Showing posts with label মাদখালি. Show all posts
Showing posts with label মাদখালি. Show all posts
Tuesday, September 4, 2018
মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করার হুকুম কী?
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ইমান ভঙ্গকারী দশটি বিষয়ের মধ্যে স্থান দিয়েছেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিক-কাফিরদের সহায়তা করা। তাঁর আগে ও তাঁর পরে বিষয়টি নিয়ে আলিমগণ লিখে গেছেন। এ ব্যাপারে ইজমা বর্ণনা করেছেন। একে কুফর আকবর ও রিদ্দা সাব্যস্ত করেছেন আল্লাহ তায়ালার কালামের ভিত্তিতে। দুঃখের বিষয় হল এ বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময় কিছু ব্যক্তি বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে, এবং তারা নতুন একটি শর্ত যুক্ত করেছে যা হল – এই কাজটি কুফর হবে শুধু এবং শুধুই যখন এর সাথে অন্তরে কাফিরদের দীনের প্রতি সন্তুষ্টি, তাদের দীনের বিজয় কামনা, তাদের দীনের প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদি যুক্ত হবে।
.
বস্তুত ঐ মতের মতোই যারা বলে আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন কুফর না, যদি না এতে ইস্তেহলাল (অন্তরে একে হালাল মনে করা যুক্ত না হয়)। অনেকে পরিকল্পিতভাবে এই মানহাজ প্রচার করেছে, অনেক ভাই বিভিন্ন কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত হয়েছেন। আল্লাহ চাইলে এই মাযহাবের বাস্তবতা ও উৎস নিয়ে আমরা আলোচনার ইচ্ছা রাখি। তবে এখানে আমরা কেবল এ ব্যাপারে আলিমদের কিছু মত উল্লেখ করবো। যাতে করে কোন ব্যক্তি যদি নিজের বিরুদ্ধে যাওয়া সত্যকে অস্বীকার করতে উদগ্রীব হয়ে উঠে, সেও যেন আদল-ইনসাফ ও আত্মমর্যাদার খাতিরে অন্তত এটুকু স্বীকার বাধ্য হয় যে এ ব্যাপারে “ভিন্নমত” আছে। আর বাস্তবতা হল এই বিষয়টি স্পষ্ট, ইখতিলাফি না। তবুও তর্কের খাতিরে ও সভ্যতা ও ভব্যতার খাতিরে প্রবল অস্বীকারকারীও এটুকু স্বীকার বাধ্য হবে, অথবা নিম্নোক্ত আলোচনায় উল্লেখিত প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই হুকুম লাগানো হবে যা কথিত “চরমপন্থীদের” ব্যাপারে হন্তদন্ত হয়ে লাগানো হচ্ছে।
.
যারা দাবি করতে চান যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করা কুফর না, বরং গুনাহ, এবং কেবল অন্তরের শর্ত পূরণ হলেই তা কুফর (অর্থাৎ সত্তাগতভাবে কাজটি কুফর না।। কুফর হল অন্তরের বিশ্বাস- এ আকিদার বাস্তবতা দিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ), তারা এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে চান সাহাবি হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ঘটনা।
.
বস্তুত যারা তাওয়াল্লি ও মুযাহারার কুফর বলেছে, হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ঘটনা তাদের দলিল না, বরং এটি আল্লাহর কালাম দ্বারাই সাব্যস্ত। বস্তুত পথভ্রষ্ট ও পথভ্রষ্টতার একটি লক্ষন হল মুতাশাবিহাত দিয়ে মুহকাম বিষয়কে ব্যাখ্যা করা। অন্য দিকে আহলুস সুন্নাহর অবস্থান হল মুহকামের আলোকে দিয়ে মুতাশাবিহাতের ব্যাখ্যা করা। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর যাদুল মায়াদে উল্লেখ করেছেন হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর ঘটনা থেকে আলিমগণ মুসলিম গুপ্তচরের ব্যাপারে বিপরীতমুখী ফতোয়া দিয়েছেন। কেউ বলেছেন এমন ব্যক্তিকে মেরে ফেলতে হবে, কেউ বলেছে মারতে হবে না। এবং উভয় দলই এঘটনাকে নিজেদের স্বপক্ষে দলিল হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং প্রথমত এটিকে নিজের পক্ষে দলিল হিসাবে ব্যবহারের আগে উল্লেখ করা উচিৎ যে এই ব্যাপারে দুটি মত আছে । আর দ্বিতীয়ত, সুস্পষ্ট যে মত আল্লাহর কালামের ভিত্তিতে আছে, ও নিয়ে অতীত ও বর্তমানে অনেক আলিমের অনেক বক্তব্য ও ইজমার বর্ণনা আছে এ কথাটিও উল্লেখ করা আমানতদারিতার দাবি। বস্তুত এ সকল বিভ্রান্তির উদ্ভব ঘটে নিজের পছন্দ মত দলিল, ব্যাখ্যা অথবা ক্বওলের অনুসরণ, তাড়াহুড়া এবং বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু মতকে উপস্থাপন করে সেটাকেই অকাট্য ও একক সত্য বলে দাবি করা।
হাতিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ঘটনা থেকে কিভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করা কুফর এটি প্রমান হয়, সেই মত সম্পর্কে জানতে দেখুন - http://www.darulilm.org/2017/08/16/tawalli-confusiion/
.
