহে তাহরিমী।এতেকাফে বসে যা করবেন : আল্লাহর নৈকট্য লাভে আত্মনিয়োগ করতে হবে।পরকালের মুক্তির জন্য যাবতীয় নেক কাজের প্রসেসিং ও বাস্তব জীবন্ত আমল করতে হবে। ভাল কথা ছাড়া কোন শব্দও মুখ থেকে উচ্চারণ না করা। আলস্যের চাদর জেড়ে পেলে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির আযকার ও তাসবীহ তাহলীলে নিমজ্জিত থাকা।কুরআনের তাফসীর , হাদীস, ফেকাহ ও দ্বীনি বইপত্র পড়তে পারেন।এতেকাফে যা বর্জন করবেন: মিথ্যা, গীবত, সকল গোনাহর কাজ ত্যাগ করতে হবে। পার্থিব কথাবার্তা বর্জন করতে হবে।আশ্লীল কথন পরিত্যাগ করতে হবে।ইন্টারনেট ও সোশ্যাল নেটওয়ার্ট বন্ধ রাখুন।ফেসবুক, টুইটারে টু মারবেন না।মোবাইল ফোনে গল্পগুজব করবেন না। ওয়াটস এপ ও মেসেন্জার বন্ধ রাখুন। চ্যাটিং থেকে বিরত থাকুন।এতেকাফের সময়ে লাইলাতুল কদর পাওয়ার সম্ভাবনা প্রকট।হাজার রাতের সেরা রাত শবে কদরের কদর করুন। এতেকাফে আল্লাহ প্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে গোনাহ মাফের ব্যবস্থা করতে পারেন।ভালবাসার সেতুবন্ধন নির্মাণ করতে পারেন আল্লাহর সাথে।









এতেকাফ স্রষ্টার সান্নিধ্যের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম
OURISLAM24.COM
news-image

আমিন হানিফ : আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যমই হল ইবাদত। ইবাদতের শেষ বলে কিছু নেই। বলতে গেলে একজন মুমিনের কল্যাণকর সব কর্মই ইবাদতে গণ্য। তবে নিরর্ধারিত কিছু বিধান শীরধার্য। সে নির্ধারিত বিষয়বিন্যাস পর্যায়ক্রমে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল হিসেবে আমরা পালন করে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমযান মাসে নাজাতের দশদিনে অর্থাৎ শেষদশকে, মসজিদে মসজিদে শুরু হয়ে যায় এতেকাফের আমল। পবিত্র রমযানের এই এতেকাফ স্রষ্টার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য আলাদা রকমের নেয়ামত। নৈকট্য অর্জনের জন্য সুক্ষ হাতিয়ার। এর বিধান, ফজিলত, নিয়মকানুন ও নিষিদ্ধ বিষয় নিয়ে গুরুত্ববহ আলোচনা করছেন, কলিপরিষদ বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক, দারুল হিকমা আল ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, মুফতি শফিক সাদী। তিনি বলেন, পূণ্য লাভের আশায় সব ধরনের পার্থিব সংশ্লিষ্টতা ত্যাগ করে নির্দিষ্ট সময় মসজিদে অবস্থান করাকে এতেকাফ বলে। এর সসময়সীমা সর্বনিম্ন ২৪ ঘন্টা থেকে সর্বোচ্চের সীমা নেই।
মাহে রমযানের শেষ দশকে এতেকাফ পালন করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। অর্থাৎ, প্রাপ্তবয়ষ্ক যে কোন ১/২ জন তা আদায় করলে মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। এতেকাফের জন্য অতিরিক্ত কোন নিয়মকানুন নেই। তবে রোজা অবস্থায় এতেকাফ শর্ত। পুরুষের জন্য মসজিদে এতেকাফ করা। আর নারিগণ আপন ঘরে আদায় করবেন। তাদের জন্য এটাই উত্তম।
এতেকাফের কোন ফজিলত আছে? এ প্রশ্নে মুফতি সাদী বলেন, এতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, এতেকাফকারী সব পাপকর্ম থেকে মুক্ত থাকে, একারণে তার আমলনামায় এতো বেশি সোয়াব লেখা হয় যে, পরকালে এতেকাফকারী তার নেকির খাতা দেখে বিস্ময়াভিভূত হবে। [মিশকাত শরিফ]
জগতের সব মায়াজাল ছিন্ন করে নিজেকে একমাত্র আল্লাহর ধ্যানে লিপ্ত রাখেন একজন এতেকাফকারী। যে সব পার্থিব কাজ মানুষকে স্রষ্টার নৈকট্য থেকে দূরে রাখে, এতেকাফের মাধ্যমে সে ব্যাবধান দূর করে, সান্নিধ্যেরর উচ্চ মাকামে টেনে নেয়। কেননা এতেকাফকারী এতেকাফ অবস্থায় বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করেন। অধিক পরিমাণ দরুদ শরিফ পাঠ করেন। তাওবা এস্তেগফার করেন। ধর্ম বিষয়ে জ্ঞানচর্চা করার সুযোগ পান ও নফল নামায আদায় করে থাকেন। এমনকি শবে কদর তালাশ করার জন্য বেজোড় রাতগুলোতে সুবর্ণ সুযোগ জ্ঞান করে, ইবাদতে লিপ্ত থাকেন।
মুফতি শফিক সাদী বলেন, এতেকাফ কারীর জন্য নিষিদ্ধ কাজসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম, অকারণে মসজিদ থেকে বের হওয়া। যদি ইচ্ছায় বা ভুলে বের হয়ে পড়ে, তাহলে তার এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। তবে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়া এবং ওজু গোসলের জন্য বের হওয়া যাবে। এতে এতেকাফ নষ্ট হবে না। সবিশেষ কথা হলো, অনেক মহল্লায় দেখা যায়, রমযানের এই মহামহিম নাজাতের দশদিনে এতেকাফ আদায়ের জন্য টাকা দিয়ে ভাড়া করা লোক বসানো হয়। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে এমনটি হয়ে থাকে। এটা গর্হিত কাজ। টাকা দিয়ে সোয়াবের পারিবর্তে পাপ অর্জন। এতেকাফ হবে মহামহিমের সন্তুষ্টি অর্জন। পূর্ণ ভক্তিশ্রদ্ধাসহ রাসুলুল্লাহ সা. এর সঠিক অনুসরণ।







রমজানের শেষ দশদিনের ইবাদত
OURISLAM24.COM

news-image

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের : হজরত আয়েশা রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনরমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুল সা. নিজে সারা রাত ইবাদত করে কাটাতেন এবং পরিবারের লোকদেরও ঘুম থেকে তুলে দিতেন। এ সময় তিনি ইবাদতের কঠোর অনুশীলনের জন্য নিজের মধ্যে শক্তি ও উৎসাহ সৃষ্টি করতেন। সহিহ মুসলিম, ইতেকাফ অধ্যায়
আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সা. রমজানের শেষ দশকে ইবাদতের জন্য যে কঠোর সাধনা করতেন অন্য কোনো সময় তিনি এতটা করতেন না। সহিহ মুসলিম, ইতেকাফ অধ্যায়)
প্রথম হাদিসটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-
১। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সারা রাত ইবাদত করে কাটাতেন। অতএব বলা যায়, যাদের শরীর সুস্থ এবং সারা রাত জেগে থাকলে শারীরিক কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাও কম তাদের জন্য রমজানের শেষ দশদিন সারা রাত জেগে ইবাদত করা উত্তম।
২। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবারের লোকদের ঘুম থেকে তুলে দিতেন। এ অংশের মাধ্যমে দুটা শিক্ষা আমরা নিতে পারি।
১। রমজানের শেষ দশদিন নিজে নিজে ইবাদত করলেই হবে না বরং পরিবারকেও ইবাদতে শামিল করাতে হবে।
২। যারা সারা রাত জেগে থাকতে পারেন না, তারা রাতের কিছুটা সময় ঘুমিয়ে নিবেন তারপর উঠে ইবাদত করবেন।
প্রথম ও দ্বিতীয় হাদিস উভয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশদিনে সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত করতেন এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে অনেক পরিশ্রম করতেন।
অতএব আমাদেরও উচিৎ রমযানের শেষ দশদিন অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি বেশি ইবাদত করা এবং ইবাদতে কঠোর হওয়া।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন।







