Showing posts with label তালিবান. Show all posts
Showing posts with label তালিবান. Show all posts

Monday, September 10, 2018

খোরাসান, কালো পতাকা এবং ইমাম মাহদী - আইনুল হক কাসিমী


ইমাম মাহদি'র আগমন

.
আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
.
“পূর্বদিক (খোরাসান) থেকে কিছু লোক বের হয়ে আসবে, যারা ইমাম মাহদির খিলাফত প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠা সহজ করে দিবে”।
.
(সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৩, হাদিস নং ২৮৯৬; সুনানে ইবনে মাজা, খণ্ড ৩, হাদিস নং ৪০৮৮)
.
অপর বর্ণনায়, হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
.
“যখন তোমরা দেখবে, কালো পতাকাগুলো খোরাসানের দিক থেকে এসেছে, তখন তাদের সাথে যুক্ত হয়ে যেও। কেননা, তাদেরই মাঝে আল্লাহর খলীফা মাহদি থাকবে”।
.
(মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৭৭; কানজুল উম্মাল, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৪৬; মিশকাত শরীফ, কেয়ামতের আলামত অধ্যায়)
.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, একদা আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। উনি বলতে ছিলেন,
.
“ঐ দিক থেকে একটি দল আসবে (হাত দিয়ে তিনি পূর্ব দিকে ইশারা করলেন)। তারা কালো পতাকাবাহী হবে। তারা সত্যের (পূর্ণ ইসলামী শাসনের) দাবী জানাবে, কিন্তু তাদেরকে দেওয়া হবে না। দুইবার বা তিনবার এভাবে দাবী জানাবে, কিন্তু তখনকার শাসকগণ তা গ্রহণ করবে না। শেষ পর্যন্ত তারা (ইসলামী শাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব) আমার পরিবারস্থ একজন লোকের (ইমাম মাহদির) হাতে সোপর্দ করে দিবে। সে জমিনকে ন্যায় এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে ভরে দিবে, ঠিক যেমন ইতিপূর্বে অন্যায় অত্যাচারের মাধ্যমে ভরে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যদি কেউ ঐ সময় জীবিত থাকো, তবে অবশ্যই তাদের দলে এসে শরীক হয়ে যেও – যদিও বরফের উপর কনুইয়ে ভর দিয়ে আসতে হয়”।
(আবু আ’মর আদ দাইনিঃ ৫৪৭, মুহাক্কিক আবু আবদুল্লাহ সাফেঈ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন)
.
প্রাচীন খোরাসানের মূলকেন্দ্র ছিল বর্তমান আফগানিস্তান। বর্তমান আফগানিস্তান যে খোরাসান, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর এই খোরাসানই হল কালো পতাকাধারীদের অবস্থানস্থল। যাঁদের মাঝেই আগমন করবেন আল্লাহর খলিফা মাহদি আ.। বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে হলেও যাঁদের পতাকাতলে সমবেত হতে বলেছেন রাসুল(সা.)।
.

Tuesday, September 4, 2018

শহীদের মত বেঁচে থাকা



মাওলানা জালালুদদ্বীন হক্কানী তার পাঁচ ছেলেকে কুরবানী দিয়েছেন। তিন ছেলেকে সরাসরি মার্কিনীরা মেরেছে। বাকি দুইজনের একজনকে মার্কিনীদের আফগানী দালালরা আর আরেকজনকে মার্কিনীদের পাকিস্তানী দালালরা মেরেছে। দুই ছেলে বেঁচে আছেন যাদের একজন সিরাজুদদ্বীন হক্কানী আবার ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের নায়েবে আমীর!
.
.
তাকে অনেকবার মার্কিনীরা হত্যা করার চেষ্টা করেছে, লোভ দেখিয়েছে কিন্তু তিনি পরাজিত হন নি। রাশিয়া এবং আমেরিকা দুইটাকেই পরাজিত করে, অপরাজিত অবস্থায় রব্বুল 'আলামিন তার পরীক্ষার সমাপ্তি ঘটালেন।
.
.
গতকাল ইমারাতে ইসলামিয়া তার ইন্তিকালের সংবাদ জানিয়ে টুইট করেছে। আল্লাহ তা'আলা তার সন্তানদের শহীদ হিসেবে কবুল করুক। এতগুলো শহীদের পিতা হিসেবে তাকে জান্নাতে দাখিল করুক!
.
.
শহীদের মত মানুষ কিভাবে বাঁচে বলুন তো? মাওলানা জালালুদদ্বীন হাক্কানীরা যেভাবে বাঁচে, সেটাকেই শহীদের মত বেঁচে থাকা বলে। একজন রিয়েল হক্কানী!
.
.
-মিফতাহ আয-যামান



