Tuesday, March 3, 2020

হাসান মির্জার নির্বাচিত লেখা বা সেরা লেখাসমূহ





সবগুলো লেখা পাবেন উক্ত লিঙ্কে

https://justpaste.it/hasanmirzasheralekha














ব্লগে সবগুলো একসাথে পোস্ট করা যায় না, এখানে কয়েকটা মাত্র দেয়া হল।







# অমুসলিমদের জন্য সংক্ষেপে ইসলাম পরিচিতি

প্রশ্নঃ ইসলাম কি?

আমাদের সৃষ্টিকর্তা যুগে যুগে নবী রসূল পাঠিয়েছিলেন যাদের দায়িত্ব ছিল মানুষকে সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে জানানো, আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করা। নবী রসূল তারাই হতেন যারা ছিলেন সেই জাতির সবচেয়ে সৎকর্মশীল ব্যাক্তি। তারা নবুয়তপ্রাপ্তির পর তৌহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের প্রচার শুরু করে, মানুষকে নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ভালো কাজ করার উপদেশ দেয়। এভাবেই যুগে যুগে জাতিতে জাতিতে নবী প্রেরিত হয়েছিলেন, আমরা ধর্মের ইতিহাস সম্পর্কে পড়লে জানতে পারবো ধর্ম না থাকলে পৃথিবী থেকে নৈতিকতা মূল্যবোধ হারিয়ে যেতো। মানবসভ্যতাকে চূড়ান্ত নৈতিক অধঃপতনের হয়ে ধ্বংসের হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে এই ধর্ম।

প্রতি যুগে (এখানে যুগ বলতে ১২ বছর নয়, যুগ বলতে একটা সময়কাল) নবী-রসূল এসেছিলেন, যেমন ইব্রাহিম, মুসা, ঈসা (আলাইহিস সালাম) প্রমুখ। তারা প্রাচীনকালের নবী, নিজ জাতির মাঝে সৃষ্টিকর্তার একত্ববাদ ও বিধি বিধান প্রচার করে গত হয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার বিধি বিধান পালনের মাধ্যমে সমাজের বিশুদ্ধিকরণ হতো। তাদের মৃত্যুর পর আস্তে আস্তে মানুষ আবার পাপে লিপ্ত হতে থাকে, আল্লাহর সাথে শিরক করতে থাকে। এভাবেই সমাজ আবার অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যায়। সমাজকে আবার বিশুদ্ধিকরণের জন্য সেই জাতির সবচেয়ে ভালো মানুষটিকে নবুয়ত দেয়া হতো, তিনি নবী হয়ে আবার সমাজকে নৈতিকতার শিক্ষা দিতেন। এটাই মূলত নবী রসূলদের মূল কার্যক্রম ছিল। ইসলামী বিশ্বাসমতে আমরা শেষ যুগে এসে উপনীত হয়েছি। আর এই যুগের নবী মনোনীত করা হয় মানব-ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তি মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর পূর্বে যখন পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা, পাপ, হত্যা, রাহাজানি, শিরক বেড়ে যায় তখন শেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবির্ভূত হন আল্লাহর একত্ববাদ প্রচারের জন্য। অন্যান্য নবী রসূলের মত মুহাম্মদকেও (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বানী হিসেবে একটা কিতাব দেয়া হয়। তা হচ্ছে আল কুরআন।

এবার ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে এক কথায় বলতে গেলে- সৃষ্টিকর্তা এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস, এবং শেষ যুগের শেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর ঈমান আনাই ইসলামের মূল কথা। নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুসারীদের এই দ্বীনকে বলে ইসলাম, আর অনুসারীদের বলে মুসলিম। মুসলিমরা আল্লাহর বাণী আল-কুরআন ও রসূলের বাণী আল-হাদিস মেনে চলে।

প্রশ্নঃ ইসলাম কি সব মানুষের জন্য, সকল জাতিগোষ্ঠীর জন্য?

হাঁ, ইসলাম হচ্ছে সকল মানুষের জন্য, সকল মানুষের উচিত সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে জানা, যে নিজের সৃষ্টিকর্তাকে জানলো না তার জীবনটাই বৃথা। ইসলাম পুরো মানবজাতির হেদায়েতের জন্য এসেছে। মুসলিমরা কোনো জাতিগোষ্ঠীতে আবদ্ধ নয়, আরব, আফ্রিকান, ইউরোপিয়ান, ব্রিটিশ, বাঙ্গালী বা অ্যামেরিকান যে যাই হোক না কেন সৃষ্টিকর্তা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনা সবার কর্তব্য।

আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে জানতে পেরেছি পৃথিবী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অতএব বোঝা যাচ্ছে এটাই পৃথিবীর শেষ যুগ। আর শেষ যুগের শেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিনি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানব-ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানুষ। তিনি যে শেষ নবী এর প্রমাণ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে রয়েছে। আল-কুরআনও মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে শেষ নবী বলে অভিহিত করেছে।

প্রশ্নঃ পূর্ববর্তী নবী কারা ছিলেন?

আমরা জেনেছি আল্লাহর একত্ববাদ প্রচারে যুগে যুগে নবী প্রেরিত হয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ২৫ জন সম্মানিত নবীর নাম এসেছে। তবে নবী-রসূলের সংখ্যা আরো অনেক। ইহুদিদের নবী মুসা (আঃ) এবং খ্রিস্টানদের নবী ঈসা (আঃ) এর নাম পবিত্র কুরআনে এসেছে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, হিন্দুদের রাম লক্ষণ বা বৌদ্ধদের গৌতম বুদ্ধ কি নবী ছিলেন? ইসলামী মতে, আল কুরআনে বা আল হাদিসে তাদের নাম আসে নাই তাই শিওর হয়ে বলা যায় না তারা নবী ছিলেন কিনা। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ববিদরা বলে থাকেন, যেহেতু বিভিন্ন জাতিতে বিভিন্ন সময়ে নবী প্রেরিত হয়েছিলেন সেহেতু তারা নবী হতেও পারেন নাও হতে পারেন, নির্দিষ্ট বা নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।

ঈসা ও মুসা নবীর অনুসারীদের অধঃপতনঃ নবীদের মৃত্যুর পর তাদের অনুসারীরা আল্লাহর একত্ববাদের শিক্ষা ভুলে গিয়ে পাপে লিপ্ত হয়, এমনকি আল্লাহর প্রেরিত কিতাবগুলোও আস্তে আস্তে বিকৃত হয়ে যায়, ফলে বিভ্রান্ত মানুষদের হেদায়েতের জন্য নবী মুহাম্মদকে প্রেরণ করা হয়। ১৪০০ বছর পূর্বে নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর নাজিল হওয়া শেষ আসমানি কিতাব আল কুরআন এই ১৪০০ বছরেও পরিবর্তন পরিবর্ধন বা বিকৃতি কিছুই হয় নি। এখনো প্রায় ১৪০০ বছর আগের কুরআন সংরক্ষিত আছে।

প্রশ্নঃ ইসলাম কি সত্য ধর্ম?

কুরআন এমন একটি কিতাব যা লক্ষ লক্ষ হাফিজরা মুখস্ত করেন, দৈনিক কোটি কোটি মানুষ তা অধ্যয়ন করে, সকল অমুসলিম ভাই বোনকে একবার হলেও এই আল-কুরআন পড়ার অনুরোধ রইলো। আমাদের নবীজি ছিলেন নিরক্ষর, তার দ্বারা এই জ্ঞানগর্ভ কিতাব লেখা অসম্ভব, অতএব এটাই প্রমাণ হয় যে আল-কুরআন আল্লাহর বানী, আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তার বানী। ইসলাম কি সত্যধর্ম? ইসলাম সম্পর্কে একটু জেনে দেখেন পড়ে দেখেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন। অপপ্রচারে কান দিবেন না। দৈনিক এতো অপপ্রচার সত্ত্বেও পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। প্রচুর মানুষ ইসলাম গ্রহণ করছে, করবে (ইন শা আল্লাহ)। আমার পূর্বপুরুষ হিন্দু ছিল, তারাও এক আল্লাহ ও তার নবী মুহাম্মদের উপর ঈমান এনে মুসলিম হয়েছে। পারিবারিকভাবে মুসলিম হওয়ার চেয়ে ধর্মান্তরিত মুসলিম হওয়া অবশ্যই বেশি সম্মানের, কারণ মুসলিম জাতির শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তিরা অর্থাৎ সম্মানিত সাহাবিরা সবাই ছিলেন ধর্মান্তরিত মুসলিম।

সকল অমুসলিমদের প্রতি আহ্বান রইলো এক আল্লাহ ও তার নবী মুহাম্মদের উপর ঈমান আনার জন্য। সৃষ্টিকর্তাকে জানা ও তার বিধি বিধান পালন করা আমাদের কর্তব্য।

এতো কম কথায় ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া সম্ভব না, অনেক প্রশ্ন মনে আসতে পারে, ইসলাম সম্পর্কে জানতে যে কোনো প্রশ্ন করুন আমাকে। উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো ইন শা আল্লাহ।












# ভালো কাজে সহযোগিতা আর্থিকভাবে না পারলেও ছোট্ট একটা লাইক কিংবা শেয়ার করেও তো করা যায়, তাই না?











# বর্তমানে ইসলামী সাহিত্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা অনুবাদ সাহিত্যের দিকে অতি-ঝোঁক। ১০০ টা বইয়ের ৮০ টা অনুবাদ। বাকি ২০ টা মৌলিক হইলেও এর মধ্যে মানহীন, ভালো মিক্সড থাকে।

অনুবাদের দিকে ঝোঁক ভালো, এতো বেশি ঝোঁক ভালো না। এমনও হয় একটা অন্য ভাষার বই ৫-৬ বার অনুবাদ হয়। যেগুলার অনুবাদ আছে সেগুলাও অনুবাদ হয়। অনেক মেধাবী লেখকরা এইসব অনুবাদের কাজ করে থাকে। অথচ তারা মৌলিকে মনোযোগ দিলে সোনা ফলাইতে পারতেন।

অনুবাদ সাহিত্যের দরকার আছে। কিন্তু এতো দরকার নাই যে মৌলিক সাহিত্যের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হয়ে যায়।

অনুবাদ নিয়ে আমার মতামত হইতেছে যাদের দরকার তারা মূল ভাষা শিখে মূল বই পড়বে। বেশিরভাগ বই আরবি উর্দু থেকে অনুবাদ হয়। ১০০ টা আরবি-উর্দু অনূদিত বই পড়ার চেয়ে আরবি-উর্দুটা শিখা ফেল্লেই হয়।

অনুবাদ করলে আসলে নতুন কিছু উৎপাদন হয় না, বরং একি কথা, একি চিন্তা, একি লেখক; শুধু অন্য একটা ভাষায় রুপান্তর। একটা বইরে ১০০ টা ভাষায় রুপান্তর করলেও বই কিন্তু একটাই, মৌলিক কিন্তু একটাই।

সুতরাং যারা যে বিষয়ের বই অনুবাদ করতে চান, তারা সেই বিষয়ের অনেকগুলা বইয়ের সাহায্য নিয়ে নিজেই একটা মৌলিক লিখতে পারেন। তবে যারা সেই বিষয়ে একেবারেই জানেন না তাদের কথা ভিন্ন।

অনেকে বলবেন, ঐ কিতাবের মত আর কিতাব নাই, সুতরাং ওইটা অনুবাদ হইলেই চাহিদা পূরণ হবে, নতুন মৌলিকের কি দরকার!

তাহলে বলবো, পৃথিবীতে তাফসিরের কিতাব একটাই থাকতো, সিরাতের বই একটাই থাকতো। সবাই ভাবতো এই বিষয়ে একটা বই তো আছেই, নতুনের আর কি দরকার! এমন ভাবে ভাবলে নতুন আর কোনো বই আসতো না। নতুন লেখা হইলে মানহীন যেমন অনেক পাওয়া যায়, অনেক ভালো বইও আসে।

সুতরাং সালাফদের কিতাবাদি পড়তে চাইলে আরবি উর্দু শিখেন।

আর অনুবাদে অতি-ঝোঁক কমিয়ে স্বাভাবিক করেন। এতেই ইসলামী সাহিত্যের মঙ্গল।









# নারীবাদ, নাস্তিকতা, সেকুলাঙ্গারিজম এগুলোর উৎপত্তির উৎস কিন্তু একটাই। সুতরাং ওগুলারে বাদ দিয়ে শুধু নারীবাদের সমালোচনা করলে নারীবাদের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পাবে না। সেকুলাঙ্গারিজম, নাস্তিকতা এগুলা ছাড়া নারীবাদ পঙ্গু এক প্রকার।

নারীবাদ হইল আধুনিক যুগের বর্ণবাদ। তুমি কালো, আমি সাদা, মানে আমি শ্রেষ্ঠ; এইটা যেমন বর্ণবাদ। তেমনি তুমি পুরুষ, আমি নারী, তাই আমি শ্রেষ্ঠ; এইটাও একটা বর্ণবাদ। আর নারীবাদ সেই বর্ণবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নামছে।

মুসলিমদের মধ্যে যারা নারীবাদী তাদের মধ্যেও নাস্তিকতা আর সেকুলারাঙ্গারিতা কমন একটা বিষয়। যেন নারীবাদী হইলেই ইসলাম নিয়ে চুলকানি থাকতে হবে। দেখা যায় সেকুলাঙ্গার আর নাস্তিকদের সাথেই নারীবাদীদের সবচেয়ে বেশি খাতির।

এছাড়াও মুসলিম দাবিদার একদল মহিলা 'ইসলামিক ফেমিনিজম' বা 'ইসলামী নারীবাদ' টার্ম ইউজ করে নিজেদের নারীবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, তাদের টার্গেট মুসলিম নারীরা। এই ইসলামিক ফেমিনিস্ট দাবীদারদের অনেকে হিজাবও করে (অর্থাৎ মাথায় পট্টি বাধা)। আমার কাছে এই কথিত ইসলামিক ফেমিনিস্টদের সেকুলাঙ্গারদের অনুরুপ মনে হয়। নারীবাদ যদি হয় নাস্তিকতার অনুরুপ তাহলে ইসলামিক ফেমিনিজম হচ্ছে সেকুলাঙ্গারিজমের অনুরুপ। কারণ নাস্তিকতাবাদে ভন্ডামি নাই, তারা নিজেদের অবস্থান ক্লিয়ার করে প্রকাশ করে, নারীবাদও তাই। কিন্তু সেকুলাঙ্গাররা হল নাস্তিক হওয়া সত্ত্বেও নিজেরে মুসলিম দাবিকারী, আর ইসলামিক ফেমিনিস্টরাও তাই।

নাস্তিকদের যেমন ইসলাম নিয়ে চুলকানি আছে, একই চুলকানি কিন্তু সেকুলাঙ্গারদেরও আছে। শুধু পার্থক্য হইতেছে- নাস্তিকরা ইসলামকে সরাসরি গালাগালি করে, আর সেকুলাঙ্গাররা সমাজের ভয়ে বা অন্য কারণে ইসলামকে সরাসরি গালাগালি করতে না পেরে ইসলামের বিভিন্ন বিধি বিধানের বিরুদ্ধে কথা বলে, আবার নিজেরে বলে মুসলিম যেন মানুষ নাস্তিক কইতে না পারে, অথচ একটা সেকুলাঙ্গার ভিতরে ভিতরে নাস্তিকের চেয়ে কুনো অংশে কম না।

একই ভাবে নারীবাদী আর ইসলামী নারীবাদীদের মধ্যেও একই বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও পার্থক্য হইতেছে - নারীবাদীরা সরাসরি যা কওয়ার কইয়া ফেলে। কিন্তু ইসলামী নারীবাদী সেইটারে ঘুরায় প্যাঁচায়া কয়, নারীবাদীদের কথাগুলারে হিজাব পড়ায়া উপস্থাপন করে, ইসলামের অপব্যাখ্যা কইরা নারীবাদের তত্ত্বগুলারে জায়েজকরণ করতে চায়। অথচ উদ্দেশ্য কিন্তু একই। অর্থাৎ সেকুলাঙ্গারদের মত কথিত ইসলামী নারীবাদীরাও এক প্রকার ভণ্ড।

বিশেষ দ্রষ্টব্য- ইসলামে কোনো নতুন বাদ-মতবাদের জায়গা নাই, সুতরাং ইসলামী নারীবাদ স্রেফ একটা ভণ্ডামিযুক্ত শব্দ, এইটার না বাস্তব অস্তিত্ব আছে আর না থাকা সম্ভব।












# শিয়াদের হিরো মুখতার সাকাফির চরিত্র বিশ্লেষণ


রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তায়েফে দাওয়াতি কাজে গিয়েছিলেন। তিনি বড় আশা নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তায়েফবাসী তার দাওয়াত গ্রহণ তো দূরে থাক নবীকে পাথর নিক্ষেপ করে বিতারন করেন। তায়েফের এই পাথর নিক্ষেপকারী গোত্রগুলোর একটি ছিল বনু সাকিফ, খুবই প্রভাবশালি একটি গোত্র। রসূলুল্লাহ তায়েফবাসীর জন্য বদ দুয়া না করে তাদের হিদায়াতের দুয়া করেছিলেন। পরবর্তীতে এই গোত্র ইসলাম গ্রহণ করে। এই গোত্র থেকে বহু সম্মানিত সাহাবা এবং তাবেঈর জন্ম হয়েছিল। পাশাপাশি এই গোত্রের দুই ব্যক্তির দ্বারা বনু সকিফ গোত্রের বদনাম হয়েছিল। এদের দুইজনের একজন ছিল ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় খুনি, আরেকজন সবচেয়ে বড় মিথ্যুক।

.

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“ছাকীফ গোত্রে একজন মহা মিথ্যুক ও একজন বড় খুনী كذاب ومُبير সৃষ্টি হবে।” (সুনানে তিরমিযীঃ ২২২০)

আসমা বিনতে আবু বকর রাঃ এর মতে, এ হাদিসে মহা মিথ্যুক বলতে মুখতার সাকাফিকে এবং বড় খুনি বলতে হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

এবং এটাই যুগের পর যুগ আলিমদের সর্বসম্মত মত।

.

ইরানিরা তাদের শিয়াবাদ প্রচারের জন্য অন্যান্য মাধ্যমের সাথে পাশাপাশি চলচ্চিত্র-নাটক ইত্যাদি মাধ্যমকেও বেছে নিয়েছে। তাদের হিরো মুখতার সাকাফিকে নিয়ে তাদের বানানো সিরিয়াল বাংলায় ডাবিং হয়ে এসএ টিভিতে সম্প্রচার হতো। এমন না এসএ টিভির কোনো ধর্মীয় আবেগ আগ্রহ আছে। তারা স্রেফ পুঁজিবাদী চিন্তা থেকে এইসব সম্প্রচার করে, এমনকি শিয়া সুন্নির পার্থক্য সম্পর্কেও এরা জ্ঞাত না। এসএ টিভির এই সেকুলাঙ্গার লোকগুলোকে যদি ধর্মব্যবসায়ী বলি ভুল হবে না, এরা ধর্মকে, নারীকে নিজেদের ব্যবসায় কাজে লাগায় অথচ আলেমদের ধর্মব্যবসায়ী বলে গালাগালি করে।

এই সেকুলাঙ্গারদের সম্প্রচারে শিয়াদের হিরো মহা মিথ্যুক মুখতার সাকাফিকে 'হিরো' করে দেখানো হয়েছে। আর এর ফলে প্রভাবিত হয়েছে এই সুন্নি অধ্যুষিত দেশের ইলমহীন বিশাল ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠী।

.

মুখতার সাকাফি সম্পর্কে প্রথমেই একটি হাদিস উল্লেখ করেছি। মুখতার সাকাফিকে শিয়ারা হিরো বল্লেও তার সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের অবস্থান উল্লেখ করব।

১- মুখতার সাকাফি মহা মিথ্যুক, ওয়াদা ভঙ্গকারী, প্রতারক ছিল এটা একেবারেই ইতিহাসের সর্বসম্মত সত্য। শিয়াদের অনেকেও স্বীকার করে মুখতারের মিথ্যাবাদীতার কথা। সে কসম ভঙ্গ করতো। এবং মনে করতো আহলে বাইতের প্রেমে যত খারাপ কাজই হোক তা করা ভালো। এজন্য সে মিথ্যা হাদিস তৈরি করতো, ওয়াদা ভঙ্গ করতো, প্রতারণা করতো ইত্যাদি।

২- মুখতার সাকাফি নিজেকে নবি ঘোষণা করেছিল এমন তথ্য ইতিহাসে পাওয়া যায়। তার উপর ওহী আসে সে এমন দাবি করতো। আলিমগণ ৩০ জন ভণ্ড নবীর তালিকায় মুখতার সাকাফির নাম উল্লেখ করেছেন।

দেখুনঃ https://bit.ly/2vhePEF

৩- মুখতার সাকাফি মিথ্যুক ছিল এটা যেমন সত্য, তেমনি সত্য সে কারবালার খুনিদের হত্যা করেছিল। ইতিহাসের পাতায় মুখতার সাকাফির এই প্রতিশোধ গ্রহণের কাহিনী লেখা রয়েছে। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জাম'আহ এ ব্যাপারে মনে করে মুখতার সাকাফির এই কাজ খুবই উত্তম ছিল। কিন্তু তাই বলে সে উত্তম ছিল তা না। আল্লাহ কাফির দ্বারাও ইসলামের খিদমাত করিয়ে নিতে পারেন। ইমাম শা'বি মুখতার সাকাফির এই প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কিন্তু কোনো প্রকার প্রশংসা করেন নি। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতেও কারবালার খুনিদের হত্যাকান্ডের এই এডভেঞ্চারমূলক ইতিহাস ইবনে কাসির রহঃ পূর্ণ রুপে বর্ণনা করেছেন। কারবালার খুনিদের হত্যাকান্ড ঘটানোর জন্য মুখতার সাকাফির নিন্দা করা হয়নি বরং তার নবুয়্যাত দাবি এবং মিথ্যাবাদীতার কারণে সে ছিল কাজ্জাব।

৪- মুখতার সাকাফির পিতা ছিলেন ইরান-বিজয়ী সম্মানিত সাহাবি আবু উবাইদ সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি ছিলেন আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘনিষ্ঠ লোক। পরবর্তী প্রজন্মে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর ভালোবাসায় বাড়াবাড়ি করেই মুখতার সাকাফির মত বহু শিয়ার জন্ম হয়।

৫- সুন্নিদের অনেকে বলে থাকে, মুখতারের মূল উদ্দেশ্য ছিল আহলে বাইত প্রেমের নামে ক্ষমতা দখল। আসলেই সে ক্ষমতা দখল করতে পেরেছিল এবং এক স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। কিন্তু আহলে বাইতের প্রতি তার ও তার অনুসারীদের প্রেম মেকি ছিল, ভণ্ডামি ছিল, এটা সঠিক নয় বলেই নিরপেক্ষ গবেষণায় প্রতীয়মান হয়। তার আহলে বাইতের প্রতি অতি-ভালোবাসা ছিল বলেই সে আহলে বাইতের ভালোবাসায় জঘন্য কাজগুলোকে ভালো কাজ মনে করে করেছে। সুতরাং সুন্নিদের এই দাবি যথাযথ না যে মুখতারের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা দখল। সে ক্ষমতা দখলের পরেও কারাবালার খুনিদের হত্যা করেছিল, যদি আহলে বাইতের প্রতি সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল তার মূল উদ্দেশ্য হতো তবে ক্ষমতা দখলের পর খুঁজে খুঁজে কারবালার খুনিদের হত্যা না করলেও পারতো। বরং সে খুঁজে খুঁজে কারবালার খুনিদের হত্যা করেছে।

৬- মুখতার সাকাফির প্রতিশোধ গ্রহণের কাহিনী শুনে যারা তার ভক্ত হয়ে যায় তাদের ভুলে গেলে চলবে না সে ছিল নবুয়্যাত দাবিকারি, এবং রসূলের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এক কাজ্জাব। এই কাজ্জাবের প্রতি ভালোবাসা রাখা ঈমানের পরিপন্থী। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের কেউ তাকে ভালবাসতে পারে না।

৭- এমন না তার নবুয়্যাত দাবি করার ঘটনা অপ্রমাণিত। বরং বিশ্বস্ত সুত্রেই তা প্রমাণিত এবং ইতিহাসের পাতায় তা উল্লেখ রয়েছে। যাদের জানার দরকার তারা আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া দেখুন।

৮- মুখতার সাকাফির প্রথম অবস্থা ছিল আহলে-বাইতের প্রতি মাত্রাছাড়া প্রেম। এরপর তা কারবালার রক্তাক্ত ইতিহাসের ফলে তাকে আরও বেশি আহলে-বাইতের প্রেমিক করে তোলে। সে এক সময় এতো বেশি আহলে-বাইত পূজারী হয়ে উঠে যে তাদের ভালোবাসায় সকল খারাপ কাজকে সে ভালো মনে করতো। এভাবেই সে পথভ্রষ্ট হতে থাকে। আর সর্বশেষ সে নবুয়্যাত দাবি করে জাহান্নামে নিজের ঠিকানা নিশ্চিত করে।

.

.

.

মুখতার সাকাফির জাল হাদিস বানানো সম্পর্কে সম্মানিত শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির রহঃ তার 'হাদিসের নামে জালিয়াতি' গ্রন্থে উল্লেখ করেন,

" প্রথম হিজরী শতকের শেষ দিকে নিজ নিজ বিভ্রান্ত মত প্রমাণের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে বানোয়াট হাদীস তৈরি করার প্রবণতা বাড়তে থাকে। সাহাবীগণের নামেও মিথ্যা বলার প্রবণতা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও বৃদ্ধি পেতে থাকে।

মুখতার ইবনু আবু উবাইদ সাকাফী (১-৬৭ হি) সাহাবীগণের সমসাময়িক একজন তাবিয়ী। ৬০ হিজরীতে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (রা) -এর শাহাদতের পরে তিনি ৬৪-৬৫ হিজরীতে মক্কার শাসক আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইরের (১-৭৩ হি) পক্ষ থেকে কুফায় গমন করেন। কুফায় তিনি ইমাম হুসাইনের হত্যায় জড়িতদের ধরে হত্যা করতে থাকেন। এরপর তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইরের আনুগত্য অস্বীকার করে নিজেকে আলীর পুত্র মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যার প্রতিনিধি বলে দাবী করেন। এরপর তিনি নিজেকে ওহী-ইলহাম প্রাপ্ত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিশেষ প্রতিনিধি, খলীফা ইত্যাদি দাবী করতে থাকেন। অবশেষে ৬৭ হিজরীতে আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইরের বাহিনীর কাছে তিনি পরাজিত ও নিহত হন।

তার এ সকল দাবীদাওয়ার সত্যতা প্রমাণিত করার জন্য তিনি একাধিক ব্যক্তিকে তার পক্ষে মিথ্যা হাদীস বানিয়ে বলার জন্য আদেশ, অনুরোধ ও উৎসাহ প্রদান করেন। আবু আনাস হাররানী বলেন, মুখতার ইবনু আবু উবাইদ সাকাফী একজন হাদীস বর্ণনাকারীকে বলেন, আপনি আমার পক্ষে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামে একটি হাদীস তৈরি করুন, যাতে থাকবে যে, আমি তাঁর পরে তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে আগমন করব এবং তাঁর সন্তানের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করব। এজন্য আমি আপনাকে দশহাজার দিরহাম, যানবাহন, ক্রীতদাস ও পোশাক-পরিচ্ছদ উপঢৌকন প্রদান করব। সে হাদীস বর্ণনাকারী বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে কোনো হাদীস বানানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কোনো একজন সাহাবীর নামে কোনো কথা বানানো যেতে পারে। এজন্য আপনি আপনার উপঢৌকন ইচ্ছামত কম করে দিতে পারেন। মুখতার বলে: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামে কিছু হলে তার গুরুত্ব বেশি হবে। সে ব্যক্তি বলেন: তার শাস্তিও বেশি কঠিন হবে।[1]

মুখতার অনেককেই এভাবে অনুরোধ করে। প্রয়োজনে ভীতি প্রদর্শন বা হত্যাও করেছেন। সালামাহ ইবনু কাসীর বলেন, ইবনু রাব‘য়া খুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগ পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি একবার কুফায় গমন করি। আমাকে মুখতার সাকাফীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আমার সাথে একাকী বসে বলেন, জনাব, আপনি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগ পেয়েছেন। আপনি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে কোনো কথা বলেন তা মানুষেরা বিশ্বাস করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে একটি হাদীস বলে আমার শক্তি বৃদ্ধি করুন। এ ৭০০ স্বর্ণমুদ্রা আপনার জন্য। আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে মিথ্যা বলার নিশ্চিত পরিণতি জাহান্নাম। আমি তা বলতে পারব না।[2]

সাহাবী আম্মার ইবনু ইয়াসারের (রা) পুত্র মুহাম্মাদ ইবনু আম্মারকেও মুখতার তার পক্ষে তাঁর পিতা আম্মারের সূত্রে মিথ্যা হাদীস বানিয়ে প্রচার করতে নির্দেশ দেয়। তিনি অস্বীকার করলে মুখতার তাকে হত্যা করে।[3]

[1] ইবনুল জাওযী, আল-মাউদূ‘আত ১/১৬-১৭।

[2] বুখারী, আত-তারীখুল কাবীর ৮/৪৩৮; আত-তারীখুস সাগীর ১/১৪৭।

[3] বুখারী, আত-তারীখুস সাগীর ১/১৪৭; ইবনু আবী হাতিম, আব্দুর রাহমান ইবনু মুহাম্মাদ (৩২৭ হি), আল-জারহু ওয়াত তা’দীল ৮/৪৩। "

.

.

.