রোজা অবস্থায় স্যালাইন দেয়া যাবে কি?
OURISLAM24.COM

মুফতি আবু সাঈদ যোবায়ের : যে কোন দূর্বলতায় স্যালাইন খুব কার্যকরী এবং জনপ্রিয় একটি প্রতিষেধক। রোগীদের জন্য এটি আরো বেশি প্রয়োজনীয়। রমজান মাসে রোজা রেখে কি স্যালাইন ব্যবহার করা যাবে? এ নিয়ে অনেকে কিছুটা দোটানায় ভোগেন।
ইসলামি স্কলারগণের মতে, রোজা অবস্থায়ও স্যালাইন ব্যবহার করা যাবে। কারণ, স্যালাইন দেয়া হয় রগে। আর রগের মাধ্যমে কোন কিছু দেহে প্রবেশ করলে রোজা ভাঙবে না। তাই রোজা রেখেও স্যালাইন রগের মাধ্যমে স্যালাইন দেয়া যাবে। এতে রোজার কোন অসুবিধা হবে না। তবে, রোজা জনিত দূর্বলতা রোধ করার জন্য  স্যালাইন ব্যবহার করা যাবে না। এমনটি করা মাকরুহ। বরং রোজা জনিত দুর্বলতার উপর ধৈর্য ধারন করতে হবে।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, রোজা আমার জন্য, এবং আমিই এর প্রতিদান দিব।বুখারি শরিফ, হাদিস নং ১৭৭৩।
মূল কথা হল, দূর্বলতার কারনে স্যালাইন ব্যবহার করা যাবে। তবে রোজা জনিত দূর্বলতায় স্যালাইন ব্যবহার করা মাকরুহ।







রমযানের শেষ দশ দিন : কিভাবে কাটাবো
OURISLAM24.COM

news-image
মুফতি মুহাম্মদ আমিমুল ইহসান : আমরা রমযান মাসের শেষ দিনগুলোতে কথা বলছি। আপনারা এই মুবারাকের মাসের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করছেন। এ মাসে রোযা রেখেছেন, তারাবিহর নামায আদায় করেছেন, তাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট। এই মাসে আল্লাহ জান্নাতের দরজা খুলে দিয়েছেন। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছেন। এই মাসের শুরুতে রহমত, মাঝে মাগফিরাত, শেষে জাহান্নাম থেকে মুক্তি। এই মাসে রোযাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহ তায়ালার কাছে মিশকের চেয়ে বেশি সুঘ্রাণ। এই মাসে প্রতি রাতে তিনি এমন এক লক্ষ মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, যাদের উপর জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গিয়েছিল। এই মাস গুনাহগার বান্দার আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্ক গড়ার মাস।
আল্লাহ তায়ালা চান, প্রত্যেক সৎকর্মের পরে বান্দা যেন তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ তায়ালা হাজীদেরকে হজের আমল শেষ করার পর বলেছেন, “অতপর তোমরা সে স্থান থেকে ফিরে এসো, যেখান থেকে অন্য হজ্ব পালনকারী ব্যক্তিরা ফিরে আসে। আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় ক্ষমা করে দেন, তিনি বড়ই দয়ালু।সুতরাং এই দিনগুলোতে আপনার জন্য আবশ্যক হলো, মহান আল্লাহর দিকে রুযু হওয়া এবং এই মহিমান্বিত মাসের শেষ সময়গুলো তওবা এস্তেগফারের সাথে কাটানো। যাতে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে মকবুল বান্দাহদের দলে শামিল করে নেন, ক্ষমা প্রাপ্তদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে নেন। কেননা সকল নবি আ. তাদের সৎকাজের পরে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। হযরত নুহ (আ.) তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, “আমি তাদের বলেছি, তোমরা তোমাদের মালিকের দুয়ারে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিসন্দেহে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তদুপরি তিনি তোমাদের উপর আকাশ থেকে অঝোর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন। এবং ধন সম্পদ ও সন্তান সন্তুতি দিয়ে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্য বাগবাগিচা ও উদ্যান স্থাপন করবেন, নদী নালা প্রবাহিত করবেন।” হযরত হুদ (আ.) তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, “তোমরা যেন তোমাদের মালিকের দরবারে ক্ষমা চাইতে পারো, অতপর গুনাহ থেকে তওবা করে তার দিকে ফিরে আসতে পারো। তাহলে তিনি তোমাদের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত উত্তম জীবন সামগ্রী দান করবেন এবং প্রতিটি মর্যাদাবান ব্যক্তিকে তার মর্যাদা অনুযায়ী দেবেন।” হযরত সুলাইমান (আ.) তার রাজত্ব ও সেনাবাহিনী দেখে বলেছিলেন, “হে আমার মালিক ! তুমি আমাকে ক্ষমা করো, এবং তুমি আমাকে এমন এক সম্রাজ্য দান করো, যা আমার পরে আর কেউ কোনদিন পাবে না, নিশ্চয় তুমি মহাদাতা।” হযরত ইবরাহিম (আ.) তার শেষ বয়সে বলেছিলেন, “শেষ বিচারের দিন আমি তার কাছ থেকে এ আশা করবো, তিনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।
আল্লাহ তায়ালা এস্তেগফারকারীদের ব্যাপারে ওয়াদা করেছেন যে, তারা যতক্ষন পর্যন্ত এস্তেগফার করতে থাকবে ততক্ষন পর্যন্ত তিনি তাদেরকে দুনিয়ায় আযাব দেবেন না। ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহ তায়ালা এমন নন যে, তিনি তাদের কোন আযাব দেবেন, অথচ আপনি সশরীরে তাদের মধ্যে বর্তমান রয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা এমনও নন যে, কোন জাতির মানুষদের তিনি শাস্তি দেবেন, অথচ তারা কিছু লোক তখনও তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে।সুরা আনফাল:৩৩
যারা গুনাহ হওয়ার সাথে সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করে, অপরাধ করার সাথে সাথে তওবা করে তাদের প্রশংসা করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলছেন, (ভালো মানুষ হচ্ছে তারা) যারা যখন কোন অশ্লীল কাজ করে ফেলে কিংবা নিজেদের উপর নিজেরা যুলুম করে ফেলে, সাথে সাথেই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কে আছে যে গুনাহ ক্ষমা করতে পারে? তদুপরি এরা জেনে বুঝে এদের গুনাহর উপর অটল হয়ে বসে থাকে না।
এই মানুষগুলোর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতিদান হবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করে দেবেন, আর তাদের এমন এক জান্নাত দেবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে। সেখানে অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে। সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের জন্য কত সুন্দর প্রতিদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”Ñ সুরা আলে ইমরান:১৩৫-১৩৬
মহান আল্লাহর অনেক বড় গুণ হলো তিনি অনেক বড় দয়ালু এবং তওবা কবুলকারী। “তিনি আল্লাহ  যিনি তার বান্দাহদের তওবা কবুল করেন। এবং তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তোমরা যা কিছু করো সে সম্পর্কেও তিনি জানেন।সুরা শুরা: ২৫
মহান আল্লাহ বনী ইসরাইলকে বলেন, “তারা কি আল্লাহর কাছে তওবা করবে না, তারা কি তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? আল্লাহ তায়ালা বড়ই ক্ষমাশীল, দয়াময়।সুরা মায়েদা: ৭৪
যে সব বান্দাহরা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে, তিনি তাদের সগীরা গুনাহ করে দেন। সে সম্পর্কে তিনি বলেন, “যদি তোমরা সে সমস্ত বড়ো বড়ো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে তোমাদের ছোটখাটো গুনাহ আমি তোমাদের থেকে মুছে দেবো এবং অত্যন্ত সম্মানজনক স্থানে আমি তোমাদের প্রবেশ করাবো।”  সুরা নিসা:৩১ আরো বলেন যখনি তারা নিজেদের উপর কোন যুুলুম করবে, তখনি তারা আপনার কাছে ছুটে আসবে এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। এবং রাসুলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইবে। এমতবস্থায় তারা অবশ্যই আল্লাহ তায়ালাকে পরম ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু হিসেবে দেখতে পাবে।সুরা নিসা:৬৪ আরো বলেনযে ব্যক্তি গুনাহ করে অথবা নিজের উপর যুলুম করে। অতপর সে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন অবশ্যই সে আল্লাহ তায়ালাকে পরম ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু হিসেবে পাবে।”  সুরা নিসা:১১০ মহিমান্বিত সেই সত্তা যিনি পশ্চিমাকাশে সূর্য উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত রাতের বেলায় হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে দিনের অপরাধী তওবা করে। দিনের বেলা হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে রাতের অপরাধী তওবা করে। এই হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ওহে আমার বান্দারা! তোমরা রাতে দিনে সব সময় গুনাহ করো; আমি সব গুনাহ মাফ করি। তোমরা আমার কাছে ক্ষমা চাও আমি তোমাদের মাফ করবো।  মুসলিম:২৫৭৭
যে রমযান মাসে তওবা করে না, সে আর কবে তওবা করবে? যে রমযান মাসে দয়াময় আল্লাহর দিকে রুজু হয় না, সে আর কবে হবে? যে রমযান মাসে আল্লাহ তায়ালার সাথে নিজের গুনাহর হিসবা চুকায় না, সে আর কবে চুকাবেরমযান মাস চলে যাচ্ছে; আপনার গুনাহ এখনো মেটে নি, রমযান মাস চলে যাচ্ছে; আপনি এখনো জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরওয়ানা পান নি এর চেয়ে বড় লজ্জা, এর চেয়ে বড় আফসোসের বিষয় আর কী হতে পারে?
আসুন! এই রাতগুলোতে নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর ফিকির করুন। বেশি বেশি দরুদ পাঠ, তওবা এস্তেগফার কে গণীমত মনে করুন। কে জানে? হয়তো আপনি অনেক বড় গুনাহ করেছেন এই রাতেই আপনাকে মাফ করা হবে। আসুন! নিজেকে বাঁচান জাহান্নাম থেকে। দু হাত তুলুন প্রভুর দরবারে। আপনার কি জানা আছে যে, রমযান আপনার জীবনে আবার আসবেবিদায় হে সিয়াম, কিয়ামের মাস, বিদায় হে পবিত্রতম দিন!
জানিনা আমাদের সামান্য যিকির তেলাওয়াত কবুল করা হবে কি না? তাহলে হয়তো খুশি, আনন্দ আর কবুলিয়াতের তৃপ্তি নিয়ে ঈদগাহে যেতে পারবো না কি আমাদের আমলগুলো ময়লা কাপড়ের মতো পেচিয়ে আমাদের মুখে নিক্ষেপ করা হবে? তাহলে লজ্জা, আক্ষেপ আর প্রত্যাখ্যানের কষ্ট নিয়ে ঈদগাহে যাবো। প্রকৃত সৌভাগ্যশীল তো সেই যাকে আল্লাহ সৌভাগ্যশীল বানান, আর প্রকৃত অভাগা সেই যাকে আল্লাহ অভাগা বানান। তাই আসুন! আমরা এখনই তওবায়ে নাসুহা করে নিই। এই রাতগুলোতে বেশি বেশি এস্তেগফার পড়ি। দুহাত তুলে দয়াময় আল্লাহর কাছে মিনতি জানাইÑ হয়তো তিনি আমাদের মাফ করবেন। আমাদের এমন কোন আমল নেই, যা আমরা আল্লাহর সামনে পেশ করতে পারি। সামান্য আমল যা করি সব ভুলে ভরা। আমরা দরিদ্র, সহায় সম্বলহীন। আমাদের আমলগুলো রিয়ায় ভরা। কেউ কি কিছু সময় নামায পড়ে, কিছু তেলাওয়াত করে, কিছু যিকির আযকার করে মনে করে যে, বাহ! অনেক আমল করে ফেলেছি তো। এই কিছু সময়ের ইবাদত কি ঘুমের সময়ের চেয়ে বেশি, খানাপিনার সময়ের চেয়ে বেশি? খেলা ধুলার সময়ের চেয়ে বেশি?
আমরা যারা আল্লাহ তায়ালাকে রব হিসেবে মানি, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে নবি হিসেবে মানি কে জানে যে এই রাতগুলোতে আমাদের ভাগ্যে কী লেখা হবে। এই রাতে আমরা কি সৌভাগ্যশীলদের জামায়াতে শামিল হবো, না অভাগাদের দলে জুটে যাবো? ‘সকল আমল শেষ পরিাণামের উপর নির্ভর করে’ সুতরাং কোন গুনাহকেই ছোট মনে করো না। যার কাছে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত সবচেয়ে প্রিয় মনে হয়, আল্লাহ তার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার পাত্র হবে।আশা ও ভয়ের মাঝে তুমি অবস্থান করো, নিরাশ হয়োনা কখনো। আর নফসের সাথে তাড়াতাড়ি জিহাদ শুরু করো। যদি তুমি কোন গুনাহর কাজ করে ফেলো, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও,তওবা করো তাড়াতাড়ি তোমায় মাফ করে দেয়া হবে। জান কবজের সময় আসার আগেই দ্রুত তওবায়ে নাসুহা করো। তোমার সামনে যা আছে তুমি যদি সেটা জানতে, তাহলে তুমি না হেসে বেশি বেশি কাঁদতে। জান্নাত কষ্টকর জিনিস দ্বারা আচ্ছাদিত করা হয়েছে, আর জাহান্নামের কামনার জিনিস দিয়ে।
মহিমান্বিত সত্তা যিনি ন্যায়পরায়নদের জন্য ন্যায় বিচারের পাল্লা স্থাপন করেছেন। মাকবুল বান্দাহদের জন্য কবুলিয়াতের দরজা খুলেছেন। তওবাকারীদের জন্য তওবার দুয়ার উন্মুক্ত করেছেন। অন্তরের চাবিকাঠি যার হাতে তার দরবারে আমরা দোয়া করি তিনি যেন আমাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আমাদের সিয়াম,কিয়াম, যিকির, তেলাওয়াত সবকিছু কবুল করে নেন।