কিন্তু যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করা যে কুফর আকবর এ বিষয়টি এড়িয়ে যাবার জন্য এ ঘটনাটি (যা মুতাশাবিহ) উল্লেখ করে শুধু একটি মত তুলে ধরে। আর একে ব্যবহার করে আহলে ইলমের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি কুফর ও রিদ্দা হবার ব্যাপারে যে ইজমা বর্ণিত হয়েছে তা অস্বীকার করে। আর যে আলিমগণ এ ইজমা উল্লেখ করেছেন তাঁরা কি এই হাদিসের এই ব্যাখ্যার (মুসলিম গুপ্তচরকে মারতে হবে না) কথা জানতেন না?
.
বস্তুত মুযাহারা যে কুফর ও রিদ্দা এটি একটি সুসাব্যস্ত বিষয়। যেমন শাইখ বিন বায মাজমু এর প্রথম খন্ডে ২৭৪ পৃষ্ঠায় বলেছেন –
মুসলিম আলিমরা একমত যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কুফফারকে সমর্থন (সাহায্য) করেছে, এবং যেকোন উপায়ে সাহায্য করেছে সে কাফির ঠিক তাদের মতই।
এ ব্যাপারে আরো দেখুন শাইখের নিচের ফতোয়া, যেখানে তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাহায্য করাকে রিদ্দা বলেছেন, কোন শর্ত উল্লেখ না করেই।
https://binbaz.org.sa/…/11…/حكم-مظاهرة-المشركين-على-المسلمين
.
কিন্তু আজ বলা হচ্ছে এ কাজটি কুফর কেবল তখন যখন এর সাথে কুফফারের দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, কুফরের প্রতি সন্তুষ্টি, কুফরের বিজয় কামনা ইত্যাদি যুক্ত হয়। একইভাবে শায়খ সুলাইমান আল-উলওয়ান বলেছেন মুযাহারা তথা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাহায্য করা কুফর ও রিদ্দা, তিনি আরো বলেছেন যে এমন ধারণা করা যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য করা শুধু তখনই কুফর যখন এর সাথে অন্তরের কুফরের ব্যাপারে সন্তুষ্টি বা তাদের দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা যুক্ত হয় বস্তুত ইরজা ও তাজাহহুম (জাহমিয়াহদের মাযহাব) দ্বারা প্রভাবিত।
https://www.youtube.com/watch?v=FD0p3bCMDpk
.
শাইখের আরেকটি বক্তব্য বাংলা সাবটাইটেলসহ দেখুন - https://www.youtube.com/watch?v=JJ7jKrTABhw
.
একইভাবে শাইখ আলি-আল খুদাইর বলেছেন –
কুফফারের প্রতি তাওয়াল্লি হল কুফর আকবর যার মধ্যে কোন তাফসিল নেই। যে কেউ মুসলিমদের বিরুদ্ধ কুফফারকে সাহায্য করে সে কাফির, মুরতাদ।
আর একথার পর শাইখ যুক্ত করেছেন যেন ইরজার লোকেরা যেন আপনাকে এই ব্যাপারে বিভ্রান্ত না করে।
http://midad.com/…/1978…/الحد-الفاصل-بين-موالاة-وتولي-الكفار
.
