Showing posts with label আল মুজাহিদ আরমান. Show all posts
Showing posts with label আল মুজাহিদ আরমান. Show all posts

Tuesday, September 4, 2018

তিন দুই এক - আল মুজাহিদ আরমান




এক শায়খের ছিলো তিনজন (গুণবতী) স্ত্রী। তিনি বাসায় তাদের মাঝে ইনসাফ রক্ষা করতে চেষ্টা করতেন। একবার তিনি সফরে যান এবং বেশ কিছুদিন সেখানে অবস্থান করেন। কিন্তু যখন তিনি বাড়ি ফেরেন তখন ভুলে যান, কার বাড়িতে তাঁর উঠার কথা ছিলো। তবে তিনি তৃতীয় তথা ছোট স্ত্রীর বাড়িতে থাকতে (অধিক) ভালোবাসতেন।[১]
.
এমতাবস্থায় তিনি সবাইকে ডাকেন এবং এই ব্যাপারে সমাধানের জন্য কুরআন থেকে দলিল উপস্থাপন করতে বলেন।
.
প্রথম স্ত্রী: আল্লাহ কুরআনে বলেছেন-
والسابقون السابقون، أولائك المقربون
(*অগ্রগামীরা তো অগ্রগামীই*, তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত)[২]
শায়খ: হ্যাঁ, এটা একটা দলিল।
.
দ্বিতীয় স্ত্রী: আল্লাহ কুরআনে বলেছেন-
حافظوا على الصلوات والصلاة الوسطى
(তোমরা নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষত *মধ্যবর্তী* নামাযের ব্যাপারে)[৩]
শায়খ: হ্যাঁ, এটিও একটি দলিল।
.
তৃতীয় স্ত্রী: আল্লাহ কুরআনে বলেছেন-
والآخرة خير لك من الأولى
(তোমার জন্য পূর্ববর্তী অপেক্ষা *পরবর্তীই* (আখিরাত) উত্তম)[৪]
এই দলিল শুনে শায়খ দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন, "আল্লাহু আকবার! এটা সর্বশ্রেষ্ঠ দলিল!" (পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ছোট (তৃতীয়) স্ত্রীকে বেশি মহব্বত করতেন। দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটার প্রভাব পড়লো কীনা!)
.
(প্রথমবারের মতো আরবি একটা ঘটনা থেকে অনুবাদ করতে প্রয়াস চালালাম। চেষ্টা করেছি আক্ষরিক অনুবাদ করতে, দু-এক জায়গা ব্যতীত।
ফুটনোটসহ প্রথম বন্ধনীর কথাগুলো অনুবাদকের। ভুল-ত্রুটি মার্জনীয়)


_____________________
[১] কোন স্ত্রীর প্রতি মনে অধিক ভালোবাসা থাকা ইনসাফের অন্তরায় নয়। যেমন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আয়িশা (রা.)-কে অধিক ভালোবাসতেন, তবে অন্য কারো অধিকার ক্ষুণ্ন করে নয়। ভালোবাসার ব্যাপারটি নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। ভরণপোষণ, সময় দেয়া ইত্যাদি ব্যাপার সমান-সমান করতে হবে।
[২] সূরা ওয়াক্কিয়া: ১০-১১
[৩] সূরা বাক্বারাহ: ২৩৮
[৪] সূরা দুহা: ৪



Sunday, September 2, 2018

দাম্পত্য - আল মুজাহিদ আরমান


সাহাবাদের মাঝে প্রবল ভালোবাসায় মোড়ানো কিছু দাম্পত্যজুটি ছিলো। তৎকালিন সমাজেও তাঁদের ব্যাপারে আলোচনা হতো।
।
তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ গণ্য করা হয় আবু সালামাহ ও উম্মে সালামাহ জুটিকে। হিজরতের সময় তাঁদেরকে কাফেররা বিচ্ছিন্ন করে দেয়, ফলে একসাথে হিজরত করতে পারেননি। তখন তাঁদের যে অবস্থা হয়েছিলো তা ছিলো খুবই হৃদয়গ্রাহী। দুটো মানুষ পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেঁদেকেটে অস্থির হয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে তাঁরা মদিনায় একত্র হয়েছিলেন।
.
কঠিন রোগাক্রান্ত আবু সালামাহ। স্ত্রী উম্মে সালামাহ বলছেন, আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমাদের মাঝে যে আগে মারা যাবে সে সারাজীবন একাই কাটিয়ে দেবে, বিয়ে করবে না। ( স্বামী গুরুতর অসুস্থ, তিনি সুস্থ, তবুও স্বেচ্ছায় এই প্রস্তাব রাখছেন! সুবহানাল্লাহ!)
এই কথা শুনে আবু সালামাহ কী বললেন? তিনি বলেন, আমি বরং দু'আ করি, আমার মৃত্যুর পর আমার চেয়েও ভালো কাউকে আল্লাহ তোমাকে দান করুন! (অথচ তিনি পারতেন মৃত্যুসহ্যায় স্ত্রীর প্রস্তাবটিকে লুফে নেয়া)। তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তব হয়েছিলো। তিনি কিছুদিন পর মৃত্যুবরণ করেন এবং আরো কিছুদিন পর উম্মে সালামাহকে বিয়ে করেন পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষটি (সা.)। রাদিয়াল্লাহু আনহুমা।
.
এই জুটি ছাড়াও আরো কিছু জুটি ছিলো। তার মধ্যে রাসূল (সা.)-এর মেয়ে যাইনাব ও তাঁর স্বামী আবুল আস অন্যতম। তাঁদের কাহিনী খুবই করুণ! শেষ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুশোকে আরেকজন মৃত্যুবরণ করেন! রাদিয়াল্লাহু আনহুমা।
.
এছাড়া আলি (রা.) ও ফাতিমা (রা.)-এর দাম্পত্যসম্পর্কও খুবই ভালো ছিলো। অভাব-অনটনে জীবন কাটিয়েছেন, কিন্তু মনের দিক থেকে তাঁরা খুবই সুখী ছিলেন।
.
এই তালিকায় আরো অনেক জুটির নাম দেয়া যায়, তবে আমরা সংক্ষেপ করেছি।
.
(আমরা এখানে রাসূল (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে গেছি। কারণ তাঁরা এমনিতেই স্পেশাল)