শাড়ি লুঙ্গি নয়, জাকাত হোক স্বনির্ভরতার প্রতীক
OURISLAM24.COM

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ : জাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান। সমাজে ধনী-গরিবের মাঝে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করা ও সমাজকে দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দেয়া হলো এর উদ্দেশ্য। ইসলাম একজনের হাতে বিপুল অর্থ-সম্পদ জমা হওয়াকে পছন্দ করে না। ইসলাম চায় ধনী-গরিব সবাই স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করুক। তাই দরিদ্রের প্রতি লক্ষ করে জাকাতের বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে।
জাকাত আদায় করলে আল্লাহপাক সম্পদের মালিকদের ধন-সম্পদ এবং ধন-সম্পদের বরকত বৃদ্ধি করে দেন। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সা. বলেছেন – ‘সদকা করার কারণে কখনো সম্পদ কমে না।দান-খয়রাত করলে সম্পদের পরিমাণ কমলেও সম্পদের বরকত কমে না। আল্লাহপাক এ সম্পদকে তার ভবিষ্যতের জন্য বরকতময় করে দেন এবং তার দান খয়রাতের কারণে তাকে এর চেয়ে উত্তম সম্পত্তি দান করেন।
আমাদের দেশের কিছু বিত্তবান এই বিধান পালন করে আসছেন। কিন্তু জাকাতের এই বিধান দিন দিন তার আসল উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলছে। ইসলামী বিধান হচ্ছে জাকাতের অর্থ দিয়ে দরিদ্র মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর। যাতে ভবিষ্যতে তাকে আর মানুষের দ্বারে দ্বারে যেত না হয়। কিন্তু আজকের বিত্তবান সমাজে দরিদ্রদের অর্থনৈতিকভারে স্বনির্ভরতার কথা আর ভাবছেন না। সবাই ঝুকছেন শুধু শাড়ি-লুঙ্গির দিকে।  রাজধানীর গুলিস্থান, ফুলবাড়িয়া ও ফার্মগেইটসহ নানা স্থানে বেশ কিছু মার্কেটে ব্যানার টানিয়ে বিক্রি হচ্ছে জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি। জাকাতকে কেন্দ্র করে আমাদের অর্থনীতিতে প্রতি বছর হাত বদল হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অথচ এ অর্থ যারা দুবেলা দুমোঠ ভাত পাচ্ছেন তাদের কোন উপকারে আসছে না।
ইসলামী শরিয়া ধনীদের উপর জাকাত ফরজ করেছে যেন তাদের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র সমাজের লোকেরা স্বনির্ভর হয়। কিন্তু আমাদের এই শাড়ি-লুঙ্গির সংস্কৃতিতে ধনীদের টাকায় লভবান হচ্ছেন শুধু ধনীরাই। গরিবের কপালে তেমন কোন পরিবর্তন ঘটছে না। এছাড়াও জাকাতের টাকায় শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের মাধ্যমে আমাদের সমাজের প্রকার বিপর্যয় ঘটছে।
গত বছরে ৭ই জুলাই ময়মনসিংহ পৌরসভা কার্যালয়ের কাছে নূরানী জর্দার মালিক শামীম তালুকদারের জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গী  বিতরণকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের সমাগম হয় । এক পর্যায়ে ভিড়ের চাপে পড়ে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়। আজ আলেম সমাজের ভাবার সময় হয়েছে, এই ভাবে জাকাত আদায় করলে আদো জাকাত আদায় হবে কিনা?
আমাদের নবী সা. বিভিন্ন হাদিসে মুসলিম জাতিকে জাকাত আদায়ের বিষয়ে সচেতন করেছেন। একটি হাদিসে এসেছে, হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমরা রাসূল সা.- এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করি নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদায় করা এবং প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনার উপর। অন্য আরো একটি হাদিসে এসেছে, হযরত আবু সায়ীদ রা. বর্ণনা করেন, ‘একদিন রাসূলুল্লাহ সা.আমাদেরকে নসিহত করছিলেন। তিন বার শপথ করে তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বে, রমজানের রোজা রাখবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকবে আল্লাহপাক তার জন্য অবশ্যই বেহেশতের দরজা খুলে দিয়ে বলবেন, ‘তোমরা নিরাপদে তাতে প্রবেশ কর-নাসায়ী
ইসলামে অর্থনৈতিকভাবে দুইটি বিষয় আমাদের উপর ওয়াজিব করা হয়েছে। ১. সাদাকাতুল ফিতির ২. জাকাত। আমরা যদি নবী সা. এর এই দুই বিষয়ের হাদিস নিয়ে আলোচনা-পর্যলোচনা করি তাহলে আমরা দেখতে পাব এই দুইটা বিষয়ের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা।  ফিতরা আদায় করি, যেন সমাজের সবাই ঈদের আনোন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি এই জন্য। কিন্তু জাকাতের উদ্দেশ্য কখনো ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা নয়। জাকাতের উদ্দেশ্য হলো সমাজের দরিদ্র ও অসহায় লোকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। আমাদের সমাজে শাড়ি-লুঙ্গি দেয়ার যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। এই সংস্কৃতি যদি চলতে থাকে তাহলে প্রকৃত জাকাত আদায়ের ব্যবস্থার কোন অস্তিত্ব আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
সুতরাং সমাজের বৃত্তবানদের  প্রতি আহ্বান হচ্ছে, নিজেদের সুনাম ও সুখ্যাতি বৃদ্ধির জন্য নয়, জাকাত প্রদান করুণ ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী তাহলেই সমাজের ও দেশের কল্যাণ হবে।