এখন উল্লেখ করব সম্মানিত শায়খ সালিহ আল মুনাজ্জিদ হাফিযাহুল্লাহ শাইখুল ইসলামের (ইবনে তাইমিয়া) বরাতে এই মুরতাদ কাজ্জাব মুখতার সাকাফি সম্পর্কে কি লিখেছেন -

" এরপর শাইখুল ইসলাম ইরাকের কুফাতে বসবাসরত দুইটি পথভ্রষ্ট দল সম্পর্কে আলোচনা করেন; যারা আশুরার দিবসকে তাদের বিদআত বাস্তবায়ন করার জন্য উৎসব হিসেবে গ্রহণ করত। এ দুই দলের একদল হচ্ছে-রাফেজি; যারা আহলে বাইতের প্রতি মহব্বত দেখায়; আর ভিতরে ভিতরে তারা হয়তো ধর্মত্যাগী মুরতাদ, নয়তো কুপ্রবৃত্তির অনুসারী জাহেল। আর অপর দল হচ্ছে-নাসেবি; যারা ফিতনার সময় যে যুদ্ধ হয়েছে সে কারণে আলী (রাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। সহিহ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেন: “সাকিফ গোত্রে একজন মিথ্যাবাদী ও একজন ধ্বংসকারী জন্মাবে।” মিথ্যাবাদী লোকটি হচ্ছে- মুখতার বিন আবু উবাইদ আল-সাকাফি। সে আহলে বাইতের প্রতি মহব্বত প্রকাশ করত এবং নিজেকে তাদের পক্ষের লোক হিসেবে প্রচার করত। সে ইরাকের গভর্নর উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদকে হত্যা করে। যে উবাইদুল্লাহ হুসাইন বিন আলী (রাঃ) কে হত্যাকারী সৈন্যদল প্রেরণ করেছিল। পরবর্তীতে এ মুখতার তার মিথ্যা মুখোশ উন্মোচন করে এবং নবুয়ত দাবী করে; বলে যে তার উপর জিব্রাইল ফেরেশতা নাযিল হয়। এক পর্যায়ে যখন ইবনে উমর (রাঃ) ও ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে তার ব্যাপারে জানানো হল। তাদের কোন একজনকে যখন বলা হল: মুখতার বিন আবু উবাইদ দাবী করছে যে, তার উপর জিব্রাইল নাযিল হয়। তখন তিনি বললেন: সে সত্যই বলেছে; আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি কি তোমাদেরকে জানাব কাদের উপর শয়তানেরা নাযিল হয়? তারা নাযিল হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, পাপীর উপর। অন্যজনকে যখন বলা হল: মুখতার দাবী করছে যে, তার উপর ওহি নাযিল হয়। তিনি বললেন: সে সত্যই বলেছে -“নিশ্চয় শয়তানেরা তাদের বন্ধুদের প্রতি ওহি (প্রত্যাদেশ) নাযিল করে যাতে তারা তোমাদের সাথে তর্ক করতে পারে।”।[সূরা আনআম, আয়াত: ১২১] আর ধ্বংসকারী হচ্ছে- হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফি। সে ছিল আলী (রাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের বিরোধি। তাই সে ছিল নাসেবি তথা আহলে বাইতের বিদ্বেষী। আর প্রথমজন ছিল রাফেজি। এ রাফেজি লোকটি ছিল সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী ও ধর্মত্যাগী। কারণ সে নবুয়ত দাবী করেছিল। "

দেখুনঃ https://islamqa.info/bn/downloads/answers/4033










# যারা ওয়াজের নামে তামাশা শেয়ার করে বলে, দেখেন হুজুররা কত খারাপ/ফানি! অথচ জীবনে ভালো কোনো বক্তব্য শেয়ার দেয় নাই তারাও এক প্রকার সেকুলাঙ্গারদের সাহায্য করে। কারণ শেয়ার দিলেই সেকুলাঙ্গাররা এসব দেখে খুশি হয়। আমরা যেমন ভালো মুসলিম, খারাপ মুসলিম, দীনী, বদ-দীনী ইত্যাদি ভাগে ভাগ করে সবাইরে দেখি, কিন্তু ওরা সব মুসলিমরে এক চোখেই দেখে। ইসলামী পোশাকে কারো খারাপ কিছু পাইলে এদের হৃদয়ে ঈদের আনন্দ শুরু হয়।











# আমরা বলি আমরা আধুনিক সভ্যতায় আছি, উন্নত সভ্যতায় আছি, কিন্তু আমরা যদি হাজার হাজার বছর আগের ইতিহাস দেখি তাহলে দেখবো আমাদের চেয়ে উন্নত সভ্যতা পৃথিবীতে ছিল।

কয়েক হাজার বছর আগেই সামুদ জাতি পাহাড় কেটে ঘর নির্মান করতো, এখনো সেইসব ঘরের নিদর্শন রয়ে গেছে। এখনো এই আধুনিক যুগে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়েও পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ কোনো সহজসাধ্য কাজ না। অথচ আজ থেকে হাজার কয়েক বছর আগে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ সামুদ জাতির একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল।

ইরামবাসীরা উচু স্তম্ভ নির্মাণ করতো। এরাও হাজার হাজার বছর আগের সম্প্রদায়। আল্লাহ এদের সম্পর্কে সূরা ফাজরে বলেছেন, 'যার সদৃশ সারা বিশ্বের জনপদসমূহে কোনো মানুষ সৃষ্টি হয় নি।'

আমরা ভাবি, আমরা এতো উন্নত সভ্যতায় আছি যে আল্লাহ এখন অপ্রয়োজনীয়। অথচ হাজার কয়েক বছর আগেই আমাদের চেয়ে উন্নত সভ্যতা, আমাদের চেয়ে শক্তিশালি মানুষ আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের বর্তমান সভ্যতার চেয়ে ৩-৪ হাজার বছর আগের মিসরের সভ্যতা বেশি উন্নত ছিল। এখনো আমরা অবাক হই মিসরের পিরামিড দেখে। কিভাবে সম্ভব হাজার বছর আগে এমন কিছু নির্মাণ করা? এই আধুনিক সভ্যতাতেও মিসরের মহাপিরামিডের ন্যায় কিছু নির্মাণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

আমাদের আধুনিক সভ্যতার শহরগুলোর সাথে প্রাচীন বিশ্বের শহরগুলোর তুলনা করলে বোঝা যায় আমরা হাজার বছর পরেও তুলনামূলক কত অনুন্নত সভ্যতা। অথচ আমাদের কত দাম্ভিকতা, আমাদের চেয়েও জ্ঞান, শক্তি-সামর্থ্যে উন্নত সভ্যতাসমূহ আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। আদ, সামুদ বাদেও সর্বপেক্ষা নিকট অতীতের পারস্য, গ্রীক কিংবা ব্যাবিলন সভ্যতার তুলনায়ও আমরা কিছুই নাই। দুই হাজারেরও অধিক বছর আগে ব্যাবিলনে ঝুলন্ত উদ্যান, আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর, আর্টেমিসের মন্দির হ্যালিকারনেসাসের সমাধি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল যা আজো সারা বিশ্বের মানুষকে হতবাক করে।

"হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?" (৮২ঃ ৬)









# আহলে হাদিস শায়খরাই প্রথম এদেশে সুস্থ ধারার ইসলামী বক্তব্যের প্রথা চালু করেছে। এখনো আহলে হাদিস কোনো শায়খের একটা লেকচারের সমান ইলমী ও উপকারি আলোচনা ১০০ টা হানাফি ওয়াজ মাহফিলেও হয় না। যেখানে হানাফিদের প্রকৃত অবস্থা জনবিচ্ছিন্নতা, সেখানে আহলে হাদিস শায়খদের চারিদিকে ঘুরঘুর করে দাঁড়িতে কাচি না লাগানো বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েটরা। গত ১০ বছরে আহলে হাদিসরা যা করতে পেরেছে হানাফিরা সংখ্যায় কয়েকগুণ হয়েও ৫০ বছরে তা করতে পারে নি। এখন যেন হানাফিদের নামের সাথে সেঁটে গেছে পেটপূজারী শব্দটি আর আহলে হাদিসদের পরিচিতি 'দাঈ' হিসেবে। একেকজন আহলে হাদিসদের ভেতরে যেন একটা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি। কোথায় আহলে হাদিস আর কোথায় দেওবন্দিয়াত! দেওবন্দিদের অবস্থা তো করুণ, কিছু ক্ষেত্রে আহলে হাদিসদের অবস্থাই বরং ভালো। আহলে হাদিসদের ভালো দিকগুলো বললাম। মওদুদিয়্যাতেরটাও একদিন বলব। এমন না যে তাদের গোমরাহি নেই। সেইটা তো সবাই বলে, তাই ওগুলা বললাম না।










# জুম'আ বারের সুন্নাহ সূরা কাহফ তিলাওয়াত।

.

এক বসায় যারা সূরা কাহফ তিলাওয়াত করতে পারেন না, কিংবা সময়ের কারণে সম্ভব হয় না, তাদের জন্যঃ

সূরা কাহফ মোট ১২ পৃষ্ঠার কম বেশি। আমার কুরআনের মুসহাফে ১২ পৃষ্ঠা। আমি ৬ ভাগে পড়ি, ২ পৃষ্ঠা করে।

বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর ২ পৃষ্ঠা।

ইশার পর ২ পৃষ্ঠা।

শুক্রবার ফজরের পর ২ পৃষ্ঠা।

জুম'আর আগে ২ পৃষ্ঠা।

আছরের পর ২ পৃষ্ঠা।

মাগরিবের আগে ২ পৃষ্ঠা।


.

আপনার মুসহাফে যত পৃষ্ঠা সে হিসেবে সুবিধামত ভাগ করে পড়বেন।

মাগরিবের পর জুম'আর দিনের এই ফজিলতপূর্ণ আমলের সময় শেষ হয়ে যায়। এই দিন বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করতে ভুলবেন না।

#জুমআ
#সূরা #কাহফ
























কাকে কি হিসেবে গ্রহণ করবেন সেটা জানা জরুরী। ইফতেখার জামিল একজন আলেম, কিন্তু তাকে আলেম হিসেবে নেয়ার চেয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক লেখক হিসেবে নেয়াটা ভালো। আবার অনেক বিখ্যাত বক্তাকে আমরা আলেম হিসেবে নেই, যেমন তারিক জামিলকেও আমরা মাওলানা মনে করি, কিন্তু তাকে দাঈ মনে করা উচিৎ। একজন মুসলিমের জানা উচিৎ কার কাছ থেকে কি নিব, কতটুক নিব, কিভাবে নিব। এতোটুকু না জানলে বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।











এক

গরিব দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হয়েও কেন গরিব থাকে?

শাসক বদলায় কিন্তু শাসন বদলায় না, বিম্পি কিংবা আওয়ামী লীগ অথবা সামরিক শাসন যেটাই আসুক, শাসন কিন্তু পশ্চিমেরই।

(অনুসন্ধিৎসু নামের ইউটিউব চ্যানেলের 'দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র' নামক ভিডিও) ভিডিওটা দেখুন, অতি সংক্ষেপে একটা ধারণা লাভ করা যাবে।

লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=1BEpVjG-rCY&fbclid=IwAR1UidOXo5wPsK0n4BGPyZmiI2rmCfsbL5gN24KQay_ednRgKcHgD87XqpM








দুই

হানাফি-সালাফি যেমন একটা তর্ক আছে, মোডারেট-এন্টি মোডারেট একটা তর্ক আছে। কোনো গ্রুপ নিয়াই আমার সমস্যা নাই, সবাই যদি সহনশীল থাকে। তবে সমস্যা হইতেছে এন্টি মোডারেটদের বুঝ গাঢ় হইলেও এরা সহনশীল না, 'মুরজিয়া' 'মোডারেট' এইসব ট্যাগ নিয়া বইসা থাকে কারে কখন লাগাবে। এইক্ষেত্রে হারুন ইযহার সাহেবের অবস্থানটাই পারফেক্ট মনে করি।






তিন

একজন বোন একটা গ্রুপে প্রশ্ন করলেন মহিলাদের মাসজিদে নামাজ পড়াটা কেমন? মন্তব্যে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ল এবং নানা রকম ফতোয়া দিতে থাকলো, এবং বেশিরভাগই ছিল মহিলাদের মাসজিদে অবশ্যই নামাজ পড়া উচিৎ - এর পক্ষে। আমি সেখানে বাধ্য হয়ে এই মন্তব্য করলাম।

প্রথম কথা হচ্ছে- ধর্মীয় প্রশ্ন অবশ্যই আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস করা উচিৎ। অন্তত ইসলাম মেনে চলে, যদি তাকে ভালো মুসলিম মনে করেন তবে তার কাছ থেকেই নসিহত নেয়া উচিৎ। কোনো জাহেল থেকে কখনোই নয়। এই প্রশ্ন পাবলিক প্লেসে করা মানে যে যার মত ফতোয়া দিবে। আর এই বিষয়গুলোর সাথে আধুনিকতার একটা সূক্ষ্ম সংযোগ আছে, এইজন্য কিছু মানুষকে দেখা যাবে ফতোয়াকে আধুনিকতা বা সেকুলারিতার দিকে নিয়ে যাবে। ইসলাম নিজেই আধুনিকতা, এর বিধান ব্যাখ্যার জন্য ইউরোপীয়দের শেখানো আধুনিকতার প্রয়োজন নাই।

এবার আসি মূল কথায়। আমি এ ব্যাপারে উলামাদের অবস্থানকে বলব, নিজের থেকে কিছু বলব না। আর আপনার প্রশ্নের সাথে সেকুলারিতার সংযোগটাও ব্যাখ্যা করব।

রাসুলের যুগে মহিলাদের জন্য নামাজের জায়গা ছিল। মহিলারাও যে যখন পারতেন মসজিদে এসে নামাজ পড়তেন। একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকারঃ পুরুষদের জন্য জামাতে নামাজ পড়া ওয়াজিব, মহিলাদের জন্য ফরজ বা ওয়াজিব না, বরং বাসায় পড়াই উত্তম বলে হাদিস আছে। এইটার সাথে জীবিকার ব্যাপারটা রিলেট করতে পারেন, পুরুষদের জন্য রুটি রুজির ব্যবস্থা করা ফরজ, কিন্তু মহিলাদের জন্য এইটা আবশ্যক না বা উত্তম কিছুও না, কিন্তু জায়েজ। এইখানে জায়েজ হওয়াটা কিছু মানুষের জন্য বড় ফায়দার হবে। অর্থাৎ কোনো মহিলা বিধবা হয় অথবা ভরণ পোষণের কেউ না থাকে, তখন তাকে নিজেই তার জীবিকার ব্যবস্থা করতে হয়, এইখানে আবার অনুত্তমের প্রশ্ন আসে না, যেইটা প্রয়োজন সেইটা তো আবশ্যক হয়ে যায়। কিন্তু যাদের ভরণ পোষণের জন্য অভিভাবক থাকে সেসব মহিলার জন্য জীবিকার জন্য বাইরে যাওয়াটা উত্তম না। একই ভাবে আমরা মসজিদে নামাজের ব্যাপারটাও দেখতে পারি। মহিলাদের জন্য অবশ্যই মসজিদে জায়গা রাখার দরকার আছে। কারণ অনেক মহিলা প্রয়োজনে বাইরে যায়, ওয়াক্তের সালাত কাযা না হওয়ার জন্য মসজিদে পড়তে পারে। অর্থাৎ এইখানে পার্থক্য বুঝতে হবে, যে নারী ঘরে থাকে, তার দরকার নাই মাসজিদে গিয়ে ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা। কিন্তু একজন পুরুষ ঘরে থাকলেও তাকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ মাসজিদে গিয়ে পড়তে হবে।

তবে কিছু নামাযের ব্যাপারে মহিলাদের জামাতে যাওয়ার একটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যেমন ঈদের সালাত। আমাদের দেশেও ঈদগাহতে মহিলাদের জন্য জায়গা থাকে।

অতি সংক্ষেপে বলতে গেলে, মহিলাদের জন্য মাসজিদে নামাজ পড়া জরুরী না, বরং ঘরে পড়াই উত্তম, তবে বাহিরে গেলে কাযা না হয় সেজন্য পড়া যেতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে মহিলাদের জন্য বেশিরভাগ মসজিদেই জায়গা রাখা হয় না। এটা বিভিন্ন কারণে হয় নি, তবে কিছু কিছু মাসজিদে থাকে। আর আমাদের দেশের মহিলারা ঐতিহ্যগত ভাবে খুব কমই মসজিদ মুখি হয়, তাই অনেকেই জায়গা রাখার প্রয়োজনবোধ করে না। আবার অন্যান্য দেশগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে মহিলাদের জন্য জায়গা থাকে, ফলে এখনো সেটার চর্চা রয়ে গেছে।

আমাদের দেশের উলামাগণ এ ব্যাপারকে অপছন্দনীয় মনে করেন। এই কারণে অনেক সময় মহিলার মসজিদমুখিতার বিরোধিতা করা হয়, এটা একটা মাযহাবি ভিন্নতা। কিন্তু এটাকে পুঁজি করে অনেকে সেকুলারিতার বয়ান শুরু করে। নারীদের মাসজিদে যাওয়া কিংবা জীবিকা নির্বাহ করা ইসলামে অনুত্তম হওয়ায় অনেকে এটাকে নারী স্বাধীনতার খেলাফ মনে করে। ফলে তারা নারী স্বাধীনতা অর্থাৎ সেকুলারিতার পক্ষে মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার দলিলগুলোকে টেনে আনার চেষ্টা করে। অনেকে আবার ইসলাম নারী স্বাধীনতার পক্ষে এইটা দেখানোর জন্য দলিলগুলার অপব্যবহার করে। এই ক্ষেত্রে সঠিক অবস্থান হচ্ছে মহিলাদের মসজিদে নামাজ পড়া জরুরী না, তবে প্রয়োজনে জায়েজ; এটাকে যতই নারী স্বাধীনতা বা সেকুলারিতার খেলাফ মনে করা হোক ইসলাম কখনোই কোনো আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয় না, কারণ এটা নিজেই একটা আদর্শ।










চার

জোবায়ের আল মাহমুদ, অতি মাত্রায় মর্ডানিস্ট ইসলামপন্থী আমাদের এই ভাইটি বহুদিন যাবত ইসলামী রাষ্ট্র, খিলাফাহ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একের পর এক লিখে চলছেন। বহু মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইবনে খালদুনের বিভিন্ন বক্তব্যকে পুঁজি করে এই তত্ত্বকে ইসলামপন্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছেন যে কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন হলেই হল, ইসলামী রাষ্ট্র বা শরিয়াহ শাসন প্রয়োজন নেই, আর তার এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী বিভিন্ন দলিল আদিল্লা ব্যবহার করে চলেছেন। আমি বার বার এর বিরুদ্ধে লিখতে গিয়েও সময়ের কারণে কখনো বা অনাগ্রহের কারণে লিখতে পারে নি। এখনো যে লেখার আগ্রহ আছে তা না, বরং তার এই সেকুলারিতার বয়ান নিজেই নিজের জান কবজ করবে। তবে আমি তার পোস্টে দুয়েকবার মন্তব্য করেছিলাম, সেটাই এখানে তুলে দিচ্ছি।

রসুল সাঃ যদি রাষ্ট্রীয় ভাবে ইসলাম না কায়েম করে থাকেন এবং চার খলীফা যদি সেই পথ ধরে না আগান তাহলে অমুসলিমদের থেকে জিযিয়া নেয়া হত কেন? ইসলাম অনুযায়ী কেন বিচার ব্যবস্থা চলত? বলতে গেলে সবই ইসলাম মোতাবেক চলত। আর ইসলামী রাষ্ট্র হলে ব্যক্তির ধর্ম স্বাধীনতা থাকে না কে বল্ল, বরং কথিত কল্যাণ রাষ্ট্র কখনো নিরপেক্ষ হতে পারে না। কারণ তখন কি অনুযায়ী রাষ্ট্র চলবে? কোনো ধর্ম যদি ফলো না করা হয় তখন মানুষ নিজে আইন বানাবে।

খিলাফাহ এবং শরিয়াহ শাসন হচ্ছে ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন। ইসলাম এসেছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য। রাষ্ট্রকে অবশ্যই ইসলামী হতে হবে। আপনি বলছেন রাষ্ট্রের নাকি ধর্ম থাকতে পারে না, এটা ভুল কথা। রাষ্ট্রের অবশ্যই আদর্শ থাকে। ধরেন আপনার পরিবারকে আপনি ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী চালান, তবে আপনার পরিবারকে ইসলামী পরিবার বলা যায়। আবার একজন সেকুলার তার পরিবারে সেকুলারিজমের নীতি অনুযায়ী চালায়, তবে সেটা হচ্ছে সেকুলার পরিবার। একই কথা রাষ্ট্রের জন্য। আমাদের রাষ্ট্রে সেকুলারিজম ও গণতন্ত্র চলে। সুতরাং এটা সেকুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। রাষ্ট্র ধর্ম এবং ইসলামী রাষ্ট্র ব্যাপারটা আলাদা। কারণ রাষ্ট্র ধর্ম নির্ধারণ করা হয় রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মের ভিত্তিতে। আর ইসলামী রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ অমুসলিমও হতে পারে যদি শাসক শরিয়াহ সম্মত ভাবে চালায়।

ইসলাম একটি দ্বীন , জীবনব্যাবস্থা। ইসলামে সকল কিছুই বলা আছে কেউ যদি দাবি করে ইসলামে সমাজনীতি নাই, বা রাষ্ট্রনীতি নাই, তাহলে বুঝতে হবে ইসলাম কোনো জীবনব্যাবস্থা না। এটা শুধুই একটা ধর্ম, যে ধর্ম খালি আখিরাতের কথা বলে, দুনিয়ার কোনো কিছুতে এর উপস্থিতি নাই।

প্রশ্ন হচ্ছে শরিয়াহ কায়েম হলে সেই রাষ্ট্র/রাজ্য/সালতানাত বা যেটাই বলি, সেখানে কি অমুসলিমদের ধর্ম চর্চার অধিকার থাকে না? রাসূলের জমানায়, এবং চার খলিফার জমানায় কি ছিল না?









পাঁচ

তিতুমির মুজাহিদ ছিলেন, কিন্তু তারে পরিচয় করাইছেও জাতীয়তাবাদীরা। তারে পরিচিত করায় দেয়াতেও ইসলামপন্থীদের ভুমিকা নাই। অন্তত সমাজ বইয়ের কল্যাণে বখতিয়ার থেকে তিতুমির পর্যন্ত কিছু কিছু নাম কিছু কিছু তথ্য এই মুসলিম জনগোষ্ঠী জানছে। নইলে ইমামুদ্দিন বাঙালির মত তিতুমীররেও চিনতাম না। #আত্মসমালোচনা।













ছয়

শাহনেওয়াজ জিল্লু নামে এক ব্যক্তি দীনী সার্কেলে ঢুকে জাহেলিয়াত মার্কা যতসব কথা বলতে শুরু করলেন। তার ভুল চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দেয়া জরুরী ছিল। তাকে করা আমার মন্তব্য নিম্নে দেয়া হল।

মাশাআল্লাহ। আপনি খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারেন। আপনার নিয়াতও বাহ্যিক দৃষ্টিতে ভালো মনে হয়। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে আপনি নিজের কথাকে হক ভাবলেও আপনার কথাগুলো পুরোপুরি হক না, যে বিষয়ে ইলম নেই সে বিষয়ে কথা না বলাই ভালো মনে করি। কেউ যদি বলে তখন সেটা হাস্যকর হয়। আপনার ওইদিনের কমেন্টের স্ক্রিনশট নিয়ে একজন ভাই কেন পোস্ট দিয়েছিল, বলতে পারেন? কারণ আপনার কথাটা ছিল চরম হাস্যকর। একদম মৌলিক জ্ঞান থাকলেও কেউ এরুপ কথা বলতে পারে না। এই বিষয়ে আলাপের ইচ্ছা একদমই ছিল না। তবু আপনার যেন ভুল ভাঙে এজন্য আমি আপনার ওইদিনের কমেন্টটার একটু বিশ্লেষণ করছি।

ওইদিনের কমেন্টে বলেছিলেনঃ

"ভাই আমিও আপাতত গণহারে হাদীসচর্চা বন্ধ রাখার পক্ষে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র কোরান ও সিরাত ভিত্তিক যাচাইকৃত সহীহ হাদিসগুলোর চর্চার পক্ষে মত দিই। কারণ, এখন গ্রন্থাকারে যেসব হাদিস চর্চা হয় এগুলো হয় বেশিরভাগ ফেইক নতুবা এই সময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। নতুবা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা থাকায় বর্তমান সময়ের লোকজন গ্রুপিং সৃষ্টি করে ফেলছে।"

এবার আমি পরিষ্কার করি আপনার এখানে কি কি ভুল আছে।

১- গণহারে হাদিস চর্চা বন্ধ করতে বললেই গ্রুপিং কিংবা জাল হাদিস বানানো বন্ধ হয়ে যাবে না। কেউ যদি বলে গণহারে বিজ্ঞান চর্চা বন্ধ করতে হবে, সেটাও বাস্তবসম্মত সমাধান না। যারা বিজ্ঞান গবেষণা করে, প্রথমে কেউ ভুল তত্ত্ব দেয়, এরপরে কেউ এসে সেটা সংশোধন করে। নিত্যনতুন সংশোধন হতে হতে বিশুদ্ধ হতে থাকে। তেমনি হাদিস চর্চাও ১৪০০ বছর যাবত গবেষণা হচ্ছে। জাল, যইফ হাদিস নির্ণয়ের জন্যেও হাদিস গবেষণা ও চর্চা চালু রাখতে হবে।

২- আপনি কোরান ও সিরাতভিত্তিক যাচাইকৃত সহীহ হাদিসগুলোর চর্চার পক্ষে মত দিয়েছেন, কিন্তু সব সহীহ হাদিসই কোরানভিত্তিক যাচাইকৃত। কিন্তু সিরাতভিত্তিক বলে কি বোঝাতে চাচ্ছেন, ক্লিয়ার না আমার কাছে। কারণ সীরাত হচ্ছে নবীজীবনী, আর যা প্রমাণিত সুত্রে বর্ণিত তা-ই সহীহ হাদিস। সীরাতের সব বর্ণনাই হাদিস, কিন্তু সব হাদিস সীরাত বিষয়ক না। সীরাতে অনেক যইফ জাল হাদিসও থাকতে পারে, কিন্তু সহিহ হাদিসে তা থাকে না। অর্থাৎ জাল যইফ সহিহ মিক্সড সীরাত দিয়ে সহী হাদিস কিভাবে যাচাই করা যায়? একটি সহীহ হাদিস নির্ণয়ের জন্য ৫-৭ টা শাস্ত্র লাগে। সুতরাং কিসের ভিত্তিতে হাদিস নির্ণয় করতে হয় মুহাদ্দিসগণ ভালোই জানেন।

৩- আপনি বলেছেন, এখন গ্রন্থাকারে যেসব হাদিস চর্চা হয় এগুলো হয় বেশিরভাগ ফেইক নতুবা এই সময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত হাদিসগুলো আমাদের সম্পদ, সেগুলো ফেইক নাকি ফেইক না তাও নির্ণয় করার জন্য হাদিসশাস্ত্র আছে। একটা বইয়ে ভুল শুদ্ধ থাকতে পারে, এজন্য কি আপনি বলবেন যে বইটাই বাতিল করে দিতে হবে। হাদিস শাস্ত্রের মত এতো শক্তিশালী শাস্ত্র দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি নেই। আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে প্রতিটা ব্যক্তির কথার উপর রেফারেন্স ছিল আজকের এই আধুনিক যুগে বিস্ময়কর বলে মনে হয়। হাদিস শাস্ত্র নিয়ে আপনার পড়াশোনা করা উচিৎ বলে মনে করি।

৪- এমন কোনো সহিহ হাদিস নেই যা অপ্রয়োজনীয়। সহিহ হাদিসও এক প্রকার ওহী। ওহী কখনো অপ্রয়োজনীয় হয় না। সময়ের জন্য সব সহিহ হাদিসই প্রযোজ্য।

৫- গ্রুপিং সৃষ্টি হওয়া সমস্যা না। কিন্তু গ্রুপিং এর জন্য কুরআন হাদিসের অপব্যবহার সমস্যা। গ্রুপিং কেউ জাল হাদিস দিয়ে করে না। কারো অপব্যাখ্যার নিয়ত থাকলে সহিহ হাদিস ও কুরআনের আয়াত দিয়েও অপব্যাখ্যা করতে পারে।

নিজেকে হকের ঠিকাদার না ভাবাই ভালো। গ্রুপিং না করলেই হক হবে এমন না। অনেকে গ্রুপিং না করেও ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হতে পারে।












সাত

রবীন্দ্রনাথকে আলোচনায় আনতেই আমি পক্ষপাতি না। রবীন্দ্রনাথরাও ইসলামকে কখনো আলোচনায় আনতে পছন্দ করতেন না, বিরোধিতার খাতিরেও না। আমার কাছে পশ্চিমের কোনো ফিগার কিংবা কাফিরদের কারো সমালোচনার চেয়ে ইবনে সিনার সমালোচনা বেশি পছন্দনীয়। কারণ সমালোচনার খাতিরেও ইবনে সিনাকে নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, অর্থাৎ ইসলামী সভ্যতার আলোচনাকে আনা হচ্ছে।












আট

ইসলামের মধ্যেই সংস্কৃতির অনেক উপাদান আছে। খুঁজে খুঁজে সেগুলার চর্চা করতে হবে। আমি প্রতিটা সুন্নাহর মধ্যেই সংস্কৃতি খুঁজে পাই।




















নয়

একাত্তরে নিহত আলতাফ মাহমুদের মেয়ে দেখলাম ফেসবুকে দুইটা ছবির তুলনা করে কান্নাকাটি করছে। একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে শাড়ি পড়া, গেঞ্জি পড়া একদল নারী মুক্তিযোদ্ধাকে, আর আরেকটা চিত্রে দেখা যাচ্ছে বুরখা হিজাবে আবৃত ছাত্রীদেরকে। তিনি আফসোস করলেন, আমাদের দেশটা কত পিছিয়ে যাচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি না, বুরখা হিজাব পরিধান করলে দেশ কিভাবে পিছিয়ে যায়? বুরখা হিজাব করা তো ইসলামের নিদর্শন, ইসলাম চর্চা করলে দেশ পিছিয়ে যায় কিভাবে আমার বুঝে আসে না। আর পর্দা না করলে নারী প্রগতি কিভাবে হয় সেটাও বুঝে আসে না। সেকুলারদের ইসলাম নিয়ে এই আজব চুলকানি বড় অদ্ভোত লাগে। এই চুলকানিতে সমস্ত জায়গা ইসলামের সাথে কোনো না কোনো সংযোগ থাকেই। যেমন দাড়ি টুপি, টাখনুর উপর কাপড় পড়া নিয়া চুলকানি, মাদ্রাসা এবং আলেমদের নিয়া চুলকানি, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়া চুলকানি। মুনাফিক চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হইল এই চুলকানি। বিভিন্ন সময় মুসলিম নামধারি এইসব মুনাফিকের লেঞ্জা প্রকাশ হতে দেখবেন। জাফর ষাঁড়ের লেঞ্জা, শা কবিরের লেঞ্জা, সমস্ত সেকুর লেঞ্জার কালার এক পাবেন, এমনকি ভারতীয় বলেন কিংবা ইউরোপীয়, সমস্ত ইসলাম বিদ্বেষীর লেঞ্জার এক কালার হয়। প্রত্যেকের চুলকানি হয় ইসলামের বিধি বিধান নিয়া। সমস্ত রাগ ক্ষোভ এদের ইসলাম নিয়া। ইসলামের সাথে সংযুক্ত এক টুকরা কাপড় যেইটা মহিলারা ধর্মবোধ অথবা কেউ কেউ স্টাইল কইরা মাথায় পিন্দে এইটা নিয়াও সেকুদের চুল্কানির শেষ নাই। চুল্কাইতে চুল্কাইতে চামড়া ছিলা ফেলে। এদের চুলকানি বাড়াইতে চাইলে বুরখা পাঞ্জাবি জুব্বার ব্যবসা ধরেন, এবং লিঙ্গানুযায়ি এইসব পোশাক পরিধান করায় অভ্যস্ত হন, কারণ এগুলা মুনাফিক আর মুসলিমদের পার্থক্যকারী হিসেবে বিবেচিত হইতেছে।












দশ

এক ভাই নজরুলকে নিয়ে খুব গর্ব করল, সে নাকি ইসলামের কবি। আমি এ ব্যাপারে মন্তব্য করলাম - আপনি মনে হয় শুধু নজরুলের ইসলামী কবিতা গুলাই পড়েছেন। আর তিনি কমিউনিস্ট কোনো কালেই ছিলেন না, কমরেড মুজাফফর চেষ্টা করছিল, কিন্তু পারেন নি, কারণ নজরুল ছিল সেকুলার, সে জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেকুলার ছিল। শেষের দিকে হিন্দু ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। হিন্দু ধর্ম চর্চাও করতেন, অসংখ্য শ্যামা সঙ্গীত লিখেছেন, তিনি কখনোই ইসলাম দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন না। যেই হাতে তিনি দেব দেবির গুণ কীর্তি লিখেছেন, একই হাতে আল্লা রাসুলের গুণগানও লিখেছেন আগে পরে, তার ইসলামী কবিতাগুলার সময়কাল খুঁজলে দেখবেন এগুলা আগেও লেখা হয়েছিল পরেও লেখা হয়েছিল। আব্বাস উদ্দিন গান গাইলেও ধর্মবোধ ছিল, সে নজরুলরে দিয়া জোর করিয়ে ইসলামী গান লেখাইত। তবে শেষ জীবনে অর্থাৎ অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে উনি তাওবা করে একদম ইসলামে ফিরছেন বইলা মত প্রকাশ করেছেন নজরুল গবেষণার সবচেয়ে বড় পণ্ডিত গোলাম মুরশিদ। আর গোলাম মুরশিদ সেকুলার, সুতরাং আমিও বিশ্বাস করি একেবারে শেষে তিনি তাওবা করছিলেন। কিন্তু তিনি মাঝখানের জীবনে মুসলিম ছিলেন এইটা আমি বিশ্বাস করি না, অন্তত তার সম্পর্কে ভালো গবেষকদের লেখা পড়লেও এইটাই ধারণা করা যায়। কিন্তু তার অসুস্থ হওয়ার পর তারে আবার গান বাজনা আউল ফাউল কাজে তার পরিবার নিয়া গেছিল, যেহেতু তার স্ত্রী হিন্দু ছিল।













এগারো

শুনলাম মুরতাদ মুফা নাকি ইসলামে ফিরছে, সাথে এক গাদা কুফরি কথা বগলদাবা কইরা নিয়া আসছে। এই ব্যাপারে আমার মন্তব্য হইল - মুফা আগে ছিল মুরতাদ কাফের, এখন হইছে মুনাফিক। কাফের থেকে মুনাফিকরা বেশি ভয়ঙ্কর। আমাদের দেশে বেশিরভাগ সেকুলার মুনাফিক, এক হিসেবে কাফেরদের চেয়ে বেশি খারাপ।











বারো

এক মুশরিক মহিলা একাত্তরের বেপর্দা কিছু নারির ছবি আর বর্তমানের কিছু পর্দাশিল ছাত্রির ছবি শেয়ার কইরা বঝাইতে চাইতাসে দ্যাশ নাকি পিছাইয়া যাইতাছে। এইটারে আবার ৭১ এ নিহত আলতাফের মেয়ে ভাইরাল করাইয়া সেও কাঁদল। তো আমি মুশরিক মহিলার পোস্টে মন্তব্য না কইরা শান্তি পাইতেছিলাম না। যা কইছি ভদ্র ভাষাতেই কইছি, এইখানে তুইলা দিলামঃ

আপনি হিন্দু হয়ে মাথায় সিঁদুর দেন বা পূজা করেন, কেউ কিছু বলবে না, কিন্তু একজন মুসলিমা হিজাব নিকাব করলেই দেশ পিছিয়ে যায়, স্বাধীনতার চেতনা বিনষ্ট হয়। আচ্ছা, আপনার মুসলিম নামধারি সেকুলার বন্ধু বান্ধবগুলো আজব না? হিজাব নিকাব, দাড়ি টুপি, ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তাদের চুলকানি।








তেরো

অনেকে দেখি কিছু ইসলামী কবিতা লেখার কারণে নজরুল, জসিমউদ্দিন এদেরকে নাকি মুসলিম কবিদের রোলমডেল বানায়া ফেলে। একেকজন নজরুলকে ইসলামিক প্রমাণ করতে কি পরিমাণ কসরত যে করে।

কিছু ইসলামপন্থী নজরুলের কিছু ইসলামী কবিতা গুলা পড়েই তার বিরাট ভক্ত হয়ে যায়। অথচ তিনি যে কত কুফরি শিরকি কবিতা লিখছেন তার খোঁজ তারা রাখে না। অনেকে দাবি করে তিনি নাকি প্রথম জীবনে কমিউনিস্ট ছিলেন, পরে ইসলামে ফিরে এসে ইসলামী কবিতা লিখছেন। অথচ তিনি কমিউনিস্ট কোনো কালেই ছিলেন না, কমরেড মুজাফফর চেষ্টা করছিল সেদিকে নিতে, কিন্তু পারেন নি, কারণ নজরুল ছিল সেকুলার, সে জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেকুলার ছিল। শেষের দিকে হিন্দু ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। হিন্দু ধর্ম চর্চাও করতেন, অসংখ্য শ্যামা সঙ্গীত লিখেছেন, তিনি কখনোই ইসলাম দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন না। যেই হাতে তিনি দেব দেবির গুণ কীর্তি লিখেছেন, একই হাতে আল্লা রাসুলের গুণগানও লিখেছেন আগে পরে, তার ইসলামী কবিতাগুলার সময়কাল খুঁজলে দেখবেন এগুলা আগেও লেখা হয়েছিল পরেও লেখা হয়েছিল। আব্বাস উদ্দিন গান গাইলেও ধর্মবোধ ছিল, সে নজরুলরে দিয়া জোর করিয়ে ইসলামী গান লেখাইত। তবে শেষ জীবনে অর্থাৎ অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন আগে উনি তাওবা করে একদম ইসলামে ফিরছেন বইলা মত প্রকাশ করেছেন নজরুল গবেষণার সবচেয়ে বড় পণ্ডিত গোলাম মুরশিদ। আর গোলাম মুরশিদ সেকুলার, সুতরাং আমিও বিশ্বাস করি একেবারে শেষে তিনি তাওবা করছিলেন। কিন্তু তিনি মাঝখানের জীবনে মুসলিম ছিলেন এইটা আমি বিশ্বাস করি না, অন্তত তার সম্পর্কে ভালো গবেষকদের লেখা পড়লেও এইটাই ধারণা করা যায়। কিন্তু তার অসুস্থ হওয়ার পর তারে আবার গান বাজনা আউল ফাউল কাজে তার পরিবার নিয়া গেছিল, যেহেতু তার স্ত্রী হিন্দু ছিল।