দেখুন এ ব্যাপারে শাইখ ড. সফর আল-হাওয়ালি এর বক্তব্য, যেখানে তিনি বলেছেন মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের যেকোন ধরনের সাহায্য করা, এমনকি কথা দিয়ে সাহায্য করাও কুফর বাওয়াহ, ছরিহ নিফাক ও ঈমান ভংগকারী বিষয়।
http://www.alhawali.com/…/6028-3-كفر-من-ينصر-الكفار-على-الم…
.
আমেরিকার আফগানিস্তান আক্রমনের প্রেক্ষাপটে শাইখ সফর এ বক্তব্য দিয়েছিলেন। এ সময় শুধু তিনিই না একই ধরনের ফতোয়া দিয়েছিলেন শাইখ আব্দুর রাহমান বিন নাসের আল-বাররাক, শাইখ আল-ঘুনাইমান, শাইখ হামুদ বিন উকলা, শাইখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আস-সাদ, শাইখ বিশর ইবন ফাহদ আল বিশর, এবং মরোক্কর ১৬ জন আলিম। সকলের বলেছেন তালিবানের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে সহায়তা করা কুফর আকবর ও রিদ্দা। কেউ এখানে অন্য কোন শর্ত যুক্ত করেননি। দেখুন –
http://www.ilmway.com/site/maqdis/MS_20504.html
.
এসকল শাইখ কি চরমপন্থী? আল্লাহ আমাদের মনকে সত্যের দিকে উন্মুক্ত করে দিন, অনর্থক বিদ্বেষ, ঘৃণা ও হিজবিয়াহ থেকে হেফাজত করুন।
.
এ বিষয়ে উলামায়ে নাজদের অবস্থান সুপ্রসিদ্ধ এবং এ নিয়ে ইমাম সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ ও ইমাম হামাদ ইবনে আতিকের কিতাবদ্বয় বিখ্যাত। ইমাম সুলাইমান তাঁর কিতাব আদ-দালাইলের শুরুই করেছেন এই বলে যে –
অবগত হোন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, যদি কোন ব্যক্তি মুশরিকদের দ্বীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি মুওয়াফাকা যাহির করে, খওফ, মুদারাহ, কিংবা মুদাহানাহ কারণে – তাহলে অবশ্যই সে তাদের মতোই কাফির, যদিও উক্ত ব্যক্তি তাদের ও তাদের দ্বীনকে ঘৃণা করে এবং ইসলাম ও মুসলিমদের ভালোবাসে। (আদ দালাইল)
.
‘যদিও উক্ত ব্যক্তি তাদের ও তাদের দ্বীনকে ঘৃণা করে এবং ইসলাম ও মুসলিমদের ভালোবাসে’ – ইমাম সুলাইমানের একথার পর আর কিছু বলার অবশিষ্ট থাকে না। বস্তুত একথার বাসস্তবায়ন ইমাম সুলাইমান তাঁর জীবনে করে গেছেন, আলহামদুলিল্লাহ যেকারনে তাঁর স্পষ্ট কথা ও কর্মে ইচ্ছামতো তাবীল করার কোন সুযোগ নেই। পরবর্তী উলামায়ে নজদ ও সালাফি আলিমগণও এই অবস্থান এভাবেই উল্লেখ করেছেন, যার কিছু প্রমান আপনারা উপরে দেখলেন।
.
অতঃপর আমরা এ বিষয়ে উপস্থাপন করবো এ ব্যাপারে বিংশ শতাব্দীর জগৎ শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকীহ আল্লামা আহমাদ শাকের রহিমাহুল্লাহ এর ফতোয়া যা তিনি উল্লেখ করেছেন তাঁর কালিমাতু হাক্ক গ্রন্থের ১২৬ থেকে ১৩৭ পৃষ্ঠায়। আল্লামা আহমেদ শাকিরের বক্তব্য –
.
“ব্রিটিশদের সহযোগিতার ব্যাপারে কথা হলো, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অথবা বড় যে কোনো ধরনের সহযোগিতা হলো চূড়ান্ত ইরতিদাদ (দ্বীন ত্যাগ) ও নিশ্চিত কুফরি। এতে কোনো অজুহাত বা ভুল ব্যাখ্যা কোনোটাই গ্রহণযোগ্য নয়। মূঢ় জাতীয়তাবাদ, ভঙ্গুর রাজনীতি এবং ভণ্ডামিপূর্ণ তোষামোদ কিছুই এ দ্বীনি বিধান থেকে কাউকে রক্ষা করবে না। বিশেষ ব্যক্তি, সরকার বা নেতাদের মাঝে যদি তা সংঘটিত হয় তবে ইরতিদাদ (দ্বীন ত্যাগ) ও কুফরির ক্ষেত্রে এদের সবাই একই।
.