ঈদের দিনের সুন্নত 
OURISLAM24.COM

news-image
হাসান অাল মাহমুদ : মুসলমানদের জীবনে বছর ঘুরে দুইটি দিনই অাসে ঈদের দিন হিসেবে। এ দুদিন খুশির দিন।অানন্দের দিন।যার একটিকে বলা হয় ঈদুল ফিতর অারেকটিকে বলা হয় ঈদুল অাযহা।ঈদুল অাযহা অনুষ্ঠিত হয় জিলহজ্জ মাসের দশ তারিখে অার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র রমজান মাসের শেষে শাওয়ালের এক তারিখে।
মুমিন জীবনে এ দুই ঈদের মাহাত্ম্য অপরিসীম। একটিতে দিতে হয় সামর্থবানদের অার্থিক ত্যাগ অারকটিতে দিতে হয় বালেগ, সবলদের দৈহিক ত্যাগ। অার এর মধ্য দিয়েই উদযাপিত হয় অানন্দ।এ অানন্দ নির্মল। স্বচ্ছ,পবিত্র। মুমিনের সে অানন্দ উদযাপনের উদ্বোধনটা কতইনা চমৎকার! নিখিলের স্রষ্টা দয়াময় অাল্লাহর কুদরতি পায়ে মাঠে সেজদার মধ্য দিয়েই হয় শুভউদ্বোধন।দুরাকাত নামায পড়তে ছুটে যায় মুমিন মাঠে। ঈদগাহে। দিনভর চলে মুমিনের ঈদোৎসব মুমিনের এই ঈদ উৎসব উদযাপিত হয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অালাইহিস সালামের দেখানো পথ অনুযায়ি। অনুযায়ি। অাসুন তাই জেনে নিই মুমিনের ঈদের দিনের উদযাপন পদ্ধতি বা সুন্নাত সম্পর্কে এবং ঈদ উৎসবের উদ্বোধনী বা নামাযের মাসাইল সম্পর্কে।
ঈদের দিনের সুন্নাত
মুমিন অন্য দিনের তুলনায় সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগ্রত হবে। ফজরের নামায পড়বে নিজ মহল্লার মসজিদে। ঈদটা ঈদুল ফিতরের হলে সকালে কিছু হলেও অাহার করবে। অবশ্য আহার্য বস্তুটি খেজুর হলে খুবই ভালো এবং খেজুরের সংখ্যা বেজোর সংখ্যক হলে অতি উত্তম। হযরত আনাস (রাযি,) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন সকালে কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অন্য সনদে হযরত আনাস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন। (বুখারি শরিফঃ ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে খাওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়, হাদিস নং-৯৫৩) খেজুরের ব্যবস্থা না থাকলে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া উচিৎ, মিষ্টি জাতীয় জিনিসও না থাকলে কিছু না কিছু ঈদুল ফিতরের দিন ঈদ্গাহে যাওয়ার পূর্বে খাওয়া সুন্নাত। এই কিছু না কিছু খাওয়ার সুন্নাত কিন্তু ঈদের নামাযের সুন্নাত নয়; বরং ঈদের দিনের সুন্নাত। কেননা এক মাস সিয়াম পালনের পর দিনের বেলা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দাওয়াত কবুল করার বিষয় এখানে নিহিত। খাওয়ার ব্যাপারে সুন্নাত তিনটি: খেজুর খাওয়া (খেজুর না থাকলে মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়া) বেজোর সংখ্যক খাওয়া,  ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে খাওয়া। অপরদিকে ঈদুল আযহার নামাযের পূর্বে কিছু না খেয়ে নামাযের পর নিজের কুরবানির গোশত খাওয়া মুস্তাহাব। তবে ঈদুল আযহার
নামাযের পূর্বে কিছু খাওয়া মাকরুহ নয়।
মুমিন নামাযে যাওয়ার জন্যে মিসওয়াক করবে। গোসল বা অযু করবে। নামাযের জন্য এবং বড় কোন সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে মিসওয়াক করা নবীজির সুন্নাত। সেক্ষেত্রে ঈদের দিন মিসওয়াকের গুরুত্ব অত্যধিক। হ্যাঁমিসওয়াক যেন হয় এক বিগত পরিমান লম্বা, এক আঙ্গুল পরিমান মোটা এবং গাছের ডাল বা শিকড় জাতীয় হয়, যাতে চাবানো সম্ভব হয়। মিসওয়াক চার আঙ্গুলের চাইতে ছোট হয়ে গেলে তা পরিত্যাগ করা উচিৎ। উপর-নীচ ভাবে মিসওয়াক না করে আড়াআড়ি ভাবে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। গোসল করবে সুন্নাত তরিকায়। তারপর সাধ্যমত উত্তম,সুন্দর পোষাক পরিধান করবে। পোষাক যেন হয় সুন্নাত সম্মত। নতুন কাপড় হলে বেশ ভালো। নতুন কাপড় না হলেও অসুবিধা নাই। তবে পোষাক সাদা হলে অতি ভালো। সাদা না থাকলে লাল রং ব্যতীত যে কোন পোষাক পরিধানে কোন সমস্যা নেই। তবে সাদা রংয়ের কাপড় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ অালাইহিস সালামের কাছে খুবই পছন্দ।
তারপর রঙ বিহীন সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যেন শরীরে কোন রঙ না লাগে।এক্ষেত্রে জেনে রাখা জরুরীএলকোহলযুক্ত সেন্ট ব্যবহার করা উচিৎ নয়। আঙ্গুর, খেজুর ও কিসমিস থেকে তৈরি এলকোহলযুক্ত সেন্ট ব্যবহার করা হারাম এবং তা নাপাক। মোটকথা মুমিন নিজেকে সুসজ্জিত করবে। অার তা করবে শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে। নিজের সাধ্য অনুযায়ি। খুবই জেনে রাখা প্রয়োজন, পুরুষের জন্য মাথা ও দাড়ি ছাড়া মেহেদি ব্যবহার করা বৈধ নয়। মহিলাদের জন্য নেল পালিশ ব্যবহার করা মাকরূহ। অবস্থাভেদে হারামও।অার ঈদুল ফিতরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সাদাকাতুল ফিতর অাদায় করা। যাদের কাছে স্থাবর-অস্থাবরবর্ধনশীল-অবর্ধনশীল যাবতীয় সম্পদ মিলে যাকাত ওয়াজিব হওয়া পরিমান সম্পদ থাকে তাদের উপর ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সদকাতুল ফিতর অাদায় করা ওয়াজিব। তারপর মুমিন প্রভাতে অর্থাৎ তাড়াতাড়ি ঈদগাহে গমন করবে। ঈদগাহে যাওয়ার ব্যবস্থা পায়ে হেঁটে যাওয়া নবীজির সুন্নাত। ঈদগাহে যাওয়ার সময় যাবে এক রাস্তা দিয়ে এবং ফিরার সময় অাসবে অন্য রাস্তা দিয়ে। যাতে করে বিভিন্ন পথে মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের সুযোগ হয় এবং তাদের খোঁজ খবর নেয়া যায়। হযরত জাবের (রাযি,) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদগাহ থেকে রাস্তা পরিবর্তন করে ফিরতেন। (বুখারি শরিফঃ ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহ থেকে ফেরার পথে রাস্তা পরিবর্তন সংক্রান্ত অধ্যায়, হাদিস নং-৯৮৬)। অার ঈদের নামায পড়বে ঈদ্গাহে গিয়ে। হ্যাঁ, কারণবশত মসজিদেও পড়া যাবে। অসুবিধা নেই।নিজেকে গোমরামুখি রাখবে না বরং আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করবে। অার সাধ্যমত বেশি বেশি দান-খয়রাত করবে।চলতে ফিরতে তাক্বাব্বালাল্লাহুু মিন্না ওয়া মিনকুম ( আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে কবুল করুক) এই জাতীয় বাক্য দ্বারা অপর মুসলমানকে অভ্যর্থনা জানাবে। ঈদগাহে যেতে পাঠ করবে তাকবীরে তাশরীক তথা অাল্লাহু অাকবার অাল্লাহু অাল্লাহু অাকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অাল্লাহু অাকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। ঈদুল ফিতরে পড়বে আস্তে আস্তে অার ঈদুল আযহায় পড়বে উচ্চস্বরে। ঘরে-বাইরে সব সময় এই তাকবীর পাঠ করতে কোন অসুবিধা নেই। ঈদ্গাহে পৌঁছে ইমাম সাহেব কর্তৃক ওয়াজ-নসিহত শুরু করার আগ পর্যন্ত তাকবির পড়তে থাকবে। ঈদুল ফিতরের নামায ঈদুল অযহার তুলনায় দেরিতে পড়বে।কেননা,ঈদুল ফিতরের পরতো ঈদুল আযহার মত কুরবানি করতে হয় না।