সুলতাং যারা নজরুলরে ইসলামায়ন করতে চায় অথচ নজরুল নিজেকে কখনোই সেইরুপ দাবি করে নাই, এগুলা স্রেফ ইসলামপন্থীদের আবলামি।
















চৌদ্দ

আফ্রিকার মানসা মুসা যেমন ছিল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনী অথচ আজকের আফ্রিকার কি অবস্থা, তেমনি আমাদের ভারত মুসলিম শাসনামলে ছিল ধন ঐশ্বর্যের অধিকারী। তৎকালীন মুঘলদের তুলনায় ইউরোপ ছিল ফকির। শুধুমাত্র তাজমহল দেখে ইউরোপীয়দের অজ্ঞান হওয়ার মত অবস্থা হয়। এরা মুঘলদের হিরা, ময়ুর সিংহাসন এবং ইত্যাদি দামি বস্তুগুলো চুরি করে ওদের দেশে নিয়ে যায়। ১৯০ বছর শাসনে এরা ইংল্যান্ডে সম্পদ পাচার করে গেছে যতক্ষণ পর্যন্ত না ভারত ফকির হয়ে যায় এবং ইংরেজদের নেয়ার মত আর কিছু থাকে না।

অথচ এইসব চোরা ইউরোপীয় আর তাদের সংস্কৃতি সভ্যতা আমাদের মুসলমান যুবকদের চোখ ধাধিয়ে দেয়। তারা ইউরোপ অ্যামেরিকার ভিসার জন্য মুসলমান আইডেন্টিটি বিসর্জন দিতে রাজি থাকে, এক সময়ের ফকির ইউরোপীয়দের আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া কলাগাছে উঠতে মুসলমানি লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি খুলে এক সময়কার সুলতান, বাদশাহ দের শাহজাদারা উলঙ্গ হচ্ছে। এটাই হচ্ছে ইসলামের ইতিহাসে মুসলমানদের অধঃপতনের সর্ব নিম্ন সীমা। যেখানে মুসলমানরা তাদের আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলে। তাতার ঝড়ের পরেও মুসলমানদের ঐশ্বর্য কমে যায় নি, কারণ তখন মুসলমানরা তাকওয়া হারালেও আত্মপরিচয় হারায় নি, এখনো মুসলমানদের নামটা বাদে কিছুই অবশিষ্ট নাই। খ্রিস্টান আর হিন্দুয়ানি নামের যে প্রকোপ শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের নামটাও হয়তো থাকবে না।

তবে ইসলাম কখনো নিভে যাবে না, এমন সময়ও একদল গুরাবা থাকবে, যারা নিজেদের আত্মপরিচয় হারাবে না, যারা দাজ্জালি যুগে বাস করেও মনের মধ্যে ইসলামী স্বর্ণযুগের আবহ লালন করবে। আল্লাহ আমাদেরকে গুরাবাদের কাতারে শামিল করুন।










পনেরো

কল্যাণ রাষ্ট্রের পক্ষে প্রচারণা চালানো জনাব জোবায়ের আল মাহমুদ একটা নিউজ শেয়ার করে বোঝাতে চাইছেন সৌদি খুব ভালো ইসলামী রাষ্ট্র হয়েও আলিমদের মৃত্যু দণ্ড দিচ্ছেন। সেখানে আমি মন্তব্য না করে পারলাম নাঃ

সৌদিতে রাজতন্ত্র চলে। সুতরাং শরিয়াহ শাসন চল্লেও, রাজতন্ত্রের কারণে পূর্ণ শরিয়াহ শাসন না, বরং রাজার ইচ্ছা মত শাসন চলে, সুতরাং এইটারে পূর্ণ ইসলামী রাষ্ট্র বলা যায় না।

আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাইতে হবে। ইসলামী রাষ্ট্রের নামে কে কি করে সেটা উদাহরণ না। আইএস কিংবা সৌদি ইসলামী রাষ্ট্র নাম দিয়ে কি করে তা কখনো ইসলামী রাষ্ট্রের বিপক্ষে দলিল হবে না। কারণ একজন মুসলিমের জন্য ইসলামকে দোষারোপ করা যায় না। খুলাফায়ে রাশিদার শাসন আমাদের জন্য আদর্শ শাসন ব্যবস্থা।











ষোল

ইসলাম প্রতিষ্ঠা করলে একসাথে ১০ টা বিষয় কায়েম হয়, আর ইসলামী আন্দোলন না করলে হরেক অধিকারের আন্দোলন করতে হয়, যেমন শ্রমিক অধিকার, নারী অধিকার, শিশু অধিকার, পশু অধিকার। আর সব অধিকার কায়েম হবে যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যায়। সুতরাং যারা ইসলাম কায়েমের চেষ্টা করে তাদের আলাদা করে এই সেই অধিকারের আন্দোলন করা লাগে না।

তবে অন্য একটা দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন, এটা সত্য যে ইসলামপন্থীদের অনেকে হাক্কুল ইবাদ নিয়ে সচেতন না। এইটা নিয়া বিস্তারিত সমালোচনা করা যায়।










সতেরো

মীর সালমান ভাই একটা পোস্ট করলেন যেখানে বোঝাতে চেষ্টা করছেন, কাবা নাকি গুরুত্বপূর্ণ না, এমনকি তিনি নাকি হাজ্জাজ হলে কাবা ভেঙ্গে ফেলতেন, সেখানে আমার মন্তব্যঃ

কাবা ভেঙ্গে ফেলার আলাপটা ভালো লাগলো না। "একজন মুসলমানের জীবন এমন হাজার কাবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ" , মুসলমানের জীবনের সাথে ক্বাবার তুলনাও ভালো লাগলো না। এই দুইটা তুলনা হওয়ার বিষয় না। কাবা ভাঙতে চেয়েছিল আবরাহা, যা সূরা ফিলে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেছিল। সুতরাং কাবা কোনো গুরুত্বহীন বিষয় না।

কাবা আল্লাহর জমিনে সবচেয়ে পবিত্র ভূমি। এর মর্যাদা নিয়ে অনেক দলিল আদিল্লা আছে। এটা অসম্মানের মত কোনো কিছু না। কুরআন কাগজের মধ্যে লেখা হয়, এজন্য এই না ঐ কাগজটা অমর্যাদা করা জায়েজ। আল্লাহ কাবা শরিফকে মর্যাদা দিয়েছেন, আমরাও একে মর্যাদা দিব।






আঠারো

জনাকাংখা প্রতিষ্ঠার পর থেকে একদল লোক ইসলামী রাষ্ট্র এর বিপরীতে কল্যাণ রাষ্ট্রের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। প্রচারনার সুবাদে দুই নৌকায় পা দিতে চাওয়া লোকেরা হালে পানি পেল। অবস্থা এমন, ইসলামও থাকবে, আবার সেকুলারিজমও থাকবে। অনেকের দাবি তো একেবারে, ইসলামই নাকি সেকুলারিজম, আদর্শ সেকুলারিজম। তাদের দাবি তারা হচ্ছে সহি সেকুলার, আর এদেশের বামপন্থী সেকুলাররা যইফ সেকুলার বা ভ্রষ্ট সেকুলার। কোনো এক আওয়ামী সাংসদ একবার পার্লামেন্টে বলছিলেন নবি সাঃ নাকি সেকুলার ছিলেন (নাউযুবিল্লাহ), দেখা যাচ্ছে জামায়াতের (সাবেক) আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা সেকুলার-ইসলামিস্ট বা সেকুস্লামিস্ট যারা সদ্য জনআকাঙ্ক্ষা ব্যানারে সামনে এসেছে তারা সেই আওয়ামী সাংসদের কওলকে মানহাজ হিসেবে গ্রহণ করে ইকামাতে দ্বীনের সহি ভার্সন ইকামাতে সেকুলারিজমের মহান খেদমতে রত হয়েছেন। তাদের কল্যাণ রাষ্ট্রের থিওরি মূলত সেকুলার রাষ্ট্রের অপর নাম, অবশ্য এটা তারা স্বীকারও করে। সেকুলার/কল্যাণ রাষ্ট্রে নাকি সব ধর্মের অধিকার দেয়া হয়, আর এজন্যই ইসলামী রাষ্ট্র তারা চান না, কারণ ইসলামী রাষ্ট্রে সব ধর্মের অধিকার দেয়া হয় না। এরা আবার ধর্মের আলখাল্লা খুলতেও রাজি না, ঠিক ইনু মেনন্দের মত। কথায় কথায় ইসলামপন্থীদের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করেও হজ করে, সহি ইসলামের সবক দেয়, এবং তাহাজ্জুদগুজারি নেত্রীর আস্থাভাজন হয়ে থাকে।

জামায়াতের এই সংস্কারপন্থী ধারার থিঙ্কট্যাংক হিসেবে কাজ করে ফরিদ এ রেজা, দর্শনগবেষক মোজাম্মেল হক, শাহ আব্দুল হান্নান প্রমুখ। আর ফেসবুকে এর পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে জোবায়ের আল মাহমুদ নামে সুফিবাদি, তুরস্কপন্থী, এরদোয়ানপন্থী, সাবেক জামায়াতি, নব্য মুতাজিলা, মর্ডানিস্ট, সাবেক ইসলামিস্ট ও বর্তমান সেকুলারিস্ট বা সেকুসলামিস্ট এক যুবক। তাদের সকলের হেদায়েত কামনা করি।















উনিশ

এই দেশে সেকুলারদের যেমন পাকিস্তান বিদ্বেষ তেমনি আমাদের দেশের মুসলিম, সেকুলার, হিন্দু, বৌদ্ধ নির্বিশেষে সকলের অর্থাৎ সকল বাঙালির একটা সৌদি বিদ্বেষ কাজ করে। সেকুলাররা যেমন পাকিস্তানের সাধারণ নাগরিকদেরকেও ঘৃণা করে, তেমনি বাঙ্গালিরাও দেখি সৌদি জনগনের প্রতি একটা ঘৃণা পোষণ করে। মানুষ সবসময় শাসক আর জনগণের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলে। সৌদি শাসকদের পছন্দ না হলে তাদের জনগণকেও কেন ঘৃণা করতে হবে? এই সমস্যা তো সেকুলারদের যারা ৭১ এ কোনো এক সামরিক শাসকের যুলুমের কারণে সমস্ত পাকিস্তান আর পাকিস্তান সংশ্লিষ্টতার বিরুদ্ধে প্রোপ্যাগান্ডা চালায়। পৃথিবী সমস্ত ভূমি আমাদের, ভারতও আমাদের। শাসকের জন্য বা শাসন ব্যবস্থার জন্য সেই দেশের মানুষকে গালমন্দ করা জাতীয়তাবাদী রোগ।











বিশ

আহলে হাদিসদের  কিছু গুণাগুণ খুবই উত্তম যে সুন্নাতের পূর্ণ অনুসরণ করে। তাদের অধিকাংশই দাড়ি রাখে। কিছু ক্ষেত্রে তারা যদি নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে যেমন মাযহাববিদ্বেষ ও মাযহাবিদের বিরোধিতা, আলে সউদের তাকলিদ না করে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান এবং জিহাদ ও ইকামাতে দ্বীনের প্রতি আগ্রহ আনয়ন, তবে অবশ্যই তারা হকপন্থী হত।















একুশ

দাড়ি রাখা সুন্নাহ, কিন্তু দাড়ি না রাখলে কাউকে অপমান করা বা কথার মাধ্যমে আক্রমণ করা অনুচিত। ইসলামী সমাজে কেউ দাড়ি না রাখলে তার শাস্তি বা অন্য কিছু নির্ধারণ করা যায় না। তবে দাড়ি কাটা যেহেতু প্রকাশ্য ফিসক, তাই দাড়ি কাটা লোক ফাসেক হতে পারে, কিন্তু এজন্য নসিহত জরুরী, জোর করে দাড়ি রাখানো আবশ্যক না। বরং যে ক্ষেত্রে ইখতেলাফের সুযোগ আছে সেক্ষেত্রে স্পেস দেয়া উচিৎ। আলিমদের অনেকের মতে দাড়ি রাখা ওয়াজিব না, শুধুমাত্র সুন্নাহ। অনেকের মতে মুস্তাহাব। কিন্তু যেটাই হোক, আমরা এখান থেকে বুঝতে পারি দাড়ি রাখা এবং এর প্রতি উৎসাহ দেয়া অবশ্যই উত্তম, কিন্তু যে দাড়ি রাখে না তাকে নিজের অবস্থান দিয়ে বিচার করা যাবে না। আমি অবশ্যই দাড়ি রাখাকে ওয়াজিব মনে করি। এবং মনে করি সকল মুসলমানের দাড়ি রাখা উচিৎ, কিন্তু কতটুকু রাখবে এটাতে সকলকে স্পেস দেয়া উচিৎ।













বাইশ

সৌদি কারাবন্দী আলেমদের নিয়ে অনেকে যেভাবে দুঃখপ্রকাশ করে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী, নির্যাতিত আলেম ও ইসলামপন্থীদের নিয়ে তারা অনেকে চিন্তা করে না বা করতে চায় না। এটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।

আমাদের দেশে যারা জালিমের কারাগারে আটকা আছেন, যেমন দেলোয়ার হোসেন সাইদী, জসিমুদ্দিন রহমানী, ইসহাক খান আরও নাম জানা অজানা ইসলামী আন্দোলনের কর্মী, সমর্থক সবাইকে নিজেদের দোয়াতে রাখবেন।










তেইশ

আমাদের দেশের কথিত বুদ্ধিজীবীরা সবসময় রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, মানিক, বঙ্কিম, শরত, বিভুতি, সুকান্ত এদের নিয়ে আলাপ তুলে; কখনোই দেখবেন না মুসলিম সাহিত্যিকদের নিয়ে তারা উৎসাহী। নজরুলকে তারা আলাপে আনে এই কারণে যে নজরুল মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও সারাজীবন ধর্মনিরপেক্ষ সাহিত্য চর্চা করেছেন, দুই হাত ভরে শ্যামা সঙ্গীত লিখেছেন, সাম্যবাদের কথা কয়েছেন। সময়কাল অনুযায়ী বিখ্যাত হিন্দু সাহিত্যিকদের একেবারে সমকালীন সাহিত্যিক এই বাংলায় অনেক মুসলমান সাহিত্যিক ছিলেন। তাদের নামের তালিকাও দীর্ঘ। কিন্তু কোনো কারণে তাদের আলাপে আনা হয় না। দেখা রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে ভারতের বাঙালী হিন্দু সাহিত্যিক জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী ছাড়াও কারণে অকারণে তাদের জীবনী নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করে থাকেন আমাদের বুদ্ধিজীবীরা, তাদের উপর আলোচনা সমালোচনা লিখেন। আমি দেখিনি তাদেরকে ইব্রাহিম খাঁ, ইসমাইল হোসাইন সিরাজি, গোলাম মোস্তফা, বরকত আলি, নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন, ফররুখ আহমদ তাদের সম্পর্কে কখনো লিখতে। এটা হচ্ছে বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিজীবীতার নমুনা। আর একালে আল মাহমুদ নিয়ে তারা যা করল তা তো আমরা চাক্ষুষ সাক্ষী। শাহেদ আলির জিবরাইলের ডানা গল্পটিকে বলা হত বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ গল্প। অথচ আমাদের প্রজন্ম তো তার নামও জানি না। আমাদের থেকে আড়াল করা হয় 'আমাদের' সাহিত্যিক ও আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহকদের, আর এই কুবুদ্ধিজীবীরা বিভিন্ন উপায়ে আমাদের সামনে নিয়ে আসে কাফের, মুশরিকদের ফিগারদের। তারা নিজেদের মিডিয়া ব্যবহার করে এই প্রোপ্যাগান্ডা চালিয়ে থাকে। ফলে মুসলিম জনগোষ্ঠী নিজের অজান্তেই মুশরিক ও নাস্তিক ফিগারদের কবুল করে নেয়। আল্লাহ আমাদের ভুল করা থেকে রক্ষা করুন।












চব্বিশ

তারাবিহ কত রাকাত সেটা বিষয় না, তারাবিহ ৮, ১২, ২০, ৩৬ যত ইচ্ছা পড়বেন, এ নিয়ে বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নেই, বিতর যেমন ১,৩,৫,৭,৯ পড়া যায় তেমনি তারাবিও পড়বেন, পড়াটা বড় কথা, সংখ্যা নয়। বিতর যেমন পড়া ওয়াজিব, এটার সংখ্যা ফ্যাক্ট নয়, তেমনি তারাবি সুন্নাহ, তাই পড়বেন, কত পড়বেন তা আপনার ইচ্ছা। যারা কম পড়তে চান তারা ৮ পড়বেন, যারা বেশি পড়তে চান তারা ১২, ২০, ৩৬ পড়বেন। আর এই নিয়ে যারা ঝগড়া করে রমাদানের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এদের থেকে বেঁচে চলুন, কেউ ঝগড়া বাঁধাতে আসলে বলুন, আমি রোজাদার, কারণ এদের ফেতনা ঝগড়াটে মানুষদের গালাগালির চেয়ে ভয়ঙ্কর।





















পঁচিশ

খাওয়া দাওয়া করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হয়, বড়লোক বা গরিব সকলকেই আল্লাহর শুক্রিয়া আদায় করতে হয়। আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয়। এখানে খানার সাথে শুধু আল্লাহর স্মরণ নয় বরং উপলব্ধি করতে হয় যে আমি ভালো আছি তাদের চেয়ে যারা না খেয়ে আছে। যারা কম খেয়ে আছে তাদের চেয়ে আমি বেশি খেয়েছি, যারা অনেক দিন খায়নি এবং এরপর খাচ্ছে, তাদের চেয়েও আমি ভালো আছি। এই উপলব্ধি জাগাতে হবে, প্রতি খানার ওয়াক্তে স্মরণ করতে হবে নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর কথা। রোহিঙ্গারা কেমন আছে, খেয়ে আছে নাকি না খেয়ে, সিরিয়ার বাচ্চাগুলার কি অবস্থা, আজকে সারাদিনে কিছু খাওয়া হয়েছে তো? আর ইয়েমেনের শুকিয়া যাওয়া বাচ্চাগুলা কেমন আছে? ফিলিস্তিনের মানুষ ভালো আছে তো? আফ্রিকার গরিব মুসলমানরা খেতে পাচ্ছে তো? আমাদের দেশের গরিব গ্রামগুলোতে মুসলমানদের কি অবস্থা? কৃষক মজুরদের কি অবস্থা? প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে মিশনারিরা খাদ্যের লোভে মুরতাদ বানিয়ে ফেলছে না তো আমাদের মা, বোন, ভাইদের? এভাবে চিন্তা করুন। খানা মুখে তুলার আগে ভাবুন আফগানিস্তানের মুজাহিদিনরা  এই বেলায় রুটি পেয়ে অভিজানে যাচ্ছে তো? নাকি না খেয়ে আছে? স্মরণ করুন পৃথিবীর কোণায় কোণায় নির্যাতিত গরিব মুসলিমদের কথা। এরপর খান। এরপর আহার তুলুন। এতে হয়তো ক্ষুধার্ত মানুষদের পেট ভরবে না, কিন্তু আপনার ঈমান ও তাকওয়ার চর্চা হবে, পরিশুদ্ধ হবে হৃদয়।
















ছাব্বিশ

আদব শিক্ষা, ভদ্রতা শিক্ষা, এসব শিক্ষা আজ মানুষ থেকে উঠে যাচ্ছে। মানুষ শহরের বাসিন্দা হয়েও মিনিমাম ভদ্রতাগুলো শেখে নি। গারমের মানুষ না হয় সহজ সরল, অনেক কিছুই বোঝে না, কিন্তু শহরের উচু উচু দালানে বাস করেও কেন মানুষ আদবের ব্যাপারে এতো মিস্কিন থেকে যায়? আদব বা ভদ্রতা এমন একটা বিষয় যা শুধু মুসলিম না অমুসলিমদের মধ্যেও থাকা প্রয়োজন। আর সেখানে কিনা এটা মুসলিমদের অনেকের মধ্যেও দেখা যায় না। কারো বাসায় গিয়ে কি করা উচিৎ, বা কি করলে মানুষ রাগ করতে পারে, বা কিভাবে বলতে হয়, এসব মিনিমাম সেন্সটুকু আজ শহুরে মানুষদের মধ্যেও নেই। আবার গ্রামের অশিক্ষিত মানুষদেরও অনেক সময় দেখবেন বাসায় আসলে এরা উচু জায়গায় বসতে চায় না। মাটিতে বসে যায়। এই অশিক্ষিত লোকগুলাও ভদ্রতা বুঝে, আদব বুঝে। কিন্তু কি যে হল আজকাল শহুরে কিছু মানুষও যেন ভদ্রতার ভ-ও দেখায় না। ভদ্রতা ও আদব শিক্ষা এজন্য মুসলিমদের জন্য ইলম শিক্ষার মতোই ফরজ, একটু ভালোভাবে বললে ইলম শিক্ষার একটি অংশ হচ্ছে ভদ্রতা শিক্ষা, ভদ্রতা ও আদব শিখাও একটা ইলম, অথচ কত বড় বড় ঝেড়েও আজকাল কিছু মানুষের আদব আখলাক কত নিম্নমানের হয়ে থাকে!















সাতাইশ

জামাতিদের পথভ্রষ্টতার হিরিক। একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখা যাবে জামাতিদের মধ্যে প্রচুর মানুষ এমন একটা অবস্থানে থাকে যেখান থেকে পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। একটু খুঁজলে অনেক নাম পাওয়া যায়। এদের থেকে কেউ হয় মর্ডানিস্ট, কেউ মোডারেট, কেউ দ্বীনবিকৃতকারী, কেউ আহলে হাদিস, কেউ নব্য মুতাজিলা, কেউ আবার আহলে কুরআন। ডাঃ মতিয়ার রহমান যিনি একজন আহলে কুরআন ও নব্য মুতাজিলা, কুরআনের নতুন ব্যাখ্যার নামে যে ভ্রান্ত মতবাদ ছড়ায় সে হচ্ছে জামাতি, জামাত তাকে জনপ্রিয় করেছে আর এখন সে বিষ ছড়াচ্ছে। জামাত এখনো তাকে সমর্থন দেয়। জামাতিদের অনলাইন লাইব্রেরি পাঠাগার ডট কমে এখনো মতিয়ারের বই পিডিএফ করে প্রচার করা হচ্ছে। অবশ্য জামাতিদের আকিদার পাঠই বা কতটুকু যার মাধ্যমে বুঝবে যে ডাঃ মতিয়ার ভ্রান্ত আকিদার লালনকারী, এই জামাতিরা নিজেদের গুরু মওদুদির একটা ভুলকে ভুল বলে স্বীকার করতে রাজি না, সেই ভুলটাও যে আসলেই ভুল তারা তা বোঝার মত জ্ঞান রাখে না। এদের অবস্থা এতই নাযুক। ফলে এদের থেকে কত পথভ্রষ্ট যে বের হয়েছে ইয়ত্তা নেই। ডাঃ মতিয়ার তো একটা, আরও কত যে আছে। ফরিদ এ রেজা হচ্ছে মর্ডানিস্ট ইসলামের প্রচারক, মোজাম্মেল হক নামে দর্শন গবেষক এই লোকটাও চরম পর্যায়ের ভ্রান্ত, সে তো পুরো টিম তৈরি করে সেকুলারিজমকে ইসলামের মোড়কে ছড়াচ্ছে। জোবায়ের আল মাহমুদ হচ্ছে সেই টিমের একজন। এইচ আল বান্না হচ্ছে আরেক জামাতি যে মর্ডানিস্ট ভাবধারার বিশ্বাসী। এমন অসংখ্য না বলা যায়। আর সম্প্রতি মঞ্জু আব্দুর রাজ্জাক গং তো এক সংস্কারপন্থী সেকুলার দলই খুলে বসলো। এদের জন্য আফসোস। তবে বেশি আফসোস তাদের জন্য যারা জামাতের মূলধারার সমর্থক হয়েও এইসব সংস্কাবাদি কালপ্রিটদের সাথে থাকে, ভালোবাসে, দীনী ভাই মনে করে, অথচ এরা ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে এটা বোঝার জ্ঞান কি জামাতিদের নেই। কিন্তু যেসব জামাতি ভাই এসব জামাতি নামের বিষাক্ত কীটের বিরুদ্ধে কথা বলেন আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দেন।















আঠাশ

এক ভাই দেখলাম আরবদের বাহারি খানার ছবি দিয়ে বুঝাতে চাইল আরবরা অপচয় করে কিন্তু এই নিয়ে সালাফি আলেমরা কিছু বলে না কেন? তার এই অদ্ভুত প্রশ্ন আমার কাছেও অবাক লাগলো, কিন্তু তার তারের মাথা ছিরা কিনা সেটা ভাবতে বসলাম যখন তিনি বললেন, এটা নাকি শিরক, এবং এই শিরকের বিরুদ্ধে সালাফিরা কথা না বলে কেন মাযার পূজার শিরকের বিরুদ্ধে কথা বলে?

এই হল বিদ্বেষ পোষণ করার ক্ষতিকর দিক। বিদ্বেষ উগড়ে দিলে বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনাও আর গ্রহণযোগ্য হয় না। এই জামাতি ভাইয়ের সৌদিবিদ্বেষের অন্যতম কারণ হচ্ছে সালাফিরা ইখওয়ান দেখতে পারে না। সালাফিরা যেমন ইখওয়ানের প্রতি উগ্র বিদ্বেষ পোষণ করে, সেই জামাতি ভাইও সালাফিদেরই অনুসরণ করলেন।

আমি সালাফি না, তবু এই জামাতি ভাইয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক জড়তা ও দৈন্যটায় বাধ্য হয়ে এর জবাব লিখছি।

প্রথম কথা হচ্ছে আরবের মানুষ কি করে আর কি না করে সেটা বাঙালী সালাফি আলেম কি করে নসিহত করতে পারে? ফিনল্যান্ডের মুসলিমরা কি করে না করে সেই নসিহত যেমন আপনাদের জামাতের লোকেরা এখানে বসে নসিহত করলে লাভ নেই তেমনি বাঙালী সালাফি আলেমরাও এখানে বসে আরবদের নসিহত করলে শুনবে না। এর কারণ হচ্ছে বাঙালী সালাফি আলেমরা হচ্ছে আরবদের আলেমদের তুলনা দুগ্ধপোষ্য শিশু। শিশুর কথা আরবের লোকেরা কেন শুনবে।

দ্বিতীয় কথা হচ্ছে কোনো ভালো মুসলিম অপচয় করে না, অপচয় করে বিলাসি লোকেরা। আরবের আলেমরা এসব করে না। করে জাহেলরা, আর এজন্য সালাফিদের দায়ি করার কি যৌক্তিকতা? বাংলাদেশে কি কম অপচয় হয়? এদেশের ধনীরাও অপচয় করে, মধ্যবিত্তরা আরও বেশি করে, শুধু খাওয়া না, পোশাক, লাইফস্টাইল সব জায়গায় বাংলাদেশিরা অপচয় করে, এখন কি প্রশ্ন হতে পারে না জামাতি আলেমরা কেন বাংলাদেশিদের অপচয় নিয়ে বলে না। সমস্যা হচ্ছে গরীবদের একটা বিদ্বেষ থাকে ধনীদের নিয়ে। আমাদের গরিব খ্যাতমার্কা বাংলাদেশিদের একটা বিদ্বেষ আছে ধনী সউদিদের প্রতি। এজন্য এদেশীয়রা নিজেদের অপচয় না কমিয়ে আরবদের অপচয় নিয়ে জ্ঞান দেয়। আরে, আপনি নিজে ফকিরের বাচ্চা হয়েও যে পরিমাণ অপচয় করেন আরবরা ধনী হয়ে যা করে সেটা আপনার তুলনায় কম। কারণ একজন ধনী অপচয় করলে সেটা মানা যায়, কিন্তু ফকির অপচয় করলে মানা যায় না। এজন্য বিবাহিত জেনাকার আর অবিবাহিত জেনাকারের শাস্তি আলাদা। কারণ যে বিবাহ করে নি তার দ্বারা এটা স্বাভাবিক, এজন্য তার কম শাস্তি। একজন ধনী অপচয় করলে যত গুনাহ এর চেয়ে একজন গরীব করলে বেশি গুনাহ। অথচ প্রশ্ন কি আসে না জামাতিরা বাঙালিদের মধ্যবিত্তদের অপচয়ের বিরুদ্ধে কেন কথা বলে না?