জালালুদ্দীন হক্কানী রাহিমাহুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেছেন




ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

শায়খ জালালুদ্দিন হক্কানী (রহ:) মারা গিয়েছেন। ৪/৯/২০১৮

তালেবান আজ এক বিবৃতিতে শায়খের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। শায়খ জালালুদ্দিন হক্কানী হলেন হক্কানী নেটওয়ার্কের ফাউন্ডেশন প্রধান। হক্কানী নেটওয়ার্ক আফগানিস্তানে আল কায়দায় শাখা হিসাবে পরিচিত। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদীনদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর এক ছেলে সিরাজউদ্দিন হক্কানী তালেবানের ডেপুটি আমীর। দোয়া করি আল্লাহ শায়খ জালালুদ্দিন হক্কানীর ভুলক্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতে সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।


Sunday, September 2, 2018

আল-কায়েদা ও তালেবান সম্পর্ক, অপপ্রচারকারীদের বিভ্রান্তির জবাব!


কিছু ভাই মেহেরবানি করে একটি বিষয় আমার নজরে এনেছেন এবং এ নিয়ে লিখতে অনুরোধ করেছেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। বিষয়টি হল ফেসবুকে বর্তমানে ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান এবং জামা’আত কায়েদাতুল জিহাদ-এর সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে লিখালিখি করছেন। এসব লেখার মধ্যে কিছু তথ্য অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ভাইদের অনুরোধে এবং উক্ত লেখাগুলোর ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত তথ্যগত বিভ্রাট ও বিভিন্ন বিষয়ে লেখকদের মনমতো ব্যাখ্যা দেখে এ ব্যাপারে কিছু লেখার ব্যাপারে মনস্থির করেছি। সংশয় নিরসনের চেয়ে উত্তম বিষয় হল এর ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে পুনরায় আবার আলোচনা উপস্থাপনও করারও সুযোগ হবে ইনশাআল্লাহ। ওয়ামা তাওফিকি ইল্লাহ বিল্লাহ।
.
ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান ও জামা’আত কায়েদাতুল জিহাদের সম্পর্কের ব্যাপারে এমন কিছু লেখা আমি দেখেছি। যেমন- কেউ একজন একটি আরবী ফোরাম থেকে কিছু লেখা আর লেখকের রায় হুবহু তুলে দিয়েছেন। আরেকজন ইচ্ছামতো নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে ইতিহাস ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ উপস্থাপন করছেন কোন উৎস ছাড়াই, আল্লাহ জানেন এসব ইতিহাস ও বিশ্লেষণ তিনি কোন সূত্রে উল্লেখ করছেন। তৃতীয় আরেকজনকে দেখলাম তালিবান বর্তমান মুসলিম অধ্যুষিত ভূখণ্ডগুলোর শাসকদের উপর তাকফির করে না, এ কথা উল্লেখ করে বলতে চাচ্ছেন যে আল-কায়েদার উসুল অনুযায়ী তাহলে তালিবানকে মুরজিয়া বলা উচিত! চতুর্থ আরেকজন বলছেন আল-কায়েদা নাকি সবসময় “যাহা আল কায়েদা তাহাই তালিবান” এমন দাবি করে আসছে! প্রাথমিকভাবে লেখাগুলো দেখে যা বুঝতে পারলাম তা হলে ফেসবুক হল এমন একটি স্থান যেখানে কোন বিষয়ে বিশদ ও প্রাথমিক উৎস থেকে জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও ফেসবুকের মাধ্যমে উক্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বনে যাওয়া। সত্য বলতে গেলে এসব লেখার চেয়ে বরং জামাতুল বাগদাদির পক্ষ থেকে ২০১৩-১৪ সালে যেসব বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা উপস্থাপন করা হতো সেগুলো তথ্য, যুক্তি ও বুঝের দিক দিয়ে আরো কম দুর্বল ছিল। সেগুলোই সত্যের সামনে ভেঙ্গেচুড়ে গেছে, রয়ে গেছে জামাতুল বাগদাদীর বাস্তবতাহীন নিস্ফল আস্ফালন।
.
ইমারতে ইসলামিয়াহ আফগানিস্তান ও জামা’আত কায়েদাতুল জিহাদের সম্পর্কের ব্যাপারে ও এ নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির ব্যাপারে বিস্তারিত ও পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আলোচনা ইনশাআল্লাহ উপস্থাপন করা হবে। তবে একটি বিষয় নিয়ে বেশ কৌতুক বোধ করছি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় –
.