ঈদের সংস্কৃতি ও আমাদের ভাবনা
OURISLAM24.COM

আরশাদ ইলয়াস : মুসলিম হিসেবে ইসলামের উসীলায় আমরা দুটি ঈদ পেয়েছি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। ঈদ আল্লাহর দেয়া একটি বিশেষ নিয়ামত। এ নিয়ামতের অবশ্যই কদর করা উচিত। ইসলামী নিয়মে ঈদ পালন করলেই ঈদের যথার্থ কদর হয়। অন্যথায় ঈদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না।
নিছক আনন্দ উপভোগ ঈদের উদ্দেশ্য নয়। নিজের সুখ অপরকে বিলি করা, অন্যের দুঃখের অংশীদার হওয়া, ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে শামিল হওয়া ঈদের মূল উদ্দেশ্য। তাই ঈদ উপলক্ষে বিশেষ দান ফিতরার বিধান রয়েছে। যেন সবাই একই সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে।
পবিত্র মাস রমাদানের অব্যবহিত পরেই আসেই ঈদুল ফিতর। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের নির্ধারিত দিনগুলোর পরে এই ঈদ আসার মানে হলো, আমরা যেনো পবিত্র হয়ে এই ঈদ উদযাপন করি। যাতে আমাদের ঈদ উদযাপন সার্থক হয়। ইসলামের নিয়মে ঈদ পালন করতে সহজ হয়। কিন্তু কিছু লোক তবুও পবিত্র হতে চায় না। তারা পুরো বছর মনমতো চলে। পবিত্র মাসেও, পবিত্র দিনেও তারা শুদ্ধ হতে চায় না। এরা ঈদকে শুধু আনন্দ উপভোগের মাধ্যম মনে করে।
ঈদের দিনে নতুন কাপড় পরা সুন্নাত। তবে যাদের নতুন কাপড় নেই তারা ব্যবহৃত কাপড় পরিস্কার করে পরিধান করবে। শুধু নতুন কাপড় পরলে হবে না, তা সুন্নাহসম্মত কিনা তাও দেখতে হবে। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে। পুরুষের জন্যে মেয়েলি স্বভাবের কাপড় পরা নিষেধ। আর নারীরা যেন পুরুষালি কাপড় না পড়ে। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যে টাইটফিট কাপড় বৈধ নয়। অতি পাতলা অথবা অঙ্গ প্রকাশ পায় এমন কাপড় পরা নারীদের জন্য অবৈধ। ঈদকে কেন্দ্র করে অনেককে এমন পোশাক পরিধান করতে দেখা যায়, যা ইসলামসম্মত নয়।
পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষা, সহানুভূতি প্রদর্শন, ভ্রাতৃত্ব স্থাপন, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা ঈদের অন্যতম উদ্দেশ্য। সে হিসেবে ঈদে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশি, বন্ধুবান্ধব ও হিতাকাঙ্ক্ষীদের কাছে বেড়াতে যাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এছাড়া লোকজন বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রেও বেড়াতে যায়। এতে কোনো আপত্তি নেই। আপত্তির বিষয় হলো, পর্দাহীন যুবক-যুবতীদের জুটিবদ্ধ হয়ে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়ানো। বছরের প্রায় সময় এ দৃশ্য দেখা গেলেও ঈদ উপলক্ষে এই নীতিহীন অপ্রীতিকর দৃশ্য বেশি দেখা যায়। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থার পরিবর্তনে মা-বাবা ও অভিভাবকদের সচেতন হবে। নিজেদের সন্তানদের লাগামহীন ছেড়ে দেয়া থেকে বিরত থাকবে। সাবালিকা মেয়েদের ঘর থেকে মাহরাম ছাড়া একাকি বের হতে দেয়া যাবে না।
ঈদে টিভি-চ্যানেলগুলো বিশেষ কিছু অনুষ্ঠান প্রচার করে। অধিকাংশ অনুষ্ঠান নৈতিকতাবর্জিত, অশ্লীল হয়ে থাকে। আর এই অনুষ্ঠানগুলো অনেকে সপরিবারে দেখে। যার কারণে ছেলে-মেয়েরা অবৈধ কাজ করতে সংকোচবোধ করে না, যেহেতু তারা পারিবারিকভাবে এসব দেখার সুযোগ পায়। ফলশ্রুতিতে মা-বাবার সাথেও এরা বেয়াদবি করতে দ্বিধাবোধ করে না।
ঈদ মূলত ইসলামের নিজস্ব সংস্কৃতি। এটা ইসলামের স্বকীয় বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কিন্তু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো এই ঈদকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, যাতে ইসলামের কোনো নিয়ম অনুসরণ করা হয় না। মনে হয়, এ যেন ভিন্ন ধর্মের কোনো উৎসব। বিদেশি সংস্কৃতি বিশেষত ভারতীয় সংস্কৃতি চ্যানেলগুলোতে প্রাধান্য পায়। | ইসলামের ঈদ ইসলামের নিয়মে পালন করতে হবে। অন্য নিয়মে পালন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। যেহেতু ঈদের শিক্ষা নিছক নিয়মবহির্ভূত আনন্দদান নয়। যে উদ্দেশ্যে ঈদের প্রচলন হয়েছে, সে উদ্দেশ্য পূরণ হলেই আমাদের ঈদ উদযাপন সার্থক হবে। মুসলিম হয়েও যারা ইসলামের কিছু নিয়ম মানে, আর কিছু মানে না, তাদের শাস্তি হলো দুটি। এক. দুনিয়ায় চরম লাঞ্ছনা, দুই. পরকালে কঠিন শাস্তি। তাই আসুন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের নিয়ম মেনে চলি। একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করি। আল্লাহ আমাদের সেই সুযোগ দান করুন।