তৃতীয় এবং শেষ কথা হচ্ছে, সালাফিদের প্রতি বিদ্বেষ বাদ দিয়ে ইনসাফের সাথে সমালোচনা করেন। অপচয়কে যেভাবে শিরক বানালেন, এটা তো নিশ্চিতভাবেই পথচ্যুতি। এজন্যই জামাতিদের আকিদার জ্ঞান জরুরী। সামান্য গুনাহকে শিরক বলাটা আকিদার কত বড় গোল্ড সেই জ্ঞান কি তাদের আছে? শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় অপরাধ। শিরক করলে নিশ্চিত জাহান্নামি, কোনো ক্ষমা নাই, আর এই জামাতি ভাইয়ের ভাষায় শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে সব পাপই নাকি শিরক। জাহেল আর কাকে বলে! আল্লাহ এদের হেদায়েত দাও। আর বিদ্বেষ দূর করে এদের ইনসাফ স্থাপনের তৌফিক দাও।














ঊনত্রিশ

মুজাহিদ ও শাহাদাৎ পিয়াসীদের আমার আজব লাগে। তারা যেন জীবন্ত শহীদ হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাদের দেহ যেন এখানে আর মন জান্নাতে হুরদের সাথে। সেই মানুষের অবস্থা কেমন থাকে, আচরণ কেমন থাকে যে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়, যে অধীর অপেক্ষায় আগ্রহ করে কখন শহীদ হবে এবং আল্লাহকে বলবে, হে আল্লাহ, আমাকে দুনিয়ায় আবার পাঠাও, আমি তোমার পথে আবার শহীদ হতে চাই। আল্লাহ আমাদেরকেও জিহাদপ্রেমি, জিহাদি, জিহাদের পথিক, মুজাহিদ, মুজাহিদদের সাহায্যকারী, মুযাহিদদের জন্য দোয়াকারী বানিয়ে দিন। আমীন।


















ত্রিশ

আমাদের ফেসবুক যুগের ইতিহাস।

ইন্টারনেট আসার পর থেকেই ব্লগগুলো ছিল নাস্তিকদের চারণভূমি, তারা সংঘবদ্ধভাবে বাংলা ভাষায় পুরো ইন্টারনেট জগতকে ইসলামবিদ্বেষ দিয়ে বিষাক্ত করে তুলেছিল। সেই সময়টায় নাস্তিকদের ব্লগগুলোই ছিল বাংলা ভাষায় লেখালেখির একমাত্র জায়গা। ফেসবুক তখন লেখালেখির জন্য মোটেও ব্যবহার হত না। কোনো মুসলিম ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে করতে ভুলক্রমে একবার যদি কোনো ব্লগে ঢুকে যেত তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতো, এতো বাজে অবস্থা ছিল সেই ব্লগযুগে। তখন মুসলিমরাও যে ইন্টারনেটে ছিল না তা কিন্তু না। কিন্তু অধিকাংশই তখন অনলাইনে নিয়মিত হওয়া বা লেখালেখি করে নাস্তিকদের জবাব দেয়া বা ইসলাম প্রচার করা কোনোটাতেই আগ্রহি ছিল না। ব্লগে ব্লগে নাস্তিকদের এই নাস্তিক্যবাদের প্রচারণা ও ইসলামবিদ্বেষ তাদের দল ক্ষুদ্র সময়ে ভারি করেছিল, এবং অনেক শিক্ষিত মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। এর কারণ ছিল অনলাইনে ইসলাম নিয়ে বাংলা ভাষায় তেমন কোনো কন্টেন্ট ছিল না। ব্লগযুগ ১৩ এর আগে পরে হয়তো সমাপ্ত হয় কিন্তু শাহবাগের নাস্তিক্যবাদি আন্দোলনের পিছনে এই ব্লগযুগের বিরাট ভূমিকা ছিল।

১৩ এর আগে ব্লগযুগেই ইসলামের পক্ষে লেখালেখি শুরু হয়ছিল কিনা তা আমার জানা নাই, হয়তো বিচ্ছিন্ন ভাবে কেউ লিখত বা নাস্তিকদের ব্লগের কমেন্টে জবাব দিত, কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক ধারায় ব্লগযুগে ইসলামপন্থীদের তেমন দেখা যায় না। আস্তে আস্তে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা বাড়তে থাকলে ব্লগযুগের পরিসমাপ্তি ঘটে এবং শুরু হয় ফেসবুক যুগ। ফেসবুকে ইসলাম নিয়ে লেখালেখি ফেসবুক বাংলাদেশে আসারও অনেক পরে শুরু হয়। ফেসবুকও যে লেখালেখির মাধ্যম হতে পারে সেই যুগে হয়তো চিন্তাও করা যেতো না। অথচ আজ ফেসবুক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় পাবলিক পার্লামেন্ট, সবচেয়ে বড় মিডিয়া, সবচেয়ে বড় আলোচনাসভা। এই ফেসবুক আজ কাউকে উপরে উঠাচ্ছে তো অন্যকে নিচে আছড়ে ফেলছে। এক কথায় ফেসবুক মানুষের বাস্তব জীবন বাদে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জীবন হয়ে উঠেছে।

কিন্তু ফেসবুক বাংলাদেশে আসার পর এই নিয়ে তেমন মাতামাতি ছিল না, ধীরে ধীরে মানুষ আসতে শুরু করে, আর এখন তো এটা এডিকশন হয়ে গেছে। আমার ধারণা ২০১০ এর পরে ধীরে ধীরে বেড়েছে, আর ২০১২ কিংবা ১৩ এর পরে প্রচুর মানুষ ফেসবুক আসতে শুরু করে। আর এখন তো বাংলাদেশের অনলাইন জগতে বিচরণকারী খুব কম মানুষ আছে যার ফেসবুক নাই।

ব্লগযুগে নাস্তিকদের ইসলামবিদ্বেষী কার্যক্রমের জবাব দেয়া শুরু হতে হতে ফেসবুক যুগ এসে পড়ে, আর ফেসবুক যুগেই জবাব দেয়া শুরু হয় এবং বিকাশ লাভ করে। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে আমরা মুসলিমরা কতটা অলস, ইসলাম নিয়ে কতটা অনাগ্রহি এবং কতটা গাইরাতহীন। ব্লগযুগের জবাব দিচ্ছি ফেসবুক যুগ। কচ্ছপও তো এতো স্লো না।

যাই হোক, ব্লগে যে একেবারে মুসলিম ছিল না, তা না। বিবাহিত লালসালু নিকে একজন ছিলেন যিনি এখনো ফেসবুকে আছেন, অনেকেই ছিলেন নামে বেনামে, সবার নাম তো জানি না, মুনিম সিদ্দিকি ছিলেন, এখনো উনি ফেসবুকে আছেন। উনি নিজেই স্বীকার করেছেন, তখনকার সময়ে উনারা যে খুব ভালো মুসলিম ছিলেন মানে প্রাক্টিসিং, তা কিন্তু না, দাড়ি টুপি তাদের কারোরই ছিল না। তবে মুসলিম পরিচয় ছিল, আর মনের গহীনে ইসলাম নিয়ে ছিল একটু ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাই তাদেরকে বাধ্য করে নাস্তিকদের এসব কার্যকলাপের প্রতিবাদ করতে। তারা তাদের ইসলাম নিয়ে ভাসা ভাসা জ্ঞানের উপর নির্ভর করে নাস্তিকদের জবাব দিতে শুরু করে। মুনিম সিদ্দিকে ক্ষোভ করে বলেছিলেন, তখন কোনো আলেম উলামা আসে নি, যখন নাস্তিকরা মানুষকে বিভ্রান্ত বানাচ্ছিল, অথচ আজ তারা এসে আমাদের বলছে ইসলাম নিয়ে আমরা কথা বলতে পারবো না। মুনিম সিদ্দিকি সাহেবের এই কথার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না, বরং বোঝাতে চাচ্ছি তখনকার অবস্থা।

ব্লগযুগের একেবারে শেষের দিকে মুসলিমরা নিজেদের দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা রেখে নাস্তিকদের জবাব দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রথম একটি ব্লগসাইট খুলে, যেটার নাম হচ্ছে সদালাপ। এই হচ্ছে সদালাপের এড্রেস - shodalap.org । তখনকার সদালাপে এস এম রায়হান, শামস, সাদাত, শাহবাজ নজরুল, ফুয়াদ দীনহীন, আসম জিয়াউদ্দিন, কিংশুক, করতোয়া, মুনিম সিদ্দিকী, আবদুস সামাদ, সরোয়ার, ইমরান হাসান, তামীম এরকম কিছু ব্লগারের নাম পাওয়া যায়। এখানের অনেকেই ছিল ছদ্মনামে। শাহবাজ নজরুল, সাদাত, ফুয়াদ দীনহীন, এস এম রায়হান খুবই ভালো লেখতেন। এরাই ছিলেন নাস্তিকদের জবাব দেয়া ইন্টারনেট প্রথম মুসলিম লেখকগণ। এগুলা একটা ইতিহাসের অংশ যা পরবর্তীতে ইন্টারনেট জগতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। এখন তো অবস্থা মুসলিমদের কত অনুকূলে, কিন্তু সেই সময়টায় কলম ধরার মত কেউ ছিল না।

বাংলাদেশে তো নাস্তিক বেশি না, কিন্তু ব্লগযুগ তাহলে এতো জমজমাট কেন ছিল, এটা প্রশ্ন হতে পারে। এর উত্তরে আমি নিজের মত করে বললে, নাস্তিকদের সেই সময়কার প্রচারণা অনেক নাস্তিকদের জন্ম দিয়েছিল। যাদেরকে বিভ্রান্ত করে নাস্তিক বানানো হয়েছিল তারা ছিল সাধারণ সেকুলার, অনেকে কবি সাহিত্যিক। এই সেকুলারদের ইসলাম নিয়ে চুলকানি তো কারো অজানা নয়। কিন্তু এই সেকুলারদের যখন নাস্তিক্যবাদে দীক্ষিত করা হয় একেক জন সেকুলার হয়ে উঠে ইসলামের বিরুদ্ধে একেকজন ফেরাউন, নমরুদ, যেন এদের জীবনের একমাত্র ইচ্ছা একমাত্র স্বপ্ন ফেরাউন, নমরুদ, আবু জাহালের মত ইসলামের দুশমন হবে। হয়তো কেউ কেউ ব্লগে কবিতা গল্প চর্চা করতো, কিন্তু সঙ্গদোষে লোহা ভাসার মতোই এরাও কবিতা গল্প ছেড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে কলমযুদ্ধ করাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলে। এই হল আমার মতে ব্লগযুগে নাস্তিক বৃদ্ধির হাকিকত। আমার কথার সত্যতার জন্য আমি দলিল হিসেবে শাহবাগ আন্দোলনকে দেখাতে পারি। শাহবাগ আন্দোলনে এতো শাহবাগি আসলো কোথা থেকে? এটা শুরু করেছিল নাস্তিকরা, আর সেকুলাররা ছিল এদের জনবল, এই দেশে নাস্তিকের সংখ্যা কম হলেও, সেকুলারদের সংখ্যা কম না। পরে অবশ্য শাহবাগ আন্দোলনে আওয়ামী হারামীরা যোগ দিয়ে আরও ভারি করে তুলে। সেকুলাররা ভিতরে ভিতরে একজন নাস্তিকের চেয়ে কোনো অংশে কম না এইটা আমি প্রায়ই বলি। শুধু উভয়ের বমি উগরানোর পদ্ধতি আলাদা। নাস্তিকরা গালাগালি করে, ইসলামকে আক্রমণ করে, আল্লাহ ও আল্লাহর নবীকে আক্রমণ করে; আর সেকুলাররা সরাসরি ইসলামকে আক্রমণ না করে ইসলামের বিভিন্ন বিধি বিধানের সমালোচনা করে, যেমন পর্দা হিজাব, দাড়ি টুপি, মাদ্রাসা আলেম হুজুর, আরব সৌদি পাকিস্তানী ইত্যাদি দেশের মুসলিমদের, ইসলামী আন্দোলনের সাথে জড়িত মানুষদের ইত্যাদি ইত্যাদি। এইজন্য সেকুলারদের বলি মুনাফেক, আর নাস্তিকরা তো এমনিতেই মুরতাদ/কাফির।

অনেক মধ্যপন্থী সেকুলারের পাক্কা নাস্তিক হওয়ার পথটা ছিল জামায়াত-বিরোধিতা থেকে। রাজাকার শিবির ছাগু ইত্যাদি গালিগালাজ করে বিরোধিতা করতে করতে ইসলামবিরোধিতায় কখন যে ডুবে যায় তারা নিজেরাও হয়তো বুঝতে পারে নি। এরাই শাহবাগে গিয়ে নিজেদের দেশপ্রেম জাহির করতো, দাড়ি টুপিকে অপমান করে, ইসলামী আন্দোলনকে এবং ইসলাম কায়েমকে ঘৃণা করার মাধ্যমে। এগুলো তাদেরকে কাঁচা নাস্তিক থেকে পাকা নাস্তিকে পরিণত করে।

ব্লগযুগে নাস্তিকদের ইসলামবিদ্বেষ যে শুধু নাস্তিক বাড়িয়েছে তা না, অনেক মুসলিম যারা ইসলামচর্চায় নিয়মিত ছিল না তারা এইসব বাজে জিনিস দেখে বিপরীত ক্রিয়া হয়ে ভালো মুসলিম হয়ে গেছে। এরকম ঘটনাও আছে। অনেকে আবার জবাব দেয়া শুরু করে ভালো মুসলিমে পরিণত হয়, ইসলাম পূর্ণ ভাবে অনুসরণ শুরু করে, হয়তো আগে নামকাওয়াস্তে মুসলিম ছিল।

বলছিলাম, ব্লগযুগ যখন শেষের দিকে তখন সদালাপে মুসলিমরা জবাব দেয়া শুরু করে। অনেকে আবার ফেসবুকে প্রথম প্রজন্মে এগুলোর জবাব দিতে থাকে, কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে এরা যে পরিমাণ ভালো লেখক ছিল এখনকার লেখকদের সাথে এদের তুলনাই চলে না। আগের লেখকদের লেখার মধ্যে আলাদা একটা ব্যাপার ছিল, হয়তো লেখকের মনের ভেতর থেকে কথাটা আসতো। নাস্তিকদের ইসলামবিদ্বেষে তাদের মধ্যে কতটা প্রতিক্রিয়া হলে জবাবি লেখাগুলো পাঠককে এতো বেশি নাড়া দিত, বোঝানো সম্ভব না! একটা আলাদা স্বাদ পাওয়া যেত।

মুসলিমরা এ ব্যাপারে সচেতন হতে হতে ততদিনে ব্লগযুগ শেষ হয়। শুরু হয় ফেসবুক যুগ। ইসলাম নিয়ে ধীরে ধীরে লেখালেখি শুরু হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইসলামী সার্কেল গড়ে ওঠে। সবচেয়ে ভালো বিষয় ছিল, তখন কোনো দলাদলি ছিল না। কে হানাফি, কে আহলে হাদিস, কে জিহাদি, কে জামাত এগুলা কারো মধ্যেই কাজ করতো না। যে যার মত লিখত। যে যার দল মতের প্রচার চালাত, কোনো ঝগড়াঝাটি হত না, এবং ভিন্ন দলের মুন্ডুপাতের প্রবণতাও ছিল না। এগুলা পরে শুরু হয়। জামায়াতের সমর্থকরা সাইদির ছবি দিয়ে পোস্ট করতো, আওয়ামী লীগের সমালোচনা করতো। জেনারেল লাইন থেকে হেদায়েত পাওয়া ভাইয়েরা ইসলাম নিয়ে হৃদয় ছোঁয়া পোস্ট দিতেন। সেই সময়কার লেখাগুলার কোনো তুলনা এখন আর পাওয়া যায় না। অনেকে নাস্তিকদের জবাব দিতেন। ফারাবি শফিউর রহমান ছিলেন সেই যুগের আরিফ আজাদ। তিনি নাস্তিকদের জবাব দিতে থাকতেন, এবং পরে এক মুশরিক নামধারী শাতিম কতল হলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এখনো কারাগারে আছেন, বোধহয় কিছুদিন আগে তার মুক্তির নিউজ দেখেছিলাম, আমার ঠিক স্মরণে নেই।

ফারাবি শফিউর রহমানের মত অনেকেই নাস্তিকদের জবাব দিতেন, অনেকে ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন। সিরিয়ায় আইএসের উথান হলে সারা বাংলাদেশের মুসলিমদের মনে আশার সঞ্চার হয়। অনেক ইসলামপন্থী তখন তাদের সমর্থন জানিয়েছিলেন। ফেসবুকেও অনেকে তখন আইএসের সমর্থক হয়ে প্রচারণা চালাত, অনেকে ফেক আইডি ব্যবহার করে জিহাদি পোস্ট দিত। কিন্তু ধীরে ধীরে আইএসের আসল রুপ প্রকাশিত হলে সবাই আইএসকে সমর্থন করা বন্ধ করে, অনেকে আবার কোনো দীনী কারণে না, জাস্ট মিডিয়ার প্রোপাগান্ডার কারণে আইএসকে সমর্থন করা ত্যাগ করে। এরুপ সুবিধাবাদী লোককে আমরা প্রায়ই দেখতে পাই, যখন অ্যামেরিকা তালেবানের পক্ষে ছিল তখন এরা তালেবানের জিহাদ সমর্থন করতো, আর যখন অ্যামেরিকা ও মিডিয়া তাদের বিরুদ্ধে যায় তখন এরাও বিরুদ্ধে যায়। যেন এদের মানহাজি অবস্থান মিডিয়া আর অ্যামেরিকার উপর নির্ভর করে।

অল্প সময়ই অবশ্য সবার আইএসের প্রতি মোহ ভঙ্গ হয়। কিন্তু সত্য কথা হচ্ছে তখন আইএস মুসলিমদের মনে আসলেই আশার সঞ্চার করেছিল। আর এটাও স্বাভাবিক যে খিলাফাহ মুসলিমদের অনেক আকাঙ্ক্ষিত বিষয়। তাই প্রথম প্রথম আইএসের কার্যক্রম যেকোনো মুসলমানের জন্য অনেক খুশির বিষয় ছিল। অবশ্য অল্প সময়ই তাদের মুখোশ খুলে যায়।

২০১০ এর পরে ফেসবুকে অনেকে আসতে থাকে, আর ২০১২-১৩ এর পরে এটা খুব দ্রুত গতিতে হয়। অবশ্য এই তথ্যের পিছনে আমার কাছে কোনো জরিপের রেফারেন্স নেই। শুধু এ ব্যাপারে বলতে পারি, অনেককেই বলতে শুনবেন তাদের ফেসবুকে আসার সময়কাল ১২,১৩,১৪ এর দিকে। যারা তখন ইসলাম নিয়ে লিখতেন তাদের অনেকেই এখন হয়তো লিখেন না, অনেক দীনী ভাই বিয়ে করে পুরোদস্তুর সংসারী ও কর্পোরেট লাইফ গ্রহণ করে। অনেকে বেনামে লিখত, লেখা ছেড়ে দিয়েছে। কারণ এখন এতো লেখক, যে ভালো লেখা পড়ার কেউ নেই, সবাই লেখে। ২০১৩ এর আগে পরে অনেক জেনারেল লাইনে ভাইয়েরা ইসলামে আসে। এরাই মূলত লিখতেন, তখনও তেমন কোনো আলেম লেখক ছিল বলে মনে পড়ে না, অর্থাৎ ২০১৩ এর আগে।

সেই সময়টায় আমিন পার্টির পাশাপাশি জামায়াতের সমর্থকদের প্রচুর ভিড় ছিল। এদের একমাত্র কাজ ছিল সাইদির ছবি পোস্ট করা, তার মুক্তির জন্য আন্দোলনের ভার্চুয়াল ডাক দেয়া, সরকারের ভালো মন্দ সব কাজের বিরোধিতা করা।

সময় গড়িয়ে যায়। ফেসবুকে মুসলিমের সংখ্যা বাড়ে। ভালো লেখক কমে যায়। চিন্তা করার মত লোকেরা হয়ে পড়ে সংখ্যালঘু, দলাদলি করার লোক হয়ে পড়ে বেশি। একদিকে আহলে হাদিসরা হানাফিদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করে, অন্যদিকে জামাতিরা শুরু করে চরমোনাইয়ের বিরুদ্ধে। শুরু হয় ফেসবুকিয় মারামারি কাটাকাটি হানাহানি দাপাদাপি। সবার সবার গর্দান ফালাতে কীবোর্ড নিয়ে প্রস্তুত। অথচ ফেক আইডি দিয়ে যার গর্দান নামানোর ইচ্ছা করা হচ্ছে তার পাশেই হয়তো জামাতে একসাথে নামায পড়ছে। এভাবেই ফেসবুক মুসলিমদের করে তোলে অসহনশীল, দলান্ধ। আগে যদি শুধু দলীয় প্রচারণা চলত, তো সময়ের আবর্তনে শুরু হয় ভিন্ন দলের বিরুদ্ধে জিহাদ। আর এগুলো মুসলিমদের নষ্ট করে দেয়, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বকে বিনষ্ট করে। স্পষ্ট মনে আছে কয়েক বছর আগেও এগুলা এতো বেশি ছিল না। তবে আহলে হাদিস-হানাফি এবং দেওবন্দি-জামাতি মারামারিটা ছিল ফেসবুক যুগে মুসলিমদের প্রথম দলাদলি। আহলে হাদিসরা ১৩ এর পরে খুব সক্রিয় হয়। অনলাইন তাদের মানহাজ প্রচারের প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার হয়। এদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে হানাফি-সালাফি ফেসবুক সিভিল ওয়ারও ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এগুলো মুসলিমদের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হয়েছে তা চিন্তা করার মত না। ফেসবুককে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে ব্যাবহারের পথে এসব বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অবশ্য তখনও জিহাদি-মোডারেট দ্বন্দ্ব শুরু হয় নি। জিহাদিরা ছিল প্রচুর, মোডারেট চিন্তারও অনেকে ছিল, এই দীনী সার্কেল একসাথে থেকেও ঝগড়ায় লিপ্ত হত না। এগুলা শুরু হল মাত্র এক-দুই বছর হবে হয়তো। মোডারেট শব্দটা তখন পরিচিতও ছিল না। এখন যারা জিহাদি আর মোডারেট নাম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে, এদের অনেকেই এক সময় ফ্রেন্ড লিস্টে ছিল, একে অন্যের পোস্টে কমেন্ট করতো। সবার উদ্দেশ্য ছিল একটাই সেকুলারদের বিরুদ্ধে অর্থাৎ সকল কাফির ও ইসলামের দুশমনের বিরুদ্ধে একাট্টা থাকা। জিহাদি-মোডারেট দ্বন্দ্বকে উস্কে দেয়ার পিছনে দুই বছর আগে ফেসবুকে আসা এক সদ্য ফারেগ হওয়া তালেবুল ইলম এবং বর্তমানে আলিম হিসেবে পরিচিত এক যুবকের বিশেষ ভূমিকা ছিল। তার নাম উল্লেখ করছি না, আলোচনায় আসবে সামনে।

এইবার আর ইতিহাস বিবৃত করব না। বর্তমানের ফেসবুক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করব।

২০১৭ সালে আরিফ আজাদ তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এবং গত দুই বছরে তা অনেক বেড়েছে। তিনি এক সময় উকিল চাচা ম্যাট্রিক পাশ নামে জনপ্রিয় ফেসবুকার ছিলেন। প্রথমে সম্ভবত জামাত সমর্থক ছিলেন। তার ঐ আইডির পোস্টগুলাও ছিল সরকারবিরোধী। তিনি তখন পূর্ণ ইসলাম চর্চা যে করতেন তা না। এটা তিনি স্বীকারও করেছেন যে নাস্তিকতাবাদ বিরোধী লেখা লিখতে লিখতে তিনি হেদায়েত লাভ করেন। ২০১৮ পর্যন্ত তিনি সবার কাছে প্রিয় ছিলেন। কিন্তু শরীফ আবু হায়াত অপু ভাইদের সাথে মিশ্তে মিশ্তে আহলে হাদিস সার্কেলে ঢুকে গিয়ে তিনি আহলে হাদিস হয়ে যান। তবে ওইসব আহলে হাদিসদের মত না যাদের কাজ দলাদলি করা আর মাযহাব বিদ্বেষ ছড়ানো। অপু ভাইও তেমন আহলে হাদিস না। তবু তার আহলে হাদিস মানহাজে দীক্ষিত হওয়াটা তার জনপ্রিয়তার জন্য কল্যাণকর ছিল না। তিনি একসময় দল মত নির্বিশেষে সকল দলের কাছে যে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন তা তিনি ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করেন। তার বই ছিল মুসলিমদের ঐক্যের নিদর্শন, অথচ তিনি আহলে হাদিস হয়ে এই ঐক্য বিনষ্ট করেছিলেন। অবশ্য তিনি যে আহলে হাদিস হয়েও মাযহাবের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করেন নি এটাই একজন আহলে হাদিসের কাছ থেকে উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বড় উপহার। এর চেয়ে বড় খেদমত একজন আহলে হাদিস থেকে আর হতে পারে না। সম্ভবত তাকে সালাফিয়্যাতে দীক্ষিত করার পেছনে মঞ্জুরে এলাহি সাহেবের ভূমিকা ছিল। আল্লাহু আ'লাম।

আরিফ আজাদ গ্রাম থেকে আসা খুবই সাধারণ ঘরের ছেলে ছিলেন, এটা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়তেন। আরিফ আজাদের জনপ্রিয়তা পাওয়াটা সত্যিই বিস্ময়কর ছিল। এরকমভাবে জনপ্রিয়তা পাওয়া, তাও আবার ইসলামী কাজ করে, এটা খুবই আশ্চর্যজনক বিষয়। আল্লাহর দয়ায় তা কল্যাণকর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আরিফ আজাদের ইসলাম নিয়ে লেখালেখি ইন্টারনেট জগতে মুসলিমদের মধ্যে এক বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়। সে সময় দেখেছিলাম জামাতি, সালাফি, দেওবন্দি, রেজভি, জিহাদি নির্বিশেষে সকলে আরিফ আজাদের বইয়ের প্রচারণা চালাচ্ছে। যখন তার বই বইমেলায় হৈচৈ ফেলে দিল, সবাই এই ইস্যুকে জাগিয়ে তুলে আরিফ আজাদকে জনপ্রিয় করে তুলল। আর তার নাস্তিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম বহু মুসলিম যুবককে অনুপ্রাণিত করল। জাকির নায়েকের বক্তৃতা যেভাবে যুবসমাজকে তার মত দাঈ হওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল, আরিফ আজাদও বাংলাদেশে জাকির নায়েকের মত বহু মুসলিম যুবকের লেখালেখির আইডল হয়ে উঠে। অথচ সত্য কথা হল, আরিফ আজাদ কোনো আহামরি লেখক ছিলেন না, তার বইটাও ছিল সাদামাটা। এর চেয়ে কঠিন ভাষায় নাস্তিকতার খণ্ডন করা বইগুলোকে পিছনে ফেলে সবচেয়ে সহজ এবং সর্বনিম্নস্তরের যুক্তিতে খণ্ডন করা এই বইটা তুমুল জনপ্রিয় হল, সবই আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহ ক্ষুদ্র মশা দিয়েও জালিমকে ধ্বংস করতে পারেন।

আরিফ আজাদ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে বের হতে থাকলে একের পর এক নাস্তিক্যবাদ খণ্ডন করা মাস্টারপিস বইগুলো। এর মধ্যে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে একটা ইতিহাস সৃষ্টি করা বই। যদিও এখনো এটা বিভিন্ন কারণে আশানুরূপ জনপ্রিয় হয় নি, তবে কালের আবর্তনে এটা অনেক বেশি গুরুত্ব নিয়ে হাজির হবে বলে আশা করি।

আরিফ আজাদের মত লেখক তৈরি হয়েছে ফেসবুকে। তিনি নিজেই বলেছেন তার বইয়ের সবগুলো লেখা তিনি টাইপ করেছেন মোবাইলে। তার লেখা পোস্টগুলা বই হবে আর বই যে তুমুল জনপ্রিয় হবে এবং এটা একটা বিপ্লব ঘটাবে লেখার সময় আরিফ আজাদ কস্মিনকালেও ভাবে নি। আল্লাহর পরিকল্পনাই শ্রেষ্ঠ।

আরিফ আজাদ নাস্তিকতার বিরুদ্ধে তিনটি জবরদস্ত বই লিখেছেন, দুইয়ের অধিক বই সম্পাদনা করেছেন, এবং ইসলামী লেখক তৈরিতে তিনি সবাইকে উৎসাহ দিয়েছে। একই সাথে বই লেখা ও ফেসবুক এক্টিভিটি চালিয়ে গেছেন। ফেসবুকে তার আরেকটি বড় অবদান হচ্ছে তিনি পাঠাভ্যাস গ্রুপ খুলেছেন যেটা ইসলামী বইয়ের গ্রুপ হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুইটির একটি। এই গ্রুপ ইসলামী বইয়ের প্রচারণায় বড় ধরণের ভূমিকা রাখে। এছাড়াও তিনি হালাল রুজির খোঁজে, তাদাব্বুরে কুরআন নামেও গ্রুপ খুলেছেন। হালাল রুজির খোঁজে গ্রুপটা এখন আর তেমন একটিভ না। তাদাব্বুরে কুরআন হচ্ছে আরিফ আজাদের কুরআনি ভাবনা শেয়ার করার গ্রুপ। এখানে অনেকেই কুরআন নিয়ে লিখছে, জানছে আলহামদুলিল্লাহ।

তবে আরিফ আজাদের পাঠাভ্যাস গ্রুপটা অনেক বেশি খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছে। যদিও গ্রুপের কর্তৃপক্ষ গ্রুপটা ভালো করে চালাতে পারে না। একটা পোস্ট করলে এপ্রুভ করতে অনেক সময় পার করে ফেলে। আর বইয়ের অনলাইন শপগুলা ইচ্ছামতন কমেন্টে চিকা মারে। অথচ আরেকটা ইসলামী বইয়ের গ্রুপ যেটা শোয়াইব আহমেদ ভাইয়েরা চালায়, খুবই ডিসিপ্লিনড গ্রুপ, এটার আলাপ সামনে আসবে। পাঠাভ্যাস গ্রুপ সমকালীন প্রকাশনীর গ্রুপ হিসেবে ব্যবহার হয় এক প্রকার। এটার এডমিনদের মধ্যেও সমকালীনের কর্তৃপক্ষ আছে।

আরিফ আজাদ ছাড়াও নাস্তিকতা নিয়ে অনেকে লিখতেন এবং এখনো অনেকে লিখছেন। এখনো সবচেয়ে একটিভ হয়ে যিনি নাস্তিকতার বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কাজ করছেন তিনি হচ্ছেন সম্মানিত ভাই মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান মিনার। তিনি কুয়েটের ছাত্র ছিলেন। অন্ধকার থেকে আলোতে নামে তার একটি বই দুই খণ্ড বেরিয়েছে। তিনি নাস্তিক ও অমুসলিমদের ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়ে থাকেন এবং এ বিষয়ে response-to-anti-islam.com নামে একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করেন। মিনার ভাইয়ের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অবাক করার মত। তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর ভালো জ্ঞান রাখেন, বাংলাদেশে এই বিষয়ে তার মত জ্ঞান রাখা মানুষ খুব কম আছে। আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির রহঃ এই বিষয়ক জ্ঞান রাখতেন, গবেষণা করতেন, মিনার ভাইও স্যার রহঃ এর ভাবশিষ্য। আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির স্যারের মতই মিনার ভাইও সালাফি আকিদার অনুসরণ করেও কট্টর সালাফি না। তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ছাড়াও ইসলামী ধর্মতত্ত্বেও ভালো জ্ঞান রাখেন, আকিদা ও ইতিহাস সম্পর্কেও তিনি জ্ঞান রাখেন। শিহাব তুহিন ভাই মিনার ভাইকে তার জ্ঞান গরিমার জন্য গুরু মানেন, যদিও মিনার ভাই শিহাব ভাইয়ের থেকে অল্পই সিনিয়র। আল্লাহ মিনার ভাইকে তার কাজের উত্তম বিনিময় দান করুন। তিনি আমাদের একজন রত্ন।

একবার অবশ্য আশারি মাতুরিদি আকিদার অনুসারি আলি হাসান উসামার সাথে সালাফি আকিদার অনুসারি মিনার ভাইদের তর্ক হয়েছিল, ফলে একে অন্যকে আনফ্রেন্ড করেছিলেন, এই ঘটনা ঘটেছিল তখন যখন আকিদা নিয়ে ফেসবুকে দীনী ভাইদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়। একদিকে আশারি মাতুরিদি আকিদা অন্যদিকে সালাফি আকিদা। সালাফি আকিদার লোকেদের দাবি, আমরা কোনো মাযহাবের বিরুদ্ধেই বলি না, কিন্তু সালাফি আকিদার বাহিরে অন্যসব আকিদা বিদাতি। আর এর ফলে অনেকেই আশারি মাতুরিদি আকিদার ডিফেন্ডে কলম ধরে।

এবার একজন শক্তিমান লেখকের কথা বলব, তার নামও শক্তি, পুরো নাম শামসুল আরেফিন শক্তি, পেশায় ডাক্তার। একজন জবরদস্ত লেখক। তুলনা করলে আরিফ আজাদ কিংবা যে কোনো বাঙালী লেখকের চেয়ে অনেক শক্তিশালী লেখক। তিনি লেখক হিসেবে কড়ড়া হলেও ফেসবুক এক্টিভিস্ট হিসেবে তেমন নন। অবশ্য ফেসবুকে তিনি অন্যদের তুলনায় একেবারেই নতুন, মানে লেখালেখিতে। তিনি আগে ছাত্রলীগ করতেন। পরে তাবলীগের মাধ্যমে হেদায়েত। এভাবেই লীগ সবসময় তার সাথে জড়িত থাকে। তার ফেসবুকে একমাত্র কাজ বিভিন্ন খাবার ও রান্নার ভিডিও শেয়ার করা বা বিদেশি শিক্ষামূলক ভিডিও শেয়ার করা, আর মাঝেমাঝে কিছু দারুণ পোস্ট লিখেন কখনো নোটাকারে, আবার কখনো স্ট্যাটাসাকারে। তিনি ফানি পোস্টগুলোতে বাংলা বানানের মাদারের ফাদার করে দেন। তার বানানের নমুনা অতি শুদ্ধবাদি বাঙালিদের হৃদয়ে পোচ দিয়ে গলগলিয়ে রক্তক্ষরণ করায় নিশ্চয়ই।

শামসুল আরেফিন ভাইয়ের প্রথম বই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বাংলাদেশে নাস্তিকতার খণ্ডনে শ্রেষ্ঠ বই বললে ভুল হবে না। আর সময়ের হিসেবে আরিফ আজাদের প্রথম বই প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের পরেই এর জন্ম। এই বই তৈরির পেছনে আরিফ আজাদের অনুপ্রেরণা ছিল। শামসুল আরেফিন এরপরে আরও কিছু দারুণ বই লিখেছেন। কষ্টিপাথর, মানসাঙ্ক, কুররাতু আইয়ুন; প্রতিটাই মাস্টারপিস।

শামসুল আরেফিন ভাই সময় পেলেই তার সাবেক সংগঠন ছাএলীগের (ছাত্রলীগ) গুণগানের ন্যায় বদনাম করেন। তিনি তাবলীগের সাথী হওয়ায় নরম দিল, দাওয়াতি দিলের অধিকারী। উনার পিতা জনাব শহিদুল ইসলামও তাবলীগের সাথে জড়িত, দাওয়াতি দিলের অধিকারী। শামসুল ভাইয়ের আরেকজন ছোট ভাইয়ের নাম শুভ্র সালেহ, একজন বোনও আছে উনার। শক্তি ভাই বিবাহিত, তার কন্যার নাম খাদিজা। কুররাতু আইয়ুন বইয়ে একেবারে প্রথমে তার পরিবিবার সম্পর্কে ছক দিয়ে তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উদ্ভাসে শিক্ষকতা করতেন। এখন সরকারি চাকরি করেন।

মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের ঘটনা চাউর হওয়ার পর শামসুল ভাই মেয়েদের জন্য হোম স্কুলিং এর প্রচারণা চালান। তিনি তার মেয়ের জন্য এবং সকলকেই এই হোম স্কুলিং এ অভ্যস্ত হতে প্রচারণা চালান। এছাড়াও ফেক আইডি নিয়ে তাকে জড়িত করে কিছু ঘটনাও ফেসবুক পাড়ায় সাড়া জাগিয়েছিল। যেমন হঠাত করে বাহলুল মাজনুন নামে একটা ফেক আইডির আবির্ভাব হয় যার লেখায় স্পষ্ট হয় যে সে তাবলীগের সাথী। তার লেখাগুলোর দরদ, শামসুল ভাইয়ের লেখার দরদের সাথে মিল পাওয়া যেত। এটা অনেককেই ভাবতে বাধ্য করে যে বাহলুল মাজনুন আইডিটি শামসুল ভাইয়ের ফেকাইডি। অবশ্য শামসুল ভাইও এটা স্বীকার বা অস্বীকার কিছু করেন নি। আমার মনে হয় না বাওহ্লুল মাজুজ আসলেই শামসুল আরেফিন ভাইয়ের আইডি ছিল। কারণ উনি খুব ব্যাস্ত মানুষ, একটা ফেকাইডি চালানোর মত সময় বা ইচ্ছা কোনোটাই শামসুল ভাইয়ের সাথে যায় না। বাহলুল মাজনুন আইডির কাজ ছিল আলেমদের সমালোচনা ও সচেতন করা। এর মাধ্যমে তিনি আলেমদের উদ্দীপিত করতে চাইতেন, বিপ্লবী হতে সবক দিতেন। বাহলুল মাজনুন নিজের নামের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাইতেন তিনি বাহলুল পাগল। নিজেকে পাগল বলতেন, কিন্তু তার লেখাগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

হঠাত করেই বাহলুল মাজনুন দৃশ্যপটের বাইরে চলে গেলেন, আইডি বন্ধ করে দিলেন। অবশ্য এখনো তার নামে একটা পেজ আছে। এই আইডি অল্প সময়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে অল্প সময়েই হারিয়ে যায়। এই পাগলের পাগলামিপূর্ণ লেখাগুলোতে উম্মাহর জন্য দরদ লক্ষণীয় ছিল।

