Showing posts with label বই রিভিউ. Show all posts
Showing posts with label বই রিভিউ. Show all posts

Thursday, February 27, 2020

সালমান মুক্তাদিরের "বিহাইন্ড দ্য সিন" বইয়ের রিভিউ - হাসান মির্জা


রকমারিতে ঢুকেছিলাম আরিফ আজাদের বইয়ের কি অবস্থা তা দেখতে। যখন দেখলাম মারজুক রাসেল কিংবা সালমান মুক্তাদিরদের বইও হাজার হাজার কপি বিক্রি হয় তখন বিনোদন নেয়ার আশায় তাদের বইয়ের ভেতর ঢুকে দেখতে ইচ্ছে হল। কিন্তু সালমানের বইকে আমি ভেবেছিলাম ওর ইউটিউব ভিডিওর মতই ফাইজলামি, ফাতরামি ইত্যাদি। এতো সিরিয়াস কিছু হবে ভাবি নি। সেকুলারিজমের গার্বেজে ভরা বইখানা। অনেক কট্টর সেকুলারও সেকুলারিজমের পক্ষে এতো সুন্দর বই লিখতে পারবে কিনা সন্দেহ! এই বইয়ের চিন্তাচেতনা যদি যুবসমাজ গ্রহণ করে তবে যুব সমাজের নৈতিক ধ্বংস আসতে সময় লাগবে না। জেরুসালেমের ভূমি-বিজেতা সালাহুদ্দীন আইয়ুবির এই বিখ্যাত উক্তি হয়তো আমরা সবাই জানি, "একটা জাতিকে ধ্বংস করতে চাইলে সে জাতির মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়াটাই যথেষ্ট।" সালমানের জীবনের মিশনই যেন একটা, যেভাবেই হোক অশ্লীলতাকে, ব্যভিচারকে বাংলাদেশের মাটিতে সহজ করতে হবে।

আমি বইটার ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে কিছু কথা বলব। কারণ আমি ইসলামের অনুসারী। একজন সেকুলার যখন কথা বলে তখন তার কথাতে সেকুলারিজমের দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। আর যার জীবনের মিশন ইসলাম, তার কথাতেও ইসলামের দৃষ্টি ভঙ্গী পাওয়া যায়। আমি রকমারি থেকে বইটা যে কয়েক পেজ পড়েছি সেটার ভিত্তিতে লিখছি। এই বই কিনে টাকা নষ্ট করা বা টাকা নষ্ট করতে উৎসাহিত করার পক্ষে আমি নই।

১- সালমান তার বই শুরু করেছেন এভাবে, "তথাকথিত সমাজ প্রথা আর অযৌক্তিক রীতিনীতি আমার কখনোই পছন্দ ছিল না।" এখানে যদি আক্ষরিক অর্থেই সমাজকে বোঝানো হয় সমস্যা দেখি না, কিন্তু প্রথা বলে যদি ধর্ম বিশেষ করে ইসলামকে বোঝানো হয় তাহলে এটা বড় একটা সমস্যা। আর পুরো বই জুড়ে সেটাই মনে হয়েছে। ইসলামের বিধানগুলোকে সে অযৌক্তিক প্রথা মনে করে খায়েশাতের দৃষ্টি থেকে এগুলোর সমালোচনা করেছে। মুসলমানের ছেলে আজ ইসলামকে প্রথা বলে, আর এই প্রথা ভালো লাগে না বলে এর বিরুদ্ধে বইও লিখে। আর সাধারণ মুসলমান তরুণ তরুণীরা এসব বইও কিনে। হায়! সালমান কিংবা জাফর ইকবালরা হয়তো জার্মানপ্রবাসী নাস্তিকদের মত সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধে বলতে বা লিখতে পারে না, কিন্তু ইসলামের বিধানগুলোর বিরুদ্ধে ঠিকই লিখছে। অথচ তাদের ভক্ত ফলোয়ার সব মুসলিমরা।

২- সালমান তার বইয়ের নাম দিয়েছে বিহাইন্ড দ্য সিন। তার পাপের পক্ষে যুক্তি। আসলেই বিষয়টা তেমন। নিজের পাপকে সে জায়েজ প্রমাণ করেছে আর ইসলামের বিধানগুলোকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে। পুরোটাই করেছে সেকুলারিজমের মারপ্যাঁচে। তার ব্যাভিচারকে সে জায়েজ প্রমাণ করেছে আর স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণ ঢুকিয়েছে।

৩- সূচীপত্রে যেসব অধ্যায়ের নাম দেখলাম তাতে বুঝতে বাকি থাকে না সে তার ব্যভিচারকে জায়েজ করতে সেকুলারিজমের বিভিন্ন বিষয়কে সামনে এনে প্রমাণ করে ছেড়েছে। সে হয়তো সমস্যা গুলো নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে, ইসলাম দিয়ে সে প্রভাবিত না হওয়ায় সে সেকুলারিজম দিয়ে সেসব সমস্যার কথা লিখতে চেষ্টা করেছে। আমাদের জন্য আফসোস যে আমরা সালমানের কাছে দাওয়াত পৌঁছুতে পারি নি, দাওয়াত গ্রহণ করুক বা না করুক, বারবার দাওয়াত নিয়ে তার কাছে যাওয়া উচিৎ। আমার এই লেখার উদ্দেশ্যও এটা সালমান যদি তার ভুল বুঝতে পারে। ইসলামের দিকে ফিরে আসে। তবে মূল উদ্দেশ্য যুবসমাজকে সালমান থেকে সতর্ক করা, নতুবা এরকম বই সম্পর্কে লিখে সমস্য নষ্ট করার মানে হয় না। কিছু আসলেই সমস্যা, কিন্তু সে সেকুলারিজম দিয়ে সেগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে যেটা আমাদের মুসলিমদের জন্য গ্রহণীয় নয়। আমি সেসব সমস্যার ব্যাপারেও বলব ইনশাআল্লাহ্‌।

