Showing posts with label আদব. Show all posts
Showing posts with label আদব. Show all posts

Thursday, February 27, 2020

অভদ্রতা






অভদ্রতা







·       সালাম না দিয়ে কারো সাথে কথা শুরু করা একটা অভদ্রতা এবং সুন্নতের খেলাফ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালামের ব্যাপক প্রচলন করতে বলেছেন।



·       কারো বাসায় মেহমান হয়ে মেজবানকে কষ্ট দেয়া অভদ্রতা। যত কম সময় মেহমান হিসেবে থাকা যায় ততই ভালো। মেজবান হয়তো মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। কিন্তু মেহমানের কারণে তার নিজের কষ্ট হচ্ছে সেটা মেহমানের বুঝে নেয়া উচিৎ। যাকে দাওয়াত করা হয় সে হচ্ছে উত্তম মেহমান, আর যে বিনা কারণে মেজবানকে কষ্ট দিতে আসে সে অধম মেহমান।



·       মেহমানকে রেখে খেয়া ফেলা অভদ্রতা। সুন্নতও এটাই যে মেহমানকে সাথে নিয়ে খেতে হয়। মেহমানকে একা কিন্তু বেড়ে খাওয়ানোর চেয়ে তার সাথে বসে খাওয়া অধিক উত্তম।



·       কেউ দাওয়াত করলে কোনো ইসলামী কারণ (ওজর) ছাড়া দাওয়াতে না যাওয়া একটা অভদ্রতা এবং সুন্নতের খেলাফ।



·       গরীব রিক্সাওয়ালা, শ্রমজীবীদের তুমি বা তুই করে বলা অভদ্রতা। তাদের সাথে সালাম দিয়ে এবং ভদ্রতার সাথে কথা বলাটাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু মক্কার অভিজাত বংশের লোকদের সাথে নয় বরং দাস ও গরীব শ্রেণির সাথে মিশতেন।



·       গাইরে মাহরামের সাথে বিনা কারণে কথা বলা অভদ্রতা। বিশেষ করে একজন পর্দানশীনের সাথে কথা বলাটা। কোনো গাইরে মাহরাম মহিলার ঘরে কোনো পুরুষের প্রবেশ করাটাও বড় ধরণের অভদ্রতা ও নির্লজ্জতা। এগুলো জাহেলিয়াত।



·       ৩+ বাচ্চাদের আদর করার নামে চুমু খাওয়া একজন অনাত্মীয় ব্যক্তির জন্য অভদ্রতা। এমনকি মেয়ে বাচ্চাদের কোলে নেয়া, গায়ে হাত দেয়াও চরম পর্যায়ের নির্লজ্জতা।



·       সুন্দর করে মুচকি হাসি দেয়া সুন্নাহ। তাই কথার শুরুতে হাসি দিয়ে কথা না বলাটা অভদ্রতা এবং সুন্নাহবিরোধী।



·       কারো বাসায় গিয়ে জিনিশপত্র ধরা, দেখা, ফ্রিজ থেকে বিনা অনুমতিতে পানি নিয়ে খাওয়া বা অনুরুপ কিছু এসবই অভদ্রতা।



·       গান বাজনার ভলিউম বাড়িয়ে অন্যান্য মানুষকে কষ্ট দেয়া অভদ্রতা। গান বাজনা এমনিতেই হারাম, আর এটা জোরে ভলিউম বাড়িয়ে অন্যকে জোর করে শোনানো কত বড় গুনাহের কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। টিভির ভমিউমের ক্ষেত্রেও একি কথা প্রযোজ্য।



·       কারো সামনে খাওয়া কিন্তু তাকে খেতে না সাধা বা না দেয়া একটা চরম অভদ্রতা।



·       দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় অন্যের সামনে যাওয়া এবং অন্যকে কষ্ট দেয়া অভদ্রতা।



·       কেউ ঘরে একাগ্রচিত্তে সালাত আদায় করলে বা মুনাজাতে রত থাকলে অথবা তাহাজ্জুদের সালাদ আদায় করতে থাকলে তার সামনে যেয়ে হাঁটাহাঁটি করা, তার ঘরে ঢোকাও অভদ্রতা।



·       সিগারেট খাওয়া এমনিতেই হারাম। আর কারো বাসায় গিয়ে সিগারেট খাওয়া একটি গর্হিত অভদ্রতা।



·       কাউকে না জানিয়ে তার জিনিশ ব্যবহার করা অভদ্রতা।



·       বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি খাওয়া অভদ্রতা এবং সুন্নাতের খেলাফ।



·       কাউকে চিৎকার করে ঘুম থেকে ডাকা অভদ্রতা।



·       কাউকে ছোট করে কিংবা আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলা অভদ্রতা। সুন্দর আখলাক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা।