…….সুতরাং ওরা (ফ্রান্স) ও ব্রিটিশরা হুকুমের ব্যাপারে একই। প্রত্যেক স্থানে তাদের রক্ত ও সম্পদ হালাল। বিশ্বের যে কোনো স্থানের মুসলিমদের জন্য ওদেরকে কোনো প্রকারের সহযোগিতা করা নাজায়েয। যদি কেউ সহযোগিতা করে তবে তার হুকুম তাদের মতোই যারা ব্রিটিশদের সহযোগিতা করে, তা হলো ইরতিদাদ (দ্বীন ত্যাগ) যা সম্পূর্ণরূপে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। আর এটা যে কোনো প্রকার বা প্রকৃতির সহযোগিতা হোক না কেনো।
.
…….সুতরাং বিশ্বের যে কোনো স্থানে অবস্থিত প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্যই জেনে রাখা উচিৎ যে, কেউ যদি মুসলিমদের শত্রু, তাদের দাসে পরিণতকারী ব্রিটিশ, ফ্রান্স ও আরো যারা আছে এবং তাদের দোসরদের সহযোগিতা করে, একইভাবে যে কোনো রকমের সহযোগিতা অথবা তাদের সাথে এমন শান্তি স্থাপন করা এবং তাদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা না করা, বিবৃতি বা কর্মের মাধ্যমে বিশ্বাসী ভাইদের বিরুদ্ধাচরণ করা, যদি উল্লেখকৃত যে কোনো একটি কাজ কেউ করে আর পরে সলাত আদায় করে, তবে তার সলাতের কোনো মূল্য নেই”। [কালিমাতুল হাক্ব, পৃষ্ঠা ১২৬-১৩৭ এ পাবেন বিস্তারিত ফাতাওয়া আল্লামা আহমাদ শাকের রহিমাহুল্লাহ এর “কালিমাতুল হাক্ব” কিতাবের ১২৬-১৩৭ পৃষ্ঠার “যুদ্ধরত কুফফার জাতির সঙ্গে মুসলিমদের আচরণ-বিধান” ভালোভাবে পড়ুন -
https://archive.org/details/WAQkalhaq,
বাংলা - https://www.pdf-archive.com/…/18/declaration/declaration.pdf]
.
এটি স্পষ্ট বিষয় আহমাদ শাকির জামা’আত কায়েদাতুল জিহাদের সাথে কখনোই যুক্ত থাকা সম্ভবই না, কারন তাঁর মৃত্যু হয়েছে জামা’আতের সূচনার বহু আগে। আমরা চিন্তা করি এই সকল শাইখ ও ইমামকেও কি এখন চরমপন্থী ও বাতিল মানহাজের বলা হবে কি না। আসলে বিষয়টি স্পষ্ট আর তা হল মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সহায়তা করার কাজটি কুফর আকবর ও রিদ্দা। এরকম অসংখ্যা বক্তব্য অতীত ও বর্তমানে আলিমদের কাছ থেকে আছে। লেখা অতি দীর্ঘ হয়ে যাবার আশঙ্কায় সব উল্লেখ করা হল না।
.
ইনশা আল্লাহ কাফিরদের দীনের প্রতি ভালোবাসা, সন্তুষ্টি, তাদের দ্বীনের বিজয় কামনা ইত্যাদি অন্তরীন হওয়াকে আলোচ্য কর্মের কুফর হবার অত্যাবশ্যকীয় শর্ত দাবি করার আকিদার পেছনের বাস্তবতা নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করা হবে।
.
মুসলিম ভাইবোনদের অনুরোধ করবো একমুখী পড়াশুনা না করে বিশদভাবে বিষয়গুলো নিয়ে জানার চেষ্টা করতে, এবং নিজের নিয়তকে বিশুদ্ধ করে নিতে, নইলে অন্যের কোমর ভাঙ্গার জজবায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও পা পিছলে যেতে পারে, এবং অন্যে কোমরের বদলে ভেঙ্গে যেতে পারে নিজের কোমরই।
.