৪- সূচীপত্রে একটা অধ্যায়ের নাম দেখলাম, "খা*কি মা* হিজাব কই?" এটা যদিও সালমানের পর্দার বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটা অংশ, তবু এটা একটা আসলেই সমস্যা। অনেকেই গালি দেয়, তবে এরকম খারাপ গালি খুব কম। সালমান যেভাবে সবচেয়ে খারাপ গালিটাকে নিয়ে এসেছে, এরকম সাধারণ হয় না। অধিকাংশই হিজাব পর্দা করতে বলে কমেন্ট করে। যারা গালি দেয় কিংবা অযৌক্তিক কথা বলে হিজাবের দাওয়াত দেয় তারা একটা সমস্যাই বটে। ইসলামের দৃষ্টিতে গালি তো জায়েজ না, আর ইসলামের কথা গালি দিয়ে বলা তো আরোই জায়েজ না। তাই এসব ঘটনা দিয়ে ইসলামকে কিংবা সকল মুসলিমদের বিচার করা যায় না। যারা গালি দিচ্ছে তারা নিজেরাই গুনাহ করছে।

৫- "রেপ" অধ্যায়ে সালমান রেপ আর কনসেন্সুয়াল সেক্সকে আলাদা করেছে। এটাও সেকুলারিজমের তৈরি একটা জনপ্রিয় চিন্তা। এই চিন্তানুযায়ী সালমানকে বিচার করলে অবশ্যই সে পাপী না। কিন্তু আল্লাহ্‌ সেকুলারিজম দিয়ে বিচার করবেন না, তিনি যে নিয়ম দিয়েছে আমাদের জন্য, সেই নিয়ম তথা ইসলাম দিয়ে বিচার করবেন।

কনসেন্সুয়াল সেক্সকে সে জায়েজ বলছে আর "না"কে সে রেপ বলছে। এখানে একটা সূক্ষ্ম বিষয় আছে। সালমান বোঝাতে চাচ্ছে সে যে ব্যভিচার করে সেটা কনসেন্সুয়াল সেক্স, তাই সেটা দোষ নয়। কিন্তু স্ত্রী যদি "না" বলা সত্ত্বেও স্বামী সেক্স করে সেটা হবে রেপ। তাহলে প্রশ্ন হল, বিয়ে তথা উভয়ের যৌনতার বৈধতার চুক্তির দাম কি থাকলো? সেকুলারদের এটাও একটা প্রজেক্ট যে বিয়ে নামের বন্ধনকে উঠিয়ে দেয়া। এর পরিবর্তে সেক্সকে সহজ করা। সালমানরা সেই কাজ ভালোভাবেই আঞ্জাম দিচ্ছে।

এবার ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে বলি। ইসলামে বিয়ে-বহির্ভূত যে কোনো সেক্সই হারাম। আর ইসলামে বিয়ে মানে এই যে স্বামী তার স্ত্রীর জন্য বৈধ এবং স্ত্রী তার স্বামীর জন্য বৈধ। ধরুন, স্বামী বা স্ত্রী কেউ একজন সেক্স করতে ইচ্ছুক না, এটা কিন্তু তার সতীত্ব রক্ষার জন্য না, বরং হয়তো অন্য কোনো কারণে বা মুড নাই, বা অন্য কোনো সমস্যা এসবের কারণে সে হয়তো ইচ্ছুক নয়, এমন অবস্থায় যদি অন্যজন জোর করে তবে সেটাকে রেপ বলছে সেকুলারিজম। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এটা কিভাবে রেপ? আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে আমরা অন্য বিধান দিয়ে এসব সমস্যার ব্যাখ্যা কেন করছি। এটা তো বোঝা যাচ্ছে স্বামী বা স্ত্রী কারো জন্যই জোর করা উচিৎ না, হয়তো অনেক সময় অনেকের মুড থাকে না। মাসিকের অবস্থার প্রসঙ্গ না আনলাম যেহেতু ইসলাম এটা এমনিতেই হারাম করেছে একই ভাবে ওরাল ও এনালসেক্সও। শুধু জায়েজ সেক্সের কথাই বলছি, একজন যদি রাজি না হয় তবে সেটা রেপ কোন হিসেবে হয়। অথচ এটাকে রেপ বলে এমন ভাবে তুলনা দেয়া হচ্ছে যেন রাস্তায় কাউকে রেপ করার মতই এটা খারাপ একটা বিষয়। আবারও বলছি স্বামী বা স্ত্রী কেউ একজন রাজি না হলে সেক্স করাকে হারাম কোনো মুফতী বলতে পারবে না, আমার যতটুকু ইসলামের জ্ঞান আছে। কারণ বিয়েই হচ্ছে যৌনতার বৈধতার যুক্তি। একজন অন্যজনের চাহিদা মিটাবে। কিন্তু কেউ একজন রাজি না হলে সেটা সতীত্ব নষ্টের মত বিষয় না, বরং এটা হচ্ছে কারো ইচ্ছাকে গুরুত্ব না দেয়া। এটাকে আমরা অনুচিত বলতে পারি। কিন্তু হারাম বলা যায় না।

বিবিসি বাংলাও ম্যারিটাল রেপ পরিভাষার ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে ফেসবুকে স্পন্সর করে। সেকুলারিজম চায় মানুষ যেন বিয়ের পরের এই অবস্থাকে রেপ হিসেবে চিহ্নিত করে আর কনসেন্সুয়াল সেক্সকে বৈধ মনে করে। এর ফলে যেটা হবে মানুষের কাছে বিয়ের দাম থাকবে না। বিয়ের বদলে তারা সম্মতিমূলক ব্যভিচারকে গ্রহণ করবে যদি সেটা বিয়ে বহির্ভূত হয় কিংবা পরকীয়াও হয়ে থাকে। এজন্যই সেকুলারিজম পতিতালয়কে বৈধ করে, যুবকদের ব্যাপক ভাবে বিয়ে-বহির্ভূত সেক্সের প্রতি উৎসাহিত করে।