শবে কদর : প্রভুর সান্নিধ্য অর্জনের অপূর্ব সুযোগ
OURISLAM24.COM

news-image
মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব : রমজানের বিশেষ একটি নেয়ামত হলো লাইলাতুল কদর। মহান আল্লাহ তায়ালা এ নেয়ামত অন্য কোনো নবীর উম্মতকে দান করেননি। পূর্ববর্তী উম্মতের আয়ু ছিল দীর্ঘ। এ উম্মতের আয়ু সে তুলনায় খুবই কম। তাই আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহপূর্বক এ উম্মতকে শবে কদর দান করেছেন এবং এক রাতের ইবাদতের মর্যাদা এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে বেশি করে দিয়েছেন।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আলী রা. ও হজরত ওরওয়াহ রা. বলেন, একদিন রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের সামনে বনি ইসরাইলের চার মহান ব্যক্তি তথা হজরত আইয়ূব আ. হজরত জাকারিয়া আ. হজরত হিজকিল আ. ও হজরত ইউশা ইবনে নুন প্রমুখ সম্পর্কে আলোচনা করে বললেন, তারা দীর্ঘ হায়াত লাভ করার কারণে দীর্ঘকাল ধরে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার সুযোগ পেয়েছেন।
তাদের প্রত্যেকে ৮০ বছর করে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করেছেন। এ সময়ের মধ্যে তারা একটিও নাফরমানি করেননি। এ সব কথা শুনে সাহাবিরা অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং নিজেদের ব্যাপারে অফসোস করলেন।
এমন সময় হজরত জিবরাঈল আ. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাজির হয়ে বললেন, আপনার উম্মত এ সব ব্যক্তির ৮০ বছর ইবাদত করার কারণে আশ্চর্যবোধ করছে, অথচ আল্লাহ তায়ালা এর চেয়ে উত্তম ও বরকতময় বিষয় আপনার উম্মতকে দান করেছেন। অতঃপর তিনি সুরা কদর পাঠ করে শোনালেন। এতে রাসলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবিরা আনন্দিত হলেন। দুররে মানছুর ৬/৩৭১
লাইলাতুল কদর অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ রাত। এ রাতের মার্যাদার কারণেই মূলত তাকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। আমাদের কাছে তা শবেকদর নামে পরিচিত। শবেকদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো-এ রাতে মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কোরআন লওহ মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে নাজিল করা হয়েছে।
এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ে তা রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ের তা রাসুলে কারিমের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছে।
শবেকদরের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আমি কুরআন মাজিদকে লাইলাতুল কদরে নাজিল করেছি। হে নবী! আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেস্তারা ও জিবরাঈল আ. তাদের পরওয়ারদেগারের হুকুমে সব (মঙ্গলময়) বিষয় নিয়ে অবতরণ করেন। এ রাত আগা-গোড়াই শান্তি। তা থাকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত (সুরা কদর)।
এই আয়াতে বলা হয়েছে, শবেকদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এক হাজার মাসে ৮৩ বছর ৪ মাস হয়। শবেকদরকে হাজার মাসের সমান বলা হয়নি। বরং হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলা হয়েছে। তবে এই উৎকৃষ্টতার সীমা-পরিসীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
তা একশগুণ বেশি হতে পারে, এক হাজার গুণ বেশি হতে পারে বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। সঠিক পরিমাণ আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।
শবে কদরে ইবাদত-বন্দেগি করার গুরুত্ব অপরিসীম। এ রাতে অধিক পরিমাণে নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকা আমাদের সবার কর্তব্য।
একাধিক হাদিসে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হজরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে লাইলাতুল কদরে ইবাদত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাপ করে দেয়া হবেমেশকাত)।
অন্য হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি ইবাদতের মাধ্যমে শবেকদর লাভ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তার মযার্দা বুলন্দ করবেনমোট কথা, শবেকদর আমাদের জন্য ইবাদতের অপূর্ব সুযোগ। এতে কষ্ট কম, কিন্তু সওয়াব অনেক বেশি।
দুএক রাত জাগ্রত থেকে মনকে বুঝিয়ে ইবাদত করে নেয়া তেমন কষ্টের কাজ নয়। অথচ এতে সওয়াব অনেক বেশি। এটা আমাদের ওপর মহান আল্লাহর অনেক বড় কৃপা। কেউ যদি পূণ্য অজর্নের এমন বড় সুযোগ পেয়েও গাফেল ও অমনোযোগী থাকে তবে তার মতো হতভাগা আর কে হবে?
অতএব রমজানের কোনো মুহূর্তকে নষ্ট করা উচিত নয়। বিশেষত রমজারেন শেষ দশকে ইবাদতের প্রতি বেশি যত্মবান হওয়া উচিত এবং অধিক পরিমাণে রাত জাগরণ করা উচিত। যাতে শবেকদরের ফজিলত অর্জন হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমীন।
সম্পাদক : আলহেরা








আজ শবে কদর
OURISLAM24.COM

news-image

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক : আজ শনিবার দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর হিসেবে পালিত হবে। লাইলাতুল কদর বা শবে কদর মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত এক রাত। হাদিসে এই রাতকে হাজার রাতের চেয়ে শেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়েছে।
পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে সারাদেশের মসজিদগুলোতে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। মসজিদগুলোতে সারারাত ইবাদত করবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে শবে কদর উপলক্ষ্যে আলোচনা, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের অধিকাংশ মসজিদেই এ উপলক্ষ্যে সাধারণ আলোচনা হয়ে থাকে।
পবিত্র শবে কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকত ও পুণ্যময় রজনী। এ রজনীতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগি করে রাত কাটান।
এই পবিত্র রমজান মাসে মহাপবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। হাদিসে এসেছে, রাসুল সা. ইরশাদ করেন তোমরা লাইলাতুল কদরকে মাহে রামজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত সমুহে তালাশ কর। বুখারি শরিফ
হযরত উমর রা. থেকে বর্ণিত রাসুল সা. ইরশাদ করেন, রমজানের ২৭ তারিখের রাতের ভোর পর্যন্ত ইবাদত বন্দেগি আমার কাছে সারা রামজানের অন্য সব রাত্রের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয়। তিরমিজি
















সদকাতুল ফিতর আর্থিক ইবাদত
OURISLAM24.COM

news-image
এহসান বিন মুজাহির : জাকাতের মতো সদকাতুল ফিতরও আর্থিক একটি ইবাদত। রমজানের শেষে এই বিধান পালন করতে হয়। সদকাতুল ফিতরের তাৎপর্য অপরিসীম। সদকাতুল ফিতর অর্থ হলো ফিতরের দিনের সদকা। ফিতর বলতে ঈদুল ফিতর বোঝানো হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দেয়া সদকাকেই সদকাতুল ফিতর বলা হয়।
সদকাতুল ফিতর উত্তম হলো ঈদের নামাজের আগে আদায় করে দেওয়া। কেননা রাসুল (সা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত এমন অভাবী লোকদের সদকাতুল ফিতর দিতে হবে। একজন দরিদ্র মানুষকে একাধিক ফিতরা দেওয়া যেমন জায়েজ, তেমনি একটি ফিতরা বণ্টন করে একাধিক মানুষকে দেওয়াও জায়েজ। সদকাতুল ফিতরের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈদের খুশিতে গরিব শ্রেণির লোককেও শামিল করে নেওয়া। এর মাধ্যমে রোজার মধ্যে ত্রুটি বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণও হবে। দরিদ্র ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা হয়। এর ফলে ঈদের দিনগুলোতে দরিদ্র ব্যক্তিরা ধনীদের মতো সচ্ছলতা বোধ করে। সদকাতুল ফিতরের ফলে ধনী-গরিব সবার জন্য ঈদ আনন্দদায়ক হয় সদকাতুল ফিতর আদায়কারী দানশীল হিসেবে পরিগণিত হয়।
ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) সদকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা যব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সামর্থ্যবান সবার ওপরই এটা আবশ্যক। (বুখারি: ১৫১২) হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা পালনকারীর জন্য সদকাতুল ফিতর আদায় অপরিহার্য করে দিয়েছেন, যা রোজা পালনকারীর অনর্থক, অশ্লীল কথা ও কাজ পরিশুদ্ধকারী এবং অভাবী মানুষের জন্য আহারের ব্যবস্থা। যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের আগে এটা আদায় করবে, তা সদকাতুল ফিতর হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। আর যে ঈদের সালাতের পর আদায় করবে তা অপরাপর (নফল) সদকা হিসেবে গৃহীত। (আবু দাউদ : হাদিস : ১৩৭১)
সদকায়ে ফিতর যাদের উপর ওয়াজিব: ঈদের দিন সুবহে সাদেকের সময় যার কাছে যাকাত ওয়াজিব হওয়া পরিমাণ অর্থাৎ, অত্যাবশ্যকীয় আসবাব সামগ্রী ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, বাসগৃহ ইত্যাদি বাদ দিয়ে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সমমূল্য পরিমান সম্পদ থাকে তার উপর সাদকায়ে ফিতর দেয়া ওয়াজিব। উল্লেখ্য, যাকাতের মত এখানে এক বছর তার ঐ মাল অতিক্রান্ত হওয়া জরুরি নয়, বরং শুধু ঈদের দিনে মালিক থাকলে ফিতরা ওয়াজিব হবে।
সদকাতুল ফিতর এর পরিমাণ: ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসূল স. সদকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা যব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটা আবশ্যক। (বুখারী : ১৫১২)
ইবনে আব্বাস রা. একবার রমজানের শেষ দিকে বসরায় খুতবা প্রদান করেন। সেখানে তিনি বলেন, তোমাদের রোজার সদকা আদায় করো। লোকেরা যেন ব্যাপারটা বুঝতে পারে নি। তখন ইবনে আব্বাস রা. বললেন, এখানে মদীনার কে আছে দাঁড়াও। তোমাদের ভাইদেরকে বলো, তারা তো জানে না। বলো যে, রাসূল সা. এই সদকা আবশ্যক করেছেন। এক সা খেজুর বা যব অথবা আধা সা গম প্রত্যেক স্বাধীন-দাস, পুরুষ-নারী, ছোট-বড় সবার ওপর ওয়াজিব। (আবু দাউদ : ১৬২২)
যারা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত এমন অভাবী লোকদের সদকাতুল ফিতর প্রদান করতে হবে। একজন দরিদ্র মানুষকে একাধিক ফিতরা দেওয়া যেমন জায়েজ, তেমনি একটি ফিতরা বণ্টন করে একাধিক মানুষকে দেওয়াও জায়েজ। এই সদকা দেয়ার উদ্দেশ্য হলো ঈদের দিন গরীবের প্রয়োজন পূরণ করা, যেন তাকে কোথাও চাইতে না হয়। কাজেই সামর্থ্যানুযায়ী বেশি মূল্যটা পরিশোধ করাই উত্তম। আল্লাহপাক আমাদেরকে যথাযথ সদকায়ে ফিতর আদায়ের তাওফিক দান করুন।