আল্লাহ সত্যান্বেষীদের হেদায়েত করুন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের উপযুক্ত প্রতিদান দিন।
মাদখালি – সালাফি না, মুরজিয়া
মূল লিঙ্কঃ http://darulilm.org/2018/09/04/murjiah-not-salafi/
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর।
সালাফিয়্যার ছদ্মবেশে সমসাময়িক ইরজা আন্দোলন যে আহলুস সুন্নাহ এর আকিদার উপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, তার বিপক্ষে আমি এই ফোরামে বিগত কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন সময় কলম ধরেছি। বস্তুত, গত বছর মুরাদ শুকরির লিখা বইয়ের বিপক্ষে আল-লাজনাহর একটি ফাতওয়ায় বলা হয় যে এই দলটি (যারা নিজেদের জর্ডানের সালাফী বলে পরিচয় দেয়) আকিদায় ইরজা ধারন করে।
পশ্চিমা দেশে এই দলটির উন্মত্ত অনুসারীরা, যাদের অনেকেরই আরবি বা শরিয়াহ এর জ্ঞান নেই, বছরের পর বছর ধরে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ দিয়েছে। কুয়েতি ঘোষণায় (যা আমি অনুবাদ করেছি ও ‘বৃটেনের সালাফীদের প্রতি নাসীহাহ’ নামক বক্তব্য পড়ে শুনিয়েছি) শায়খ ইবনে বাজ এর দস্তখত নকল করা, আমাকে আমেরিকার এজেন্ট বলা এবং আহলুস সুন্নাহ এর বিপক্ষে যুদ্ধরত হিশাম কাব্বানীর একজন সহযোগী হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অপবাদ আমার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে।
বিভিন্ন সময় অনেক ভাই ও বোন আমাকে অনুরোধ করেছে আত্মপক্ষ সমর্থন ও এসব অভিযোগের খণ্ডন করতে। প্রতিবারই আমি তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতাম যে, প্রথমত, আমাদের কোন যুবকেরই উচিৎ না আত্মপক্ষ সমর্থন করা। কারণ আমরা যারা জড়িত, বিশেষভাবে আমি, তাদের কেউই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার গুরুত্ব রাখি না, আত্মপক্ষ সমর্থন করা তো অনেক দূরের কথা। দ্বিতীয়ত, আমাদের উচিৎ আহলুস সুন্নাহ এর মানহাজ অনুসরণ করা।
আহলুস সুন্নাহর মানহাজের মানে হচ্ছে আমরা এই আকিদার সমর্থন ও সুরক্ষা করি কারন এটিই সঠিক আকিদা। এই জন্য না যে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই আকিদা ধারন করেন।
দ্বিতীয়ত, এই মানহাজের মানে হচ্ছে আমরা সত্যের সাক্ষ্য দেই, কারণ তা প্রকৃত অর্থেই সত্য। এই কারণে নয় যে, অমুক অমুক একে সত্য বলেছেন। তাই দ্বীন সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়া উচিৎ।
তৃতীয়ত, এই মানহাজের আরেকটি অংশ হল আহলে বিদা’আত এর সাথে তর্কে লিপ্ত না হওয়া। যদি আমরা এটা স্বীকার করে নেই যে, এসব বিষয়ে যাদের সাথে আমরা দ্বন্দ্বে লিপ্ত তারা আহলুস সুন্নাহ এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে আমাদের উচিৎ তাদের সাথে বিতর্ক না করে পরিষ্কারভাবে ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে (যা তাদের আচরণে প্রকাশ পায় না) সত্যকে উপস্থাপন করা ।
চতুর্থত, সত্য সুস্পষ্ট হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমরা যদি সত্যের উপর থাকি, সত্য প্রকাশিত হওয়ার ব্যাপারে আমাদের নিশ্চিন্ত থাকতে হবে, কারণ আল্লাহর ক্বদরের মাধ্যমে মিথ্যা বিলুপ্ত হবে এবং সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