৬- সালমান আরও কিছু বিষয় এই অধ্যায়ে এনেছে যেমন রেপ ভিক্টিম, পর্দা করলে ধর্ষণ বন্ধ হবে, বিয়ে করলে রেপ কমে যাবে, রাত ১২ টায় বাইরে থাকলে রেপ হবে, প্রেমিক করলে দুস নাই অন্ন করলে দুস। সালমান এখানে যাদের কমেন্টের স্ক্রিনশট এনেছেন সন্দেহ নাই এরা বেশি শিক্ষিত না, এদের ভুল বানান গুলো দেখলেও বোঝা যায়। তবে তাদের ইসলামের প্রতি ভালোবাসা আছে, ইসলামের বিধানের প্রতি ভালোবাসা আছে। সেই ভালোবাসা থেকে ভাঙাচোরা বাংলায় তারা যে কমেন্ট করেছেন সালমান সেগুলো বইএ দিয়েছে। এদের ব্যাপারে আমার মন্তব্য হচ্ছে এরা হচ্ছে অবুঝ এবং সাদা সিধা মানুষ। এরা আপনাদের মত এতো ইন্টেলেকচুয়াল না, তাই যদি হত তাহলে আপনার এসব গার্বেজ লেখার যথোচিত জবাব তারা যুক্তি দিয়ে লিখত, ভিডিও বানাত। এদের নিয়তটাকে শ্রদ্ধা জানাই, এজন্য যে তারা পর্দার বিধানের প্রতি ভালোবাসা রাখে। আর তাদের কর্মকান্ডের প্রতি নিন্দা জানাই। তারা আমাদের মুসলিমদের জন্যও লজ্জার। তবে আমরা যেমন আপনাদের মধ্যকার উগ্র গালিবাজ সেকুলারদের দিয়ে আপনাদের বিচার করি না, বরং আপনাদের সেকুলারিজম কি বলছে সেদিকে মনোযোগী হই, তেমনি আপনারাও এসব অশিক্ষিত মুসলিমের (দীনী ও দুনিয়াবী উভয় ক্ষেত্রেই অশিক্ষিত) দিয়ে সকল মুসলিমকে বিচার করবেন না, কিন্তু বইতে সেটাই করেছেন যা দুঃখজনক। গালিবাজ সেকুলারদের উগ্রামি স্ক্রিনশট নিয়ে ভাইরাল করলে এই দেশে আপনারা পিঠের চামড়াসহ থাকতে পারবেন না।

"পর্দা করলে ধর্ষণ বন্ধ হবে" - না, পর্দা করলে ধর্ষণ বন্ধ হবে এমন কথা ইসলাম বলে নাই। তবে বাস্তবতার নিরিখে দেখা যায় অনেকাংশে কমবে। আর পর্দা বলতে সালমান গংরা মাথায় এক টুকরা হিজাব বুঝে। পর্দা কত শর্ত শরায়েতের বিষয় তা যদি সালমানরা বুঝত তাহলে তারা নিজেরাই বলত, পর্দা করলে ধর্ষণ অনেকাংশে কমবে। ইসলামী দেশগুলোতে তা লক্ষণীয়। আর যদি রেপের সম্ভবানা বৃদ্ধ ইপায় সেটা ইসলাম না মানার কারণেই। একটা উদাহরণ দিই, সৌদি আরবে পর্দা কঠোর ভাবে মানা হয়, রাস্তা ঘাঁটে কিন্তু রেপ হওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে বাংলাদেশ বা ইন্ডিয়ার মত। কিন্তু অন্য দেশ থেকে আসা খাদিমাদের রেপ করার ঘটনা আমরা জানি। এখানে ইসলাম মানা হয় না, ইসলাম কোনো নারীকে একা দূরবর্তী সফরের অনুমতি দেয় না, আর দূরদেশে অপরিচিত এক পরিবারে কাজ করা কিভাবে বৈধ হতে পারে? এটা রেপের পথ খুলে দেয়। ফলে আমরা বিভিন্ন সময় সেসব দেশে খাদিমা নির্যাতনের সংবাদ পাই।

"বিয়ে করলে রেপ কমে যাবে" - কমবে কিনা এটা পরিবেশের উপর নির্ভর করে। যেখানে ইসলামের বিধি বিধানের তোয়াক্কা করা হয় না দেখানে বিয়ে করলে রেপ কমবে না, আবার যেখানে ইসলামের বিধান মানা হয় সেখানে কমবে। পর্দা, বিয়ে, ইসলামী আইন এই সবগুলো মিলে তথা ইসলামের বিধান মানলেই ধর্ষণ বন্ধ হবে, অনেকাংশে, কিন্তু ইসলাম বলে নি সম্পূর্ণ রুপে মুছে যাবে। ইসলাম আমাদের পথ দেখিয়েছে, আমরা কত ভালোভাবে সেটা মানি এর উপর নির্ভর করে ফলাফল। একটা ছাত্র সব জানে কিন্তু তার লেখা অনেক খারাপ, পরীক্ষার খাতায় সে কি লিখেছে স্যার পড়তে পারে না, তাহলে কিন্তু নাম্বার সে আশানুরূপ পাবে না। একই ভাবে ইসলাম যারা মানে তাদের উপর নির্ভর করে তারা কতটা আনুগত্যের সাথে সেটা মানে। পর্দা ফরজ, ইসলামী আইন কায়েমের চেষ্টা করা ফরজ, বিয়েও অবস্থার ভিত্তিতে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, এগুলো ফরজিয়াত আদায়ের জন্য আমরা করব। ধর্ষণ বন্ধ হবে এই আশায় আমরা করি না। আল্লাহ্‌ বলেছে তাই করি, করব। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে ইসলাম মানলে অপরাধের সম্ভবানা কমে। পড়া করলে বা বিয়ে করলে রেপ বন্ধ হবে এর শতভাগ গ্যারান্টি নাই, কিন্তু যদি পরিবেশ ও অবস্থা অনুকূলে থাকে এবং ইসলাম কায়েম হয়, ইসলামের সকল কিছু মানা হয়, এমন অবস্থায় রেপ এর সম্ভাবনা অনেকাংশে কমবে। অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে কম অপরাধ সংগঠিত হবে ইনশাআল্লাহ্‌। ইসলামের বিধানগুলো যারা জানে তারা আমার কথা যৌক্তিকতা বুঝতে পারবে।