বিদায় মাহে রমজান
OURISLAM24.COM

news-image
মাহ্দী খান অয়ন : রমজান মাস। পবিত্র এ মাস। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্ত বরকতময়। এ মাসের পবিত্রতার শুদ্ধতায় ভরে আছে সকলের দেহ- মন- অন্তর। কেননা, প্রতিটি মুহূর্তে অবতীর্ণ হচ্ছে রহমানের পক্ষ থেকে রহমতের অবারিত বারিধারা। আর তারই স্নিগ্ধ পরশে সিঞ্চিত হচ্ছে প্রতিটি গোলামের তৃষিত হৃদয়। ধুয়ে- মুছে সাফ হচ্ছে অন্তরের সকল কালিমা। নিষ্কলুষ হচ্ছে প্রতিটি কলুষিত হৃদয়। রহমত, মাগফেরাত, নাজাতের আশায় দিনে পালন করছে সিয়াম আর রাতে আদায় করছে কিয়াম।
সালাতের মাঝে এবং বাইরে তেলাওয়াত করছে কেউবা শ্রবণ করছে আল্লাহর পবিত্র কালাম। সর্বদা আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন প্রতিটি গোলামের হৃদয়। ইফতার সামনে নিয়ে দয়াময় আল্লাহর কৃপার আশায় হাত তোলে। আর মহান দয়াময় রিক্ত হস্তগুলোকে ভরে দেন তাঁর অনুগ্রহ দিয়ে। তাহাজ্জুদের মাঝে আর্তনাদে অনুশোচনা করে, আপন পাপের দরুণ। আর গাফুরুর- রাহীম তাঁর দয়া দিয়ে মোচন করেন সকল পাপ।
কেমন যেন প্রতিটি গোলাম, গোলামি করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যে দেখি, কার চেয়ে কে কত বেশী গোলামি করতে পারে?? আহ্! কত বরকতময় এ মাস। ধীরে ধীরে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে মহিমান্বিত এ মাস।
হে রাহমানুর রাহিম!!! আমাদেরকে ধ্বংস করো না। তোমার অধম গোলামদের ক্ষমা করো। বঞ্চিত করো না তোমার রহমত থেকে। নাজাত দাও, ঐ দোজখের আজাব থেকে। আর যতটুকু সময় বাকি আছে, তার যথাযোগ্য কদর করার পূর্ণ তাওফীক দান করো। তুমিই তো তাওফীকদাতা। তুমি দয়া করো, মায়া করো। তোমার দয়া বিনে, আমরা যে একেবারেই অপারগ।
হে দয়াময় মালিক!!! তুমি আমাদের আর্তিগুলো কবুল করো। তুমি তো ক্ষমা করতে ভালবাসো, আমাদেরকে ক্ষমা করেই দাও। আমীন। ইয়া রাব্বাল আলামীন।।














ঈদ উৎসবে চারটি কাজ করুন
OURISLAM24.COM
news-image

মোস্তফা ওয়াদুদ : বছর ঘুরে আবারো দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। আনন্দের ঈদ। খুশির বার্তা। এদিন ধনী- গরীব, কৃষক-মজুর, মালিক-শ্রমিক, রাজা-প্রজা সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে ঈদগাহে যাই। নামাজ পড়ি। আল্লাহর ইবাদাত করি। নামাজ শেষে কোলাকুলি করি। সেদিন কারো মনে কোনো দুঃখ থাকেনা। বেদনা থাকেনা। থাকে না মনের ব্যাথা। আমরা গ্লানিগুলো ভুলে যাই।
এদিন আমাদের জন্য কয়েকটি কাজ করা উচিত। কাজগুলো পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়।
১. সম্প্রীতিবোধ বা ভ্রাতৃত্বের বন্ধন
২. ঐক্য বা সংহতি প্রকাশ
৩. দারিদ্র বিমোচন
৪. নতুন কাপড় উৎসব
নিম্নে বিষয়গুলো বিশদ আলোচনা করছি।
১. ঈদ পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে। ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করে। সম্প্রীতিবোধ, অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার উন্মেষ ঘঠায়পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসার নিদর্শন স্থাপন করে। ঈদের দিনে সকল অহংকার, গৌরব, হিংসা-বিদ্ধেষ, রাগ-ক্ষোভ ভুলে যেতে হয়। যারা অন্যান্যদিন নিজেকে সাধারণ মানুষদের থেকে দূরে রেখেছেন, মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করতেন, তারাও পূণ্যের আশায়, সাওয়াবের প্রত্যাশায় সকল প্রকারের দম্ভমুক্ত হয়ে যান। বিনয়ী, সরলতা ও প্রীতিবোধ তৈরিতে মনোযোগী হোন। সুতরাং আমরা বলতে পারি, ঈদ ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সম্প্রীতি ও সৌহার্দবোধ তৈরি করে।
২. ঐক্য বা সংহতি
ঈদের অপর নাম ঐক্য। বিশ্ব মুসলিমের জন্য আল্লাহর দেয়া বিধানাবলী সম্মিলিতভাবে বলার উত্তম মাধ্যম হলো ঈদের জামাত। বিশিষ্ট উর্দূ সাহিত্যিক মাওলানা মুহাম্মদ মিঁয়া রহ. এর ঐতিহাসিক গ্রন্থ তারিখুল ইসলামএর ১৫০ নং পৃষ্ঠায় এ বিষয়টির আলোচনা রয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, ঈদের অপর নাম ঐক্য। উদাহরণ হিসেবে বলেন, আল্লাহ তায়ালা মুসলিম সমাজের প্রতিদিনের বন্ধনের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ দিয়েছেন। এতে দৈনিক পাঁচবার মানুষের মাথে ঐক্য তৈরি হয়। এরপর সপ্তাহে একদিন জুমআর নামাজের বিধান দিয়েছেন। এতে একটি মহল্লা বা একটি পাড়ার মানুষের সাথে ঐক্য তৈরি হয়।
এভাবে সারাবছর পর একটি দিন সারা মহল্লার সকল মানুষের সাথে বন্ধনের জন্য, বা মিলনের জন্য, সর্বোপরি ঐক্য সৃষ্টির জন্য একটি সমাবেশ বা জামাতের ব্যবস্থা করে দিলেন। এই ব্যবস্থাটিই হলো ঈদের জামাত। আর বিশ্বমুসলিমের ঐক্যের জন্য রয়েছে পবিত্র হজ্ব। হজ্বের মাঝে বিশ্বের সব মুসলিম একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর বিধান পালন করে।
(
তারিখুল ইসলাম,১৫০ পৃষ্ঠা)
৩. দারিদ্র বিমোচন
ঈদুল ফিতরে আল্লাহপাক দারিদ্র বিমোচন করার সিস্টেম করে দিয়েছেন। ঈদুল ফিতরকে ঈদুল ফিতর এজন্য বলা হয়, এদিন নেসাব পরিমাণ মালের মালিকদের উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করে দিয়েছেন। তারা নিজেদের মাল সমাজের দরিদ্র শ্রেণির লোকদের মাঝে বিলিয়ে দেন। দরিদ্র মানুষ তাদের দেয়া সম্পদ নিজেদের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্রয়ে ব্যয় করেন। এতে তাদের দারিদ্র বিমোচন হয়। তারা অভাববোধ করেন না। সারাবছরের চেয়ে একটু আপডেট হয়ে চলতে পারেন। ঈদের দিন সব প্রকারের কষ্ট ভুলে যান। ভালো করে দুমুঠো ভাত খেতে পারেন। ঈদের দিন নতুনভাবে জীবন পরিচালনা করেন।
দ্বিতীয়ত রয়েছে ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহার দিনে নেসাব পরিমাণ মালের মালিকদের উপরে কুরবানী ওয়াজিব করে দিয়েছেন। আর কুরবানীর পশুর চামড়া দরিদ্র লোকদের দিয়ে তাদের দারিদ্র বিমোচন করার সুযোগ পান।
সর্বোপরি আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন যাকাতের বিধান। ইসলামে যাকাতকে ফরজ করা হয়েছে। সমাজের অধিকাংশ মানুষই রমজান মাসে যাকাত দিয়ে থাকেন। এতে দরিদ্র মানুষ অনেক উপকারী হয়। তাদের নিত্য চাহিদা পূরণ হয়।
৪. নতুন কাপড় উৎসব
ঈদের দিনে সবচেয়ে কারো জন্যে আনন্দের ও কারো জন্য কষ্টের যে বিষয় থাকে সেটা হলো নতুন কাপড় উৎসব। ঈদের দিন না ঈদের অনেক আগে থেকেই এ উৎসব শুরু হয়। নতুন জামা কেনার হিরিক পড়ে। মার্কেটে, বাজারে ও কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভীড় থাকে। এ সময় ধনীদের পদচারণাই বেশি থাকে। তারা প্রতি বছর নতুন কাপড় কিনে থাকেন। নতুন ভাবে রিজেকে উপস্থাপণ করেন। কিন্তু একই সমাজে বসবাস করে এমন অনেক মানুষ আছে যারা নতুন জামার স্বাদ উপভোগ করতে পারেনা। পুরাতন জামাটিই সেলাই করে নতুনভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করেন। সমাজের বিত্তবানদের উচিত দরিদ্র, খেটে খাওয়া, দিন মজুর ও সাধারণ মানুষদের প্রতি লক্ষ রাখা। সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়েরা যেনো ঈদের দিন নতুন জামা গাঁয়ে দিতে পারে। নতুনভাবে সবার সাথে ঈদগাহে হাজির হতে পারে। ঈদের নামাজ শেষে অন্যদের সামনে যেনো কোনোভাবেই তাদের দুঃখ পেতে না হয়। বরং সবার সাথে এক কাতারে যেভাবে নামাজ আদায় করেছে। সেভাবে যেনো নামাজ শেষে কোলাকুলিও করতে পারে।
যদি বিত্তবানরা দরিদ্রশ্রেণির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। দয়ার হাত প্রশস্থ করে। তাহলে ঈদের শিক্ষা স্বার্থক হবে। স্বার্থক হবে সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা।
আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর/ওএস