বাহলুল মাজনুনের নিখোঁজ হওয়ারও বছর খানেক পর আরেক পাগলের আবির্ভাব হয়, মানুষ প্রথম প্রথম তাকেও শক্তি ভাইয়ের সাথে জড়িয়ে ফেলে। তার নাম মীর সালমান। যার কাজ ফেসবুকে ইচ্ছা মতন পোস্ট দেয়া। কোনো দলের পক্ষে না, কোনো মতের পক্ষে না, যা ভালো মনে হয় তার সেইভাবেই পোস্ট দিতে থাকেন, আগুন ঝরাতে থাকেন। তার কিছু লেখা নতুন করে ভাবতে শিখায়, কিছু আবার স্রেফ গালাগালি পূর্ণ লেখা। মীর সালমানকে সবাই শামসুল আরেফিন মনে করলেও মীর কিংবা শক্তি ভাই কেউই এই ব্যাপার পরিষ্কার করে নি। মীর ছিল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে ওস্তাদ। তার উদ্দেশ্যই ছিল শক্তি ভাইয়ের নাম ব্যবহার করে নিজেকে জনপ্রিয় করা। এজন্য তিনি এমন ভাবে হেয়ালি করতেন মনে হত শক্তি ভাই আর উনি একিজন। শক্তি ভাইও এগুলো ক্লিয়ার করতেন না, কারণ এটা তিনি গুরুত্বই দিতেন না। কিন্তু মানুষ তো আর সেটা বুঝত না, সবাই ভাবতো দুইজন একই। ফলে মীর ভাইয়ের গালাগালি পোস্ট গুলো শক্তি ভাইয়ের নাম খারাপ করে। এটা শক্তি ভাইয়ের চরিত্রে খুব খারাপ ভাবে দাগ কাটে। কারণ মীর ভাইয়ের কিছু আচরণ অনেক বেশি বাজে ছিল। আর মানুষ মীর সালমানকে শক্তি ভাই মনে করে গুরুত্ব দিতে থাকে। একসময় মীর তার আকাঙ্ক্ষিত জনপ্রিয়তা পায়, তখন অবশ্য স্বীকার করে উনি শক্তি ভাই নন। আস্তে আস্তে মানুষের কাছে ক্লিয়ার হয় দুই জন আলাদা। এটা আরও বেশি পরিষ্কার হয় রমজানে, কারণ রমজানে শক্তি ভাই ইবাদতে মনোযোগী হতে ফেসবুক ছাড়েন। কিন্তু মীর এই সময়ও তার ঘণ্টায় ঘণ্টায় পোস্ট আর গালাগালি বন্ধ করে না। এটা ব্যাপক ভাবে প্রমাণ করে যে দুইজন আলাদা।

মীর সালমান নিয়ে আরেকটু বলি। কিছু বাঙালী শিয়া আইডির প্রোপাগান্ডার মুখে তিনি শিয়াদের উপর চরমভাবে চেতেন। শুরু করেন শিয়াদের বিরুদ্ধে লেখালেখি। শিয়া চিন্তা নামে পেজ খুলেন, আহলে বাইত নামে গ্রুপ খুলেন। শিয়াদের নিয়ে একাধারে দীর্ঘদিন লেখালেখি করতে থাকেন। তার এইসব লেখা অনেক মূল্যবান এবং বই হিসেবে বের হওয়ার উপযুক্ত। নজম খান রাফেদি, মেহমেৎ মাহিন, মোহাম্মদ সালাহ, নূর হোসাইন মাজেদি এগুলো হচ্ছে কয়েকটা শিয়া আইডি। নূর হোসাইন মাজেদি একজন শিয়া লেখক এবং এক জামাতি নেতার জামাতা। নজম খান রাফেদিও নিজেদের মতবাদ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখে, আর বাকি দুইটা নাসেবির বাচ্চা বলে গালি দেওয়া শিয়া মুরিদ। মেহমেত মাহিন ছেলেটা তো চরম লেভেলের গালিবাজ, নিজেকে আবার তাকিয়্যা করে সুন্নি দাবি করে, আবুল হোসেন আলেগাজি নামের আরেক কওমি সুন্নি লোকের ভক্ত সে, এই আলেগাজির সম্পর্কে সামনে আসবে। সে তো আরেক চিজ।

মীর সালমান পাশ্চাত্যবাদ নামে একটা গ্রুপের এডমিন প্যানেলে রয়েছে। তাছাড়া সে নুরুল আহাদের ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানচর্চা গ্রুপেও এডমিন প্যানেলে রয়েছে। নুরুল আহাদ সম্পর্কেও সামনে আলোচনা আসবে।

এবার বলব আসিফ আদনানের কথা। তিনিও ২০১৩ এর পর হেদায়েত লাভ করেন। আগে তিনি গান গাইতেন। ইসলামে আসার পর তিনি ইসলামের জন্য কাজ করতে শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সাথে তার লিঙ্ক ছিল এবং সিরিয়ায় জিহাদের জন্য গমনের পথে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে একবার নিউজ এসেছিল, সেটা অনেক আগে। তিনি তখনও জনপ্রিয় লেখক হয়ে উঠেন নি। আসিফ আদনানের পিতা একজন জাস্টিস ছিলেন। তিনিও অভিজাত পরিবারের সন্তান, ফলে কোনো উপায়ে তাকে মুক্ত করা হয়। কিন্তু তিনি মুক্তি পাওয়ার পরও নিজের আদর্শ ত্যাগ করেন নি। এবার কলম ধরে নিজের আদর্শকে প্রচার করতে শুরু করেন। তার লেখার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, খুব ইন্টেলেকচুয়াল লেখা এবং প্রচুর ইংরেজি শব্দ ও পরিভাষার ব্যবহার। আর তিনি লেখায় ব্যক্তিজীবন খুব কম আনেন বা আনেন না বললেই চলে। তিনি সম্ভবত বিবাহিত। ব্যক্তিজীবনের আলোচনা কম আনায় তার সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় না। তবে তার লেখালেখি সব জিহাদ ও কিতালের পক্ষে। তিনি আদর্শিক ভাবে খোরাসানি মানহাজের অনুসারি অর্থাৎ তালেবান ও কায়দা সাপোর্টার। তিনি লেখক হিসেবেও খুব ভালো যেমন করে তিনি একজন ভালো চিন্তক। আল্লাহ তাকে লিখে যাওয়ার তৌফিক দিন।

জিহাদ, মানহাজ, কিতাল ইত্যাদি নিয়ে আরও যারা লেখেন তাদের মাঝে ইবনু মাজহার অন্যতম। মাজহার কাকুর ছেলে বয়সে অন্যদের চাইতে জুনিয়র। কিন্তু তার লেখা, চিন্তা সব কিছুই অনেকের চাইতে বেশি পরিপক্ক। তার ইন্টারের ব্যাচ ছিল হয়তো আগের বছর বা এর আগের বছর। অর্থাৎ তিনি যখন লিখতেন তখন কলেজে পড়তেন, স্কুলে থাকতে অর্থাৎ টেন বা ম্যাট্রিকের সময়তেও লিখতেন কিনা জানি না। জিহাদিদের পক্ষে তিনি সবচেয়ে জবরদস্ত লেখক। জিহাদিদের পক্ষ ডিফেন্ড করে তার মত এতো ভালো লেখক আর কেউ নেই।

ইবনু মাজহার জিহাদি লেখালেখি ছাড়াও সেকুলাঙ্গারদের বিরুদ্ধেও লিখেন। সেকুলাঙ্গার নামে তার একটা পেজ আছে। এপিক স্ক্রিনশট নামে আরেকটা পেজ আছে। এরকম কয়েকটা পেজ তিনি একসাথে চালান। তিনি মিম খুব দারুণ বানান। তার ফানি মিম, ট্রল পোস্টগুলাও তার লেখার মতোই দারুণ। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্লেষণ নিয়ে তার ভালো জ্ঞান আছে।

এছাড়াও ঠিক তার মতোই আরেক জন হচ্ছেন মিফতাহ আয যামান। ইনিও ইবনু মাজহারের মতই জিহাদি বুদ্ধিবৃত্তিক লেখা লিখেন, জিহাদিদের ডিফেন্ড করেন। তিনিও একজন ভালো লেখক।

জিহাদি এক্টিভিস্টদের মধ্যে আরও আছেন মোঃ জামশেদ হোসাইন নাম ব্যবহারকারি একজন ব্যক্তি। তিনি নিজেকে জিহাদ বিষয়ক সাংবাদিক বলেন। বিভিন্ন জিহাদি ময়দানের নিউজ প্রচার করে থাকেন। এমনিতেই মৌলিক লেখালেখি তিনি করেন না। তার আইডি পেজ প্রায়ই উধাও হয়, অর্থাৎ ডিজেবল করে দেয়া হয়, তিনি মাঝেমধ্যে জামশেদ ছাড়াও অন্য ফেক নামেও আসেন। তবে জামশেদ নামটাই তার সবচেয়ে জনপ্রিয়। তার ব্যক্তিগত পরিচয় তো জানা যায় না, তবে ধারণা করা যায় তিনি কওমি মাদ্রাসার থেকে আসা।

ফেক আইডি যারা চালায় তাদের পরিচয় নির্ণয় করা যায় না এটা হচ্ছে একটা সমস্যা। এজন্য এখানে একসাথে জিহাদি কয়েকটা বিখ্যাত ফেক আইডি নিয়ে আলোচনা করব।

মোঃ জামশেদ হোসাইন নিউজ প্রচারে জনপ্রিয় হলেও একেবারে ভেতরের লোক হিসেবে যে সবচেয়ে ভালো লিখে তিনি আব্দুল্লাহ জামিল বা জামিল হাসান নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, ইবনু মাযহার বা মিফতাহ আয যামান এদের কাউকেই জিহাদি কোনো দলের ভেতরের লোক মনে হয় নি। জাস্ট সমর্থক মনে হয়েছে, কিন্তু জামিল হাসান বা আব্দুল্লাহ জামিল অর্থাৎ এই জামিল নামের লোকটিকে ভেতরের লোক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লেখক মনে হয়েছে। তিনি প্রচুর লেখা লিখেছেন জিহাদের পক্ষ হয়েছে। লেখাগুলাও মানসম্মত। জামিল নাম বাদেও অন্য কি নামে তার ফেকাইডি আছে জানা নাই।

এছাড়াও জাফর তাইয়্যার নামে একটি আইডি আছে যিনি জিহাদি এক্টিভিস্ট। এবার একজন বিশেষ ব্যক্তির নাম বলব, তিনি হচ্ছেন আবু ইউনুস ভাই। তিনি বহু আগে জিহাদ বিষয়ক লেখালেখি করতেন, পরবর্তীতে সম্ভবত তাগুতের বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। ফেক আইডি ছিল বলে তার সম্পর্কে আর বিস্তারিত জানা যায় নি। মিডিয়ামে তার একাউন্টে তার কিছু লেখা এখনো পাওয়া যায়। স্যার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গিরের জীবদ্দশাতেই তিনি স্যারের জঙ্গিবাদ বিষয়ক বইয়ের খণ্ডন লেখা শুরু করেছিলেন। আর আবু ইউনুস ভাই যখন লিখতেন তার বয়সও ছিল কম, তিনি তখন মাত্র ইন্টারের স্টুডেন্ট ছিলেন, কিন্তু তার লেখা মাদখালি, আর ভণ্ড সালাফিদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল। তিনি যেখানেই থাকুন, আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন সুস্থ রাখেন, হেদায়েতের উপর রাখেন, আর যদি বেঁচে না থাকেন, তবে আল্লাহ যেন তাকে মাফ করে দেন। আমীন।

আরও প্রচুর জিহাদি আইডি আছে, ছিল, কিন্তু এখন আমার আর নাম মনে পড়ছে না। একজন আছেন মাহমুদুল হাসান, তার কাজ বিভিন্ন জায়গায় কমেন্ট করা, এবং কমেন্টে প্রতি বাক্যের মাঝে এক লাইন করে ফাঁকা রাখা। এছাড়া সিফাত কালো পতাকার সৈনিক নামে যে আইডি ছিল তাকে তো জালেম বাহিনী হত্যা করে। আল্লাহ তাকে মাফ করুন। রামজি ইউসুফ, দাউদ ইব্রাহিম এরকম আরও কয়েকজন লেখক ছিলেন। তাদের অনেকে ফেসবুক ও ব্লগে লিখতেন। রামজি ইউসুফ আবার ফেসবুকে ফিরে এসেছেন, আইডি না, পেজ খুলে লিখছেন। তিনিও খুব ভালো লেখক। অবশ্য কিছু নাম অনেকেই ব্যবহার করে। যেমন বিভিন্ন মুজাহিদ ব্যক্তিত্বের নামে অনেকে আইডি চালায়, কিন্তু তাদের আসল পরিচয় জানা যায় না।

এবার আলি হাসান উসামা সম্পর্কে লিখবো। তিনি কওমি মাদ্রাসা ফারেগ, তলিবুল ইলম ছিলেন কিছুদিন আগেও। লেখালেখি করেন মাত্র ২-৩ বছর হবে। কিন্তু এর মধ্যে মৌলিক ৩ টি এবং অনুবাদ ৯ টি বই প্রকাশ করেছেন। সম্পাদনা করেছেন ১৭ টির মত বই, কিছু বই করেছেন শরঈ সম্পাদনা, আবার কিছু বই ভাষা ও সাহিত্য সম্পাদনা। সাহিত্যিক হিসেবে খুব ভালো লিখেন। চিন্তক হিসেবে যতটা না এর চেয়ে সমালোচক হিসেবে বেশি পরিপক্ক। আদর্শিক ভাবে তিনি জিহাদি, বিশেষ করে খোরাসানি মানহাজের, কায়দা-তালেবান সমর্থক। তবে আল কায়দা আকিদাগত ভাবে সালাফি হলেও তিনি হানাফি হিসেবে গর্বিত। এদিক দিয়ে তালেবানের সাথে তার বেশি মিল। তার লেখালেখি শুরু হয়েছিল সমালোচনা দিয়ে, প্রসিদ্ধি পান একটা বইয়ের সমালোচনা করে। ফলে সমালোচনা যেন তার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিহাদি-মোডারেট বিতর্ক তার মাধ্যমেই চাউর হয়। সম্মানিত ভাইদের মোডারেট মুরজিয়া ট্যাগ দিয়ে যে চর্চা শুরু হয় তিনি এর পেছনে ভূমিকা রাখেন। এই কালো দিকগুলো ছাড়াও আলি হাসানের অনেক খেদমত রয়েছে। তিনি জিহাদ বিধানের পক্ষে কলম তুলে নেন। আল্লাহ যে জিহাদকে ফরজ করেছেন যেই জিহাদ আজ নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যে গণ্য হয় সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে। তিনি সাহসিকতার সাথে এই ইলাহি বিধানের পক্ষে লেখালেখি করেন।

তার প্রসিদ্ধি লাভ ঘটেছিল বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ সাঃ নামের একটি বইয়ের সমালোচনা করে। মাসুদ শরীফ অনুবাদ করেন এই বইটি যার লেখক পশ্চিমা একজন মোডারেট মুসলিম, বইটি প্রকাশ করে গার্ডিয়ান। তিনি এই বইয়ের মোডারেট চিন্তার প্রচারের সমালোচনা করে রিভিউ লেখেন এবং এটা ফেসবুক পাড়ায় বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। কিন্তু এন্টি-মোডারেটদের জন্য তা শাপে বর হয়। কারণ বইটার এতো বেশি সমালোচনা হয় যে একটা বড় ধরণের নেগেটিভ মার্কেটিং হয়ে বইটা অনেক বেশি সেল হয়। রকমারির মতে এটা ছিল আরিফ আজাদের বইয়ের পর সবচেয়ে বেশি সেল হওয়া ইসলামী বই।

কিন্তু আলি হাসান উসামার এই সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় মাসুদ শরীফ, গার্ডিয়ান ও অন্যান্য তাদের পক্ষীয় লোকদের প্রতিক্রিয়া কল্যাণকর হয় নি। একটা দীর্ঘমেয়াদি তর্ক যুদ্ধের জন্ম দেয়। তখন থেকেই মোডারেট, মুরজিয়া ইত্যাদি ট্যাগ গুলো জনপ্রিয় হয়। জিহাদি-মোডারেট যুদ্ধ তখন থেকেই শুরু হয় যা আজো চলমান। মোডারেটদের সাপোর্ট করতে একদল জামায়াতি এবং সালাফি ঘরানার কিছু মোডারেট যোগ দেয়। কিন্তু নানা কারণে মূল জামায়াত আর আহলে হাদিস-সালাফিরাও এই তর্কে জড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের সমীকরণ হয়, জিহাদিদের বিপরীতে মর্ডানিস্ট, মোডারেট, জামায়াতি (সংস্কারপন্থী+প্রাচীনপন্থী), আহলে হাদিস, কওমি (বিশেষ করে এদের মধ্যকার সেকুলার ধারা+মোডারেট ধারা) সবাই মিলে যুদ্ধে নামে। (জামায়াতিদের এতে জড়ানোর কথা ছিল না, কিন্তু গার্ডিয়ানের প্রকাশক নূর মোহাম্মদ জামায়াত সমর্থক হওয়ায় তার সাপোর্ট করতে গিয়ে তারাও জড়িয়ে যায়।) দেখা যায় যে জিহাদিদের খণ্ডনে এরা সবাই একসাথে মিলে কাজ করছে। জিহাদিদের বিরুদ্ধে তখন সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিল সাদিদ মালিক, শেখ সাদী, হাসান জামিল (শাইখ হাসান জামিল নন), সালাহুদ্দিন জাহাঙ্গির, কবির আনোয়ার আরও অনেকে। কিন্তু এদের মধ্যে দেখা যেত কেউ জামায়াতি, কেউ কওমি আবার কেউ সালাফি। এক সময় আরিফ আজাদও অধৈর্য হয়ে তর্কে জড়ায়। অথচ এটা ভ্রাতৃত্বের জন্য অনেক ক্ষতিকর ছিল। এই তর্ক যুদ্ধ অবশ্য এখন অনেক কমেছে। বিচ্ছিন্ন ভাবে এখন এসব তর্ক চলে।

আলি হাসান উসামা সম্পর্কে বলছিলাম। সত্য কথা হচ্ছে সে সহনশীল না। তার জনপ্রিয়তা ভক্তকুল তার জন্য ক্ষতিকর ছিল। সে অল্প বয়সে শাইখ, আল্লামা উপাধি পেয়ে অহঙ্কারি ও উগ্র হয়ে উঠে। অবশ্যই সে ভালো আলিম, কিন্তু অহঙ্কার ও তার কার্যক্রম তার আলিমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আলি হাসান উসামা জিহাদি-মোডারেট তর্ক উস্কে দেয়ার পর যে কাজটা করেছিলেন সেটা হচ্ছে বিরোধী পক্ষের বই ধরে ধরে সেগুলোর ভুল বের করা এবং সমালোচনা করা। মাসুদ শরীফ মানহাজগত ভাবে শরীফ আবু হায়াত অপু ভাইদের কাছাকাছি ছিলেন। আর তার বই প্রকাশ হয়েছিল গার্ডিয়ান থেকে। ফলে আলি হাসান শুরু করেন গার্ডিয়ান, সিয়ান এবং শরীফ আবু হায়াত অপু ভাইদের বইগুলো সবগুলোর সমালোচনা করা। এজন্য তিনি এইসব বই কিনতেন, এবং ব্যস্ততা সত্ত্বেও পড়ে শেষ করতেন, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভুল বের করতেন, এবং এরপর এ নিয়ে নাতিদীর্ঘ সমালোচনামুলক পোস্ট দিতেন। এভাবে সে একদল লোকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে আর জিহাদি বাদে সকল দলের কাছে শত্রু হয়ে উঠে। ইসলামী ঐক্য নষ্ট করতে সে চেষ্টা চালিয়ে যায়, এবং ফেসুকের পরিবেশ নষ্ট করে। সত্য কথা হচ্ছে এর পূর্বে এরুপ মারামারি ছিল না, আগে এসব ছিল সালাফি-হানাফিদের মধ্যে। কিন্তু মোডারেট-এন্টিমোডারেট তর্ক উস্কে আলি হাসান দ্বিধাবিভক্ত মুসলিমদের আরও বিভক্ত করে। অথচ কাছে টেনেও ভুল ধরা যেত। সম্মানিত কওমি আলেম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ নিজেও সমালোচনামুলক রিভিউ লিখেছেন, এজন্য তিনি কারো সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন নি। যাই হোক, সবার থেকে সবার বৈশিষ্ট্য আলাদা আলাদা, চিন্তা আলাদা আলাদা। আলি হাসান হয়তো আক্রমণাত্মক হওয়াকেই সমাধান মনে করেছিলেন। অবশ্য এটাও সত্য তার কম বয়সের রক্ত গরম তেজ এইসব বিতর্ক উস্কে দিতে ভূমিকা রেখেছিল। তার প্রথম দিককার সমালোচনামুলক লেখাগুলো ছিল আক্রমণাত্মক, এবং কিছু কিছু লেখা ইসলামী ভ্রাতৃত্বকে নষ্ট করতে যথেষ্ট।

এছাড়াও জিহাদপন্থীদের অনেক সাপোর্টার এক্টিভিস্ট আছেন যাদের নাম আমি জানি, কিন্তু তাদের আলোচনা সামনে আনবো ইনশাআল্লাহ।

এখন বলবো এম রেজাউল করিম ভুঁইয়া ভাইয়ের কথা। তিনি অ্যামেরিকা থাকেন, উচ্চ শিক্ষিত তো অবশ্যই, তার চিন্তাও খুব উন্নত। তাকে মোটিভেশনাল লেখক বললে ভুল হবে না। মেদ ভুঁড়ি কি করি সিরিজ লেখে ডায়েটের উপায় বাৎলে দিচ্ছেন ফ্রি ফ্রি। বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রোডাক্টিভ লেখা পোস্ট করে থাকেন, যেমন টাইম ম্যানেজমেন্ট, প্রফেশন, স্কিল ইত্যাদি নিয়ে তার ভালো লেখা আছে। ইসলাম বিষয়েও মাঝেমাঝে লিখেন, কিন্তু তার ইসলামী লেখাগুলো তেমন একটা স্ট্রং না। আসিফ শিবগাতের মোডারেট ইসলামের বিরুদ্ধে একবার তিনি কলম ধরেছিলেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে জিহাদিরা সবাই মনে করেছিল তিনিও তাদের দলের। কিন্তু এরদোয়ান ইস্যুতে সরাসরি এরদোয়ানের প্রশংসা করে সেইসব আবেগি ছেলেদের ভুল ভেঙ্গে দেন। এরপর প্রায়ই মোডারেট ইসলামের বিরুদ্ধে একই সাথে জিহাদিদের মতের বিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন। ফলে তিনি ক্রমেই জিহাদিদের অপছন্দের হয়ে উঠেন। মাদ্রাসার ভেতরের যৌনতা নিয়ে চাউর হলে তিনিও এই ইস্যুতে ঘি ঢালায় আত্মনিয়োগ করেন। অন্যদিকে শামসুল আরেফিন শক্তি ভাইও এসব নিয়ে কথা বলতেন। দু'জনে মিলে মাদ্রাসার চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধারে নামেন। রেজাউল করিম ভাই খুঁজে খুঁজে মাদ্রাসার ভেতরের যৌনতার খবর বের করে তা প্রকাশ করে দিতেন। আর এর পিছনে যুক্তি দিতেন এসব বেশি প্রকাশ হলে তাড়াতাড়ি বন্ধ হবে। কিন্তু আমার তা মনে হয় না। কারণ ধর্ষণের সংবাদ যত বেশি প্রকাশ পাচ্ছে, ততই দিনদিন বাড়ছে। পাপ বন্ধ করতে পাপ প্রকাশের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এতো কিছু না বুঝে রেজা ভাই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেন। এর ফলও ছিল। তার ফলোয়ার কম ছিল না। এই ঘটনাগুলো তার মাধ্যমে অনেক ছড়িয়েছে। সেকুলার মিডিয়া এসব ঘটনা প্রচার করতে যে পরিশ্রম করছিল, রেজা ভাইরা তা অনেক সহজ করে দিল। ফল এই হল মানুষ নিয়ত করল নিজেদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পড়াবে না, আর মাদ্রাসা নাম শুনলেই সবার মাথায় প্রথম সমকামিতা শব্দটা মাথায় ঘুরে, নাউযুবিল্লাহ।

এম রেজাউল করিম ভাই এমনিতে খুবই ভদ্র এবং ভালো মানুষ, হুজুরদের পছন্দ করেন, নিজেকে হুজুর বলে গর্ব করেন। তিনি দাড়িওয়ালা, দাড়িওয়ালা মুসলিমদের ভালোবাসেন। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুন।

মাহমুদুর রহমান, সবার প্রিয় সাসা। আমরা সবাই তার আদরের ভাতিজা। সাসা শব্দটা চাচা থেকে এসেছে। এর হাকিকত হচ্ছে তিনি অন্যান্য দীনী ভাইদের থেকে সিনিয়র। এমন না যে তার দাঁড়িতে পাক ধরেছে, যৌবনের শেষ প্রান্ত বলা যায়। কিন্তু তার যৌবন তেজ এখনো ফুরফুরা। তবু তিনি আমাদের সাসা। জুয়ান না বুড়া সেটা তো বড় বিষয় না।

মাহমুদুর রহমান সাসাভাই আগে সেকুলার ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন আগে, এখন দেশে আছেন। তিনি তার ইসলামে আসার গল্প প্রত্যাবর্তন বইয়ে লিখেছেন। এখন তিনি হুজুর, হুজুরদের সাসা। তার সাথে টম্যাটোর একটা সম্পর্ক আছে, সসের ব্যবসা করেন বোধহয়। তার দুই সন্তান, এক কন্যা এবং শেষে একজন পুত্র। সেই পুত্র জন্ম হয়েছে কয়েক বছর হল। ফেসবুকে তার একমাত্র কাজ ফানি পোস্ট দেয়া, এবং বিভিন্ন জায়াগায় ফানি কমেন্ট করা। তার ফানি কমেন্ট সর্বোচ্চ সংখ্যক হাহা রিয়েক্ট পেয়ে সবসময় জয়যুক্ত থাকে। তিনি ওমর ভাইকে নিয়ে মজার মজার পোস্ট দেন, ওমর ভাইয়ের খাওয়ার গল্প, দোকানির সাথে দামাদামি করার গল্প। হাজি সাবের বিভিন্ন পারফর্মেন্স নিয়ে তিনি ঈর্ষামূলক পোস্ট দিয়ে থাকেন। এবং এমন সব ঘটনা পোস্ট দেন 'যা শুধু তার সাথেই হয়' আর ঐ পোস্টে এই কমেন্ট করতে ভুলেন না তানভির আহমেদ আরেজল ভাই 'এইসব শুধু আপনার সাথেই হয়'। তিনি আদর করে সব ভাতিজাকে তুই করে ডাকেন। গোপালগঞ্জের প্রোডাক্ট আমাদের সাসা। তাই দিদির প্রতি সাসার অনেক মহব্বত। এছাড়া মাঝে মাঝে তিনি কিছু হৃদয়ছোঁয়া পোস্ট দেন। সেগুলো অনেক লাইক ও শেয়ার কামাই করে। অনেকে কপি করে তার নাম দেয় না। এই হল আমাদের সাসার বিবরণ। আল্লাহ সাসাকে হেদায়েতের উপর অটল রাখুন, সুস্থ ও সুন্দর রাখুন, সর্বদা হাসিখুশি রাখুন। আমীন।

আমাদের দীনী সাসার মানহাজি অবস্থানঃ তিনি হক ও হক্কানিদের সাথে থাকেন। কোনো দলাদলির মধ্যে যান না। তিনি না জিহাদি, আর না মোডারেট। তার মধ্যে উগ্রতা, অহসনশীলতা এসব নেই। তিনি জিহাদ ও কিতালকে নির্দ্বিধায় সাপোর্ট করেন। তিনি একই সাথে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখেন।

এখন বলব সাইফুর রহমান ভাইয়ের কথা। তিনি সম্ভবত ক্যাম্ব্রিজের ছাত্র, (আমার সঠিক মনে পড়ছে না ক্যামব্রিজ কিনা)। তিনি নাস্তিকতার বিরুদ্ধে অনেক ভালো লিখেন। যেকুলারদের কলাবিজ্ঞানি উপাধি দিয়ে তিনিই শব্দটা জনপ্রিয় করেছেন। তিনি বিবাহিত এবং এখনো বোধহয় ইংল্যান্ডে থাকেন। একসময় খেলাধুলার ভক্ত ছিলেন। তার আইডির বহুত আগের পোস্টগুলো দেখে তাই মনে হয়। আলহামদুলিল্লাহ এখন তিনি প্রাক্টিসিং মুসলিম। কিন্তু জিহাদিদের সাথে বিভিন্ন কারণে তার লেগে যায়। এবং তিনি এন্টি-জিহাদিদের কাতারে পড়ে যান। যখন আকিদা নিয়ে তর্ক চাউর হল (হানাফি ভার্সেস সালাফি আকিদা) তিনি তখন ফেসবুকে এসব বিষয় নিয়ে তর্ক বন্ধ করার আহবান জানান, তার এই আহবান সত্যিই সময়োপযোগী ও দরকারি ছিল। তিনি যে সময় পেলেই জিহাদিদের খোঁচান না, তা না। বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি একটু খোঁচা দেয়ার চেষ্টা করেন যেভাবে জিহাদিরাও এন্টি-জিহাদিদের খোঁচা দিয়ে থাকে। এমনিতে মানুষ হিসেবে তিনি ভদ্র। তবে কলাবিজ্ঞানী বলে সবসময় মক করা আমার পছন্দনীয় না, এটা মাঝে মাঝে ইউস করলে হয়, বারবার ইউস করলে মজাটা হারিয়ে যায়।

সাইফুর রহমান ভাইয়ের অনেক মূল্যবান লেখা আছে নাস্তিকতার খণ্ডনে। আরিফ আজাদের সাথে তার ভালো সম্পর্ক আছে। যখন আরিফ আজাদের প্রথম বই প্রকাশ হল তখন নাস্তিকরা এর খণ্ডন করে প্রশ্ন বা পোস্ট করলে তিনি আবার সেগুলোর জবাব দিতেন। সাইফুর রহমান ভাইয়ের ফেসবুক এক্টিভিটি নাস্তিকদের জন্য কড়া ডোজ হয়। তিনি পোস্ট যত ভালো করে লিখতে পারেন, বই তেমন লিখতে পারেন না, বহু বছর যাবত বই লেখার ইচ্ছা পোষণ করেন, অথচ এখন পর্যন্ত তার কোনো বই আলোর মুখ দেখে নি।

তিনি সম্ভবত পিএইচডি করছেন। বিবর্তনবাদের উপর তার দারুণ কিছু গবেষণামুলক লেখা আছে। তার ব্যাকগ্রাউন্ডও বায়োলজি। সাইফুর রহমান ভাইয়ের জন্য অনেক দোয়া রইল।

ফারাবি শফিউর রহমান ভাইও একসময় নাস্তিকতার বিরুদ্ধে লিখতেন। কিন্তু তিনি আদর্শিকভাবে জিহাদি ছিলেন। আর এই কারণে নাস্তিকরা তার মত মেধাবী লেখককে আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে জেলে ঢোকায়। এক সময় মগাচিপদের চিপে মগা বানিয়ে ফেলতেন। ফারাবি ভাইয়ের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন। তাকে কারাগারে নির্যাতন করা হয়। আল্লাহ যেন তাকে ঈমানের উপর রাখেন। একবার মামুনুল হক জেল থেকে বেরিয়ে তাকে নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন, সেখানে বলেছিলেন ফারাবি নাকি বোকা, তার নাকি লেখালেখি করাই উচিৎ ছিল, জিহাদি মনোভাব রাখাটা উচিৎ হয় নি। মামুনুল হক সাহেবদের জন্য আফসোস, তারা জিহাদি মনোভাব না রেখেও জেলে যায়। জামায়াতের কত নেতা কত আধুনিক চিন্তাধারার হয়েও কি রেহাই পেয়েছে জালিমের হাত থেকে? তাহলে ফারাবিরা কিভাবে বোকা হয়? বোকা তো তারা যারা জালিমের ভয়ে নিজের দ্বীনকে পরিবর্তন করে অথচ জালেমের হাত থেকেও রেহাই পায় না, আর আল্লাহর কাছেও তার মর্যাদা আর থাকে না।

নাস্তিকতা নিয়ে লেখালেখি করেন এমন আরেকজন ভাই হচ্ছেন রাফান আহমেদ। তার বই আগে বের হয়, ফেসবুক এক্টিভিটি পরে শুরু হয়। অবশ্য ফেসবুক এক্টিভিস্ট হিসেবে তিনি তেমন কিছু নন। বরং নাস্তিকতার খণ্ডনে তিনি পুরাই বস। উনার এখন পর্যন্ত দুইটা বই বেরিয়েছে। একটা হচ্ছে বিশ্বাসের যৌক্তিকতা এবং আরেকটি হচ্ছে অবিশ্বাসী কাঠগড়ায়। প্রথম বইয়ের নামটা দারুণ হলেও পরের বইয়ের নাম খুব বাজেও হাস্যকর, বাংলা সিনেমার নাম এরকম টাইপের হয়। যদিও তার লেখার মান অনেক উচু, অবশ্য অনেকের লেখা ভালো হলেও শিরোনাম বা ফিনিশিং ভালো হয় না। কিন্তু এমন একজন আছেন যার লেখার মানের মতোই শিরোনাম অনেক বেশি চমৎকার। তিনি হচ্ছেন শামসুল আরেফিন ভাই। ও আচ্ছা, শামসুল আরেফিন ভাইয়ের নাম নেয়াতে মনে পড়ে গেল রাফান ভাইও ডাক্তার। তিনি নাস্তিকতার খণ্ডনে অনেক শক্তিশালী লেখক। তার লেখার রীতি হচ্ছে তিনি নাস্তিকতার খণ্ডন করতে নাস্তিকদের বই থেকে রেফারেন্স দেন। নাস্তিকতার দুর্বলতা নাস্তিকদের মুখ থেকেই কোট করেন। তিনি হামযা জর্জিস এর ডিভাইন রিয়ালিটি অনুবাদ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এক চ্যাপ্টার করে আর আগান নি। পরে শুনলাম বিখ্যাত অনুবাদক মাসুদ শরীফ ভাই এটার অনুবাদ করছেন। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল, এটা রাফান ভাই করলেই বেশি ভালো হত, যেহেতু তিনি নাস্তিকতার খুটি নাটি ভালো জানেন।