"রাত ১২ টায় বাইরে থাকলে রেপ হবে" - একটা মুসলিম মেয়ের জন্য এটা কোনোভাবেই জায়েজ না। রাত ১২ টায় থাকলে রেপ হবে কিনা এটা তো নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না, কিন্তু সম্ভাবনা বেশি থাকে। জঙ্গলে বাঘ খাবে কিনা এর নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না, তবে একটা সম্ভাবনা আছে তা নাকচ করা যায় না।

"প্রেমিক করলে দুস নাই অন্ন করলে দুস" - প্রেমিক করে ব্যভিচার, ধরলাম সেটা সম্মতিমূলক। ইসলামে এটা হারাম। আর রেপিস্ট করে রেপ, এটাও হারাম তবে ব্যভিচারের চেয়ে একটু বেশি খারাপ। সুতরাং দুইটাই দোষ। আর দুইটাকে সমান করে দেখানোটাও ভুল। সেকুলার ছাগলরা যেমন রাস্তাঘাঁটে রেপ আর স্বামী কর্তৃক রেপ(!)কে সমান চোখে দেখে, মুসলিমদের মধ্যেও কিছু বলদ আছে যারা সম্মতিমূলক সেক্স আর রেপকে সমান মনে করে। অথচ রেপের ক্ষেত্রে একটা মেয়ের সতীত্ব নষ্ট হয়। ব্যভিচারের ক্ষেত্রে উভয়ের জন্য সাজা আছে ইসলামে, রেপের ক্ষেত্রে শুধু রেপিস্টের সাজা।

রেপ বন্ধ করতে সালমানরা চায় কন্সেন্সুয়াল সেক্স তথা যিনা ব্যভিচার সমাজে ছড়িয়ে যাক। আল্লাহ্‌ এসব অশ্লীলতার প্রচারকদের থেকে আমাদের যুবসমাজকে হেফাজত করুন।

৭- লেখক পরিচিতির স্থানে সালমান লিখেছে, "অনেকে মনে করে তিনি দোজখে যাবেন।" আমি সালমানের অশ্লীলতার বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও চাই, সালমান নিজেকে মুসলিম ভাবুক। মন থেকে সালমান দোজখ বেহেশ্ত বিশ্বাস করে কিনা জানি না, তবে আমি চাই, তার হেদায়েত হোক।

Tuesday, September 4, 2018

"অন্ধকার থেকে আলোতে" বই রিভিউ - আরিফুল ইসলাম


বই রিভিউ : অন্ধকার থেকে আলোতে

 লেখক : Muhammad Mushfiqur Rahman Minar

(১)
তখন প্রথমবারের মতো ফেসবুকে চালু করা See First অপশনের সাথে পরিচিত হই। অর্থাৎ, কারো পোস্ট/ছবি পছন্দ লাগলে তাকে See First দিয়ে রাখলে নিউজফিডে অন্যদের পোস্টের চেয়ে See First দিয়ে রাখা ব্যক্তিটির পোস্ট আগে আসবে।

ফেসবুকে প্রথম যাকে See First দিয়ে রেখেছিলাম সেটা হলেন এই বইয়ের লেখক মিনার ভাই।
ফেসবুকে ইসলাম নিয়ে সবচেয়ে বেশি তথ্যবহুল লেখা আমার ফ্রেন্ড লিস্টে মিনার ভাই ই লিখেন, আরো কয়েকজনও আছেন। এই বইটাও তেমনি তথ্যসমৃদ্ধ কিন্ত তথ্যভারাক্রন্ত নয়।

(২)
বইটা পড়ে বুঝলাম যে, লেখক বইটা লিখতে গিয়ে অনেক গবেষণা করেছেন। অর্থাৎ, বইটা একটা গবেষণাধর্মী বই। ১৮১ পৃষ্ঠার এই বইটিতে লেখক মোট ৩১০ টা রেফারেন্স দিয়েছেন। আর রেফারেন্সের সোর্সগুলোও যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য।
ইসলাম নিয়ে তরুণ লেখকদের এরকম গবেষণাধর্মী বই আমি এখনো পড়িনি, সেই হিসেবে লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞ এরকম একটা বই পাঠককে উপহার দেবার জন্য।

(৩)
বইটিতে লেখক ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপন করা প্রশ্নগুলো মূল সোর্স থেকে তুলে এনেছেন। অর্থাৎ, বঙ্গদেশীয় নাস্তিকদের/ইসলামবিরোধীদের আপত্তি গুলোর মূল সূত্র হলো খ্রিষ্টান মিশনারি। তাদের শিখিয়ে দেওয়া প্রশ্নগুলো এদেশীয় নাস্তিকরা করে অনেকটা একচোখা নীতি অবলম্বন করে।
যেমন তারা ধরেই নেয়, বাইবেলে যা বলা আছে তা সত্য আর কুরআনে যা বলা আছে তা ভুল। কুরআনের কোনো তথ্যের সাথে বাইবেলের কোনো তথ্য মিলে গেলে তারা চিৎকার দিয়ে বলে, কুরআন বাইবেল থেকে কপি করা (নাউজুবিল্লাহ)। আবার বাইবেলের কোনো তথ্যের সাথে কুরআনের অমিল থাকলে তখন তারা বলে বাইবেলেরটা সত্য কিন্ত কুরআনেরটা মিথ্যা।

এরকম একচোখা লোকগুলোর প্রশ্নের উত্তরগুলো লেখক বইতে তুলে ধরেছেন কুরআন, বাইবেলের উদাহরণের মাধ্যমে।