শাইখ উসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদা আমীরুল মুমিনীন মুল্লাহ মুহাম্মাদ ওমরকে বাইয়াতুল উযমা দেন যখন তালিবান ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থায়, রাহিমাহুমুল্লাহ।
.
আল-কায়েদা ও শাইখ উসামার জন্য ইমারতে ইসলামিয়া ও আমীরুল মুমীনিন মুল্লাহ মুহাম্মাদ ওমরের কুরবানীর বিষয়টি স্বীকৃত। যখন পাকিস্তান থেকে শীর্ষ আলিমরা মুল্লাহ ওমরকে অনুরোধ করতে যান যে উসামাকে যেন আমেরিকানদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখন তিনি অশ্রুসজল চোখে উলটো তাঁদের কাছে উসামার জন্য দোয়া চেয়েছেন। এটি আলিমদের সাক্ষ্য দ্বারা সাব্যস্ত বিষয়।
.
ইমারতে ইসলামিয়ার জন্য আল-কায়েদার কুরবানী একটি স্বীকৃত বিষয়। যেমন শাইখ উসামার নির্দেশে তালিবানের ইমারতের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ শত্রু আহমাদ শাহ মাসুদকে হত্যা করে আল কায়েদার মুজাহিদীন। এখনো আল-কায়েদার মুজাহিদীন আফগানিস্তানে ইমারতের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। এবং শাইখ আইমান আজ-জাওয়াহিরি হাফিজাহুল্লাহ এর সর্বশেষ বক্তব্যেও বলা হয়েছে যে ইমারতে ইসলামিয়ার সুরক্ষা ও প্রসার জামাতের কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্যসমূহের একটি।
.
আলহামদুলিল্লাহ আল কায়েদার বাংলাদেশী মুজাহিদিনও ইমারতে ইসলামিয়ার হয়ে যুদ্ধ করেছেন এবং ইনশাআল্লাহ শহীদ হয়েছেন। যার অসংখ্য প্রমাণ আছে, যার মধ্যে সর্বশেষ হলে “আল জিবাল মিডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত জিহাদের পাথেয়” নামক ভিডিওটি। অন্যদিকে যারা তালিবান আর আল কায়েদার মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করে আল কায়েদাকে পথভ্রষ্ট চরমপন্থী আর তালিবানকে মধ্যমপন্থী প্রমাণে সচেষ্ট তাদের কেউ আর না তাদের সাথে সম্পর্কিত কেউ জিহাদের ময়দানে উপস্থিত আছে!
.
ইমারতের দ্বিতীয় আমীর মুল্লাহ আখতার মানসুর রাহিমাহুল্লাহ তাঁর অডিও বার্তায় যাদের বায়াত গ্রহণ করেছেন তাঁদের মধ্যে প্রথমে তিনি বায়াত গ্রহণ করেছেন জামা’আত কায়েদাতুল জিহাদের আমীর শাইখ ড. আইমান আজ-জাওয়াহিরির হাফিজাহুল্লাহ বায়াত।
আল কায়েদার প্রতিটি ঘোষিত শাখা বারবার স্পষ্টভাবে বলেছে তাদের বায়াত শাইখ আইমান আজ-জাওয়াহিরির হাফিজাহুল্লাহ এর মাধ্যমে ইমারতে ইসলামের আমিরের কাছে, এবং তারা একে শরয়ী দায়িত্ব মনে করেন।
.
মুল্লাহ ওমর থেকে শুরু করে হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পর্যন্ত কেউ জামা’আত কায়েদাতুল জিহাদের ব্যাপারে ঐ ধারণা রাখেন না যা এসব সমালচনাকারীরা রাখেন, যেমন – আল কায়েদা চরমপন্থি, গুলাত, উম্মাহর জন্য ক্ষতিকর, পথভ্রষ্ট ইত্যাদি। কারণ তারা ক্রমাগত জামাআতের মুজাহিদিন, আহলুস সুন্নাহ, সম্মানিত ভাই ইত্যাদি বলছেন।
.
আল-কায়েদার জন্য তালিবান রক্ত দিচ্ছে, আর ইমারতের জন্য আল কায়েদা রক্ত দিচ্ছে। তারা একে অপরকে সাহায্য করছে, একত্রিত হয়ে জিহাদ করছে। তাঁদের পরস্পরের অবস্থান তাঁদের দুই পক্ষের কাছে অজানা নয়। এ দুই জামা’আতের মধ্যে সম্পর্ক কেমন তা বুঝার জন্য এ বাস্তবতাগুলি কি যথেষ্ট নয়?
.
এতো কিছুর পরও ফেসবুকে এসে আমাদের জানতে হচ্ছে অনলাইনে ইমারতে ইসলামিয়ার সুরক্ষায় হিজরত, রিবাত ও ক্বিতাল করা আল-কায়েদার মুজাহিদিনের সমালোচনা যারা বাংলাদেশে বসে করছে, তারা আল-কায়েদার চেয়ে ইমারতে ইসলামিয়ার অধিকতর নিকটবর্তী! যারা ইমারতের জন্য জান দিয়েছে আর যাদের জন্য ইমারত জান দিয়েছে, তাঁদের চেয়ে যারা হিজরত, রিবাত, ক্বিতাল, কিংবা ময়দানে পর্যবেক্ষক হিসাবে উপস্থিতি কোন কিছুই করেনি তারা ইমারতের বড় শুভাকাঙ্ক্ষী! মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ শুধু বেশি না বরং যেন উপচে পড়ছে!
.
এতো কিছুর পর কার কাছে এ বিষয়টি স্পষ্ট না যে এ দুটি জামা’আতের মধ্যে কী ধরণের সম্পর্ক বিদ্যমান? আর কারা কোন অবস্থান কেমন কথা বলছে? আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন।
.
ইনশাআল্লাহ অচিরেই এ ব্যাপারে সৃষ্ট বিভ্রান্তিগুলোর ব্যাপারে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আলোচনা তুলে ধরা হবে।
.
[খানিকটা সম্পাদিত আকারে সংগৃহীত]