জীম তানভির ভাই, সবার খুব প্রিয়, কিন্তু তার ফেসবুক আইডির খোঁজ অনেকেই জানে না। কারণ তার ফেসবুক আইডির নাম গোলাম তানভির। তিনি সম্ভবত গোলামকে সংক্ষেপে জীম ব্যবহার করেন যেহেতু গোলাম শব্দ দিয়ে অনেক সময় ভুল বোঝার আশঙ্কা থাকে। অবশ্য এটা অনেক আগের ফতোয়া যে গোলাম দিয়ে আল্লাহর নাম বাদে অন্য কোনো নাম রাখা জায়েজ নেই, অর্থাৎ গোলাম মোস্তফা, গোলাম মুহাম্মদ; তবে লেটেস্ট ফতোয়া হচ্ছে গোলাম শব্দের অর্থ দাসত্ব বোঝানো ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়, সুতরাং গোলাম মূস্তফা বা গোলাম নবী এসব নামে সমস্যা নেই কোনো। হয়তো তানভির ভাই সন্দেহ থেকে বাঁচতে পূর্বে নিজের নামের গোলামকে সংক্ষিপ্ত করেছিলেন, অথবা নিজের আসল নাম প্রকাশ না করার জন্য এরকম করেছেন। এটা আমার স্রেফ ধারণা, উনার নামের ইতিহাস উনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে তিনি যে কারণে সবার প্রিয় সেটা হচ্ছে তিনি প্রাচীর বইয়ের সম্পাদক। প্রাচীর হচ্ছে এমন একটা বই যেটা সবসময় বইপাড়ায় সংকট থাকে। যেটা কেউ কিনতে পেলে তাকে ভাগ্যবান বলা হয়। এই বইটা এমনই রেয়ার। জীম তানভির ভাই রেইন্ড্রপস মিডিয়া থেকে দারুণ কিছু অডিও সিরিজ প্রকাশ করেছেন। উনি সম্ভবত রেইন্ড্রপ্সের প্রধান। এছাড়াও সীরাহ বই আকারে বের করেছে, যদিও এই সীরাহ রেইন্ড্রপ্সের নামেই বিখ্যাত হয়েছে কিন্তু এটা আসলে শাইখ আনোয়ার আওলাকি রহঃ এর বক্তৃতা, তার নাম ব্যবহার করা হয় নি যেহেতু তিনি অ্যামেরিকার কাছে একজন বড় সন্ত্রাসী এবং মুসলিম বিশ্বের এক অমূল্য সম্পদ ও মুজাহিদ, নিরাপত্তার খাতিরে শাইখের নাম দেয়া হয় নি। এটাতে আমি সমস্যা দেখি না, কারো কথা বা ইলম প্রচার হওয়াটাই বড় কথা, নিরাপত্তা বা অন্য কারণে প্রয়োজনে নাম হাইড করলে বড় কোনো সমস্যা হয়ে যায় না। শাইখ জসিমুদ্দিন হাঃ এর কিছু বই তার কুনিয়াতি নামে প্রকাশ পেয়েছে, আবু আব্দুল্লাহ নামে তার সবগুলো বই শাবাব প্রকাশনী বের করেছে। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিক, শাইখকে কারাগার থেকে মুক্তি দান করুন এবং সর্বাবস্থায় হেদায়েতের উপর রাখুন।

জীম তানভির ভাই সম্ভবত বুয়েট থেকে পড়েছেন (আমার সঠিক মনে পড়ছে না, তাই সম্ভবত বললাম), এবং মাস্টার্স করেছেন লন্ডন কুইন মেরী থেকে। তিনি সম্ভবত বাইরে থাকেন। ভাইয়ের স্ত্রীর নাম আনিকা তুবা। তিনিও ভালো লেখিকা, একটা বইয়ের প্রচ্ছদও করেছিলেন, সবুজ পাতার বন বইটার।

আল্লাহ দুইজনকেই ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন।

জীম তানভির ভাই চট্টগ্রামের মানুষ, চট্টগ্রামের আরেকজন ভাই হচ্ছেন সাজিদ ইসলাম। একজন প্রকাশক ও লেখক। 'বুঝতেছিনা বিষয়টা' নামে তার একটা পেজ আছে। নামটা অদ্ভুত হলেও এই পেজে তার লেখাগুলা প্রচণ্ড হৃদয় ছোঁয়া যেটাকে বলে হার্ট টাচিং। তার সীরাত নামে একটা প্রকাশনি আছে এবং পরে বুকমার্ক নামে আরও একটা চট্টগ্রামভিত্তিক প্রকাশনা খুলেন। তিনি বিভিন্ন বই সম্পাদনা ও অনুবাদের কাজেও জড়িত ছিলেন। মোহাম্মদ হবলস এর লেকচার অবলম্বনে তিনি একটি বই লিখেছেন। আল্লাহ তার ইলমে ও ব্যবসায় বারাকাহ দিন।

এরপরে আসে মিসবাহ মাহিন ভাইয়ের কথা। তিনি অনেক সিনিয়র, যদিও প্রথম প্রথম তারে এত সিনিয়র মনে হত না। তিনি খুব ভালো লিখেন। এম মাহবুবুর রহমান ভাইও দারুণ লেখেন। এছাড়া মুহাম্মাদ জুবায়ের ভাইও ভালো লেখেন, বই সম্পাদনার সাথেও তিনি জড়িত, তিনি বুয়েটের ছাত্র। আরমান নিলয় ভাই অনেকদিন ফেসবুকে নাই। বই সম্পাদনা আর অনুবাদে অথবা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ততার কারণে হয়তো ফেসবুক ছেড়েছেন, সাজিদ ইসলাম ভাইয়ের প্রকাশনি সীরাত থেকে প্রকাশিত বইয়ের সম্পাদনায় আরমান নিলয় জড়িত ছিলেন।

সালমান সাঈদ ভাই তালেবান নিয়ে সিরিজ লিখেছেন, বলতে গেলে প্রায় শেষ, তবু এখনো মাঝেমধ্যে কোনো নতুন পর্ব লিখেন। তিনি তালেবানের ইতিহাস নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে লিখেছেন। এই লেখাটা আবার গুগল ডকে একত্র করে রেখেছেন খন্দকার সাহিল রিদওয়ান ভাই। সাহিল ভাইয়ের একটা পোস্ট আছে যা খুব উপকারি, সেটা হচ্ছে বিগিনার লেভেলে মুসলিমদের কি কি বই বা কি কি পড়া উচিৎ তা নিয়ে লিখেছিলেন। খন্দকার সাহিল রিদওয়ান ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে মনে পড়ে যায় আরেক খন্দকারের কথা। তিনি হচ্ছেন খন্দকার রাইত বাবুর্চি। নামে বাবুর্চি হলেও তিনি আসলে আতরচি। সম্রাট হুমায়ুনকে পানি খাওয়ানোর জন্য নিয়োজিত ছিলেন আফতাবচি যিনি পরে একটি বই লিখেছিলেন যা সম্রাট হুমায়ুনের ইতিহাসের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বই। আফতাবচি নামের মতোই আতরচি নামটা। আতরচি ভাইয়ের আসল নাম খন্দকার হাসিফ আহমেদ। তিনি পারফিমেন্স নামের একটি আতরের ব্র্যান্ড এর কর্ণধার। হাসিফ ভাই একদা নিখোঁজ হয়েছিলেন। আল্লাহ তাকে সহি সালামতে ফিরিয়ে এনেছিলেন। তিনি অল্প বয়সেই একজন সফল উদ্যোক্তা। এখনো তিনি পড়াশোনা শেষ করেন নি। ঢাবির রসায়নের ছাত্র।

উদ্যোক্তা নিয়ে বলতে গিয়ে মনে পড়ল আরেক উদ্যোক্তা বান্দা রেজা ভাইয়ের কথা। তিনি খুবই জনপ্রিয় একজন মানুষ। তার বাবরি এতো বড় যে সবার থেকে তাকে আলাদা করা যায়। এতো বড় বাবরি রাখার ঐতিহ্য মুসলিম ইতিহাসে ছিল, তিনি সেটারই প্রতিচ্ছবি। বান্দা আবার তার নাম মনে করবেন না, তার পূর্ণ নাম রেজাউল কবির। নিজেকে বান্দা রেজা বলে পরিচয় দিয়ে আল্লাহর দাসত্বকে সর্বদা নামের মাধ্যমে স্বীকার করে নেন। তিনি জলপাই এর কর্ণধার। তার ফেসবুক এক্টিভিটি তো নেই বললেই চলে, তবে দীনী ভাইদের সাথে অফলাইনে তার ভালো সম্পর্ক আছে বোধহয়।

এছাড়া মোহাম্মদ জাভেদ কায়সার ভাইয়ের নাম মনে পড়ছে, তিনি আগে লিখতেন খুব, এখন তো পোস্ট একেবারেই দেন না। মুবাশশিরিন মিডিয়া তিনি চালান এবং এখানে তিনি এক্টিভ থাকেন। তার হজের এজেন্সি আছে সম্ভবত। আল্লাহ তার কাজে ও ইলমে বারাকাহ দিন।

এইবার বলব শরীফ আল হুসাইন ভাইয়ের কথা। তিনি তো এক আজিব চীজ। আল্লাহ তাকে হেদায়েতের উপর এবং কল্যাণের উপর রাখুন। তার আলোচনা আসলে জিহাদি মানহাজের প্রচারকদের সাথে অর্থাৎ ইবনু মাজহার বা মিফতাহ আয যামান ভাইদের সাথে করলে বেশি ভালো হত। যাকগে, তখন করা হয় নি, তাই এখন করছি। তিনি খুব ভালো নাশীদ গান। লেগে থাকলে আশা করি একজন খ্যাতিমান মুন্নাশিদ হবেন। শরীব্বাইয়ের আরও যে দুই নাম প্রসিদ্ধ সেগুলো হচ্ছে আবু মাইমুনাহ এবং মুবারক ইবনে আলি। তবে শরীফ আল হুসাইন নামই বেশি ব্যবহার করেন এবং এটাই তার আসল নাম বলে ধারণা হয়। আপাতত তিনি ফেসবুকের বাইরে। তিনি অবশ্য প্রায়ই ফেসবুক থেকে ছুটে পালাতে চান। কিন্তু দেখা যায় পালানোর কিছুদিন পর এসে পড়েন। এবার যেহেতু আসছেন না ভাবা যাচ্ছে আশা করি প্রডাক্টিভ কাজ ও খিদমাতের মধ্যেই ব্যস্ত আছেন।

শরিব্বাইয়ের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে খুবই অস্থির চরিত্রের মানুষ। তার মধ্যে প্রচুর অস্থিরতা কাজ করে। ব্যক্তিগত জীবনে কেমন তা তো জানি না, অনলাইনে তাকে এমনই পাওয়া যায়। তার অস্থিরচিত্তে লেখা পোস্টগুলোর জন্যই হয়তো সবাই মুখিয়ে থাকে। তার পোস্ট মানেই কারো না কারো সমালোচনা। জিহাদি বনাম মোডারেট বিতর্কে তিনিও বেশ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি সরাসরি জিহাদি মানহাজের কথা বলতেন যেটা অনেকে সরাসরি প্রকাশ করত না। কালো মেয়েদের বিয়ে না হওয়া সংক্রান্ত একটা পোস্ট লিখেছিলেনযা তার লেখা শ্রেষ্ঠ কোনো পোস্ট। এবং তার সবচেয়ে মজার পোস্ট ছিল ভাত আছে তরকারি নাই, পীরসাহেব চরমোনাই। এরকম একটা কবিতা লিখেছিলেন, এই কবিতার মজার দিক ছিল প্রথমে কিছু একটা আছে এবং পরে নাই, আর শেষে হয় পীর সাহেব চরমোনাই; এভাবে চলতে থাকে। পীর সাহেব চরমোনাইকে মানহাজি অবস্থানের কারণে পছন্দ করতেন না। এজন্যই এরকম মজা করতেন। আরিফ আজাদের বিরুদ্ধেও তিনি পোস্ট করেছিলেন, এটা ছিল মোডারেটদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটা অংশ। আরিফ আজাদও নাম উল্লেখ না করে শরিব্বাইয়ের বিরুদ্ধে কোথাও বলেছিলেন। জিহাদি-এন্টিজিহাদি বিতর্কে শরিব্বাই ভূমিকা রাখতেন। যেখানেই থাকুন আল্লাহ তাকে ভালো রাখুন। তবে একটা বিষয় হচ্ছে শরিব্বাই মজা করতে জানতেন না, বা তার মজা করার পদ্ধতিটা একেবারে পানসে। বিভিন্ন জায়গায় তার ফানি কমেন্ট পরে আমার একদম হাসি পায় নি।

শরীফ ভাই নাশীদে নিয়মিত হলেই তার জন্য ভালো হবে বলে মনে হয়, কারণ তার পোস্ট করা কল্যাণকর বলে প্রমাণিত হয় নি। একবার এক বুরখা নিকাবের অনলাইন শপের সাথে তার ঝগড়া হয়। তিনি উপাধি লাভ করেন দীনী বখাটে। এটা নিয়ে অন্যরা মজাও করত, তিনি নিজেকেও দীনী বখাটে বলে মজা পেতেন।

তার ঝগড়া ঝাটি সমালোচনা যেটাই হোক তিনি স্রেফ দ্বীনের জন্য খালিসভাবে করতেন। তার কোনো ফেমাস হওয়ার ইচ্ছা বা অন্যকিছু ছিল বলে মনে হয় না। তাই তার জন্য সর্বদা মন থেকে দুয়া করি।

শরীফ ভাইয়ের নাশীদ এডিটিং করে দিত তাহমিদ ইব্রাহিম বা রুম্মান ইবনে ইব্রাহিম ভাই। এই ভাইটি স্বাস্থ্যবান এবং সুদর্শন ফর্সা বলে কথিত আছে। মানে অনেকেই তাকে এভাবে উল্লেখ করেছে। ইনি ধনী ঘরের সন্তান। মাঝেমধ্যে তার শখ ধরলে লেখেন, আর নয়তো ফেসবুকে ফান ট্রল করে বেড়ান। শরীফ ভাইয়ের সাথে যেহেতু তার ভালো সম্পর্ক আলাদা করে তার মানহাজ বলা লাগে না।

আমার মনে পড়ছে আবু পুতুল ভাইয়ের কথা, রুশো করিম ভাইয়ের কথা, তারা একসময় ফেসবুকে এক্টিভ ছিল এখন তারা একেবারেই হারিয়ে গেছে। আরেকজন ছিলেন, তিনি আবু আব্দুল্লাহ নামে ছিলেন, তিনি ইতিহাস বিষয়ক পোস্ট লিখতেন, তার এক্টিভিটি বহু দিন যাবত নেই। তারা যেখানেই থাকুন, আল্লাহ যেন ভালো রাখেন, এবং কল্যাণের উপর রাখেন।

মোঃ নিজামুল হক (নাহিদ) ভাই একজন ইঞ্জিনিয়ার। বিবাহিত এবং কন্যা সন্তানের জনক। তিনি অল্প বয়সেই বিয়ে করেছিলেন। আর এটার প্রতি তিনি উৎসাহ দিতেন। এজন্য গ্রুপও খুলেছিলেন, আর্লি ম্যারেজ ক্যাম্পেইন নামে গ্রুপ খুলে কম বয়সে বিয়ের জন্য প্রচারণা চালাতেন। এসব প্রচারণা সেকুলাঙ্গারদের একদম জ্বলিয়ে দিত, একবার এক জাতীয় পত্রিকায় নিউজও হয়েছিল যেখানে এই গ্রুপের নাম এসেছিল। নিজামুল হক ভাইয়ের সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ হচ্ছেন ইংরেজি অক্ষরে বাংলা লেখা যেটা পড়তে গিয়ে বিরক্তি উদ্রেক হয়। তবে তিনি খুব সহজ সরল ও ভালো মানুষ। ভালো মানুষীর মতই তিনি সুদর্শন, অবশ্য দাড়ি রাখলে কাকেই বা সুদর্শন লাগে না? একসময় নিজামুল হক ভাই বাইক কিনলেন আর বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি করা আর এ নিয়ে পোস্ট দেয়া তার কাজ হয়ে দাঁড়ালো।

নিজামুল হক ভাইকে সরল বল্লেও সরল শব্দটা দখল করে রেখেছেন আরেকজন ভাই, তিনি হচ্ছেন মোঃ রাকিবুল হাসান ওরফে সড়ল ভাইয়া। তিনি কেন সরল তা তো বিস্তারিত জানি না। তবে সরলের ভান ধরে সরল ভাইয়া বিভিন্ন জায়গা জিলাপির মত সরল কমেন্ট করে হাইস্যরসিকতা সৃষ্টি করে বেড়ান। ইনিও চামেচুমে কিছু দারুণ লেখা পোস্ট করেন। আল্লাহ ভাইদেরকে ঈমানের উপর রাখুন।

বলা হয় নি মাঞ্জুরুল করিম (শোভন রাজ) ভাইয়ের কথা। ইনার অনুবাদে দুইখানা মূল্যবান পুস্তকও প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জেনারেল শিক্ষা ছাড়াও ইলম শিক্ষা করেন। তিনি বিবাহিত। তার নিজের ভাষায় তিনি বলেন, তিনি বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকেন, এবং তার ঠাণ্ডার সমস্যা আছে। আল্লাহ তাকে পরিপূর্ণ শেফা দান করুন। তিনি ইসলামিক অনলাইন একাডেমীর একজন উস্তাদ।

ইসলামিক অনলাইন একাডেমির সাথে আরও আছেন মাইনুদ্দিন আহমাদ ভাই, তিনি সাবেক আহলে হাদিস এবং বর্তমানে সালাফি আকিদা ও হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী। তিনিও জেনারেল পড়াশোনা ছেড়ে ইলম শিক্ষা করেন এবং একজন আলিম হন। আশা করি তার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবে। এদেশের হাম্বলী মাযহাবের প্রচারণায় যে ব্যক্তির ভূমিকা না বললেই নয় তিনি হচ্ছেন শেখ সাদী ভাই। শেখ সাদী ভাই আরবি শেখার পর আরবি চর্চার জন্য সালাফি আলেমদের বিভিন্ন লেখা অনুবাদ করতেন। এমনিতে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন বা পড়া শেষ করেছেন। তার অনুবাদ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে আমাদের দেশে আহলে হাদিসরা মনে করে আরবের সালাফিরা বুঝি মাযহাব অস্বীকার করে, মাযহাব মানে না, মাযহাবের অনুসারীদের ভ্রষ্ট মনে করে। শেখ সাদী ভাই চেষ্টা চালান এই ভুল ধারণা নিরসনের। কিন্তু এসব দেখে কি আহলে হাদিস ভাইরা শান্ত থাকবেন, সৌদির অবস্থান অনুযায়ী নিজের মানহাজ পরিবর্তনকারী মাসুদ আল আসারি তো সরাসরি শেখ সাদী ভাইকে খারেজী বলে ছাড়ল। অবশ্য শেখ সাদী ভাই নিজেকে কখনো জিহাদি দাবি করেন নি। আইএস তো দূরের কথা, তিনি কায়দা তালেবানের সমালোচনা করতেও ছাড়েন নি। তিনি এক্ষেত্রে হকের সন্ধান করতেন, কায়দা-তালেবানের কতিপয় ক্রুটির কারণে তাদের সমর্থন করতেন না। ফলে জিহাদিদের সাথে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শেখ সাদী ভাই স্বীকার করতেন, তিনি চান এমন জিহাদি দল যারা কায়দা-তালেবানের ভুলগুলো থেকে মুক্ত থাকবে, তার এই চিন্তা অন্তত সালাফি-আহলে হাদিসদের থেকে উন্নত ছিল। এমন কথাও শুনেছি, শেখ সাদী ভাই পূর্বে জিহাদি ছিলেন, জিহাদি মানহাজ ডিফেন্স করে লেখালেখিও করতেন, দাবিটা জিহাদিদের, কিন্তু সত্যাসত্য জানি না, সত্য বলেই ধারণা করি।

শেখ সাদী, মাইনুদ্দিন আহমাদ ভাইদের মতোই মাযহাব বিষয়ে মধ্যপন্থার অধিকারী আরও কয়েকজন ব্যক্তি হচ্ছেন তানভির বিন আব্দুর রফিক, আবু হাফসা মোহসিন কামাল এবং আরও অন্যান্য ভাই। তানভির ভাই স্যার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির রহঃ এর ভাবশিষ্য। আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গির রহঃ এর মানহাজের পূর্ণ অনুসারী হচ্ছেন তানভির ভাই। তিনি নিজেও খুব ভালো লেখালেখি করেন। জেনারেল থেকে পড়েছেন এবং অবশেষে ইলম শিক্ষা করেছেন। মোহসিন কামাল ভাই হচ্ছেন হানাফি মাযহাবের অনুসারী, তিনি স্যার রহঃ এর ভাবশিষ্য, তিনি সর্বদা হানাফই-সালাফিদের মধ্যে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন। আল্লাহ তাদেরকে ঐক্য রক্ষার পথে নিয়োজিত থাকার জন্য উত্তম বিনিময় দান করুন।

অবশ্য হাম্বলী মাযহাবের প্রচারণা চালানোর কারণে মাইনুদ্দিন ভাইরা দুই দিক থেকেই আক্রমণের শিকার হয়েছেন। হানাফিরা বলত, এই দেশে যেহেতু হানাফিরা বেশি, তাই হাম্বলী মাযহাব প্রচার করা ফিতনা, আর সালাফিরা বলত, এই হাম্বলিরা হচ্ছে বিদাতি হানাফিদের মতোই, এরা আহলে হাদিসদের কেউ না। এভাবে হাম্বলীদেরকে দুই দিক থেকেও ত্যাগ করা হয়। অথচ আহলে হাদিসরা জানে না তাদের বড় বড় ইমাম গণ হাম্বলী ছিলেন, আর হানাফিরাও জানে না, চার মাযহাবের এক মাযহাব যদি মানা যায়, অন্যটাও যাবে, ফিতনা হচ্ছে সেটা যেটা করার স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও বাধা দেয়া হয়।

হাম্বলী ফিকহ নামে একটি গ্রুপ খুলে হাম্বলী মাযহাবের চর্চা শুরু করেন কিছু ভাইয়েরা। এই ভাইয়েরা মূলত হানাফি-সালাফি মারামারি দেখে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন। এরকম অনেকেই ছিলেন যারা এসব মারামারির কারণে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে শুরু করেন। ইউটিউবার ও লেখক আলি আব্দুল্লাহ ভাইও আহলে হাদিস ছিলেন, এবং আলহামদুলিল্লাহ তিনি হানাফি-সালাফি মারামারির মধ্যে থাকেন না। আলি আব্দুল্লাহ ভাই সম্পর্কে একটু পরেই বলছি, এর আগে হাম্বলী ফিকহ গ্রুপ নিয়ে কিছু বলি। এই গ্রুপে অনেক ভাই আছেন যারা হাম্বলী মাযহাবের প্রচারণা চালাচ্ছেন, কেউ কেউ ফেকাইডি ব্যবহার করায় তাদের আসল নাম জানা যায় না। শাহনেওয়াজ শামিম ভাই এই গ্রুপের এডমিনদের একজন।

আলি আব্দুল্লাহ ভাই হচ্ছেন প্রথম বাংলাদেশি ইসলামিক ইউটিউবার। চ্যানেলের নাম মুসলিমাইজেশন টিভি। ইউটিউব ভিডিও দিয়ে তার জনপ্রিয়তা, অতঃপর বই লেখালেখিতে আসেন। হুমায়ুনে আহমেদের হিমুর প্যারোডি 'সুবোধ' নামে বের করেন, এটা অনেক সমালোচিত হয় হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের সাথে মিল থাকায়। এরপরে তিনি সুবোধ ২ বের করেন এবং বাচ্চাদের জন্য ভালো একটা বই বের করেন। আল্লাহ তাকে লিখে যাওয়ার তৌফিক দিন। তিনি বিবাহিত এবং দুই পুত্রের পিতা। উনার স্ত্রীও রান্নার ভিডিও ইউটিউবে পাবলিশ করেন। এক্ষেত্রে আলি ভাই হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন, তিনি নিজেই কণ্ঠ দেন। অবশ্য ভাইয়ের আহলিয়ার রান্নার ভিডিও যত ভিউ হয় আর সাবস্ক্রাইব হয় তার ১০ ভাগের ১ ভাগও ভাইয়ের চ্যানেলের ফানি ভিডিওতেও হয় না। রান্নার ভিডিও বের করাকে পজেটিভ আবে দেখি। কারণ মহিলাদের বাসার কাজ ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না, পুরুষদের যেমন সারাদিন বাইরে থাকা হয়। এক্ষেত্রে মহিলারা রান্নার প্রতি আগ্রহি হলে সেটা বেশ ভালো, কারণ এটা তো নারীগত ফিতরাত। এই ফিতরাতগুলো মুছে ফেলতে সেকুলার আর নারীবাদীরা কত চেষ্টা যে করে। আলি আব্দুল্লাহ ভাই একজন ভালো মানুষ। তিনি একজন বাঙালী সাহিত্যিকের নাতি, যদিও সেই সাহিত্যিকের নাম আমার মনে নেই। আলি আব্দুল্লাহ ভাই জেনারেল শিক্ষিত, ইসলাম সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন, ইসলাম প্রাক্টিস করেন এবং ভিডিও ও লেখালেখির মাধ্যমে দাওয়াতি কাজ করে থাকেন। তিনি এমনিতে আহলে হাদিস, কিন্তু তার মধ্যে বাড়াবাড়ি কিছু নেই। আল্লাহ তাকে কল্যাণের পথে রাখুন।

আলি আব্দুল্লাহ ভাইয়ের সাথে তার ছোটভাই চরিত্রে যে অভিনয় করে তার অভিনয়ও মাশাআল্লাহ খুব ভালো, তার নামটা ভুলে গেছি। তার জন্যও দুয়া।

কিছু আহলে হাদিস ভাইয়ের নাম এবার বলি। এদের অনেককে যদিও ফিতনাবাজ বলা যায়। কারণ এরা হচ্ছে কট্টর মতবাদ প্রচার করে নিজেদের মতকে দ্বীন বানায়, দলকে দ্বীন বানায়, বাকি সবাইকে বলে ভ্রষ্ট, যারা সবাইকে ভ্রষ্ট বলতে পারে, শুধু তাদেরকে নিশ্চয়ই ফিতনাবাজ বলায় গুনাহ হবে না। আল্লাহ ভালো জানেন।

আহলে হাদিস মতবাদ প্রচারে দীর্ঘসময় ধরে যে নিয়োজিত সে হচ্ছে আবু আনাস। আরও আছে আনিসুর রহমান বা আনিসুল ইসলাম (স্মরণে আসছে না কোনটা), মিল্কি ভাই। মিল্কি ভাইয়ের কাজ কিছুটা উন্নত লেভেলের। উনার কাজ অন্যদের মত স্রেফ গালাগালি না। উনি খুব সুন্দর ভিডিও তৈরি করেন, সালাফিদের সম্পর্কে দারুণ প্রচারণা চালান। আর বেশিরভাগ আহলে হাদিস প্রচারকের অবস্থা যাচ্ছেতাই, মাযহাবকে গালিগালাজ, সবাইকে গালিগালাজ করা তাদের একমাত্র কাজ। অবশ্য আহলে হাদিস ভাইদের একটা বিষয় প্রশংসনীয়, ফেসবুকেও তারা প্রচুর হাদিসের প্রচার চালায়। তাদের এই হাদিস প্রচার চালানোর ফলে মুখে মুখে অনেক হাদিস শেখা হয়ে যায়। মাসউদ শিকদার নামে একজন ভাই আছেন, ইনি অবশ্য এখন চ্যারিটির কাজ বেশি করেন। এতিমদের খাওয়ানো, মাসজিদে দান সদকা করার জন্য তিনি ভাইদের থেকে দান তুলেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। সাইদুর রহমান নামে একজন শাইখ আছেন, তিনি ভিডিও পাবলিশ না করায় তেমন বিখ্যাত নন, তবে তিনি একজন ভালো আলেম। তার মধ্যেও আহলে হাদিস হিসেবে দলাদলির বৈশিষ্ট্য নেই। এই গুণটা তো আহলে হাদিসদের মধ্যে এক বিরন গুণ। যার মধ্যে থাকে সে তো অবশ্যই উত্তম ব্যক্তি।

আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের ছেলে আব্দুল্লাহও একজন নতুন তৈরি হওয়া আলেম ও সালাফিবাদের প্রচারক। তিনি লেখালেখি এবং বক্তৃতায় পিতার মতোই এক্টিভ। অবশ্য আহলে হাদিসদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হলে তিনি এতে ভূমিকা রাখেন। আহলে হাদিসরা আগে বিভক্ত করেছিল হানাফি-সালাফিদের ঐক্য, আর এখন নিজেদেরকেই বিভক্ত করছে। একদল গালিবপন্থী, আরেকদল আকরামুজ্জামানপন্থী, আরেক দল আব্দুর রাজ্জাক পন্থী। সবাইকে আল্লাহ হেদায়েত দিক। আব্দুল্লাহ দেওবন্দে পড়েছিল, মদিনাতেও পড়েছে। খুবই মেধাবী ছেলে। কিন্তু সে নিজেও মাদখালিজমের প্রচার চালায়। তাদের মতবাদ অনুযায়ী সৌদি শাসক সমালোচনার উর্দ্ধে। আহলে হাদিস মতবাদের প্রচারণা চালানো আরও অনেকের কথা সামনে আসবে।

জেনারেল থেকে আসা ভাইদের নিয়ে অনেক আলাপ হল, এবার কওমিদের নিয়ে একটু আলাপ করি। কওমিদের তো এখন অনেক অনেক আইডি। কোনটা থুয়ে কোনটা বলি। প্রথম শুরু করি ইমরান রাইহান দিয়ে। তিনি হচ্ছেন ফেসবুকের পীরসাব (যারা বুঝার বুঝেন, না বুঝলে নাই), তার কাজ ফেসবুকে লাইক ব্যবসা করা। তিনি রাতে ঘুমানোর আগে লাইকের দুকান বন্ধ করার আগে সবার কাছ থেকে অনাদায়ি লাইক কমেন্ট আদায় করার জন্য নির্দেশমুলক পোস্ট দিয়ে থাকেন। এগুলো বুঝাইয়ে বলতে পারবো না, এর চেয়ে বরং অন্য কথা বলি। তিনি ইতিহাস নিয়ে লেখেন, কাট্টাখোট্টা লেখা না, বরং দারুণ সব লেখা, গল্পে গল্পে ইতিহাস বর্ণনা করেন। এছাড়া তার প্রধান কাজ মজার মজার সব স্ট্যাটাস দেয়া এবং বহু বহু হাহা রিয়েক্ট অর্জন করা। তিনি নিজের মতাদর্শিক অবস্থান নিয়ে কখনোই লিখেন না বা প্রকাহ করেন না। এটা তাকে জনপ্রিয় করে রাখার ক্ষেত্রে ফলদায়ক। তার ভাষায়, 'তারিক জামিলের মত ঐক্যের আলাপ নিয়ে সবার দস্তরখানে'। দস্তরখান শব্দটা উল্লেখ করায় মনে পড়ল, ইমরান ভাইয়ের শখ ঘুরে বেড়ানো। এখান থেকে ওখান। ওখান থেকে এখান। এবং সব জায়গায় ঘুরে খুঁজে খুঁজে মানুষের দস্তরখানে বসাও তার একটা শখ। তিনি ভোজনরসিক, তবে অতিভোজন করেন বলে তার ফিগার দেখে মনে হয় না, হয়তো তিনি শুধু তার চোখকে খাওয়ান, পেটকে না।

ইমরান ভাই নিজেকে যামেন শহীদ রহঃ এর ভাবশিষ্য মনে করেন। যামেন শহীদ ছিলেন রসিক মানুষ। কেউ ফতোয়ার জন্য বা ইলমের জন্য বা মুরিদ হতে আসলে অন্যের কাছে পাঠিয়ে দিতেন, আর হুক্কা টানতে চাইলে বসতে বলতেন। ইমরান রাইহান কওমি ফারেগ হলেও ইলমি বা ধর্মতত্ত্ব নিয়ে একদম কলম তুলেন না। তার মূল বিষয় হচ্ছে ইতিহাস, ইথাস থেকে গভীর পাঠ তুলে আনা।

ইমরান ভাই শায়খ তালাতকে নিয়ে হেকিম আনোয়ার আব্দুল্লাহর মুমসেক নিয়ে অনেক এপিসোড লিখেছেন। শায়খ তালাত হচ্ছে ফ্রড মাসুদের ব্যাঙ্গ নাম। আর হেকিম আনোয়ার আব্দুল্লাহ হচ্ছে শায়খ তালাতের অনুসারী, সে হেকিমগিরি করে, মুমসেক নামে তার বানানো একটা ঔষধ আছে।