বইটা পড়ে বুঝলাম, লেখকের বাইবেল সম্পর্কেও ভালো ধারণা আছে। যার ফলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় কুরআন আর বাইবেলের মতামত কি এবং কোনটা শেষপর্যন্ত সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে সেই বিষয়টা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন।

(৪)
আমি প্রতি সপ্তাহে দু-তিনটে ডকুমেন্টারি ভিডিও দেখার চেষ্টা করি। একবার ল্যাপটপে 'সেই পবিত্র শহর' নামে একটা ডকুমেন্টারি ডাউনলোড করে রেখেছিলাম। সময়-সুযোগের অভাবে ভিডিওটা আর দেখা হয়নি।

কয়দিন আগে এক ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এই ভিডিওটা দেখেছি কিনা। আমি 'না' বলায় উনি ভিডিওটির কিছু প্রপোগান্ডা আমাকে বলেন। তারমধ্যে একটা ছিলো কা'বা ঘর নিয়ে। তখন আমি এটার উত্তর জানতাম না।

পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফি ডিপার্টমেন্টের কিছু ভাইয়ের কাছ থেকে উত্তরটা জানতে পারলাম। তাদের উত্তর শুনে আমি মোটামুটি ৮০ ভাগ সন্তষ্ট হলাম, বাকি ২০ ভাগ সন্তষ্ট হলাম এই বইয়ের মাত্র একটা ইনফরমেশন পড়ে।

"সরলরৈখিকভাবে কিবলা থেকে বিচ্যুতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪৫ ডিগ্রি হতে পারে।"
'সেই পবিত্র শহর' নামক ভিডিওটিতে যেসব প্রপোগান্ডা ব্যবহার করা হয়েছে তা আমার মনে হউ, কম জানা কোনো মানুষ দেখলে বিভ্রান্তির শিকার হতে পারে। কিন্ত বইটিতে তথ্যবহুল যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে লেখক এই ভিডিওটির এসব প্রপোগান্ডার এমনভাবে উত্তর দিয়েছেন যে, এখন আবার এই ভিডিওটি দেখলে অনেকটা 'Funny Video' -র মতো লাগবে!

(৫)
কুরআনে বর্ণিত হামান নিয়ে কয়েকদিন ধরে জানার চেষ্টা করছি। এই বইটা পড়ে সেই জানার পিপাসা অনেকাংশেই মিটেছে। লেখক এখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিষয়টা বুঝিয়েছেন।
বইটিতে নাস্তিকদের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব না বলে খ্রিষ্টান মিশনারিদের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব বলাটা আমার কাছে মনে হচ্ছে যুক্তিপূর্ণ হবে।
বইটি প্রকাশ করেছে সমর্পণ প্রকাশনী।
প্রচ্ছদমূল্য ২৮০ টাকা।

বইমেলায় অন্যরকম প্রকাশনীর স্টলে (স্টল নাম্বার ৪৫৭) বইটি পাওয়া যাবে।

দুয়া - আরিফ আজাদ



No automatic alt text available.


এশার সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে উঠছি। এক মহিলার ডাক শুনে থামলাম। হিন্দু মহিলা। আমাকে বললেন, 'হুজুর, নামাজ কয় তালায় হয়?'

আমি বললাম, 'দো'তলায়'।

- 'আমার একটা উপকার করবেন?'

- 'বলুন'।

- 'আমার ছেলে গতকাল আসার সময় গাড়িতে একটা ফোন হারিয়ে ফেলেছে। ফোনটা যেন ফিরে পায় সেজন্য মসজিদের হুজুরকে একটু দোয়া করতে বলবেন? আমি তো হিন্দু। আমি বলতে পারবো না...'

আমি কিছু বলার আগেই মহিলা যেরকম ঝড়ের গতিতে এসেছিলেন, ঠিক সেরকম ঝড়ের বেগেই চলে গেলেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে, যে জিনিসটা ভাবনা জাগানিয়া সেটা হলো একজন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়েও তার অন্তরে এই বিশ্বাসটুকু স্থান করে আছে যে- 'দোয়া করলে হয়তো কোন ফল লাভ হবে। হয়তো তার ছেলের ফোন ফিরে পাওয়া যাবে ইত্যাদি...'।

গতকাল এক ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম। কথার একপর্যায়ে তিনি বললেন, 'ভাই, আমার যেটুকু অর্জন, সব দোয়ার ফলে। আল্লাহ রাব্বুল আলা'মীনের কাছে ফরিয়াদের ফসল'।

কথাগুলো শুনে আমার খুব ভালো লাগলো। চারিদিকে কতো হাহাকার শুনি, হতাশার কতো চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠে প্রতিনিয়ত। জীবন, জীবিকা, ক্যারিয়ার, পড়াশুনা, চাকরি-বাকরি নিয়ে মানুষের মধ্যে হতাশার অভাব নেই। যদি প্রশ্ন করি, 'কতোবার আল্লাহর কাছে নিজের সমস্যার কথা বলেছেন? কতোবার তাঁর কাছে নিজের চাওয়া-পাওয়া সোপর্দ করেছেন?

উত্তর শুনে হতাশ হই। এই হতাশার ভিতরেও যখন কাউকে দেখি যে তিনি আল্লাহর কাছে নিরলসভাবে চান, ফরিয়াদ করেন- তখন পুলক অনুভব করি।

দোয়া'র রয়েছে আশ্চর্যরকম এক ক্ষমতা! এই দোয়া'র ফলে ইউনুস (আঃ) মাছের পেটেও আল্লাহর সাহায্য পেয়েছিলেন। এই দোয়া'র ফলেই মূসা (আঃ) এর জন্য সাগর ভেদ করে রাস্তা তৈরি হয়েছিলো। এই দোয়াই ইয়াকুব (আঃ) এর কাছে ইউসূফ (আঃ) কে টেনে এনেছিলো। এই দোয়া'র ফলেই গুহাবন্দী তিন যুবক সেদিন মুক্তি পেয়েছিলো। দেখুন, দোয়াতে কিনা হয়!