উপরিল্লিক্ষিত বক্তব্যের প্রমাণ হল খালিদ আল-আনবারি এর লেখা বইয়ের বিপক্ষে আল-লাজনাহর দেয়া সর্বশেষ ফাতওয়া এবং এই দলের বিপক্ষে আসা একের পর এক প্রমাণের অংশ। উল্লেখযোগ্য প্রমাণাদির মধ্যে রয়েছেঃ
১। সাইদ কুতুবের বিরুদ্ধে শায়খ রাবি আল-মাদখালি এর লিখা বইয়ের বিপক্ষে শায়খ বকর আবু যাইদ এর চিঠি, যেখানে তিনি মৃত ব্যক্তির কথাকে বিকৃত করার মাধ্যমে নিজের আমল বরবাদ না করার ব্যাপারে শায়খ রাবিকে সতর্ক করেছেন।
২। সাইদ কুতুব এবং আবদুর রাহমান আবদুল খালিক এর বিরুদ্ধে শায়খ রাবির কার্যক্রমের বিপক্ষে শায়খ ইবনে জিবরীন এর ফাতওয়া, যেখানে তিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাইদ কুতুবকে মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার ব্যাপারে শায়খ ইবনে বাজ সুপারিশ করেছিলেন।
৩। সাইদ কুতুবের ব্যাপারে শায়খ আলবানীর সেই টেপ যেখানে তিনি বলেছেন যে, সাইদ কুতুবের তাফসীরের অংশবিশেষ আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুপ্রাণিত, এবং প্রত্যেক সালাফির মা’আলিম ফিত-তারিকের একটি অধ্যায় পড়া উচিৎ। এবং শায়খ আল-আলবানীকে যখন শাইখ রাবি আল-মাদখালির লিখিত সেই বইয়ের একটি অনুচ্ছেদ পড়ে শোনানো হয় তখন শায়খ আলবানীর মন্তব্য করেন যে যে সাইদ কুতুবের বিরুদ্ধে শায়খ রাবির এই বই হচ্ছে জাহালত বা অজ্ঞতা।
৪। কুয়েতি তালিবে ইলমদের ব্যাপারে শায়খ ইবনে বাজ এর প্রশংসা।
৫। শায়খ আবদুর রাহমান আবদুল খালিক এর লিখা ‘আস-সীরাত’ বইয়ের ব্যাপারে শায়খ ইবনে বাজ এর প্রশংসা, যেখানে তিনি বইটির প্রকাশ ও বিতরণের আহ্বান জানান যদিও বইটিতে তাওহীদ আল-হুকুম নামে একটি অধ্যায় রয়েছে।
৬। মুরাদ শুকরির লিখা ‘ইহকাম আত-তাকরীর’ বইয়ের বিপক্ষে আল-লাজনাহর ফাতওয়া, যেখানে বলা হয়েছে এ বইটি বিপথগামী মুরজিআদের বিশ্বাসকে সালাফ ও আহলুস সন্নাহ এর বিশ্বাস হিসেবে প্রচার করছে, এবং সে ফাতওয়ায় বইটির বিতরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
৭। খালিদ আল-আনবারীর বইয়ের বিপক্ষে আল-লাজনাহর সর্বশেষ ফাতওয়া।
৮। আল-ফিরকা আন-নাজিয়া এবং আত-তায়িফা আল-মানসুরা এর মধ্যে শায়খ সালমান আল-আওদা যে পার্থক্য করেছেন সে ব্যাপারে শায়খ আল-আলবানীর একমত হওয়া। এই বিষয়টি, যা একটি ইজতিহাদি বিষয়, শায়খ রাবি সেটাকে ব্যবহার করে শায়খ সালমানের বিরুদ্ধে পুরো একটি বই লিখেছেন।
৯। উলামা এবং দাঈদের উপর এই দলটির আক্রমণের বিরুদ্ধে শায়খ বকর আবু যাইদের লিখা বই ‘আল-ইনসাফ’।
এবং আরও অনেক প্রমাণ রয়েছে, যা আমি ইতোমধ্যে দীর্ঘ হয়ে যাওয়া ইমেইলটিকে আর দীর্ঘায়িত না করার জন্য উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম।
এই দলটি আসলেই তেমন যেমনটা তাদের ব্যাপারে বর্ণনা করা হয়েছেঃ
দাঈদের ব্যাপারে তারা খাওয়ারিজ; শাসকদের ব্যাপারে তারা মুরজিয়া; ইসলামী জামাআহ তথা দলগুলোর ব্যাপারে তারা রাফেযী; এবং ইহুদী, খৃস্টান ও কাফিরদের ব্যাপারে তারা কাদরিয়্যা।