শায়খ তালাতকে তখনও কওমিরা আকাবির মানে। সেই সময়তেই ইমরান রাইহান ভাইরা এই ভন্ডের প্রকৃত হালত অনুধাবন করতে পারেন এবং তখন থেকে তাকে ট্রল করেন। এরপর তো আস্তে আস্তে সবার কাছেই এই ফ্রডের মুখোশ উন্মোচিত হয়। ফ্রডের বিরুদ্ধে আরেকজন লেখালেখি করতেন, তিনি ট্রলের চেয়ে বিস্তারিত লিখতেন, অবশ্য অনেক পরে শুরু করেছেন, তিনি হচ্ছেন আলি হাসান উসামা। আলি হাসান উসামা এরদোয়ানেরও তীব্র সমালোচনা করতেন। ইমরান ভাইরা অবশ্য সমালোচনার চেয়ে ট্রলে বেশি পারদর্শী ছিলেন। ফলে তিনি এরদোগানের দুইটা অদ্ভুত সুন্দর নাম আবিষ্কার করেন, যেমন উর্দু গান এবং এর দোকান। আরবিতে উচ্চারণ অবশ্য উর্দুগানই হয়।

ইমরান ভাই আরও যাকে নিয়ে ট্রল করেন তিনি হচ্ছেন সাহিত্যিক উবাইদুর রহমান খান নদভী। ইমরান রাইহান ট্রলাট্রলি ছাড়াও যে কাজটা করেন সেটা হচ্ছে সেলফ মার্কেটিং। তিনি নানা জায়গায় ঘুরে বেড়ান, এবং ফটোগ্রাফি করেন। মাঝেমধ্যে নিজেদের ছবিও প্রকাশ করেন এবং বহু হাসির রিয়েক্ট অর্জন করেন।

ইমরান রাইহান ভাইদের একটা টিম আছে, সেটা হচ্ছে মালফুজাত টিম। এই টিমের কাজ হচ্ছে ট্রল আর ফাইজলামি করা। কিন্তু এর সদস্যরা একে আর্টের পর্যায়ে নিয়ে যায়। এই টিমের অনেকের আলোচনা আসবে। এই টিমের একজন জামাত সমর্থন করায় তাকে বের করে দেয়া হয় এবং এ নিয়ে তুমুল বিতর্কও হয়। সেই জামাত সমর্থক হচ্ছেন তানভির ভাই। অবশ্য তিনি টিমের সবারই ভালো বন্ধু ছিলেন। তবু কেন এরুপ করা হল জানি না।

ইমরান রাইহান ভাই ইতিহাস নিয়ে দারুণ সব প্রবন্ধ নিবন্ধ গল্প লিখলেও বই প্রকাশ করতে আগ্রহি নন। এখন পর্যন্ত কোনো বই প্রকাশ করেন নি শুধু দিল্লী ইতিহাসের আয়না নামে একটা অনুবাদ ব্যতীত।

ইমরান ভাই ইতিহাস লেখক হিসেবে যেমন দক্ষ তেমনি রম্য লেখক হিসেবেও। মাঝেমধ্যেই বিয়ে নিয়ে পোস্ট করেন। তার বিয়ে বিষয়ক রম্য লেখাগুলো সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গে সবচেয়ে বেশি লাইক কমেন্ট অর্জন করে। তার বেশিরভাগ বিয়ের গল্প তার হবু শ্বশুরের সাথে সম্পর্কিত।

ইমরান ভাই সম্পর্কে আপাতত এইখানেই অফ যাই। উনার বন্ধু দাদা ইসহাক নিয়ে একটু বলি। দাদা ইসহাক ভাইয়ের শরীর দর্শন হয়েছে ইমরান ভাইয়ের আইডিতে প্রকাশিত বিভিন্ন গ্রুপ ফটোতে। গ্রুপ ফটো দিলেও সবার চোখ যায় দাদা ইসহাক ভাইয়ের ছবিতে। কেন যায় সেটা বললাম না, শুধু বুঝে নিন অনেকজন ছবিতে থাকলেও দাদার দিকে সবার চোখ যায় আগে। উনিও ইমরান ভাইয়ের মত সবার দস্তরখানে উপস্থিত থাকেন। তার প্রোফাইল আইডির ছবিতে একটা পাতলা বাচ্চা কিছু খাচ্ছে, এই পিক তিনি মনে হয় কখনো পরিবর্তন করেন নি। দাদা ভাইয়ের কাজ হচ্ছে ইমরান ভাই ও তাদের টিমের সাথে ঘুরে বেড়ানো। আল্লাহ তার ভালো করুন এবং আর যেন মোটা না করেন।

দাদার প্রোফাইলের বাচ্চার ছবির কথা বলতে গিয়ে মনে পড়ল আরেকজন ভাইয়ের প্রোফাইলের বাচ্চার ছবির কথা। অবশ্য সেই বাচ্চা ঘাড় ব্যাকা করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই ছবি নাকি ভাইয়ের খুব ভালো লাগে। ভাইয়ের নাম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। ইনি হচ্ছে বাংলাদেশে রুকইয়া চর্চার ব্যাপক করে তুলতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। রুকইয়া নিয়ে এক খানা বইও লিখেছেন। রুকইয়াহ সাপোর্ট গ্রুপের মাধ্যমে বিনা মূল্যে মানুষকে সাহায্য করে যাচ্ছেন, মানুষের জিন, যাদু, নজর ইত্যাদি সমসয়ার প্রেস্ক্রিপশন দিচ্ছেন। আল্লাহ তাকে ও তার টিমকে উত্তম প্রতিদান দিন। অবশ্য গ্রুপ নিয়ে পরে এক ডেন্টিস্ট দম্পতির সাথে তার ও তার টিমের দ্বন্দ্ব হয়। সেই ডেন্টিস্ট দম্পতি সম্পর্কেও আলোচনা করব।

ডেন্টিস্ট দম্পতি হচ্ছে সাইফুল আলম রনি ভাই ও তার আহলিয়া। উভয়ে ডেন্টিস্ট। রনি ভাইয়ের একটা হিজামা কাপিং সেন্টার আছে। তার আহলিয়ার নাম ইফফাত সাইফুল্লাহ। রনি ভাই হিজামা নিয়েই মূলত কাজ করেন। তিনি সর্বদা পাগড়ি পরিধান করে থাকেন, মনে হয় তাবলীগ ব্যাকগ্রাউন্ড। আল্লাহ উভয়কে ভালো রাখুন।

বলছিলাম কওমি সেলেবদের নিয়ে। ইমরান রাইহান ভাইয়ের মত আরেকজন রম্য লেখক হচ্ছেন সাইমুম সাদী, যদিও তার আসল নাম রুহুল আমীন সাদী। সাইমুম সাদী ভাই হুমায়ুনের মত রম্য লিখলেও তিনি একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতা। তার রম্য অরম্য প্রায় লেখাতেই ঐক্যের কথা বলেন, মুসলিমদের ঐক্যের জন্য, ইসলামী সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যের জন্য লিখেন। তিনি সাইমুমের মত একটি সিরিজ লিখছেন যেটা গার্ডিয়ান থেকে আসবে। আল্লাহ তার কলমকে ইসলামের পথে কাজে লাগান।

এবার বোধয় শরীফ আবু হায়াত অপু ভাই সম্পর্কে বলার সময় এসেছে। তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশে দীনী ব্যবসার পাইওনিয়ার। অনেকেই তো আছে যারা দ্বীনদার এবং ব্যবসায়ী। কিন্তু অপু ভাই তাদের থেকে আলাদা এবং দ্বীনদারীতাকে ব্যবসার ভিত্তি বানিয়ে এটার প্রতি মানুষকে উৎসাহ দিয়েছেন, হালাল আয়ের পক্ষেও তিনি ব্যাপক ক্যাম্পেইন চালান। তার সরোবর হচ্ছে একটা অসাধারণ দীনী উদ্যোগ। তিনি দুই খানা দারুণ জীবনবোধের পুস্তকের রচয়িতা। এক সময় তার সরোবর প্রকাশনীও ছিল। এখন কোন প্রকাশনী চালান জানি না, তবে কোনো একটার সাথে হয়তো জড়িত আছেন। তিনি বিদেশে পড়াশোনা করেছেন। হেদায়েত লাভের পর থেকে ইসলামের জন্য কাজ করতে থাকেন। এমনিতে তিনি আহলে হাদিস, তবে প্রচলিত যেসব আহলে হাদিসদের দেখি, তিনি তেমন নন, তিনি সালাফি আকিদার এবং মাঞ্জুরে ইলাহির মানহাজ অনুসরণ করেন। এই মানহাজে বাড়াবাড়ি নেই, আবার নেই সৌদি আরবের দালালি, দলাদলিও নেই।

অপু ভাইয়ের তিন ছেলে। তার আহলিয়া হচ্ছেন সিহিন্থাহ শরীফাহ আপু যিনি আগে খ্রিস্টান ছিলেন। সিহিন্থাহ আপু এবং তার বোন নাইলাহ আমাতুল্লাহ, দুই বোন মিলে তাদের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী নিয়ে বই লিখেছেন যা বইয়ের জগতে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। আল্লাহ যেন অপু ভাইয়ের পরিবারকে হেদায়েতের উপর রাখেন, সুস্থ রাখেন।

সিহিন্থাহ আপুর বাবা ইসলাম গ্রহণ করলেও তার মা ও ভাই এখনো মুসলিম হন নি। তাদের হেদায়েতের জন্য দুয়া করতে ভুলবেন না।

অপু ভাই সরোবর থেকে অনেক প্রোডাক্ট বের করেছেন। অপু ভাইয়ের সাথে আরও যে দুইটা নাম এসে পড়ে তা হচ্ছে আরমান ইবনে সুলাইমান এবং সরোয়ার ইবনে আফসার। ইনারা দুইজনই সরোবরের সাথে আছেন। আরমান ভাই তো পুরা লিজেন্ড। তিনি হচ্ছেন জাত সাহিত্যিক। অসাহিত্যিকদের বইয়ের ভিড়ে তার বই বের হয় না, তবু তার পোস্টগুলা পড়লেই তার লেখার হাত বোঝা যায়। আরমান ভাই বিবাহিত, হালকা পাতলা গড়নের এবং খুবই সাহিত্যমোদী মানুষ। আল্লাহ তাদেরকে ভালো ও সুস্থ রাখুন, হেদায়েতের উপর রাখুন।

এবার মাসুদ শরীফ ভাইয়ের কথা বলি, ইনি প্রফেশনাল অনুবাদক, তার অনুবাদ সবসময়ই হিট হয়, বেস্টসেলার হয়। তার একটা বই তো ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত হয়েছিল। তিনিও অপু ভাই, আরমান ভাইদের মত সালাফি আকিদার অনুসারী, তবে তার সাথে আবার ওইসব ফিরকাবাজ ফিতনাবাজ আহলে হাদিসদের সম্পর্ক নেই। মাসুদ শরীফ ভাই ভদ্র ও জেনারেল শিক্ষিত। তিনি বিবাহিত ও সন্তানের পিতা। সিয়ানের সাথে ছিলেন, এখনো সেখানে আছেন কিনা জানি না। তবে অনুবাদ আর সম্পাদনায় পুরোপুরি সময় দিচ্ছেন। তার জন্যই দোয়া।

আরও কত দীনী ভাইয়ের নাম মনে আসছে। একজন দীনী ভাইয়ের নাম তাওসিফ আহমেদ সিদ্দিকি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়য়ের লেকচারার, আল নাহিয়ান খান জিশান নামে একজন ভাই আছেন। তওহিদি তিয়াশ নামে একজন ইঞ্জিয়ার ভাই আছেন। রায়হান কবির ভাই যিনি সাসার প্রিয় ভাতিজা, সবজায়গায় তিনি খাওয়া দাওয়া বিষয়ক কমেন্ট করেন, ইনার রিহলাহ নামে একটা প্রকাশনী আছে। মীর সজিব ভাইয়ের নাম পড়ছে, যিনি বহুদিন অনলাইনে একটিভ নেই, তার একটা উদ্যোগ ছিল ইসলামী বইয়ের অনলাইন লাইব্রেরি তৈরি করা, যেটা মানুষকে বই পৌঁছে দিত, অবশ্য এটার নাম মনে পড়ছে না, এটার কার্যক্রম চলে কিনা সেটাও জানি না। আবু জুওয়াইনাহ ভাই আছেন, যিনি একজন লেকচারার, তিনিও মাঝেমধ্যে দারুণ সব পোস্ট দেন। আবু জুওয়াইনাহ নাম বলতে গিয়ে মনে পড়ল আবু সুমাইয়া ভাইয়ের কথা যিনি আতরের ব্যবসা করেন, আল্লাহ ব্যবসায় বারাকাহ দিন। আতরসহ টুপিটাপির ব্যবসা করেন আরেকজন ভাই ইসমাইল হুসাইন, তার অবশ্য কওমিদের সাথে লিঙ্ক বেশি, তিনি ফানি পোস্ট দেয়া ছাড়াও বিভিন্ন উপায়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা মাবিঈ শপের বিজ্ঞাপন দেন। আরেকজন ভাই আছেন যিনি আতর বনিকের সাথে সংযুক্ত, আবু সাওদাহ ভাই, তার আসল নাম ভুলে গেছি, ভুল না করলে তিনি হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যিনি আগে গান-গিটার আর আল্ট্রামর্ডান লাইফ লিড করতেন, হেদায়েতের পর দ্বীনের জন্য জান মাল দেয়া তার জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, আল্লাহ কবুল করুন। মুহাম্মাদ কাউসারুল আলম ভাইয়ের নাম পড়ছে, ইনি আইটি বিশেষজ্ঞ, দারুল ওয়াফা নামে সম্প্রতি একটি প্রকাশনি খুলেছেন, তুফায়েল খান ভাইয়ের সংস্পর্শে এসে রুকিয়া শেখা ও চর্চা শুরু করেন, আল্লাহ তাকে যোগ্য রাকি হওয়ার তৌফিক দিন। তুফায়েল খান ভাই হচ্ছেন জেনারেলের, কিন্তু ইনি রুকইয়া প্রাক্টিসে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভাই থেকেও বেশি দক্ষ, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভাই মূলত আলিম এবং থিওরিতে উনি পক্ক, কিন্তু তুফায়েল ভাইয়ের প্র্যাকটিস বেশি, বিভিন্ন কেস স্টাদি নিয়ে উনি পোস্ট করেন, উনার এক পুত্র আছেন, উনি পাতলা গড়নের, কিন্তু জিনদের জন্য উনি যেন জম, জিনদের হত্যা, শায়েস্তা নানা কাজ করে থাকেন। আরেকজন রাকি ভাইয়ের নাম মনে পড়ছে, তিনি রাকি আব্দুস সালাম। এছাড়াও রুকিয়াহ সাপোর্ট গ্রুপে রাফায়েল হাসান, আনোয়াহ শাহ (এই ভাই ভালো লেখকও), আরিফুর রহমান, শাহরিয়ার কাউসার তৌহিদ (জাপানে থাকেন), নাইম রহমান, ফরহাদ হুসাইন এরকম অনেক ভাই কাজ করেন। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভাইয়ের একজন ফুফুও এই বিষয়ে খুব ভালো জানেন তার নাম মাহফুজা বিনতে মুনির ওরফে উম্মে আব্দুল্লাহ।

এছাড়াও আরও বহু ভাইয়ের নাম মনে পড়ছে, কজনের টা বলে শেষ করতে পারি? নাফিস রায়হান রিদিত ভাই, যিনি খুবই আধুনিকমনা, এবং ভালো মুসলিমও, আল্লাহ তাকে সঠিক পথে রাখুন। আনা ফুলান ভাই যিনি খুব মেধাবী মানুষ, তার আসল নাম জানি না। আরও আছেন মোস্তফা আল মাইনুল ইসলাম ভাই। ফয়সাল ফারদিন ভাইয়ের নাম মনে পড়ছে, ফয়সাল দিয়ে আরেক ভাই হচ্ছেন ফয়সাল সোহান। তুরস্কে এক ভাই থাকেন, শাহনেওয়াজ শামিম। মোহাম্মদ তাওসিফ সালাম নামে একজন ভাই আছেন, ইনি খুবই মেধাবী মানুষ, তিনি সম্ভবত একজন বিএনপি নেতার পুত্র, তাওসিফ সালাম ভাই খুবই ভালো লেখেন, তার সবচেয়ে ভালো শভাব হচ্ছে কোথাও কমেন্ট করলেও তিনি সালাম দিয়ে কথা শুরু করেন, সালামের চর্চা তার থেকে শেখার আছে। নাজমুস সাকিব নামে এক ভাইয়ের নাম মনে আসছে, ইনি সালাফি, কিছুটা এন্টিজিহাদি হওয়ায় জিহাদিদের খোঁচাতে তিনি পছন্দ করেন, তিনিও ভালো মানুষ, সাসার মত তিনিও নাসা উপাধি পেয়েছিলেন। রাজিব হাসান ভাইয়ের নাম মনে পড়ছে, যিনি অতি সম্প্রতি দুয়া কবুলের গল্পগুলো নামে একটি বই বের করেছেন, অনুবাদ বোধয়, তিনিও খুব ভালো লেখেন, তিনিও সালাফি মানহাজের অনুসারী। ইশ্তিয়াক আহমেদ তুষার ভাইয়ের কথা তো বলাই হয় নি, তিনি কুরআন হাদিসের কোট সম্বলিত ছবি পোস্ট করে থাকেন, ইমরান রায়হান ভাইদের সার্কেলের মধ্যেও তাকে পাওয়া যায়। ইমরান রায়হান ভাইদের গ্রুপের মধ্যে আরেকজন ভাই আছেন তিনি হচ্ছেন হানিফ বিন সোহরাব ভাই, তিনি সবসময় পারবারিক জীবন সম্পর্কিত লেখা লিখে থাকেন, যদিও তিনি বিবাহিত কিনা জানি না। আরেকজন ভাই আছেন যিনি পারবিবারিক জীবন বিষয়ে লেখালেখি করেন, তিনি হচ্ছেন আল মুজাহিদ আরমান ভাই, তিনি অনেকটা মাইনুদ্দিন ভাইদের মধ্যে মাযহাবি অবস্থানে ভারসাম্য রক্ষা করে থাকেন। পারিবারিক জীবন বিষয়ে অনেকেই মাওয়াদ্দাহ গ্রুপে লেখালেখি করেন। গ্রুপ নিয়ে একটা আলাদা আলোচনা সামনে আনব ইনশাআল্লাহ।

মিনহাজুল আই (ইসলাম?) মাহিম ভাইয়ের নাম মনে পড়ছে যিনি ফান পোস্ট দিয়ে আমাদের হার্ট সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখেন, তার একমাত্র কাজ ফেসবুকে মানুষকে হাসানো। অবশ্য তিনি ফেসবুক থেকে বিস্রামে গেলেও আরেকজন ভাই আছেন যিনি আমাদের হাসিয়ে থাকেন, তিনি হচ্ছেন ফাহদ মাহফুজুর রহমান ভাই, ইনি আবার একজন ডাক্তার। মিসবাহ মাহিনের কথা আগে বলেছিলাম বোধহয়, আবার বলি, তিনি খুবই ভালো লেখালেখি করেন। তানভির রাজ ভাইয়ের কথা তো বলাই হয় নি, তার সাথে ইমরান ভাইদের ভালো সম্পর্ক আছে, তানভির রাজ ভাইয়ের রিজওয়ানুল কবির সানিন ভাই এবং প্রফেসর হযরতদের সাথে কোনো না কোনো লিঙ্ক আছে, তিনি প্রফেসর হযরতের ভাবশিষ্য, তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। চুয়েটের এক ভাই আছেন, ফারহান সাদেক। মোহাম্মদ রাকিব ইবনে শিরাজ ভাইয়ের নাম মনে পড়ছে, ইনি ভালো লেখা ছাড়াও ভালো কথাও বলেন, নাস্তিকদের সাথে লাইভে তর্কও করেছেন, তিনি অভিজাত ঘরের সন্তান, খুবই স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড কথা বলেন, কম বয়সে বিয়ে করেন। অবেক্ষমান প্রুফরিডার ভাইয়ের আসল নাম না জানলেও তিনি উমেদের সাথে জড়িত থেকে খিদমত করে যাচ্ছেন, তাবলীগের সাথী ছিলেন। খিদমতের নাম নিতেই খিদমাহ শপের নাম মনে পড়ল। খিদমাহ শপ একটি জনপ্রিয় দীনী অনলাইন শপ, বাংলাবাজার এদের দোকান আছে, মালিকের নাম জানি না, তবে রিভিউ অব ইসলামিক বুক্স পেজ থেকে প্রতি সপ্তাহে রিভিউএর পুরষ্কার প্রদান করত সেই আয়োজনে খিদমাহ শপ বই পুছে দিত, খুব ভালো একটা আয়োজন ছিল যেটা পরে বন্ধ হয়ে যায়। এই আয়োজনের পিছনে মাকসুদ ভাই ছিলেন, এতো সুন্দর আয়োজন কেন বন্ধ হল জানি না।

ইফতেখার সিফাত ভাইয়ের কথা বলা হয় নি যিনি আসিফ আদনান ভাইয়ের আহ্বানে ইসলামী ব্যাংকঃ ভুল প্রশ্নের ভুল উত্তর বইয়ের অনুবাদ করেছিলেন, ইফতেখার সিফাত ভাইও আসিফ আদনান ভাইয়ের মানহাজের অনুসারী, তিনিও ভালো লেখেন। শিহাবুদ্দিন ইবনে তোফায়েল নামে একজন ভাই আছেন, মাহাজে সালাফি, মাইনুদ্দিন ভাইদের মতন ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান। আবু সামিহা সিরাজুল ইসলাম ভাইয়ের কথা বলা হয় নি, ইনি হচ্ছেন সাবেক জামা'আতি, এবং বর্তমানে দলের চেয়ে হকের উপর থাকাকে বেশি প্রাধান্য দেন, দূর প্রবাসে থাকেন, ভালো আলেম। আল্লাহ সকল ভাইয়ের মঙ্গল করুন।

জামাতের কথা বলতেই কয়েকজন জামাত-ঘেশা ফেবু সেলেবের নাম স্মরণ হল, আমান আব্দুহু নামে এক অতি মর্ডানিস্ট জামাতি আছে, ফাইজলামি করা যার একমাত্র কাজ, অথবা অন্য কোনো দলের পাছায় আঙুল ঢুকানো। ফাইজলামি করেন আরেকজন হচ্ছেন কাউসার আলম ভাই, প্রোফাইল পিকটা তো দারুণ, একটা বাচ্চা মেয়ে, কিন্তু তার পোস্টগুলো সবই হয় ট্রল পোস্ট। ইদানিং বহু দিন পর পর এক দুই খান পোস্ট দেন, তার সবচেয়ে জনপ্রিয় পোস্ট হচ্ছে মাশরাফির নামে বিখ্যাত খেলোয়াড়দের জালকথা তৈরি করে মাশরাফির গুরুত্ব বুঝিয়ে একটা ট্রল পোস্ট করা, কিন্তু আমাদের আশ্চর্য এই মিডিয়া জগত এই পোস্ট লুফে নিল, এগুলো পত্রিকায় ছাপিয়েও দিল, হায় আমাদের সাংবাদিকতা। চিন্তিত চিন্তাফা নামে এক আফার কথা স্মরণ হচ্ছে, আফাও বেশ মজার পোস্ট দেন, নারীবাদ নিয়েও আফা ভালো পোস্ট দেন। আফা আমিই দেশপ্রেমিক নামেও একটা আইডি ছিল। জামাতিদের পক্ষে প্রতিবাদ মুলক পোস্ট দেয় ও সমালোচনা করে এমন একটি আইডি হচ্ছে কমরেড মাহমুদ। অনিরুদ্ধ অনির্বাণ নামে এক রিফর্মিস্ট আছে। আলি লা পইন্তের কথাও উল্লেখ করা যায়। আবু ইয়ালা নামে তাকিউদ্দিন নাবহানির এক অনুসারী ফেসবুকে ঘুরে বেড়ায়। জাবাল আত তারিক ভাই আছেন, যিনি প্রবাসে পিএইচডি করছেন, তিনি ভালো লেখেন জামাতের পক্ষে। রিফাত চৌধুরী ভাই তো সংস্কারপন্থীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। কাউস কাই, যিনি সেকুলাঙ্গারদের বই থেকে তাদের চরিত্র তুলে ধরেন। নুরুল আহাদ ভাই যিনি জামাতের সমর্থক, কয়েকটা গ্রুপ খুলে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন, কিন্তু ইনি জামাত বাদে সব দলের প্রতি চেতা, সালাফি তো কথাই নাই, কওমিদেরও ছাড়েন না, চিবিয়ে খান পারলে। উনার গ্রুপে অনেক জামাতির আনাগোনা দেখা যায়। এরদোয়ান দ্যা চেঞ্জমেকার এর লেখকও জামাতি। গার্ডিয়ানের প্রকাশক নূর মোহাম্মদ ভাইও জামাত নেতার সন্তান, ইনি খুব একটিভ মানুষ, তার এক্টিভিটি অবাক করার মত, অনুপ্রেরণা দেয়ার মত। এডভোকেট ভাই রালফ রোভারের কথা তো বলাই হয় নি, তিনি ইসলামপন্থীদের সমালোচনা করে মজা পান। আতিফ আবু বকর, সবুজ কবির এদের নাম বলা হয়নি। এইচ আল বান্না নামেও এক জামাতি রিফর্মিস্ট আছে। জামাতিদের অধিকাংশই কেন জানি একটু সমস্যা যুক্ত হয়। এটা কোনো বিদ্বেষপ্রসূত মন্তব্য নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা। রাজিব খাজা নামে এক সুফিপন্থী, বিদ'আতপন্থী লোক আছে যিনি জামাতের মধ্যে মিশে থাকে এবং খুব পরিচিত একজন এক্টিভিস্ট।

জামাতি আরও ভাইদের নাম মনে পরলে বলব।

আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব ভাই কওমি ব্যাকগ্রাউন্ডের ঢাবির ছাত্র, একজন কবি, তার সম্পর্কে কি বলব, তিনি তো এমনিতেই বিখ্যাত, গদ্য পদ্য দুটাই দারুণ লেখেন।

এস এম নাহিদ হাসান উস্তাযের কথা বলা হয়নি, আরবি ভাষা শিক্ষা নিয়ে বই লিখেছেন। সাইয়েদ হাসান ভাইয়ের কথাও বলা হয় নি, তার কাজ সবার ভালো ভালো পোস্ট ও লেখা শেয়ার করা। ইমরান রায়হান ভাইদের সার্কেলেও তাকে দেখা যায়। আতাউল্লাহ রাফি ভাই যিনি চট্টগ্রামের সন্তান, হারুন ইযহার তার শাইখ, তিনি অবশ্য জেনারেল স্টুডেন্ট। রাফি ভাইয়ের মত হারুন ইযহারের আরেকজন শিষ্য হচ্ছেন রায়হান মাহমুদ ভাই, ইনিও জেনারেলের। ফারহান আল হানাফি ভাইয়ের কথা বলা যায়, ইনি রায়হান মাহমুদ ভাইয়ের বন্ধু। ইমতিয়াজ ভাই যিনি দেশের বাইরে থাকেন, কাফের দেশে থেকেও তার ইসলামের বুঝ যথেষ্ট আছে। বদরুদ্দোজা টিটু ভাই যিনি পাঞ্জাবিওয়ালার মালিক। মাহফুজ আলামিন ভাই খুব ভালো লেখেন, উনি ভালো কবিতাও লেখেন। কবির আনোয়ার ভাইয়ের কথা বলা হয় নি, তিনি সালাফি মানহাজের অনুসারী এবং শাইখ মনজুরে এলাহির শিষ্য। ভাইয়ের আহলিয়া নিশাত তাম্মিম আপুও ভালো লেখেন, নিশাত আপু তাবলীগ ব্যাকগ্রাউন্ডের এবং ডাক্তার। শহিদুর রহমান শহিদ ভাই আছেন যিনি ফান পোস্ট করে মজা দেন, ইমরান ভাইদের সাথে তার লিঙ্ক আছে, উনি কওমি ব্যাকগ্রাউন্ড কিনা জানি না। মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভাই ভালো লিখেন, অনুবাদও করেন। আশরাফুল আলম সাকিফ, ইনি ডাক্তার, একটি বইও লিখেছেন নাস্তিকতার খণ্ডনে, তবে ডাক্তারি পেশা নিয়ে উনি খুবই সেন্সিটিভ, অর্থাৎ ডাক্তারদের বাজে বললেই চেতে যান। অবশ্য সবাই তার পেশার প্রতি নিবেদিত থাকেন, এজন্যই তো শক্তি ভাই ডাক্তারদের নিয়ে একটা সিরিজ লিখেছিলেন। সোহাইল দউলাহ ভাই আছেন, আরও আছেন দরিয়ার মাঝি নামের ভাই, মাহমুদুল হাসান ভাউ। ভিকিজ মব নামে একজন আছেন, তিনিও ফান পোস্ট দিয়ে থাকেন, একটা পেজও ছিল তার, সবাই তাকে স্যার ভিকিজ মব বলে, ভাইয়ের আসল নাম জেনেছিলাম কিন্তু মনে নাই। তাসনিম বিন সেকেন্দার ভাই আছেন যিনি ক্রিকেটপ্রেমি, এবং বইপ্রেমিকও। গাজি ভাই, নাসিফ আব্দুল্লাহ, আবু সাইদ ইবনে মুক্তার, মোহাম্মদ এম রহমান, ইমরান হোসাইন (রম্যলেখক হিসেবে খুব দারুণ), আমিরুল ইসলাম অমি, মুহাম্মাদ ইফফাত মান্নান (লেখালেখি করেন), হেল্পফুল শপের নুরুদ্দিন খন্দকার, আদনান মুসলিম, মুহাম্মাদ নাফিস নাওয়ার (লেখেন ভালো), নাফিস শাহরিয়ার (তিনিও লেখেন, কুয়েটের ছাত্র, শিহাব তুহিনের বন্ধু), আবু হাফসা খান, মোহাম্মদ শিবলু (অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন), সাজ্জাদ এস পারভেজ, বুয়েটের আয়াতুল্লাহ নাওয়াজ, মুহাম্মাদ ইমরান (ইমরান রায়হান ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক আছে), গাজি মুহাম্মাদ তানজিল (একটা দাওয়াতি বইও লিখেছেন), তানভির আহমাদ ফাহিম, সাজ্জাদুর রহমান শাওন (নাসিহার এডমিন), রাইহান কাদেরি, মুহাম্মাদ আফসার, সরোবরের আসিফ আশকার, জুবায়ের হোসাইন (ভাল লেখেন), শেখ আসিফ, গোলাম মুক্তাদির (গল্পকার), ইউসুফ আহমেদ, আহমেদ শাফি, কলামিস্ট হুজুর (খুব ভালো লেখেন), তান্সির আলম, মাহমুদুল হাসান মুরাদ (ইনি কাফেরদের দেশে থাকার প্রচণ্ড বিরোধী অবশ্য নিজেই তিনি লন্ডন থাকেন), শরীফ সাইদুর, সালেহ রেজা (শরীফ সাইদুর ও সালেহ রেজা দুইজনই ইমরান রায়হান ভাইয়ের সাথে সম্পর্কিত)। ইমরান রায়হান ভাইয়ের সাথে সম্পর্কিত আরেকজনের নাম তাকরিম চৌধুরী ভাই, সম্ভবত সিলেটের সন্তান, কওমি ব্যাকগ্রাউন্ড। আবু মুহাম্মাদ, আনাস উনাইস, ইয়াসিন, (এনারা হচ্ছেন সমকালীনের সাথে সংযুক্ত), এছাড়া আরও কত ভাইয়ের নাম মনে আসছে। ইসমাইল ভাই সমর্পণের, মোদাসসের বিল্লাহ তিশাদ, মুহাম্মাদ আলিমুদ্দিন, জোশগিয়ারের মালিক সাগর হাসনাথ, ইয়াহিয়া আমিন, নাজমুস সাকিব নির্ঝর, জামান মোঃ আসাদুজ বা হিসাব মুযাইয়্যাফকে কে না চিনে, কিন্তু তার আসল নাম এখনো জানা যায় না, তাঞ্জিন দোহাই তিনি কিনা আমি জানি না, তবে ইফতেখার জামিলদের সাথে তাদের লিঙ্ক আছে। ইফতেখার জামিল হচ্ছেন কওমির একজন চিন্তক আলিম, লেখক। কওমির চিন্তকদের মধ্যে শরীফ মুহাম্মাদ, মুসা আল হাফিজ আরও অনেকে আছেন। রিজওয়ানুল কবির ভাই আর শিহাব তুহিন ভাই নিয়ে আলাদা প্যারাগ্রাফ লেখা দরকার ছিল, কিন্তু হাত আর চলছে না। তাই সংক্ষেপে বলি। শিহাব ভাই কুয়েটের ছাত্র, বাবা মারা গেছেন ছোটবেলাতেই, জবরদস্ত লেখক, বই বেরিয়েছে একটি, তার লেখার বিষয় দাওয়াতি, তার বেশিরভাগ লেখার থিম প্রেম বিয়ে। রিজওয়ানুল কবির ভাই হাফেয এবং একজন দাঈ, তার লেখা প্রচণ্ড হৃদয়ছোঁয়া, তার পিতা অধ্যাপক জনাব লুতফুল কবির, প্রফেসর হযরতদের কাছের লোক খুব। প্রফেসর হযরতের আরেকজন কাছের লোক আদম আলি সাহেব। ইনি প্রফেসর হযরতের উপর অনেক কাজ করেছেন, করছেন। জোজন আরিফ ভাই তার সাহিত্যের প্রশংসা করে বলেছেন, এতো প্রতিভাবান সাহিত্যিক থাকতে আমাদের সেকুলার সাহিত্যিকদের বই পড়ার প্রয়োজন আছে কি? আমিও এটাই বলি। আমাদের সাইমুম সাদী, আব্দুল্লাহ আল মুনিরের মত মেধাবী সাহিত্যিক থাকতে হুমায়ূন কিংবা আনিসুল হকদের দরকার আছে কি?