সমস্যা হলো, আমরা দোয়া করতে জানিনা। আল্লাহর কাছে চাইতে জানিনা। আল্লাহর কাছে চাইতে হলে তো সবার আগে তাঁকে চিনতে হবে।

কে সে যার কাছে দোয়া করবো? কে সে যে আমার আকুল ফরিয়াদে সাড়া দেয়? হ্যাঁ, 'তিনিই আমার রব'।
আল্লাহকে চিনতে এবং জানতে, আল্লাহর কাছে চাইতে এবং তাঁর প্রতি তায়াক্কুল করতে ওস্তায আলি জাবের আল ফিফী'র (হাফিজাহুল্লাহু) রচিত 'তিনিই আমার রব' বইটি খুব সহায়ক হবে, ইন শা আল্লাহ।
[ বইটি এখনো অপ্রকাশিত। প্রকাশের তারিখ এবং এতদসম্পর্কিত সকল প্রশ্নের জন্য চোখ রাখা যায় Somokalin Prokashon এর ফেইসবুক পেইজে।


'প্রত্যাবর্তন' বই রিভিউ - মিরাজ মাহমুদ



জীবনের ফেলে আসা সময়গুলো নিয়ে খানিকক্ষণ ভাবতে বসলাম। কি করেছি সময়গুলোতে? যতোদূর হাতড়ে বেড়াই, সবখানে কেবল অন্ধকার। পাপের অন্ধকার। আমার চারপাশে যেন মহীরুহ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাপের এক সুবিশাল বৃক্ষ, যার পাতা, ডাল, গুল্ম আর শিকড় জুড়ে কেবল পাপের বিষবাষ্প। এই বিষের স্তুপে বসবাসে আমি যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি আপনাতেই। আমি নিঃশ্বাসে বিষ নিই, কিন্তু বিষের প্রতিক্রিয়া আমি বুঝতে পারিনা। বিষ খেতে খেতে আমি বেদনায় নীল হয়ে হয়ে পড়ি। কিন্তু কি অদ্ভুত! আমি চিৎকার করিনা যাতনায়। এই বিষের দংশনে আমি আহত হই, মরে যাই, বারবার মরে যাই.. তবুও আমি চিৎকার করিনা... চিৎকার করে বলিনা বাঁচাও.....বাঁচাও......বাঁচাও.....

এরপর, একদিন হঠাৎ এক মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিলো। এরকম একটি মৃত্যুর জন্য কেউই প্রস্তুত ছিলোনা। আসলে, মৃত্যুর তো কোন সময়জ্ঞান নেই। হয়তোবা আছে, কিন্তু আমরা তা জানতে পারিনা।

মৃত্যুটা আমাকে ভাবালো, - এটাই কি জীবনের পরিণতি? একদিন এরকম আমিও কি লাশ হয়ে যাবো? অনড়? নিশ্চল? নিশ্চুপ?

একদিন কি আমার পা দুটোও এরকম জড়িয়ে যাবে? নিঃশ্বাস থেমে যাবে? হৃদকম্পন নিয়ে নিবে তার অন্তিম বিরতি?

আমি আমার চারপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকালাম। আজ যে মানুষটি খুব ভালোবাসা আর স্নেহমাখা চাহনিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার মৃত্যুর পর সেই মানুষটিই আমাকে সংকীর্ণ একটা কবরে শুইয়ে দিয়ে আসার বন্দোবস্ত করবে। আমার অন্তিম যাত্রার পসরা সাজিয়ে সে আমাকে রেখে আসবে অন্ধকার এক জগতে। সে জগতে আমি একা। বড্ড একা।

আমার ভাবনার দুয়ারগুলো খুলে গেলো। চোখের সামনে থেকে সরে গেলো একটি মায়াবী পর্দা। আমি দেখতে পেলাম মৃত্যু আমাকে গ্রাস করার জন্য ছুটে আসছে। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমার পরিণতি। তখন আমার কাছে মৃত্যুই যেন নির্জলা সত্য। এর বাইরের সবকিছু মিথ্যা, স............ব। আমি বসে পড়লাম। মুখ থুবড়ে পড়ে রইলাম এক ভীষণ গ্লানিবোধে। কি করেছি আমি তাহলে? যে দীর্ঘ, অনন্ত পথ আমাকে একা পাড়ি দিতে হবে, সে পথের সম্বল কোথায় আমার?

ভবোদয় ঘটলো। জীবনের যা কিছু ভুল, পাপ আর অনর্থক কালক্ষেপণ- সবকিছু মুছে নতুন করে শুরু করার এক উদ্যমতা আমার মাঝে চেপে বসলো। শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। নতুন জীবনের গল্প।
'প্রত্যাবর্তন' বইটিতেও এরকম কিছু আত্মার গল্প আছে, যারা তাদের চারপাশে পরম যত্নে বড় করে তুলেছিলো একটি পাপের বৃক্ষকে। সেটি মহীরুহ হতে হতে যখন তাদের অস্তিত্ব বিলীন হবার পথে, ঠিক সেসময় একটি দমকা হাওয়া এসে সেই মহীরুহটাকে উপড়ে ফেলে দিলো। সেখানে জায়গা করে নিলো একটি শান্তির জানালা। সেই জানালা দিয়ে কেবল শান্ত-শীতল বাতাস প্রবেশ করে।
বইয়ের একজন যখন এক ক্লিকে সব গানের ফোল্ডার ডিলেট করে দিলো, মনে হলো- আমার অতীত যেন আমার সামনে উঠে এলো।