তালেবান আফগানিস্তানকে কী দিয়েছে? (১ম পর্ব)




ভূমিকাঃ-

আমি তখন কাবুলে ছিলাম। আমি আমার যিন্দেগীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বছর তালেবানের বরকতময় ইসলামী হুকুমতের সময় এখানে কাটিয়েছি। আমি তালেবানের বরকতময় যুগের বিভিন্ন স্মৃতির পৃষ্ঠাগুলো উল্টাচ্ছিলাম। তখন এখানে শতভাগ ইসলামী নেযাম চালু ছিল। এখানে মানুষ এবং মানবতা নিরাপদ ছিলো। আদর্শ শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করত। কিন্তু এই বরকতময় নেযাম কাফের এবং মুনাফিকরা এক চোখেও দেখতে পারত না। যখন সকাল হওয়ার দৃশ্য এবং দাশতে লায়লার কেয়ামত সাদৃশ দাস্তানের দৃশ্য মনে পড়ে, তখন চোখদ্বয় শ্রাবণের বর্ষা ঝড়াতে থাকে। কেল্লায়ে জঙ্গীর মর্মান্তিক ঘটনা তো কেবল ধারণাকেই থমকে দিতে পারে, কিন্তু কিন্তু তালেবানের কুরবানী এবং ত্যাগের এমন অবিচল ঘটনাও রয়েছে, যেগুলো দেখে খাইরুল কুরুনের কথা মনে পড়ে যায়। ইসলাম প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনের জন্য হাজারো নয় বরং লাখো উম্মাহ নিজের জান এবং মালের নজরানা পেশ করেছেন এবং এখনো করে চলেছেন। মায়েরা তাদের সন্তাদেরকে দুলহার মত সাজিয়ে রণাঙ্গনে পাঠিয়েছেন। তারা এই দৃঢ় সংকল্প মনে ধারণ করে যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছেন যে, "বিজয় অথবা শাহাদাত, গাজী নতুবা শহীদ।" এছাড়া তৃতীয় কোন রাস্তা তাদের সামনে ছিল না। আর তাদের কেউ কেউ তো শাহাদাতের মুহুর্তে এই অসীয়তও করে গেছেন যে, "আমরা কালাশনিকভ জড়িয়ে ধরে চিৎকার করছি, তোমরা এই পবিত্র রক্তের মান রেখো, একে হেফাজত করো!