রুম্মান আকবর ভাইয়ের কথা বলা যায়, অবশ্য উনি কোনো দীনী ব্যক্তিত্ব নন, তবে তিনি একজন ভালো মুসলিম। তিনি ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন। ইতিহাসবিদ হিসেবে অনেক উচুমানের জ্ঞানী। বাংলাদেশের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ মাহমুদুল হাসানের ছাত্র। তিনি প্রচুর লিখেছেন এবং সব লেখা অনলাইনে উন্মুক্ত করে রেখেছেন। একবার তার লেখা থেকে ভাব নিয়ে এক কওমি লেখক এক বই লিখে যা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বাধে। সে বই প্রকাশ করে কালান্তর। রুম্মান আকবর ভাই তাদেরকে চোর বলে গালাগালি করেন। এমনিতে রুম্মান ভাই রাগি আর বদমেজাজি, একটুতেই রেগে যান। সেই বইটা হচ্ছে কালান্তর থেকে প্রকাশিত দ্যা প্যান্থার। বাইবার্সের ইতিহাস লিখেছিলেন রুম্মান ভাই এক পেজে, সেখান থেকে কিছু অংশ এবং কিছু চিন্তা নিয়ে ইমরান আহমেদ নামে এক ব্যক্তি বাইবার্সের জীবনী লিখেছিলেন, এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়, শেষে দেখা গেল আসলেই ইমরান সাহেব রুম্মান ভাইয়ের লেখার ভাব চুরি করেছেন, যেটা না করলেও পারতেন। তবে লেখা পুরোপুরি এক না, ইমরান সাহেব চতুরতার সাথে রুম্মান ভাইয়ের লেখাকে একটু এদিক সেদিক করে প্রকাশ করেন। অবশ্য রুম্মান ভাই এমনিতেই চেতা, তিনি নানা রকম বাজে কথা বলেছেন ওদের। রুম্মান ভাই ইসলামকে ভালোবাসেন। তিনি শিয়াদের বিপক্ষেও লিখেছেন। তিনি জাকির নায়েকের বিরুদ্ধেও পোস্ট লিখেছেন। কথিত হুজুরদের উপরও তিনি মাঝেমধ্যে চটে যান। কিন্তু তিনি ইসলামের প্রতি খুব ভালোবাসা রাখেন। কিন্তু ইতিহাস গবেষণায় তার কাজ একেবারেই এপিক। আল্লাহ তাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার তৌফিক দান করুন। তিনি বিবাহিত। তিনি সবসময় নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করেন। বানানের ক্ষেত্রে তার লেখার রীতি একেবারেই অন্যরকম, তিনি আরবি শব্দের আরবি বানানের অনুগামী বানান লিখেন। যেমন আব্দুর রহমানকে লিখেন আব্দ আর রাহমান। এরকম।

আল ইমরান ভাই যিনি ট্রুথ ইস স্ট্রেঞ্জার দেন ফিকশন পেজটা চালান। তিনি এন্টি মেইন্সট্রিম সাইন্স নিয়ে কাজ করেন। এই নিয়ে প্রচুর লিখেছেন। কিন্তু তার আইডি, পেজ এসব প্রায়ই ডিজেবল করে দেয়া হয়। তিনি সাইন্সের বিরুদ্ধে লিখেন এবং মুসলিমদেরকে কাফেরদের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকার জন্য উৎসাহ যোগান। ইমরান নজরের ভক্তদের নিয়ে বলা হয় নি। ইমরান নজরের ভক্তদের মধ্যে বশির মাহমুদ ইলিয়াস আছে, ইনি ইমরান নজরের মতবাদের সবচেয়ে বড় প্রচারক। আবার কায়সার আহমেদ নামে একজন ভাই আছেন, আবু মুন্তাহা ভাই আছেন। এমনকি আমাদের প্রিয় তোয়াহা আকবর ভাইও কিছুটা ইমরান নজরীয় চিন্তায় প্রভাবিত। ইমরান নজরের বিরুদ্ধে রাকি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভাই কাজ করেছেন।

আরও অনেকের নাম এখনো বলা হয় নি, কিন্তু আমি ক্লান্ত, তাই এক টানে সব নাম বলে যাব, ইকবাল মাহমুদ শোভন, ইস্তিয়াক আহমেদ সাইফ, অরিজিত রায় (নওমুসলিম, ইন্ডিয়ান), সুজিত সুচন্দন (নওমুসলিম), আব্দুল আজিজ (নওমুসলিম ও দাঈ), ওসমান রউফ, ওসমান হারুন সানি, মুহাম্মাদ আল ইমরান নাইম (একটি মাত্রিমনি চালান), আবু মুস'আব, তানভির পারফেকশনিস্ট, রেদওয়ান কবির শুভ্র, রাহাত বিন ইসলাম (আরবি ভাষা শিক্ষক), তাঞ্জিম ফারহাত, সুতীর্থ মুখার্জী (নওমুসলিম), কাওসার রেজওয়ান রিকো, হামিদ সিরাজি (অনুবাদক), জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, আবির খৈয়ম ইহসান, আব্দুর রহমান মুয়ায, হোসাইন শাকিল, আমজাদ হোসাইন, তারিকুল আজিম, মোস্তাফিজুর রহমান তারেক, আহমেদ ইউনুস, মোক্তাদির বিল্লাহ হাসিব, তালহা বিন ইউসুফ, মামুনুর রশীদ কাজল, রাকিব আল হাসান, হাফিয আল মুনাদি, জিহাদ বিন মহিন, হাসান ফারদিন নাহিন, আব্দুল্লাহ আহনাফ, সাজিদ বিন আব্দুল্লাহ, নাবিউল করিম সমাজ (জমিদার পরিবারের সন্তান), সাঞ্জির হাবিব (এনার কাজ ছোট ছোট পোস্ট দেয়া, আর ভিন্ন মতের কাউকে সহ্য করতে না পারা, তাই সবাইকে ব্লক দিয়ে রাখেন, তিনি এন্টি-জিহাদি, তাই জিহাদিরা তাকে দেখতে পারেনা, জিহাদিদের দাবি তিনি একসময় আইএস সাপোর্ট করতেন), হাফিজ মুহাম্মাদ, তাহমিদ হুসাইন পিয়াস, তানভির আহমেদ আরেজেল (উনি তো এখন আর লেখেন না), এজাজ কবির, মুহাম্মাদ মাজহার (ইবনু মাজহার এবং উনি এক না সম্ভবত), আব্রাহামেট্রি (মাসুদুল আলম, স্যার, সালাফি), মুগণিউর রহমান তাবরিজ (লেখক), জাফর বিপি (লেখক), আবু জুওয়াইরিয়া, সালাফি সুফি, আলি মোস্তফা (ভারত, লেখক), তউসিফ বিন পারভেস, জোভিয়াল আনাম, আজহার মাহমুদ, সাব্বির আহমেদ, হাফিজ আসাদ, ইবনে মোস্তফা, জাকারিয়া মাসুদ আরও কত নাম জানা-অজানা ভাই যে আছে। মাহের খান (সাবেক ব্যান্ড শিল্পী) ও মাহমুদুল হাসান সোহাগ (রকমারির প্রধান, উদ্ভাসের প্রতিষ্ঠাতা) ভাই তো ফেসবুকে এক্টিভ না, কিন্তু সবাই তাদের চিনি, সাবেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ ভাইও দাওয়াতি কাজে জড়িত বলে শুনেছিলাম। আল্লাহ সকলকে হেদায়েতের উপর রাখুন। কওমিদের নাম তো এখনো বলিই নি, তাদের নাম বললে পুরা দুই তিন ভলিউম হয়ে যাবে।

ফেসবুক জগতের কয়েকজন ফিতনাবাজের নামঃ জোবায়ের আল মাহমুদ, ইনি হচ্ছেন মোজাম্মেল হকের শিষ্য। গুরুশিষ্য উভয়ে মর্ডানিস্ট ইসলামের প্রচার চালায়, এদের ফিতনা ভয়াবহ রকমের বাজে। জোবায়ের আল মাহমুদ তো একবার পোস্ট করে ঈসা আঃ এর জীবিত থাকাকে অস্বীকার করল, নাউযুবিল্লাহ। আরেকজন মর্ডানিস্ট হচ্ছে আসিফ শিবঘাত ভুঁইয়া, সে জেনারেল থেকে আসে এবং একসময় খুব ভালো সালাফি ছিলেন, পরবর্তীতে মর্ডানিস্ট ইসলামের চর্চা ও প্রচার শুরু করেন। এন্টিমোডারেটদের কাছে তার অবস্থান শায়খ তালাতের মত। আল্লাহ এদেরকে হেদায়েত দিন। আর কওমি মোডারেটের সংখ্যাওও অগণন। কবি মুসা আল হাফিজ নিজেও মোডারেট। তুহিন খান নামে একজন কবি আছেন, সাব্বির জাদিদ নামে এক সাহিত্যিক আছে, এরা মোডারেট কিন্তু এদের চেয়ে চরম ও গরম মাত্রায় মোডারেটও আছে, একজনের নাম পড়ছে না, কালের কণ্ঠে এখন ফিচার লেখে, দাড়ি টুপি পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়য়ের মেয়েদের সাথে ঢলাঢলি করে। আর বেশিরভাগ কওমি সাহিত্যপূজারী হয় সেকুলাঙ্গার না হয় মোডারেট। আহসান জাইফের কথাও বলা যায়।

এবার বলব কওমিদের নাম। যত জনেরটা স্মরণে আসে বলে যাব। মিযান হারুন, আব্দুল্লাহ তালহা, আলামিন আরাফাত (রক্ত দিয়ে বেড়ান এবং ট্রল পোস্ট করেন), আতিকুল্লাহ, আব্দুল হাই (জেনারেলের)। আতিকুল্লাহ সাহেব অনেকগুলো গ্রুপ খুলেছেন যেমন মাসনা সুলাসা রুবা'আ, খিলাফাহ রাশিদাহ, রবিউ কলবি ইত্যাদি। মাসনা সুলাসা নিয়ে ইনার মাধ্যমেই ব্যাপকভাবে এই শব্দগুলো পরিচিত হয় এবং এই নিয়ে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। আর সাথে ছিলেন আব্দুল হাই। আব্দু হাই সাহেবের কাজ ফান পোস্ট করা, তার 'কিছু কমু না' সিরিজটা দারুণ। শাইখদের মধ্যে জিয়াউর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (রাকি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ নন, ইনি নাসিহাহ গ্রুপের মুফতি), আব্দুল্লাহ আল মাসুদ (ইনি লেখক এবং অনুবাদক)। আব্দুস সাত্তার আইনি যিনি অনেক বেশি মর্ডানিস্ট কিন্তু আব্দুল্লাহ আজ্জাম রহঃ এর অনেক বই অনুবাদ করেছেন। সাদিদ মালেক, মহিউদ্দিন কাসেমি (বাংলা ও ইংলিশ), মুফতি মনোয়ার হোসাইন, আবুল কাসেম আদিল এরকম অনেকের নামই বলি নি। কয়জনের নামই বা বলা যায়? সাদিদ মালিক ভাই তো মীর সালমানের সাথে টম এন্ড জেরির মত একে অন্যের পিছে লেগে থাকেন, যদিও শিয়াদের বিরুদ্ধে দুইজন একমত হয়েছিল।

আব্দুল্লাহ মাহমুদ নামে এক সালাফি ভাই আছেন, আহমাদ সাইদপুরি ভাই অনেক বই অনুবাদ করেছেন, সায়েদুর রহমান একজন ভালো লেখক যার কাজ হচ্ছে সৌদি আরবের পক্ষে ডিফেন্ড করে পোস্ট করা। তরিকুল আলম নামে একজন কলামিস্ট আছেন, তিনি কওমি-ব্যাকড। হাসান আনহার নামে শফি সাহেবের এক শিষ্য আছেন। কওমিপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতার নাম মনে পড়ছে না, তবে বৈজ্ঞানিক পাপ নামে তার একটা বই আছে। মাহবুব ওসমানী নামে একজন ভাই আছেন। মুফতি নাহিদুর রহমান মৃধা নামে একজন আলেম আছেন। আরও কত নামের ভাইয়েরা আছেন। আমি আপাতত থামতে চাই। এই লেখা এখানেই শেষ করতে চাই। আশা করি ইতিহাস বিবৃত করতে না পারলেও কিছুটা ধারণা দিতে পেরেছি। আমাদের ফেসবুক যুগ সত্যিই অনেক আনন্দের। কিন্তু সব এখনো বলে সারতে পারি নি, তাই তৃপ্তি পাচ্ছি না। তবু শেষ করতে হবে। আমি সুযোগ পেলে আমাদের ফেসবুক যুগের ইতিহাসের যে বিষয়গুলো অনালোচিত তা আবার আলাপে আনব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকল ভাইকে দ্বীনের উপর রাখুন, হেদায়েতের উপর রাখুন, কল্যাণের পথে রাখুন, ভালো ও সুস্থ রাখুন, যাদের বিয়ে হয় নি তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে দিন, যাদের সন্তান হয় নি তাদের সন্তান দান করুন, যারা মাসনা সুলাসা করতে চান আল্লাহ যেন তাদের ওয়াহিদার মনকে নরম করে দেন এবং অবস্থা অনুকূলে এনে দেন, যারা ব্যবসা বাণিজ্য করছেন তাদের ব্যবসায় বারাকাহ দিন, যারা কাজ করে তাদের সময়ে বারাকাহ দিন, যারা গরিব তাদের খাদ্যে ও অর্থে বারাকাহ দিন, যারা ধনী তাদের অপচয় থেকে রক্ষা করুন এবং বেশি বেশি দান সাদাকার তৌফিক দিন, যারা ইলম অর্জন করছেন তাদের ইলমে বারাকাহ, যারা দাঈ তাদের কর্মকে আল্লাহ কবুল করুন এবং তাদের সফলতা দান করুন, যারা লিখে যাচ্ছেন তাদের লেখার তৌফিক দিন, যারা কথা বলছেন, তাদেরকে হকের পথে কথা বলার তৌফিক দিন, যারা সত্যের জন্য জিহাদের নিয়ত করেছেন তাদের জিহাদের পথে যাবার তৌফিক দিন, যারা জিহাদি মিডিয়ার সাথে জড়িত তাদের কাজ করার তৌফিক দিন, যারা কারাবন্দী তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করে দিন, যারা অসুস্থ তাদের সুস্থতা দিন, যাদের পরিবারের কেউ অসুস্থ তাদেরকেও সুস্থতা দিন, যাদের অর্থ সংকট ও ঋণের বোঝা, আল্লাহ তাদেরকে এর থেকে মুক্তি দিন, আল্লাহ আমাদের ভাইদেরকে এবং আমাদেরকে সর্বাঙ্গিন কল্যাণ দান করুন, দুনিয়াবি ও আখিরাতি কল্যাণ দান করুন। আল্লাহুম্মা আমীন। আল্লাহ কবুল কর।


বিদ্রঃ ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ নিয়ে আলাপের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু কোনো কারণে তা করা হয়ে উঠে নি, তাই একেবারে সংক্ষেপে কিছু বলব, গ্রুপের মধ্যে নাসিহাহ সবার প্রিয় একটা গ্রুপ। এছাড়া ইসলামী বই, পাঠাভ্যাস, মাওয়াদ্দাহ, মাসনা সুলাসা রুবা'আ, আর্লি ম্যারেজ ক্যাম্পেইন, তাদাব্বুরে কুরআন, ইসলামী বই পিডিএফ, বইয়ের রাজ্য, গার্ডিয়ান পাঠক ফোরাম, পাশ্চাত্যবাদ আরও অসংখ্য গ্রুপ আছে আমাদের। পেজের মধ্যে আছে হুজুর হয়ে, ভাবিয়ে তুলে, থিঙ্ক টুয়াইস, দ্যা গ্রেটেস্ট ন্যাশন, রেইন্ড্রপ্স মিডিয়া, মুবাশশিরিন মিডিয়া, নাসিহাহ অফিসিয়াল, মুসলিমস ডায়েরি, পর্নোগ্রাফি মানবতার জন্য হুমকি, ওহী প্রভৃতি।

























এই দেশে একমাত্র শাইখ হারুন ইজহারই বাগদাদী এবং গোলাম আজমের শাহাদাতের কবুলিয়াতের জন্য দুয়া করতে পারেন।
          







বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ের উপর রিসার্চগুলো দেখলে আপনি কনফিউসড হয়ে যাবেন কোনটা সঠিক। একটা রিসার্চ যদি বলে এক কথা, আরেকটা রিসার্চ বলে এর বিপরীত কথা। বিজ্ঞান দিয়ে অনেকে কুরআন যাচাই করতে যায় যা সম্পূর্ণ ভুল। বরং বিজ্ঞান কখনো বিপরীতমুখী কথা বললে আমি কুরআন দিয়ে বিজ্ঞান যাচাই করি, এবং কোনটা সত্য তা সহজেই নির্ধারণ করতে পারি। ডারউইনবাদের কথাই বলা যাক। এর পক্ষে বিপক্ষে প্রচুর তর্ক বিতর্ক আছে। একজন নিরপেক্ষ মানুষ (যদি অমুসলিম হয়) সেও কনফিউসড হয়ে যাবে কোনটা সঠিক। অথচ আমরা কুরআন দিয়ে সঠিকটা যাচাই করতে পারি।

কুরআন আমাদের জন্য এন্সারপেপারের মত। গণিত বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় প্রতিটা অঙ্কের উত্তর দেয়া থাকে। ছাত্ররা নিয়ামানুযায়ী অঙ্ক করে এরপর উত্তর মিলিয়ে দেখে। আল্লাহ আমাদেরকে এন্সারগুলো বলে দিয়েছেন, কিন্তু পুরো অঙ্কটা করার দায়িত্ব আমাদের।








ইসরাইলী ট্যাঙ্কের বিপরীতে ফিলিস্তিনী কিশোরদের পাথর ছুড়তে দেখলে ভালো লাগে, একটা জোশ আসে শরীরে। কিন্তু ফিলিস্তিনীদের হাতে পাথরের বদলে অস্ত্র থাকলে পৃথিবীর তাবৎ মুসলমান চেচিয়ে উঠত, "ইসলামের মান সম্মান ডুবায় দিল রে!"

উদাহরণ দিলাম একটা। মুসলিমরা নিজেদের মজলুম দেখতে পছন্দ করে। আর কেউ প্রতিরোধ করতে গেলে কুফফারদের সাথে গলা মিলিয়ে তাকে জঙ্গি সন্ত্রাসী অভিহিত করতে দ্বিধা করে না।






          
আমরা যদি দ্বীন থেকে দূরে সরে যাই তবে আল্লাহ তা'আলা অন্য জাতিকে হেদায়েত দিবেন। আমরা যদি কাজ না করি আল্লাহ অন্য জাতিকে দিয়ে কাজ করাবেন। সাহাবীরা সবাই নওমুসলিম ছিলেন। আজকের যুগেও নওমুসলিমদের দ্বারাই আল্লাহ তা'আলা দ্বীনের কাজ করাবেন।






লগি বৈঠার ২৮ অক্টোবর নিয়ে একটি অনলাইন সংগ্রহশালা।

Oct28.info | A comprehensive archive on the events of October 28, 2006
oct28.info

http://www.oct28.info/







যাদের মুখে নারায়ে তাকবীর শোনার কথা ছিল তারা গাচ্ছে তাগুতের বন্দনা।

আপনার সন্তানকে ইসলাম শেখান। নয়তো দুনিয়া তাকে কুফর শিরক শিখাবে।











আইএসের শুরুর দিকে অনেকেই তাদের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল। সুতরাং আগের কথা বলে লাভ নাই। পাকিস্তানের ফজলুর রহমান নিয়ে স্বপ্ন দেখাও ভালো, ইমরান খানকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার চেয়ে।









কম খরচে নারী ভোগের অন্য নাম বিবাহ বহির্ভূত প্রেম বা সেক্স। কম খরচে পতিতাগমন করা যায়, তবে সমাজ খারাপ বলবে এবং সমাজেই যেহেতু স্বেচ্ছাসেবিকা (সেচ্ছাপতিতা) আছে সেহেতু প্রেম করাই ভালো মনে করে অনেকে, এতে ক্লাসও ঠিক থাকলো। যৌন চাহিদাও পুরণ হয়।

(প্রেমিকদের কাছে বিয়ে সবচেয়ে বড় প্যারা। কারণ বউরে ভরণপোষণ দিতে হয়)।










দায়েশী ভাই ❤️

আমরা তাদের ভাইই মনে করি, তারা আমাদের কাফের মনে করুক না!






দাসপ্রথা নিয়া সংক্ষেপে সবচেয়ে ভালো লেখা হচ্ছে শামসুল আরেফীন ভাইয়ের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বইয়ের লেখাটা। পড়তে পারেন।







জামায়াত আর কওমিদের আলাদা করে দেখি না। ২৮শে অক্টোবরের ঘটনাকে পলিটিকাল ক্ল্যাশ বললেও সমস্যা নাই, জামায়াত পলিটিকাল পার্টি। সেকুলার এবং লীগারদের ইসলাম বিদ্বেষ এবং জামাতবিদ্বেষের এটা একটা নমুনা। এটারে বিএনপির দিকে টানলে ভুল হবে। ভুল উপায় অবলম্বন করার কারণে এটা তাদের প্রাপ্য ছিল এভাবে বলাটা ঠিক নয়, ৫ ই মের পদক্ষেপের ব্যাপারেও একই কথা বলা যায়।












গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা তো অনেক কঠিন, সবাই জানি। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারলেও ইচ্ছাকৃত ভাবে বিয়ে না করে থাকাটা ভালো নয়, আমি যতটুক বুঝি।
          






বিয়ে নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগা ভালো। এতে বিয়ের আগ্রহ থাকে। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে বিয়ের আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাওয়া। যারা বিয়ে করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন অথচ দ্বীনদার তাদের জন্য অশনি সংকেত।










এক ফেসবুক বুদ্ধিজীবী তৌহিদী জনতাকে উন্মত্ত নির্বোধ বলে গাল দিলেন, আমি বললাম, তৌহিদী শব্দ বাদ দিয়ে শুধু 'জনতা' হলে তারা কি হিংস্র হিসেবে গণ্য হবে? এই দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। সেই হিসেবে এই দেশের জনতাই তৌহিদী জনতা।

এবার সেই বুদ্ধিজীবী প্রশ্ন ছুড়লেন, গায়ে লাগল? আমি বললাম, জি, আমি তৌহীদী জনতার একজন।














যত বিখ্যাত অভিনেতা, অভিনেত্রী, গায়ক, গায়িকা, পরিচালক, প্রযোজক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, বুদ্ধিজীবী, কবি, সাহিত্যিক আছে অধিকাংশই সেকুলার। তারা তাদের সেকুলার ধর্ম বেশ জোরেশোরে প্রচার করে। তাদের পেশা, তাদের জীবন সবকিছু আবর্তিত হয় তাদের সেকুলার ধর্মকে কেন্দ্র করে। এই ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা তাদের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়। তাদের থেকে মুসলমানদের শেখা উচিৎ আদর্শের প্রতি কতটা আন্তরিক থাকতে হয়। সেকুলারদের মত মুসলিমরা যদি তাদের ইসলাম ধর্ম নিয়ে এতোটা আন্তরিক থাকতো তবে এই ভূমি হয়তো সেকুলারদের প্রভাবে চলত না।

সেকুলার হাতে টিভি মিডিয়া, পত্রিকা, সাহিত্যাঙ্গন, নাটক ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, সকল সৃজনশীল জায়গাগুলো তাদের দখলে। সরকারেও তাদের প্রভাব অনেক। আমরা তাদের কিভাবে মোকাবেলা করব? ইবনে মাজহার ভাই সত্য বলেছেন, এখন সময় হয়েছে এসব সেকুলারদের সাইজ করার। নাস্তিকতা নিয়ে এতো বই বের হয় অথচ সেকুলারিজম নাস্তিকতার চেয়ে বেশি ছড়িয়ে আছে। নাস্তিকতার ধোঁকা মানুষ ধরতে পারে কিন্তু সেকুলারিজমের ধোঁকা মানুষ বুঝতে পারে না। সেকুলার ধর্মকে খণ্ডন করে বই লেখা, পাল্টা বয়ান তৈরি করা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু সেকুলারিজম নয়, সেকুলার ধর্ম প্রচারকদের নাম ধরে ধরে খণ্ডন করা উচিৎ।











বাগদাদী ইতিহাসের সেরা দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের একজন। তিনি এমন একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যে দল পৃথিবীর সকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রত ছিল, তারা নিজেদের বাদে সবাইকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়ে ছিল। বিশ ও একুশ শতকের জিহাদ আন্দোলনের গর্ভে জন্ম নেয়া গ্লোবাল জিহাদের ছোট্ট একটি শাখাকে তিনি রুপান্তরিত করেছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী দলে। শুন্য থেকে তিনি গড়েছিলেন বিশাল সাম্রাজ্য। আল্লাহ তার উপর রহম করুন। এক শতক আগের হারানো খিলাফাতকে পুনরুজ্জীবন দানের কারণে আল্লাহ তার গুনাহসমুহ যেন মাফ করে দেন। বাগদাদী অনেক নিরীহ মানুষ, অনেক মুসলিমকে হত্যা করেছে। সালাফদের পথ এজন্যই অবলম্বন করতে হয়। নতুবা বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব নিজেদের এবং উম্মাহকে ধ্বংস করে। দায়েশ থেকে একিউ এর শিক্ষা নেয়া উচিৎ। একিউ-তেও প্রচুর খারেজী বৈশিষ্ট্যের মানহাজীর আনাগোনা। যদিও কেন্দ্র অনেকটা মধ্যমপন্থী। কিন্তু অতিউৎসাহী মানহাজীরা এক সময় যদি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র উত্তোলন করে অবাক হবার কিছু থাকবে না।











কেউ দল বা নির্দল যেখান থেকেই মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখুক, তাকে আমার চিন্তার কাছাকাছি মনে করব। হারুন সাহেব সাদপন্থী হয়ে গেলে যেমন আমার সমস্যা ছিল না, তিনি সাদপন্থীদের বিরুদ্ধে থাকাতেও আমার সমস্যা নাই। তবে যদি তিনি সাদপন্থীদের নিয়ে অযাচিত বাড়াবাড়ি করেন যেটা কিনা আমাদের অনেক ভাই করে (অর্থাৎ সাদ সাহেব এবং তার অনুসারীদের ইহুদী খ্রিস্টানদের চেয়েও অধম মনে করে, ট্রল করে, বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করে) তবে ভাববো তিনি অন্যদের মতোই, অন্তত আমার চিন্তার কাছাকাছি নন। সাদ সাহেবের দল এখন একটা আলাদা দল হয়ে গেছে। তাদেরকে তাদের মত থাকতে দেয়া উচিৎ। ভুল যেগুলো মনে হয় সেগুলো খণ্ডন করা হোক, কিন্তু ভ্রাতৃত্ব নষ্ট না করা হোক।

এক সময় যেমন জামাতী-দেওবন্দী ব্যাপক খন্ডাখন্ডি চলত, সময়ের সাথে সাথে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। অনেক দেওবন্দী আগের মত জামাতীদের বাতিল ফিরকা মনে করে না। (ভ্রাতৃত্ব নষ্ট না হোক, কিন্তু ভুলের খণ্ড চলুক।)

আমার কাছে বাতিল ফিরকা হচ্ছে, আহলে কুরআন, হেজবুত তৌহিদ, শিয়া, কাদিয়ানী, সেকুলার মুসলিমদের ফিতনা ইত্যাদি। এবং মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি, জামাত, তাহরীরী, দায়েশী, সাদপন্থী, ইমরান নজরী, আহলে হাদিস, এদেরকে, এদের কিছু কার্যক্রম ভুল আছে, কিন্তু বাতিল মনে করি না।

আলি এবং মুয়াবিয়া রাঃ দুই পক্ষ যুদ্ধ করলেন, অনেক সাহাবি আলি রাঃ এর পক্ষে ছিলেন। তারা হক ছিলেন। আরেকদল সাহাবি মুয়াবিয়া রাঃ এর পক্ষে ছিলেন। তারাও হকপন্থী ছিলেন, কিন্তু যুদ্ধের পদক্ষেপে হক ছিলেন না, যুদ্ধে হক ছিলেন আলীপন্থীরা। আবার আরেকদল সাহাবী কোনো দলেই ছিলেন না। তারা যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করেন। তারাও হক ছিলেন।














কেউ কেউ কাফের জানোয়ারটার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে, তাদের কাছে প্রশ্ন, আপনারা বুঝি আবু জাহেল, আবু লাহাবের জন্যও দোয়া করেন?








এক ভাইকে দেখলাম, মোরগ আল্লাহ আল্লাহ জিকির করছে এমন একটা ভিডিও শেয়ার দিয়েছেন। আমি বললাম, এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফেক হয়। ইসলাম আমরা এভাবে হাস্যকর বানিয়ে ফেলছি। আমাদের ওহী থাকতে আমরা মোরগের ডাক, ঘোড়ার সেজদা এসব দিয়ে ইসলামের সত্যতা প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছি। আমাদের ইলম তো নাই নাইই, কমন সেন্সও নাই।







সৌদির একটা দোষের সমালোচনা করায় এক মাদখালী ভাই বললেন, নিজের দেশ নিয়া চিন্তা করতে, সৌদি নিয়া কেন পড়ে আছি সেটা জানতে চাইলেন। আমি বললাম, আপনে নিজেই সৌদির পতাকা প্র-পিকে টানিয়ে রাখছেন। নিজের দেশের পতাকা টানান আগে। এরপর আমাকে উপদেশ দিয়েন।" আমরা এভাবেই কোনো একটা দেশকে, দলকে, শাসককে ভালোবাসতে গিয়ে ভালো মন্দ উচিৎ অনুচিতের সব সীমারেখা ভুলে যাই।









তারেকুজ্জামান সাহেবের 'ঈদে মিলাদ্দুন্নবীর এক্সরে রিপোর্ট' লেখাটা পড়লাম। সবই ঠিক আছে শিরোনামটা ভালো লাগে নাই। এক্সরে রিপোর্ট, পোস্ট মর্টেম, মুখোশ উন্মোচন, এসব শব্দ হাস্যকর ঠেকে। ক্যাডেট মাদ্রাসা, আইডিয়াল মাদ্রাসা, ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার মত।










ইসলামের দুশমনদের মৃত্যুতে কাফের আর মুনাফিকরা দুঃখ বোধ করে, মুমিনরা খুশি হয়। আলহামদুলিল্লাহ।









একটা বিখ্যাত গল্প অনলাইনে ঘুরে বেড়ায়, মাঝেমধ্যেই আমার কাছেও আসে। গল্পটার সাথে একটা ছবি থাকে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা তরুণীর স্তন খোলা, বুকের দুধ খাচ্ছে এক বৃদ্ধ। গল্পটা শুরু হয় এভাবে, "আপনাদের মনে হচ্ছে এটা খুব খারাপ একটা ছবি, কিন্তু ভেতরের কাহিনী জানলে অবাক হবেন।" এরপর শুরু হয় এই গল্প। গল্পটা আপনারা অনেকেই জানেন। গল্প সত্য হোক কিংবা মিথ্যা সেদিকে যাব না। সুন্দর একটা গল্প বলার ছুতায় একটা অশ্লীল ছবিকে প্রচার করা হচ্ছে। মুসলিম হিসেবে এসব ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকা উচিৎ। মুমিন কখনো নির্বোধ হয় না।










চীনের উঘুর-নির্যাতনের পক্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সৌদি, আরব আমিরাতের সাথে পাকিস্তানও আছে। মজার ব্যাপার হইতেছে বিন সালমান আর বিন জায়েদরে যারা গালি দেয় তাদের অনেকে (জামাত-মোডারেট ভাইরা) ইমরানরে পছন্দ করে।











এক ভাই এক বেরেলভী বিদআতীকে গরু বললেন। এভাবে গরু বলা ঠিক হয়নি।








ইরাকে বুশরে জুতা মারার ক্লিপটা হঠাৎ সামনে আসল। যে জুতা মারছিল দুইটাই মিস করছে। আগে থেকে ভালো করে প্র্যাকটিস করে আসা উচিৎ ছিল না? যাই হোক, চেষ্টা করছে এইটাই বেশি। তবে জুতা বুশের গায়ে না লাগলেও ওর পতাকার মধ্যে গিয়া লাগছে।










আহমদ শফী সাহেবকে সবচেয়ে বড় না বলে সবচেয়ে বিখ্যাত আলেম বলা উচিৎ। বা মুরুব্বি আলেমও বলা যায়। বড় আলেম আর বুড়ো আলেম এক কথা নয়।








অনুগল্প, অনুকাব্য, এই পেইজটা অনেকদিন যাবত এক্টিভ না। অনেক সুন্দর একটা পেইজ ছিল।









ইবনু মাজহার ভাই বলেন,

নাস্তিকদের বিষয় যেমন অনেক কথা, বই লেখা হয়েছে, ঠিক সেরক করে এই সেকুলারিসম, লিবারেলিসম, ফেমিনিসম, তথাকথিত ব্যক্তিস্বাধীনতা এসবের বিরুদ্ধে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে জনগণের হাতে কিছু অন্তত তুলে দিতে হবে। যেন তারা সঠিকভাবে এরকম পরিস্থিতিতে আচরণ করতে পারে, এবং সেকুলাঙ্গারদের ন্যারেটিভকে প্রতিকার করতে পারে।

সহমত। নাস্তিকতার ধোঁকা মানুষ ধরতে পারে কিন্তু সেকুলারিজম, লিবারেলিজমের ধোঁকা মানুষ ধরতে পারে না।








সেকুলারদের একটা সফল প্রোপ্যাগান্ডা হচ্ছে মানুষ মাদ্রাসা, হুজুর, কওমি এইসবকে ঘৃণা করতে শিখছে।

No comments:

Post a Comment