ইউনিভার্সিটির র‍্যাগ ডে, পহেলা বৈশাখ, ভালোবাসা দিবস- এসবকিছুকে যখন ছুঁড়ে ফেলেছিলাম, সেদিন মনে হলো আমি কোন এক খাদের কিনারায়, খাদে পড়তে পড়তে বেঁচে ফিরেছি।
যখন কেউ স্রষ্টাকে খুঁজতে খুঁজতে মাড়িয়ে বেড়ায় পথ, বিশ্বাসের অলিতে-গলিতে যখন সে সন্ধান করে বেড়ায় এক চিরন্তন সত্যের, মনে হয় এ যেন আমারই পাদচারণা।

এরকম বেশকিছু পাপে নিমজ্জিত আত্মার বিশুদ্ধকরণের গল্প দিয়ে রচিত এই বইটি। বইটি সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো বলা আছে বইটির ফ্ল্যাপেঃ

'মোহ আর মিথ্যের মধ্য দিয়ে পথ চলতে চলতে একটা সময় আত্মাগুলো নিমজ্জিত হয় অন্ধকারের অতল গহ্বরে। সেই ভয়ার্ত অন্ধকার কূপ থেকে কেউ আলোর দেখা পায়, কেউ পায় না। কেউ নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে নেওয়ার সুযোগ লুফে নেয়, কেউ নিজেকে হারিয়ে ফেলে অতল থেকে অতলে। যারা ফিরে আসে, কেমন হয় তাদের গল্পগুলো? সেরকম একঝাঁক পরিশুদ্ধ আত্মার গল্প নিয়েই 'প্রত্যাবর্তন'।
শেষ করতে চাই সেই মৃত্যুর ঘটনাটি দিয়ে। মৃত্যু হয়তো একজন মানুষের দুনিয়াবি জীবনের পরিসমাপ্তি। কমা বা সেমিকোলন নয়, একটা ফুলস্টপ। কিন্তু, কিছু কিছু মৃত্যু অন্য কারো জন্য নতুন করে জীবন শুরু করার পেছনের অনুঘটক। নতুন এক প্রয়াসের জন্য অনুপ্রেরণা।

পৃথিবীর সকল পরিশুদ্ধ আত্মার জন্যে ভালোবাসা। ভালোবাসা 'প্রত্যাবর্তন' এর সেই সকল 'ফিরে আসা' আত্মাগুলোর জন্যও, যারা তাদের জীবনকে সেই মহামহিম সত্ত্বার কাছে সোপর্দ করে দিয়েছে, যার কাছে ফিরে যেতে হবে আমাদের সকলকে। প্রত্যাবর্তন করতে হবে সবাইকে। দুনিয়ার প্রত্যাবর্তনের মতো আমাদের আখিরাতে প্রত্যাবর্তনও এরকম বিশুদ্ধ হোক, এই কামনায়।

বই - প্রত্যাবর্তন
প্রকাশনায়- সমকালীন প্রকাশন
সম্পাদনায় - আরিফ আজাদ



রিভিউ লেখক - মিরাজ মাহমুদ
মূল পোস্টের লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/groups/326459141145760/permalink/543828409408831/


Sunday, September 2, 2018

"জাস্ট ফাইভ মিনিটস" বই রিভিউ - আলমগীর হোসাইন মানিক

"জাস্ট ফাইভ মিনিটস"

সিরিয়া..সেই দেশেরই নাগরিক লেখিকা হিবা দাব্বাগ। ঘটনার সূত্রপাত সিরিয়াতে কমিউনিজম মতবাদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা বাথ পার্টির সদস্য সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি হাফেজ আল আসাদের সাধারন মুসলিমদের উপর নির্যাতনের মাধ্যমে। তখন সিরিয়ায় জনসংখ্যার প্রায় ৮৭ ভাগ সুন্নি আর ১৩ ভাগ ছিল শিয়া।সংখ্যালঘু শিয়ারা তখন সিরিয়ায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করতো।সুন্নিরা এই ক্ষেত্রে বিপাকে পড়ে গিয়েছিল।সেই সূত্র ধরে সিরিয়ার সংঘাত চলছিল।

তখনকার সিরিয়ার প্রশাসনিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম ছিল 'মুখবারাত'। সরকারের প্রশাসনের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েছিল তারা তাদের সংঘের নাম দিয়েছিল 'ইখওয়ানুল মুসলিমীন'।এই ইখওয়ানকে দমন করার জন্য মুখবারাত উঠেপড়ে লাগে।

লেখিকা হিবা দাব্বাগকে তার ছাত্রীহল থেকে মুখবারাতের সদস্যরা শুধুমাত্র পাঁচ মিনিট সময় চায় তার সাথে কিছুক্ষন কথা বলার জন্য।কিন্তু এই পাঁচ মিনিট লেখিকার জীবনের টানা নয়টি বছর কেড়ে নিয়ে যায় জেলখানার ভেতরে রেখে।

তাকে আটক করা হয় তার এক ভাই ইখওয়ানের সাথে যুক্ত আছে এই সন্দেহে। সিরিয়াতে তখন হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয় শুধুমাত্র ইখওয়ানের কর্মীদের সাথে আত্নীয়তা থাকার কারনে অথবা ইখওয়ানকে সামান্য সাহায্য সহযোগীতা করার কারনে।

বইটিতে উল্লেখ আছে কারাগারে মানুষের কষ্টের নির্যাতন ভোগের এক নির্মম কাহিনী।মানুষকে কিভাবে পশুর চেয়েও খারাপভাবে টর্চার করা হয় সেটা এই বইটি পড়ার মাধ্যমে যে কেউ উপলব্ধি করতে পারবে।১৯৮২ সালে সিরিয়ার শহর হামায় গনহত্যা সংঘটিত হয়।সেই গনহত্যায় আনুমানিক ৪০০০০ নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়।লেখিকা হিবা দাব্বাগের সম্পুর্ন পরিবার এই গনহত্যায় নিহত হয়।
বইটিতে আছে লেখিকার ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে গ্রেফতার হওয়ার পর ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পর্যন্ত টানা নয় বছরের সিরিয়ার কারাগারে জেলবন্দী জীবনের কষ্টদায়ক বর্ননা।