“প্রতিটা অভদ্রতাই জাহেলিয়াত। মানুষের সাথে সম্পর্কযুক্ত সুন্নাতের খেলাফ হলেই সেটা অভদ্রতায় পরিণত হতে হয়। সুতরাং অভদ্রতা ও জাহেলিয়াত থেকে বাঁচতে সুন্নাতের অনুসরণ ও চর্চার বিকল্প নাই।”


Sunday, September 9, 2018

কুরআনের মুসহাফে লেগে থাকা পবিত্র ধুলো লাগাই মোর সফেদ জামায় - মুহাম্মাদ আতিক উল্লাহ



মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ ( আদীব হুজুর ) নিয়মিত রামাদানের শেষ দশকে ই‘তিকাফে বসেন। অনেক আগে থেকে হুজুরের এই আমল জারি আছে। হুজুর সবকিছু থেকে একসূ-একাগ্র হয়ে ইবাদত-বন্দেগি আর লেখালেখিতে নিমগ্ন থাকেন। সারারাত জেগে একটানা লিখে যেতে থাকেন। মসজিদের এক কোণে। নিরবে।

ফাঁকে ফাঁকে কুরআন কারীম তিলাওয়ারত চলতে থাকে। কখনোবা দীর্ঘ মুনাজাত। সাধারণত আসরের পরই কুরআন তিলাওয়াত করতেন। হুজুরের কুরআন তিলাওয়াতের আলাদা একটা ধাঁচ আছে। সুর আছে। শুনলেই বোঝা যায় বড়ই আন্তরিক এই তিলাওয়াত। বুঝে বুঝেই তিলাওয়াত করছেন। কোনদিকে না তাকিয়ে। এক মনে এক ধ্যানে।

হুজুর আবার সব কুরআন থেকে তিলাওয়াত করতে অভ্যস্ত নন। হুজুরের নির্দিষ্ট একটা কুরআন কারীম আছে। একবার ওটা কিভাবে যেন পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজি করে জানা গেল এই বিশেষ ধরনে ছাপা হওয়া একটা কুরআন কারীম এক জায়গায় আছে।


সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে কুরআন কারীমটা ফটোকপি করে নিয়ে আসলাম। হুজুরের মুখে আকাশের চাঁদ পাওয়ার হাসি ফুটল। স্মিতহাস্যেই বললেন:
সারা ছেলেবেলা এই কুরআন কারীমের সাথে চোখ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। মাথার ভেতরে নির্দিষ্ট একটা নকশার ছাপ বসে গেছে। ভিন্ন আঙ্গিকের ছাপা সেটা যত সৃদ্যশ্য আর মনোরমই হোক, চোখে সয় না।


শিক্ষা তিন:
রামাদানের শেষ দশক। একদিন মসজিদে হুজুরের পেছনের কাতারে বসে বসে কুরআন তিলাওয়াত করছি। একচোখ হুজুরের দিকে। কখন কী প্রয়োজন হয়। হুজুরের নড়াচড়া দেখে বুঝলাম এবার তিলাওয়াত করবেন। ছুটে গিয়ে কুরআন কারীম এনে দিলাম। ঢাকা শহর ধুলোর শহর। সামান্য আগে মুছে রাখলেও ধূলির আস্তর জমে যায়।


আমি কুরআন কারীমখানা হাতে নিয়ে ধুলো মোছার জন্য রুমাল খুঁজছিলাম। হুজুর মুচকি হেসে আমার হাত থেকে কুরআন কারীমখানা নিয়ে, পরিহিত ধবধবে শাদা জামায়, বুকের কাছে লাগালেন। আদর করে, ইহতিরামের সাথে ধুলোগুলো মুছে ফেললেন। শাদা জামায়, বুকের কাছখানটিতে কালো হয়ে গেল সেদিকে ভ্রক্ষেপ নেই।


আমি শিখলাম কুরআন কারীমের গায়ে ধুলোগুলোও সম্মানের যোগ্য। বুকে মাখার যোগ্য। আহ!
এই ফাঁকে আরেকটা কথা বলে রাখি। আমার হযরত, প্রফেসর হামীদুর রাহমান সাহিব বলেছেন, মাওলানা আবরারুল হক সাহিব ইরশাদ করেছেন:
আমরা কুরআন কারীমের জুঝদান ধোয়ার পর পানিগুলো নর্দমায় বা আবর্জনায় ফেলি। এতে কুরআন কারীমের সাথে বে-আদবি হয়। আমরা জুঝদান ধোয়া পানিগুলো পবিত্র স্থানে বা গাছের গোড়ায় ঢালব। নাপাক জায়গায় ফেলব না। ইনশাআল্লাহ কুরআন কারীম কিয়ামতের দিন আমাদের জন্য সুপারিশ করবে।

- শাইখ আতিকুল্লাহ সাহেব