যেসকল ভাই ও বোনেরা এই ফিতনায় পড়ে গেছেন, আমি তাদের অনুরোধ করবো তারা যেন তাদের কিছু কিছু অবস্থান পুনঃবিবেচনা করেন এবং এসব ভ্রান্ত ধারণা থেকে ফিরে আসেন। অন্যদিকে, যেসকল ভাই ও বোনেরা এই ফিতনা থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় হেফাজতে আছেন, আমি তাদের অনুরোধ করবো তাদের ভাইদের ভুলে আনন্দিত না হয়ে আল্লাহ যে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন সে ব্যাপ্যারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য, এবং আমাদের ভাইদের সত্যের পথে ফিরিয়ে আনতে জ্ঞান ও সংযমের সাথে এই সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, এসকল ভাই বোনদের সিংহভাগই তাওহীদ ও সুন্নাহ এর একনিষ্ঠ অনুসারী, যারা ফিতনাগ্রস্ত হয়েছেন এই ভেবে যে, তারা আল্লাহ প্রদত্ত ধর্মকে প্রতিরক্ষা করছেন। কিন্তু আসলে তারা একটি সিংহাসনকে প্রতিরক্ষা করছেন, যা তাদের বা তাদের নেতাদের ব্যাপারে কেয়ারই করে না করে। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সীমালঙ্ঘনকে ক্ষমা করে দিন এবং তাঁর সত্যের দিকে ফিরিয়ে আনুন।
আপনাদের ভাই
আলি আত-তামিমি
বিদ্রঃ সাম্প্রতিককালে আল-লাজনাহ দ্বারা তিরস্কৃত বইটি আলী আল-হালাবী তার ‘আত-তাহজীর মিন ফিতনাতুত তাকফির’ বইয়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিল। ডঃ আবু রুহাইয়াম তার সাথে বিতর্ক (সেই কুখ্যাত টেপ যেখানে আলী আল-হালাবীকে চিৎকার করতে শোনা যায়) করার পর ‘তাহজীর আল-উম্মাহ মিন তা’লিকাত আল-হালাবী আলা আক্বওয়াল আল-আইম্মা’ (আলেমগণের বক্তব্যে আল-হালাবী কর্তৃক যোগ করা মন্তব্যের ব্যাপারে উম্মাহর জন্য সতর্কবাণী) নামে একটি ছোট পুস্তিকা লিখেন।
আলী আল-হালাবী আত্মপক্ষ সমর্থন করে দুইটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ এবং ‘সাইহা নাজীর বি খাতিরুত তাকফির’ নামে একটা দীর্ঘ বই রচনা করেন, যেখানে তিনি নিম্নোক্ত স্বীকারোক্তি দেনঃ
১। পৃষ্ঠা ৬ এর ফুটনোটে তিনি বলেন যে তার মূল বই “তাহজীর আল-উম্মাহ” বিভিন্নজন পর্যবেক্ষন করেছেন, যাদের মধ্যে মধ্যে “আল-আখ আশ-শায়খ মুরাদ শুকরি” একজন।
মজার ব্যাপার হল, গত বছর যখন আল লাজনাহ থেকে মুরাদ শুকরির বই ‘ইহকাম আত-তাকরির’ এর বিপক্ষে ফতোয়া এল এবং বইটিকে আহলুস সুন্নাহ ও সালাফদের আকিদার ছদ্মবেশে মুরজিআদের বিশ্বাস প্রচারকারী বলা হল এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল, আলী আল-হালাবী তখন মন্তব্য করলেন যে বইটা ছাপিয়ে এবং এই অজ্ঞাত (মুরাদ শুকরি) লোককে প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়ে তিনি ভুল করেছেন। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আলী আল-হালাবী শুধু বইটা ছাপানইনি, বরং বইটার পক্ষে সাফাই গেয়ে প্রশংসাও লিখেছেন। উপরন্তু, মুরাদ শুকরিকে বইটা পর্যালোচনা করতে দেয়ার ব্যাপারে তার নিজের স্বীকারোক্তি থেকে প্রশ্ন থেকে যায় –
যদি মুরাদ শুকরি অজ্ঞাত লোকই হয়ে থাকেন, তিনি কেন আলী আল-হালাবীর বই পর্যালোচনা করছেন? এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তাদের সম্পর্ক আরও গভীর।