যতক্ষণ না আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা হবে এবং মুসলিম উম্মাহ শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে আপন রবের ইবাদত করতে পারবে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করতে থাকবে।

আগত পৃষ্ঠাগুলোতে দেখবেন, তালেবানরা তাদের শাসনামলে তাদের শহীদানের ওসিয়তের উপর কতটুকু অটল ছিলেন আর কতটুকু বাস্তবায়ন করেছেন। তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যাতে করে ছন্নছাড়া আফগান জাতি এত দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ-বিধ্বস্ত হওয়া সত্ত্বেও শান্তি ও নিরাপত্তার জীবন-যাপন করতে পেরেছে এবং উম্মতে মুসলিমাহ তাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে (এখনও আবার নতুন করে পেতে যাচ্ছ)।

আপনি দেখুন! তালেবান আফগানিস্তানকে কী দিয়েছে?


★★★★★★★ শান্তি ও নিরাপত্তা ★★★★★★★

তালেবানের আগে আফগান জনগন শান্তি তো দূরের কথা, বেঁচে থাকার অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিল। কারোরাই জানমাল নিরাপদ ছিল না।
(যেটা #তালেবান_আন্দোলন_উত্থান_ইতিহাস ধারাবাহিক এর ____তম পর্বে উল্লেখ করেছি) সশস্ত্র ব্যক্তি যে কাউকে হত্যা করতে পারতো। তালেবান এসে যুগযুগ ধরে চলে আসা এই অবৈধ হত্যাযজ্ঞ থেকে জনগনকে বিরত রাখে এবং পুরোপুরিভাবে এই রক্তের হোলি খেলাকে বন্ধ করে দেয়। আআফগানিস্তানে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় উপমাহীন নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। যতদিন যেখানে তালেবানের নেতৃত্ব থাকে, ততদিন সেখানে কখনো কোন আইনি সমস্যা সামনে আসেনি, আলহামদুলিল্লাহ।


★★★★★★★★ ন্যায় ও ইনসাফ ★★★★★★★★

তালেবান যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেছে, সেখানে ন্যায় ও ইনসাফও প্রতিষ্ঠা করেছে। তালেবানরা জনসাধারণকে দ্রুত এবং খুব সহজে ইনসাফ উপহার দিয়েছে। তালেবানের দোস্ত কিংবা দুশমন সকলেই একথার সাক্ষী দিবে যে, তালেবানের কাছে বিনামূল্যে এবং দ্রুততম সময়ে ইনসাফ পাওয়া যেত। জনসাধারণেরর জন্য সহজে আদালত পর্যন্ত পৌঁছা নিশ্চিত করতে তারা কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়। শুনানিভুক্ত মামলাগুলোর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি সহজে আদালত পর্যন্ত যাতায়াতের খরচ পর্যন্ত হুকুমত বহন করে। মামলা চলাকালীন যদি তাকে আদালতের নিকট থাকা প্রয়োজন হয়, তবে তাও তালেবান বিনামূল্যে ব্যবস্থা করে। বাদি-বিবাদি উভয়জনই সরাসরি কাজির (জজ) সাথে সরাসরি কথা বলার অনুমতি ছিল। জনসাধারণের জন্য উকিল ধরার কোন প্রয়োজন হত না। তালেবানের যুগে আফগানিস্তানই একমাত্র এমন রাষ্ট্র ছিল, যেখানে শয়তানের কোন বাচ্চা ছিল না।
কাজী (জজ) কুরআন, সুন্নাহ এবং হানাফী মাযহাব অনুযায়ী ফায়সালা করতেন। অফিসার, মন্ত্রী এমনকি প্রেসিডেন্টও আইনের উর্ধ্বে ছিল না। কাজি তালেবানের কর্মীদেরকেও আদালতে ডাকতেন এবং অন্যায় প্রমাণিত হলে শাস্তির রায় দিতেন। সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও জনগণের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আদালতের কাছে দায়বদ্ধ ছিল।