ঈদ শুভেচ্ছা যেমন হবে
OURISLAM24.COM

যুবায়ের আহমাদ : প্রত্যেক জাতিরই স্বতন্ত্র ঈদ উৎসব রয়েছে। মুসলিম জাতির প্রাণের উৎসব হলো দুই ঈদ। ঈদে অভিবাদন বা শুভেচ্ছা বিনিময়েরও বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে ইসলামে। তবে তা অন্যান্য জাতির অভিবাদন পদ্ধতির চেয়ে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইসলামের শিষ্টাচার অন্যান্য জাতির থেকে অনেক অর্থবহ, সমৃদ্ধ, প্রাণসম্পন্ন ও কল্যাণমুখী।
ঈদ আমাদের বাংলাদেশীদের জাতীয় জীবনেরও এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। আমাদের দেশে ঈদ মোবারকবলে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর প্রচলন রয়েছে। ঈদ মোবারকবলে শুভেচ্ছা বিনিময় জায়েজ। কিন্তু সালামের আগেই ঈদ মোবারক বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা বৈধ নয়। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকাবলা। এর অর্থ হলো, আল্লাহ আমাদের এবং আপনার পক্ষ থেকে কবুল করুন। হজরত ওয়াসিলা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে ঈদের দিন স্বাক্ষাত করলাম। আমি বললাম, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকাআর তিনিও বললেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা (বায়হাকি: ৩/৪৪৬)।
তাছাড়াও ঈদের দিনে সালাম, মুসাফাহা ইসলামী শিষ্টাচারের মৌলিক অনুষঙ্গ। এ দিনে মুআনাকা বা কোলাকুলিরও অনুমোদন রয়েছে ইসলামে। সালাম ইসলামি অভিভাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সুন্নত। সালামের মাধ্যমে আল্লাহ পারস্পরিক মুহব্বত বৃদ্ধি করে দেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ইমানদার না হওয়া পর্যন্ত তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর একে অন্যকে ভালো না বাসলে ইমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজ শিখিয়ে দেব না, যা কারলে তোমরা পরস্পরে ভালোবাসতে পারবে? তোমাদের মধ্যে সালামের প্রচলন করো।’ (মুসলিম: ১/৪৭)।
সালামের পূর্ণ বাক্যটি বললেই বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে। হজরত আবু উমামা (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি আসসালামু আলাইকুমবলবে তার জন্য ১০টি নেকি লেখা হবে, যে ব্যক্তি আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহবলবে তার জন্য ২০টি নেকি লেখা হবে আর যে ব্যক্তি আস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহুবলবে তার জন্য ৩০টি নেকি লেখা হবে। (তাবরানী: ৩/২০)। সালামের উত্তর প্রদান ওয়াজিব। সালাম দাতার চেয়ে উত্তম করেই দিতে হয় সালামের উত্তর। পবিত্র কোরআনুল করিমে এরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমাদেরকে সালাম দেয়া হলে তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে অথবা উক্ত সালামের মতোই উত্তর প্রদান করবে। আল্লাহ সব বিষয়ে পূর্ণ হিসাবগ্রহণকারী।’ (সুরা নিসা: ৮৬)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা হজরত আদমকে (আ.) সৃষ্টির পর বললেন, “যাও ফেরেশতাদেরকে সালাম দাও এবং তারা কী অভিবাদন করে তা শোন। তারা তোমাকে যে অভিবাদন করবে তাই হবে তোমার ও তোমার সন্তানদের অভিবাদন।আদম (আ.) গিয়ে আসসালামু আলাইকুমবলে সালাম দিলে উত্তরে ফেরেশতারা আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহবললেন। তারা উত্তরে ওয়া রাহমাতুল্লাহবাড়িয়ে দিলেন।’ (বুখারি: ২/৯১৯)।
পারস্পরিক সাক্ষাতে মুসাফাহা বা হত মেলানোর অনেক ফজিলত রয়েছে। হজরত বারা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি দুজন মুসলিম সাক্ষাত করে পরস্পরে হত মেলানো বা মুসাফাহা করেন তাহলে তাদের উভয়ের পৃথক হওয়ার আগেই তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ (তিরমিজি: ৫/৭৪; ইবনে মাজা: ২/১২২০)। মুসাফাহার নিয়ম হলো দুই হাতে মুসাফাহা করা। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন (মাসাফাহার সময়) আমার হাতটি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দু হাতের মধ্যে ছিল। (বুখারি: ৫/২৩১১)। অন্যের ডান হাতকে নিজের দুহাতের মধ্যে এবং নিজের ডান হাতকে অন্যের দুহাতের মধ্যে রেখে এই দুআ পাড়া, ‘ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুমমুসাফাহার পর হাত বুকে লাগানো উচিত নয়।
মুআনাকা বা কোলাকুলি করাও ইসলামী আদবের অন্তর্ভূক্ত। হাদিসে একে ইলতিজাম (কোলাকুলি) বা মুআনাকা (ঘাড় মেলানো) বলা হয়েছে। হজরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সাহাবীগণ পরস্পরে সাক্ষাত করলে মুসাফাহা করতেন বা হাত মেলাতেন। আর সফর থেকে আগমন করলে মুআনাকা করতেন। (তাবরানি: ৩/২২)। উভয়ের ডান ঘাড় ও বুক মিলিয়ে ঘাড়ের উপর দিয়ে হাত দিয়ে একবার জড়িয়ে ধরাই মুআনাকা। ঈদের দিনে মুআনাকা জায়েজ কিন্তু একে জরুরী মনে করা যাবে না। ইসলামী অভিভাদনের আরেকটি বৈধ বিষয় হলো চুমু খাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সাহাবীগণ পরস্পরের হাতে চুমু খেয়েছেন বা তাবেয়ীগণ সাহাবীগণের হাতে চুমু খেয়েছেন এমনটি হাদিসে পাওয়া য়ায়। সন্তান, পিতামাতা, উস্তাদ, আলেম বা নেককার বুজর্গদের হাতে চুমু খাওয়া ইসলামী শিষ্টাচারের অংশ। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, জায়েদ ইবনে হারেসা (রা.) মদিনায় আগমন করে আমার বাড়ির বাইরে এসে সাড়া দিলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর দিকে দৌড়ে যান তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং চুমুখান। (তিরমিজি: ৫/৭৬)। তাছাড়া শিশুদের গালে, কপালে বা মাথায় আদরের চুমু দেয়াও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রীতি ছিল। (নববী, আল আজকার: ১/২৬২)।
লেখক: খতিব, বাইতুশ শফিক মসজিদ, বোর্ড বাজার, গাজীপুর।
আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর/ওএস










http://www.ourislam24.com

No comments:

Post a Comment