বইটি পড়ে বারবার শুধু চোখে পানি এসে যাচ্ছিল এই ভেবে যে একটা মুসলিম দেশের শাসকগন কিভাবে এত অমানুষিক নির্যাতন চালাল তাদের দেশের মুসলিম ভাই বোনদের উপর।সিরিয়ার নির্মম বাস্তবতা কিছুটা হলেও বুঝে উঠা সম্ভব হবে এই বই পড়ার মাধ্যমে।

এটা এমনি এক বই যেটা প্রত্যেক মুসলমানের একবার হলেও পড়া উচিত। একটু একটু করে টাকা জমিয়ে যেভাবেই হোক বইটা সকলে কিনে পড়ার চেষ্টা করবেন।বইটার টাকা বিন্দুমাত্রও বৃথা যাবেনা ইনশাআল্লাহ।

বই - জাস্ট ফাইভ মিনিটস
লেখিকা - হিবা দাব্বাগ
অনুবাদ - জোজন আরিফ
প্রকাশনী - দারুল আরকাম
মূদ্রিত মূল্য - ৩৮০ টাকা

"কষ্টিপাথর" বই রিভিউ - মানসুর আহমাদ

পড়ছি, অভিভূত হচ্ছি!
.
সুন্নাত তো আমরা মেনে চলি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায়। কিন্তু যারা রাসুলকে ভালোবাসার দাবিদার না? যারা পশ্চিমা মগজ ধোলাইয়ের শিকার? তাদেরকেও সুন্নাত পালনে উদ্বুদ্ধ করবে এ বই— ইনশাআল্লাহ! সুন্নাত যে অবৈজ্ঞানিক না, সুন্নাহ পালন করলে যে কেউ ব্যাকডেটেড হয় না, সুন্নাহর যে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে— এসবই প্রমাণ সহকারে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।
.
প্রথম বই (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড) দিয়েই যিনি পাঠকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, সেই ডা. শামসুল আরেফীন সাহেবের এটা দ্বিতীয় বই। অত্যন্ত বিনয়ী, রাসুল ও ইসলাম-প্রেমিক এই মানুষটি আরো অনেকের মতোই আমারও প্রিয় লেখকদের একজন। তিনি তাঁর লিখনির মাধ্যমে ইসলাম ও সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ করেছেন তাঁর প্রকাশিত উভয় বইয়েই। কিছু ক্ষেত্রে কঠিন বিষয়কেও রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করে সর্বশ্রেণির পাঠকদের বোঝার পথ করে দিয়েছেন।
আল্লাহ তাঁর এই বান্দাকে এবং আমাদেরও তাঁর দীনের জন্য কবুল করুন।
.
যেহেতু বইটা এখনও পড়া শেষ না, তাই আর বেশি কিছু বলছি না। তবে গোঁফ কাটার সুন্নাত প্রসঙ্গে মজার একটা উদ্ধৃতি পেশ করছি:
"এখন বোনদের কাছে জিজ্ঞাসা, সিন্ধুঘোটকের গোঁফ কাটাবেন না বাচ্চা নিয়ে ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়ি করবেন? নিজে বাঁচুন, বাচ্চাকে বাঁচান, সিন্ধুঘোটকটাকেও বাঁচান। আর কাঁঠাল খান নিশ্চিন্তে, গোঁফে তেল লাগানোর ঝামেলাই নেই।" [পৃষ্ঠা : ৩৬]
.
বইটা এতই ভালো লাগছে যে, সব কাজ ফেলে বইটা পড়ে শেষ করতে ইচ্ছে হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কয়েকজনকে গিফট করার নিয়ত করে ফেলেছি। আপনারাও পড়ুন, সুন্নাহর ইহলৌকিক উপকার জানুন এবং অন্যকেও গিফট করুন। শুভ কামনা!
.
বই: কষ্টিপাথর
ধরন: গবেষণা
লেখক: ডা. শামসুল আরেফীন
প্রকাশক: শুদ্ধি
প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০১৮
দ্বিতীয় সংস্করণ: মার্চ ২০১৮
প্রচছদ: আবুল ফাতাহ মুন্না
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬
মু্দ্রিত মূল্য: ২০০/-

"প্রত্যাবর্তন" বই রিভিউ - নুসরাত জাহান


#প্রত্যাবর্তন

ছোট থেকে ইসলামিক পরিবারে বড় হওয়া দ্বীনি ভাই-বোনের চেয়েও,জেনারেল পরিবার থেকে ওঠে আসা দ্বীনি ভাই-বোনের প্রতি আমার আকর্ষন টা একটু বেশিই।

কেননা তারা দ্বীনের পথে এসেছে নিজের ইচ্ছায় এবং আল্লাহর প্রতি ভালবাসা অনুভব করে।
যারা সাধারণ পরিবার থেকে দ্বীনের পথে আসে,তাদের অনেক ভালবাসার জিনিস ত্যাগ করে এই পথে আসতে হয়।

যা একসময় তার কাছে স্বপ্ন ছিল,,,সে স্বপ্ন ভেঙ্গে আসতে হয় দ্বীনের পথে.....যারা স্বপ্ন দেখে তারাই জানে স্বপ্ন ভাঙ্গার যন্ত্রণা কেমন।

তাদের হাজারও স্বপ্ন ভাঙ্গার মাঝে গড়ে উঠে আল্লাহর প্রতি ভালবাসা....
তাদের স্বপ্ন গুলো ত্যাগ করতে দু'মিনিট ভাবেনা যখন দেখে তা ইসলামের বিরুদ্ধে।

"প্রত্যাবর্তন" বইটি যখনই পড়ি,,,এইসব দ্বীনি ভাই-বোনের প্রতি আকর্ষন আরও বেশি বেড়ে যায়।
আর একটি আয়াত খুব মনে পড়ে.....

"বলুন সত্য এসেছে আর মিথ্যা ধ্বংস হয়েছে,মিথ্যা তো ধ্বংস হবারই ছিল"
(আল ইসরা ১৭)