#একটি_ঐতিহাসিক_ঘটনা-০১
১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক সেই মুকাদ্দমা কেবলই আন্তরিক প্রশান্তির খোরাক ছিল, যেটি তৎকালীন তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের আদালতে হয়েছিল। তাতে একজন মাযুর (ওযরগ্রস্ত/অসহায়) ব্যক্তি তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ভবনের মালিকানা দাবী করে আদালতে মুকাদ্দমা পেশ করেন। শেষপর্যন্ত ঐ ব্যক্তি মামলায় জয়ী হয় এবং প্রমাণিত হয় যে, মূলত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঐ ভবনটি মাযুর ব্যক্তির মালিকানায়-ই পড়ে।
আদালত রায় প্রকাশ করে তৎক্ষনাৎ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদেরকে ভবনটি মাযুর ব্যক্তির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ প্রদান করে এবং ঐ দিনই পুরো ভবনটি খালি করে ঐ ব্যক্তির জন্য গুছিয়ে দিয়ে চলে যান।


★★★★★★★ শরয়ী শাস্তি ★★★★★★★

তালেবান মানবতৈরী কোন গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র রাজতন্ত্রসহ কোন তন্ত্রমন্ত্র আইনের অধীনস্ত নয়। শরীয়তে মুহাম্মাদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধীনে ফয়সালা করে শরয়ী শাস্তি বাস্তবায়ন করে থাকে। আর তালেবান কর্তৃক এই ইসলামী আইন, শাস্তি এবং কেসাসকে জীবিত করার বরকতে মানুষের মাঝে আখেরাতের চিন্তা এবং অন্তরে আল্লাহর ভয় জন্মাতে থাকে। ফলে তালেবান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলসমুহে অপরাধ প্রবণতা শূণ্যের কোটায় নেমে আসে।


★★★★★★★ অপরাধের প্রতিকার ★★★★★★★

ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার বরকতে তালেবানরা আফগানিস্তানে অধিকাংশ অপরাধই নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে। চুরি, ডাকাতি, মদ, ব্যাভিচার এবং অন্যায়ভাবে হত্যার মত অপরাধগুলো তো হতো না বললেই চলে। আফগানিস্তানে অপরাধ যেখানে গর্বের বস্তু ছিল, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার বরকতে সেখানে অপরাধকে ত্রুটি মনে করা হতে থাকে এবং এথেকে বেঁচে থাকা জনসাধারণের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ইসলামের প্রাথমিক যুগের মত দৃশ্য দেখা যেতে শুরু করে।

#একটি_ঐতিহাসিক_ঘটনা-০২
২০০১ সালের ১০-ই মে আফগানিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে একজন অবিবাহিত নওজোয়ান ৪ বার ব্যভিচারে লিপ্ত হবার কথা স্বীকারোক্তি দিয়ে তার ওপর শরয়ী শাস্তি প্রয়োগের দরখাস্ত পেশ করে। আদালতের বাউন্ডারিতে সকলের সামনে তাকে ১০০ দোররা লাগানো হয়। শাস্তির পর নওজোয়ানের চেহারায় আনন্দ প্রকাশ পায়। নিঃসন্দেহে তার ঈমান ঈর্ষা করার মতো। সে এই ফেতনা ফাসাদের যুগেও হযরত মায়েজ আসলামী রাযিঃ এর স্মৃতি তাজা করে দেয়। আর এটি কেবল ইসলামী আইনের কারণেই সম্ভব হয়েছে।


★★★★★★ কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ★★★★★★

তালেবানের আগে আফগানিস্তানে কেন্দ্রীয় হুকুমতের কেবল নামটাই ছিল। বাস্তবে প্রত্যেক এলাকায় একেকজন যুদ্ধবাজ নেতা কর্তৃত্ব করতো। আফগানিস্তান মূলত টুকরো টুকরো ছিল। তালেবান সাধারণ জনগণকে একটি শক্তিশালী এবং প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা দান করে। যার প্রধান ছিলেন আমীরুল মুমিনীন মোল্লা মুহাম্মদ ওমর মুজাহিদ রাহিঃ। তিনি দেশের ৯৮% এলাকায় ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করেন এবং হানাফী মাযহাবকে নাগরিক আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। যারাফলে পশ্চিমা শক্তিগুলোর আশার গুড়ে বালি পড়ে।