২। আল লাজনাহ দ্বারা তিরস্কৃত আল-আনবারীর বই ‘আল-হুকুম বি গাইরি মা আনজালাল্লাহ ওয়া উসূল আত-তাকফির’ (আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা ব্যতীত অন্যকিছু দিয়ে বিচার করা এবং তাকফির করার মূলনীতি), এর ব্যাপারে আল-হালাবী তার ‘সাইহা আন-নাজির’ বইয়ে (পৃষ্ঠা ৫২) এ লিখেন,
“আমাদের মেধাবী ভাই, আবু মুহাম্মাদ খালিদ ইবনে আলী আল-আনবারীর লিখা ‘আল-হুকুম বি গাইরি মা আনজালাল্লাহ ওয়া উসূলুত তাকফির’ একটি উপভোগ্য বই এবং আল্লাহ তা’আলা এতে ভাইকে সফলতা দান করুন।” তারপর সেই পৃষ্ঠার ফুটনোটে আল-হালাবী লিখেন, “এটা খুবই অসাধারণ, উপকারী এবং উপভোগ্য বই, যেখান থেকে আমি আত-তাহজীর এ একাধিকবার উদ্ধৃতি দিয়েছি।”
৩। পৃষ্ঠা ৯৩ এর নোটে, বর্তমানে বিলুপ্ত আল-মুসলিমুন পত্রিকায় প্রকাশিত (২৬ জিলক্বদ, ১৪১৭ হিজরি, ইস্যু নং- ৬৩৫) কালিমাত হক্ব উরিদা বিহা বাতিল (মিথ্যার জন্য ব্যবহৃত একটি সত্য শব্দ) নামে আব্দুল্লাহ আস-সাবত এর লিখা সম্পাদকীয়টি আল-হালাবী সম্পূর্ণ উদ্ধৃত করেন। তিনি আব্দুল্লাহ আস-সাবতকে “আশ-শায়খ আব্দুল্লাহ আস-সাবত, আল্লাহ তাকে সফলতা দান করুন” বলে সম্বোধন করেন।
মূল বিষয় হচ্ছে আব্দুল্লাহ আস-সাবিত সম্পাদকীয়টি লিখেছিলেন শায়খ আবদুর রাহমান আবদুল খালিক এর ‘আস-সীরাত’ বইটির বিপক্ষে। “মিথ্যার জন্য ব্যবহৃত একটি সত্য শব্দ”, এই উক্তি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহ আনহু এর। একথা তিনি বলেছিলেন যখন খারেজিরা কোরআনের একটি আয়াত উচ্চারণ করছিল, এবং বলছিল বিধানদাতা কেবল আল্লাহ। খারেজিরা একথা বলেছিলো যখন আলী ও মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এর মধ্যকার বিবাদ মীমাংসা করার দায়িত্ব মানুষের উপর অর্পন করা হয়। সুতরাং, আবদুর রাহমান আবদুল খালিককে এ লেখায় আস-সাবত আদি খারেজির সাথে তুলনা করেছেন। যাহোক, আমরা সবাই জানি যে, শায়খ ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে ‘আস-সীরাত’ বইটির প্রশংসা করেন এবং বইটির ছাপা ও বিতরণের আহ্বান জানান। এর মানে এটাই দাঁড়ায় যে, আব্দুল্লাহ আস-সাবত এর যুক্তি অনুযায়ী ইবনে বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) নিজে একজন খারেজি, অথবা আব্দুল্লাহ আস-সাবত এই বিষয়ে সুন্নাহ এর উপর ছিলেন না।
আমি এই কথাগুলো লিখছি, কারণ কয়েক বছর আগে এই দলের এক উগ্র অনুসারী এই বইটা এবং আলী আল-হালাবী এর বইয়ের বরাত দিয়ে তাদের অবস্থানকে সমর্থন করার চেষ্টা করে। আমি সেই সময়ই বলেছিলাম যে, দুইটা বই-ই আলেমগণের বক্তব্যকে বিকৃত করেছে, আলহামদুলিল্লাহ। আর আল লাজনাহর ফাতওয়া বের হয়েছে মূল বইটার বিপক্ষে এবং দ্বিতীয় বইটাও আহলুস সুন্নাহ এর দ্বারা তিরস্কৃত হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। যদিও ডঃ আবু রুয়াইয়াম এর দুইটি প্রবন্ধ তাঁদের জন্য যথেষ্ট, যারা অন্ধ অনুসরণকারীদের বক্তব্যকে নয়, বরং কোরআন ও সুন্নাহকে উপলব্ধি করে অনুসরণ করেন।
(মাদখালিদের ব্যাপারে একটি অনলাইন ফোরামের অ্যাডমিনদের প্রতি লিখিত শাইখ আলি আত-তামিমি এর একটি ইমেইল, যা পরে প্রকাশ করা হয়েছিল, তা থেকে অনুদিত)
Subscribe to:
Posts (Atom)